বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও কৌশলগত অংশীদারত্ব কতটা এগিয়েছে

স্ট্রিম গ্রাফিক্স

দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক ও ভূ-অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ভৌগোলিক সান্নিধ্য, অভিন্ন ইতিহাস, সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার এবং অর্থনৈতিক কাঠামোগত নির্ভরতা এই দুই প্রতিবেশীর সম্পর্ককে বহুমাত্রিক রূপ প্রদান করেছে। বিশ্ব রাজনীতিতে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব এবং নতুন আন্তর্জাতিক শক্তির মেরুকরণের ফলে দক্ষিণ এশীয় ভূ-রাজনীতিতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্ব নিশ্চিতকরণ কেবল দ্বিপাক্ষিক বিষয়ের মধ্যে সীমিত নেই; এটি সামগ্রিক আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার এক মূল নিয়ামক হয়ে উঠেছে।

বিগত দুই দশকে ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্ক এক সাধারণ কূটনৈতিক সংযোগ থেকে বিস্তৃত হয়ে একটি প্রাতিষ্ঠানিক "কৌশলগত অংশীদারিত্বে" রূপান্তরিত হয়েছে। সীমান্তে ছিটমহল সমস্যার আইনি সমাধান, আন্তঃসীমান্ত কানেক্টিভিটি প্রকল্প, জ্বালানি সহযোগিতা এবং নিরাপত্তামূলক সমন্বয়ের মধ্য দিয়ে এই সুসম্পর্কের বাস্তবায়ন দেখা গেছে। তবে এই সুদৃঢ় অগ্রগতির বিপরীত পাশে কিছু জটিল রাজনৈতিক, সামাজিক ও নিরাপত্তাজনিত অমীমাংসিত ইস্যুও রয়ে গেছে।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ঐতিহাসিক প্রেক্ষিত

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে। ভারতের সামরিক, সামাজিক ও কূটনৈতিক সহায়তা বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামকে ত্বরান্বিত করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রায় এক কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় দান, আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে সমর্থন প্রদান এবং যৌথবাহিনীর সমন্বিত আক্রমণের মধ্য দিয়ে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্মলগ্নে যে সংহতি তৈরি হয়েছিল, তা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সুদৃঢ় ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে গণ্য করা হয়।

তবে ঐতিহাসিক এই বন্ধুত্বের ভিত্তি সত্ত্বেও বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মেরুকরণের প্রভাবে দুই দেশের সম্পর্কে দৃশ্যমান স্থবিরতা দেখা যায়। গঙ্গা নদীর পানিবণ্টন, সীমান্ত বিবাদ এবং বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর আন্তঃসীমান্ত চলাচলের অভিযোগে নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত উভয় দেশের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক ও কূটনৈতিক দূরত্ব বজায় ছিল। নব্বইয়ের দশকের শেষে ১৯৯৬ সালে গঙ্গা পানি চুক্তি স্বাক্ষর কিছুটা স্বস্তি আনলেও, সম্পর্কের দৃশ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক ও দীর্ঘমেয়াদী পুনঃসংযোগ ঘটে ২০১৫ সালে স্থল সীমান্ত চুক্তি চূড়ান্ত অনুমোদনের মাধ্যমে। এই ইতিবাচক রূপান্তর দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতাকে একটি ভিন্ন মাত্রা প্রদান করে।

গত দেড় দশকে বাংলাদেশ ও ভারতের কৌশলগত সম্পর্কে যেসব প্রাতিষ্ঠানিক ও অবকাঠামোগত অগ্রগতি সাধিত হয়েছে, তা দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতার ইতিহাসে অন্যতম প্রধান নজির।

কৌশলগত ট্রানজিট ও বন্দর ব্যবহার

ভৌগোলিক বাস্তবতার কারণে ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে তার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাতটি রাজ্যের সংযোগ কেবল একটি সরু ভূখণ্ড-‘শিলিগুড়ি করিডোর’ বা ‘চিকেনস নেক’ এর ওপর নির্ভরশীল ছিল। এই করিডোর দিয়ে পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত সময়, উচ্চ জ্বালানি খরচ এবং বিশাল পথ অতিক্রম করতে হতো।

বাংলাদেশের সঙ্গে স্বাক্ষরিত উপকূলীয় নৌ-পরিবহন চুক্তি এবং চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের জন্য স্থায়ী চুক্তির আওতায় ভারত তার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে পণ্য পরিবহনের সুযোগ লাভ করে।

এছাড়া প্রোটোকল অন ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রানজিট অ্যান্ড ট্রেড এর আওতায় বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নৌপথ ব্যবহার করে ভারতের কলকাতা বা অন্যান্য বন্দর থেকে ত্রিপুরা, আসাম বা মেঘালয়ে পণ্য পাঠানো অনেক সহজ ও সাশ্রয়ী হয়েছে। এর ফলে ভারতের শিপিং খরচ প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমেছে এবং পরিবহন সময় উল্লেখযোগ্যভাবে সংকুচিত হয়েছে।

বহুমুখী রেল সংযোগের পুনরুজ্জীবন ও নতুন রুট উন্নয়ন

১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর দুই দেশের মধ্যকার যে ঐতিহাসিক রেল সংযোগগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল, সেগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করার পাশাপাশি নতুন কৌশলগত রেল রুট তৈরি করা হয়েছে।

আখাউড়া-আগরতলা আন্তর্জাতিক রেল সংযোগ ভারতের আগরতলাকে বাংলাদেশের আখাউড়া হয়ে চট্টগ্রামের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করেছে। এর ফলে উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোর সঙ্গে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের দূরত্ব ও যোগাযোগের সময় নাটকীয়ভাবে কমে যায়।

রূপসা নদীর ওপর তৈরি সুদীর্ঘ রেল সেতু এবং খুলনা-মোংলা রেল সংযোগের মাধ্যমে মোংলা বন্দর সরাসরি দেশের প্রধান রেল নেটওয়ার্ক এবং ভারত সীমানার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এর ফলে ভারতের আসাম, ত্রিপুরা এবং প্রতিবেশী নেপাল ও ভূটান সহজেই মোংলা বন্দর ব্যবহারের অবকাঠামোগত সুবিধা পাবে।

বর্তমানে ‘মৈত্রী এক্সপ্রেস’ (ঢাকা-কলকাতা), ‘বন্ধন এক্সপ্রেস’ (খুলনা-কলকাতা) এবং ‘মিতালী এক্সপ্রেস’ (ঢাকা-শিলিগুড়ি) চালুর পাশাপাশি একাধিক সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে (যেমন: হিলি, বেনাপোল, দর্শনা, বিরল, চিলাহাটি-হলদিবাড়ি) নিয়মিত ভারী পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল করছে, যা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের লজিস্টিকস ব্যয় কমিয়ে এনেছে।

বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি

কানেক্টিভিটি প্রকল্পের প্রত্যক্ষ ফল হিসেবে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলীয় স্থলবন্দরগুলো (যেমন: পেট্রাপোল-বেনাপোল, আগরতলা-আখাউড়া, ডাউকি-তামাবিল) আধুনিক স্থলবন্দরে রূপান্তর করা হয়েছে।

যদিও বাণিজ্য ভারসাম্য ভারতের অনুকূলে (ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রায় ১.৫-২ বিলিয়ন ডলার, পক্ষান্তরে ভারত থেকে আমদানির পরিমাণ প্রায় ১০-১২ বিলিয়ন ডলার), তথাপি ভারত থেকে সুলভ কাঁচামাল, তুলা, মূলধনী যন্ত্রপাতি ও খাদ্যপণ্য দ্রুত আমদানির মাধ্যমে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও শিল্প খাত ব্যাপকভাবে উপকৃত হচ্ছে।

ছিটমহল সমস্যার প্রাতিষ্ঠানিক সমাধান

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের কূটনৈতিক ইতিহাসে ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত ও বাস্তবায়িত ঐতিহাসিক স্থল সীমান্ত চুক্তি এবং এর অধীনে ছিটমহল বিনিময়কে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নজিরবিহীন ও শান্তিপূর্ণ কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে গণ্য করা হয়। ১৯৭৪ সালে ‘মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি’ এবং ২০১১ সালের ‘প্রোটোকল টু দ্য ১৯৭৪ ল্যান্ড বাউন্ডারি এগ্রিমেন্ট' এর ওপর ভিত্তি করে ২০১৫ সালের ৬ জুন এই ল্যান্ড বাউন্ডারি এগ্রিমেন্টের আনুষ্ঠানিক বাস্তবায়ন ঘটে। ২০১৫ সালে ভারতের সংবিধানের ১০০তম সংশোধনী পাসের মাধ্যমে ৪১ বছর ধরে জমে থাকা এই সমস্যার চূড়ান্ত আইনি অবসান ঘটে।

২০১৫ সালের ৩১ জুলাই মধ্যরাতে দুই দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে মোট ১৬২টি ছিটমহল বিনিময় করে। ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহল ছিল (যার আয়তন ছিল প্রায় ৭,১১০ একর)। এগুলো ভারতের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি পায়। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতের ১১১টি ছিটমহল ছিল (যার আয়তন ছিল প্রায় ১৭,১৫৮ একর)। এগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের সার্বভৌম ভূখণ্ডে যুক্ত হয়।

এর ফলে নিখাদ ভৌগোলিক হিসাবে বাংলাদেশ নিট ১০,০৪৮ একর নতুন জমির সার্বভৌম মালিকানা লাভ করে এবং দুই দেশের ৪,০৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ স্থলসীমান্তরেখা আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পূর্ণ সুনির্দিষ্ট ও চিহ্নিত হয়।

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার কৌশলগত অংশীদারিত্বের অন্যতম প্রধান ও গতিশীল নিয়ামক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে জ্বালানি নিরাপত্তা ও বিদ্যুৎ খাত। বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান শিল্পায়ন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে ভারতের সঙ্গে জ্বালানি ক্ষেত্রে একটি টেকসই আঞ্চলিক সহযোগিতা গড়ে তোলা হয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক বিদ্যুৎ বাণিজ্যের অংশ হিসেবে ভারত থেকে সরাসরি বিদ্যুৎ আমদানির জন্য হাই-ভোল্টেজ মোট দুটি প্রধান গ্রিড ইন্টারকানেকশন স্থাপন করা হয়েছে। ভেড়ামারা-বাহারামপুর ইন্টারকানেকশন দুই দেশের মধ্যে প্রথম উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বাহারামপুর থেকে বাংলাদেশের কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা পর্যন্ত ৫০০ কেভি ব্যাক-টু-ব্যাক এইচডিভিসি সাবস্টেশনের মাধ্যমে ১,০০০ মেগাওয়াটেরও বেশি বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে।

এছাড়া ত্রিপুরা-কুমিল্লা ইন্টারকানেকশন ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের পালটানা পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে বাংলাদেশের কুমিল্লা পর্যন্ত ৪০০ কেভি সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে প্রায় ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হচ্ছে।

এই গ্রিড সংযোগগুলোর মাধ্যমে বাংলাদেশ ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করে তার অভ্যন্তরীণ জাতীয় গ্রিডকে স্থিতিশীল রাখতে সক্ষম হয়েছে।

ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন

জ্বালানি তেল পরিবহনে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হলো ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি মার্কেটিং টার্মিনাল থেকে বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর ডিপো পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় ১৩১.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই আন্তঃসীমান্ত তেল পাইপলাইন। আগে রেল ওয়াগনের মাধ্যমে ভারত থেকে বাংলাদেশে ডিজেল পরিবহন করা হতো, যা ছিল অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ। এই পাইপলাইন চালুর ফলে প্রতি বছর আনুমানিক ১ মিলিয়ন মেট্রিক টন পরিশোধিত ডিজেল অত্যন্ত দ্রুত, নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী খরচে বাংলাদেশে সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। এটি বিশেষ করে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও শিল্প খাতে জ্বালানি তেল সরবরাহ নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

যৌথ বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প

কেবল বিদ্যুৎ আমদানি বা আন্তঃসীমান্ত সংযোগেই এ সহযোগিতা সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং যৌথ উদ্যোগে অবকাঠামো বিনির্মাণের ক্ষেত্রেও বিস্তার লাভ করেছে। খুলনা জেলার রামপালে বাংলাদেশ-ভারতের যৌথ উদ্যোগে গঠিত বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড এর অধীনে ১,৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্ট নির্মিত ও চালু হয়েছে। ভারতের বেসরকারি শিল্প গোষ্ঠী (যেমন: আদানি পাওয়ার)-এর ঝাড়খন্ডে নির্মিত গড্ডা পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে সরাসরি সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে ১,৬০০ মেগাওয়াটের কাছাকাছি বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।

বিদ্যুৎ খাতে ভারত-বাংলাদেশ সহযোগিতা এখন কেবল দ্বিপাক্ষিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা বহুপাক্ষিক আঞ্চলিক বাণিজ্যের রূপ নিচ্ছে। ভারতের ভূখণ্ড ও গ্রিড ব্যবহার করে নেপাল এবং ভূটান থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানির সুযোগ তৈরির জন্য ত্রিপক্ষীয় আলোচনা ও চুক্তি বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশের জন্য নবায়নযোগ্য শক্তির একটি দীর্ঘমেয়াদী উৎস নিশ্চিত করবে।

অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতার বিপুল প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে বেশ কিছু অমীমাংসিত এবং সংবেদনশীল ইস্যু বিদ্যমান, যা সাধারণ জনপরিসরে এবং কূটনৈতিক টেবিলে নিয়মিত উত্তাপ সৃষ্টি করে।

অমীমাংসিত পানিবণ্টন চুক্তি

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী প্রবাহিত হলেও একমাত্র ১৯৯৬ সালের গঙ্গা নদীর পানিবণ্টন চুক্তি ছাড়া অন্য কোনো প্রধান নদীর বিষয়ে স্থায়ী চুক্তি হয়নি। ২০১১ সালে তিস্তা নদীর পানিবণ্টন চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার কথা থাকলেও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আঞ্চলিক রাজনৈতিক আপত্তির কারণে তা ঝুলে রয়েছে। চুক্তি বাস্তবায়নে বিলম্ব বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের কৃষি, পরিবেশ এবং অর্থনীতিতে গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

সীমান্ত হত্যা ও মানবাধিকারের প্রশ্ন

বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘ সীমান্তরেখা (৪,০৯৬ কিমি) থাকা সত্ত্বেও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এখনও চরম বিতর্কিত। ভারতীয় সীমান্ত রক্ষা বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক সীমান্তে বেসামরিক বাংলাদেশিদের হত্যার ঘটনা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে মনস্তাত্ত্বিক প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করে। "লেথাল উইপন" বা প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার না করার প্রতিশ্রুতি বারবার দেওয়া সত্ত্বেও সীমান্ত হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়নি, যা সাধারণ মানুষের মনে গভীর অসন্তোষ তৈরি করে। এছাড়া সিমান্তে পুশ ইন ও পুশ ব্যাক এর ঘটনা প্রায়শই ঘটে থাকে।

বাণিজ্য ঘাটতি এবং অ-শুল্ক বাধা

দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বহুগুণ বাড়লেও তা মূলত ভারতের পক্ষে ভারসাম্যহীন। ভারত বাংলাদেশে প্রায় ১২ থেকে ১৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করলেও বাংলাদেশ ভারতে ১.৫ থেকে ২ বিলিয়ন ডলারের পণ্যের বাজারে প্রবেশ করতে পারে। বিভিন্ন অ-শুল্ক বাধা, অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক এবং লজিস্টিক জটিলতা বাংলাদেশি পণ্যের ভারতে কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি রোধ করছে।

অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণ ও আস্থার সংকট

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের একটি বড় দুর্বলতা হলো এই সম্পর্কটি দীর্ঘমেয়াদী প্রাতিষ্ঠানিক বা "রাষ্ট্র থেকে রাষ্ট্র" সম্পর্কের ভিত্তির চেয়ে অনেক বেশি "সরকার থেকে সরকার" অথবা নির্দিষ্ট "রাজনৈতিক দল কেন্দ্রিক" কাঠামোর ওপর গড়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক নীতিতে কোনো টেকসই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক দুই দেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ওপর নির্ভর করে গড়ে ওঠার কথা থাকলেও, দক্ষিণ এশিয়ার এই ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দুই দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও নির্বাচনী কৌশল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গতিপথকে বারবার প্রভাবিত করেছে।

উভয় দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং নির্বাচনের সময় "বাংলাদেশ-বিদ্বেষ" ও "ভারত-বিদ্বেষ" রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ভারত একটি অন্যতম প্রধান অনুঘটক বা নির্ণায়ক নিয়ামক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশের নির্বাচনী রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে একপক্ষকে "ভারত-পন্থী" এবং অন্যপক্ষকে “সার্বভৌমত্ব রক্ষাকারী" হিসেবে চিত্রায়িত করার একটি সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। নির্বাচনের সময় বিরোধীরা প্রায়শই ক্ষমতাসীনের বিরুদ্ধে জাতীয় স্বার্থ ভারতের কাছে বিকিয়ে দেওয়ার বা "ভারতের তাবেদারি" করার অভিযোগ তোলে।

তিস্তা চুক্তি না হওয়া, সীমান্ত হত্যা বা দেশের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনে ভারতের কূটনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মনে এক ধরনের ভারত-বিরোধী মনস্তত্ত্ব তৈরি হয়। সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর উত্থাপিত "বয়কট ইন্ডিয়া" বা ভারতীয় পণ্য বর্জনের প্রচারণাও এই ভারত-বিদ্বেষকে গণমানুষের অসন্তোষের সাথে যুক্ত করার একটি উদাহরণ।

সম্পর্কটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ না পাওয়ায় বাংলাদেশের সাবেক বিরোধী দলগুলো মনে করে, ভারতের একপাক্ষিক সমর্থনের কারণে দেশে একটি নিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক কাঠামোর সুবাতাস ব্যাহত হয়েছে। ফলে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটলেই ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নীতিগত ধারাবাহিকতা বজায় রাখা চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়ে।

ভারতের জাতীয় ও প্রাদেশিক (বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরা) রাজনীতিতেও নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে "বাংলাদেশ-কার্ড" বা "বাংলাদেশ-বিদ্বেষ" ব্যবহার করার প্রবণতা দৃশ্যমান।

ভারতের জাতীয় নির্বাচনে (যেমন লোকসভা নির্বাচন) এবং আসাম বা পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে "অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী" ইস্যুটি চরম রাজনৈতিক মেরুকরণ তৈরি করে। ভারতে আসামের জাতীয় নাগরিকপঞ্জি এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন প্রণয়নের সময় নির্বাচনী জনসভাগুলোতে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের তাড়িয়ে দেওয়ার বা চিহ্নিত করার রাজনৈতিক বক্তব্য বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে গভীর মনস্তাত্ত্বিক অস্বস্তি ও উদ্বেগ সৃষ্টি করে।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্য সরকারের টানাপোড়েনের কারণে তিস্তা চুক্তি থমকে গেছে। ভারতের ফেডারেল কাঠামোর সুবিধা নিয়ে রাজ্য রাজনীতি যখন আঞ্চলিক ভোটব্যাংক রক্ষায় ব্যস্ত থাকে, তখন আন্তর্জাতিক ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জাতীয় স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

চীন ফ্যাক্টর ও ত্রিভূজ রাজনীতি

দক্ষিণ এশীয় ভূ-রাজনীতিতে চীন এখন এক অপরিহার্য চালিকাশক্তি। বাংলাদেশ কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থানে থাকায় বেইজিং ও দিল্লি উভয় পরাশক্তির নজর এখন ঢাকার ওপর।

চীন বাংলাদেশে অন্যতম বৃহত্তম অর্থনৈতিক ও সামরিক সরঞ্জামের সরবরাহকারী। পদ্মা সেতু, রেল সংযোগ, নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ, সমুদ্রবন্দর উন্নয়ন এবং শক্তি ক্ষেত্রে চীনের বিপুল অবকাঠামোগত বিনিয়োগ বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করেছে। এছাড়া বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ এ বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্কের গভীরতা স্পষ্ট করে।

ভারতের ভৌগোলিক সীমানার ঠিক পাশেই চীনের এই ভূ-রাজনৈতিক প্রবেশাধিকারকে দিল্লি একটি নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি হিসেবে দেখে। শিলিগুড়ি করিডোর বা "চিকেনস নেক" এর কাছাকাছি চীনের যে কোনো বড় অর্থনৈতিক বা অবকাঠামোগত উপস্থিতি (যেমন তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্পের মাস্টারপ্ল্যান) ভারতের প্রতিরক্ষামূলক ভাবনায় উদ্বেগের জন্ম দেয়।

ঢাকা সফলভাবে "সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারও সাথে শত্রুতা নয়" এই নীতি বজায় রেখে একটি ভারসাম্যমূলক পররাষ্ট্রনীতি চালনার চেষ্টা করেছে। ভারত হলো বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ "কৌশলগত ও নিরাপত্তা অংশীদার", আর চীন হলো প্রধান "উন্নয়ন ও অবকাঠামোগত অংশীদার"। কিন্তু আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী পরাশক্তির এই টানাপোড়েনের মাঝে নিজস্ব কৌশলগত অবস্থান অক্ষুণ্ণ রাখা বাংলাদেশের জন্য দিন দিন জটিল হয়ে উঠছে।

ভৌগোলিক বাস্তবতা ও পারস্পরিক নির্ভরতা

ভূগোল পরিবর্তন করা যায় না-এই বৈশ্বিক নীতি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সবচেয়ে বড় সত্য। একে অপরের ওপর নির্ভরশীলতা কেবল পারস্পরিক সুযোগের বিষয় নয়, এটি এক ভূ-রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা।

ভারতের জন্য বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পণ্য পরিবহন ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ অত্যন্ত সাশ্রয়ী ও গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করায় ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে শিলিগুড়ি করিডোরের ওপর একক নির্ভরতা অনেক কমেছে।

তিনদিক দিয়ে ভারতের স্থলসীমান্ত দ্বারা পরিবেষ্টিত হওয়ায় বাংলাদেশের প্রধান আমদানি কাঁচামাল, নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য এবং বিদ্যুতের জন্য ভারতের বাজার একটি বড় মাধ্যম। এছাড়া ভারতের মধ্য দিয়ে নেপাল ও ভূটানের সঙ্গে সড়ক ও ট্রেন কানেক্টিভিটি তৈরি হলে বাংলাদেশ আঞ্চলিক হাব হিসেবে গড়ে উঠতে পারবে।

বাংলাদেশ-ভারত কৌশলগত অংশীদারিত্বকে সমতা ও স্থায়িত্বের ভিত্তিতে আরও শক্তিশালী করতে হলে উভয় পক্ষকে ঐতিহ্যবাহী চিন্তাধারা থেকে বের হয়ে কিছু নীতিগত পরিবর্তন আনতে হবে।

তিস্তাসহ অন্যান্য অভিন্ন নদীর ক্ষেত্রে একক ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েন থেকে বেরিয়ে এসে একটি সুনির্দিষ্ট, বিজ্ঞানসম্মত ও আন্তর্জাতিক আইনসম্মত অববাহিকাভিত্তিক যৌথ পানিবণ্টন চুক্তি দ্রুত স্বাক্ষর করতে হবে।

বিএসএফ কর্তৃক সীমান্ত হত্যা বন্ধের বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। যৌথ সীমান্ত টহল, রাতে নজরদারি বাড়ানো এবং অ-প্রাণঘাতী অস্ত্রের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে জনসাধারণের মধ্যে বিশ্বাস ফেরাতে হবে।

প্রস্তাবিত কমপ্রিহেন্সিভ ইকোনমিক পার্টনারশীপ এগ্রিমেন্ট (সিইপিএ) দ্রুত বাস্তবায়ন করে অ-শুল্ক বাধা অপসারণ এবং বাংলাদেশের জন্য সমমাত্রিক বাণিজ্য সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

কেবল রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ না রেখে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা, সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান ও প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি বিনিময় বৃদ্ধির মাধ্যমে দুই দেশের জনগণের মধ্যে বিদ্যমান মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব দূর করতে হবে।

প্রাতিষ্ঠানিক চুক্তিগুলোকে দলভিত্তিক রাজনীতির ঊর্ধ্বে রেখে দীর্ঘমেয়াদী রাষ্ট্রীয় নীতির রূপ দিতে হবে।

বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে প্রকৃত অর্থে একটি প্রমোটিং ও দীর্ঘমেয়াদী ‘কৌশলগত অংশীদারিত্বে’ রূপ দিতে হলে দুই দেশের রাজনৈতিক দলগুলোকেই তাদের নির্বাচনী ফায়দা নেওয়ার রাজনীতি থেকে "বাংলাদেশ-বিদ্বেষ" বা "ভারত-বিদ্বেষ"-কে বাদ দিতে হবে। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে দলভিত্তিক সমীকরণের বাইরে এনে "রাষ্ট্র-থেকে-রাষ্ট্র" এবং "জনগণ-থেকে-জনগণ" প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ওপর প্রতিষ্ঠিত করাই আস্থার সংকট দূর করার একমাত্র উপায়।

বিগত দুই দশকে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব নিশ্চিতভাবেই অভূতপূর্ব স্তরে উন্নীত হয়েছে। যোগাযোগ কাঠামোর পুনরুজ্জীবন, বাণিজ্য বৃদ্ধি, সীমান্ত বিবাদের আইনি সমাধান এবং শক্তি খাতের সমন্বিত উদ্যোগ প্রমাণ করে যে এই সম্পর্ক দুটি দেশের অর্থনীতির জন্যই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

তবে অবকাঠামোগত অগ্রগতি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি দিক মাত্র। তিস্তাসহ অভিন্ন পানিবণ্টন সমস্যার দীর্ঘসূত্রতা, সীমান্ত হত্যা এবং ভারসাম্যহীন বাণিজ্য ঘাটতি এই সুসম্পর্কের পূর্ণাঙ্গ ভিত্তিকে দুর্বল করে রেখেছে। তদুপরি, আঞ্চলিক ক্ষেত্রে চীন-ভারতের দ্বন্দ্বে ভারসাম্য রক্ষা করা ঢাকার জন্য এক কঠিন চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশ-ভারত কৌশলগত অংশীদারিত্ব তখনই একটি পূর্ণাঙ্গ, টেকসই ও বিশ্বমানের "উইন-উইন" মডেলে পরিণত হবে, যখন নিরাপত্তা ও ট্রানজিটের মতো ভারতের চাহিদাগুলোর পাশাপাশি তিস্তার পানি ও সীমান্ত নিরাপত্তার মতো বাংলাদেশের যুক্তিসঙ্গত দাবিগুলো সমতার ভিত্তিতে পূরণ করা সম্ভব হবে।

লেখক: গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত