জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

দক্ষিণ এশিয়ার এলএনজি কৌশল এবারের সংকট মোকাবিলায় কার্যকর নয়

মেজাবাহনুর মাসুম
মেজাবাহনুর মাসুম

প্রকাশ : ২৩ মার্চ ২০২৬, ১৮: ০০
স্ট্রিম গ্রাফিক

দক্ষিণ এশিয়ার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কৌশল সাম্প্রতিক সংকটে বড় ধরনের দুর্বলতা প্রকাশ করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই কৌশল অতীতের সংকট মোকাবিলায় তৈরি হলেও বর্তমান বাস্তবতায় তা কার্যকর নয়।

২০২৬ সালের জানুয়ারিতে পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। পাকিস্তানের কাছে বাড়তি এলএনজি মজুত ছিল। বাংলাদেশ কাতার এনার্জির সঙ্গে ১৫ বছরের নতুন চুক্তির আওতায় প্রথম চালান গ্রহণ করে। অন্যদিকে, ২০২২ সালের ঋণ-সংকট কাটিয়ে ওঠার পথে থাকা শ্রীলঙ্কা জ্বালানি আমদানি ব্যয় কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়।

কিন্তু মাত্র সাত সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলে যায়। হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ে। বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি উৎপাদনকেন্দ্র রাস লাফানে কাতার এনার্জি ‘ফোর্স মেজর’ ঘোষণা করে। ফলে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা তিন দেশই জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেমে পড়ে।

যেসব দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য করা হয়েছিল, সেগুলোই এখন বড় ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার জন্য পারস্য উপসাগরকেন্দ্রিক এলএনজির ওপর নির্ভরতা এখন সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক দুর্বলতা হিসেবে দেখা দিয়েছে।

২০২৫ সালে পাকিস্তান, ভারত ও বাংলাদেশ তাদের এলএনজির বড় অংশ কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আমদানি করেছে। পাকিস্তানের অপরিশোধিত তেলের ৯০ শতাংশের বেশি আসে এই অঞ্চল থেকে। বাংলাদেশ তার মোট জ্বালানি তেলের চাহিদার প্রায় ৯৫ শতাংশ আমদানি করে।

ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত এবং এর ফলে সৃষ্ট জ্বালানি-সংকট দেখিয়ে দিয়েছে, একটি মাত্র সমুদ্রপথের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ। বাস্তব পরিস্থিতি এমনভাবে দুর্বলতা তুলে ধরেছে, যা কোনো পূর্বাভাস মডেল দিয়েও বোঝা সম্ভব ছিল না।

গতকালের সমাধান, আজকের সংকট

দক্ষিণ এশিয়ার এলএনজি নির্ভরতা ছিল পরিকল্পিত নীতিগত সিদ্ধান্তের ফল। বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণ গ্যাসক্ষেত্রগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন কমে আসছে। পাকিস্তান ২০২২ সালে এলএনজির উচ্চ মূল্যের কারণে প্রায় দেউলিয়া হওয়ার মুখে পড়ে। একই সময়ে শ্রীলঙ্কা বৈদেশিক মুদ্রার সংকটে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে জ্বালানি কেনার সক্ষমতা হারায়।

২০২৬ সাল নিয়ে আসে একই ধরনের সংকটের পুনরাবৃত্তি। ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ইউরোপে এলএনজির চাহিদা বেড়ে যায়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম এত বেশি হয়ে যায় যে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের পক্ষে তা বহন করা সম্ভব হয়নি।

এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে ঝুঁকে পড়ে। এর উদ্দেশ্য ছিল সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং অস্থির স্পট মার্কেটের ঝুঁকি এড়ানো। উপসাগরীয় দেশগুলো তুলনামূলক স্থিতিশীল দাম ও নির্ভরযোগ্য সরবরাহের প্রস্তাব দেয়। ফলে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা এসব চুক্তি স্বাক্ষর করে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে। সার কারখানা বন্ধ রাখা হয়েছে। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সব বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করা হয়েছে। জ্বালানির ব্যবহার সীমিত করা হয়েছে। তেল মজুত রোধে ডিপোগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে স্পট মার্কেট থেকে প্রায় তিনগুণ বেশি দামে এলএনজি কিনতে বাধ্য হচ্ছে।

এই কৌশল তখন যৌক্তিক ছিল। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি স্পট মার্কেটের তুলনায় মূল্য স্থিতিশীলতা দেয়। ২০২২ সালে যখন এলএনজির দাম প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিটে ৭০ ডলারে পৌঁছায়, তখন বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে বিদ্যুৎ সংকট দেখা দেয় এবং লোডশেডিং বাড়ে।

চুক্তিগুলো এমন পরিস্থিতি এড়ানোর জন্যই করা হয়েছিল। কিন্তু একটি বিষয় বিবেচনায় আনা হয়নি। সেটি হলো, এসব জ্বালানি সরবরাহের একমাত্র পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

বর্তমান সংকটে সেই আশঙ্কাই বাস্তবে রূপ নিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই প্রণালি বন্ধ থাকলে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বে।

আজকের সংকট: এলএনজি কৌশলের সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট

বর্তমান সংকটের প্রভাব দেশভেদে ভিন্ন হলেও এর মূল সমস্যাটি একই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে।

বাংলাদেশ ২০২৩ সালের জুনে কাতারএনার্জির সঙ্গে ১৫ বছরের একটি চুক্তি করে, যার আওতায় ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সরবরাহ শুরু হয়। কিন্তু প্রথম চালান আসার মাত্র সাত সপ্তাহের মধ্যে গত ৪ মার্চ রাস লাফানে কাতার এনার্জি ‘ফোর্স মেজর’ ঘোষণা করে।

পরবর্তীতে ওই স্থাপনায় ইরানের হামলায় কাতারের এলএনজি রপ্তানির প্রায় ১৭ শতাংশ সক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। কাতারএনার্জির প্রধান নির্বাহী জানিয়েছেন, বছরে প্রায় ১২.৮ মিলিয়ন টন উৎপাদন তিন থেকে পাঁচ বছরের জন্য বন্ধ থাকতে পারে।

শুরুর দিকে এটি সাময়িক সমস্যা মনে হলেও দ্রুত তা বড় সরবরাহ সংকটে রূপ নেয়। ‘ফোর্স মেজর’ ঘোষণার পর বাংলাদেশের সঙ্গে করা চুক্তি কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে। সার কারখানা বন্ধ রাখা হয়েছে। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সব বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করা হয়েছে। জ্বালানির ব্যবহার সীমিত করা হয়েছে। তেল মজুত রোধে ডিপোগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে স্পট মার্কেট থেকে প্রায় তিনগুণ বেশি দামে এলএনজি কিনতে বাধ্য হচ্ছে।

পাকিস্তানের পরিস্থিতি ভিন্ন হলেও সমস্যার গভীরতা একই। ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত দেশটির কাছে এলএনজির বাড়তি মজুত ছিল। সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ায় গ্যাসের চাহিদা কমে যাওয়ায় টার্মিনালগুলো পুরো সক্ষমতায় ব্যবহার হচ্ছিল না।

কিন্তু উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধ শুরু হতেই নতুন সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় এবং দেশে জরুরি জ্বালানি সংকট তৈরি হয়।

বাংলাদেশের মতো পাকিস্তানও জরুরি ব্যবস্থা নিয়েছে। সার কারখানায় এলএনজি সরবরাহ স্থগিত করা হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছে। টার্মিনালে গ্যাস রিগ্যাসিফিকেশন কমিয়ে আনা হয়েছে।

একই সঙ্গে পাকিস্তান এমন দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির বোঝা বহন করছে, যা পূরণ করা বা সহজে বাতিল করা দুটিই কঠিন। গবেষণা অনুযায়ী, ২০৩২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের চুক্তিতে প্রায় ১৭৭টি অতিরিক্ত এলএনজি কার্গো থাকতে পারে, যার আর্থিক দায় বর্তমান দামে ৫.৬ বিলিয়ন ডলার বা তারও বেশি।

শ্রীলঙ্কাও একই ধরনের চাপে রয়েছে, যদিও তাদের অর্থনীতি তুলনামূলক ছোট এবং সুরক্ষা ব্যবস্থাও দুর্বল। দেশটি আবার জ্বালানি রেশনিং চালু করেছে এবং সরকারি কর্মসূচিতে চার দিনের কর্মসপ্তাহ চালু করতে হয়েছে।

এই তিনটি ক্ষেত্রেই দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি চুক্তি ২০২২ সালের মূল্য সংকটের পর স্থিতিশীলতা আনতে করা হয়েছিল। এটি এক ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যকর ছিল, কিন্তু অন্য একটি ঝুঁকিকে উপেক্ষা করেছে।

দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি দামের ওঠানামা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, কিন্তু সরবরাহের পথ বন্ধ হয়ে গেলে তা কোনো সমাধান দিতে পারে না।

২০২৬ সালের সংকট মূলত ২০২২ সালের সংকটেরই পুনরাবৃত্তি, তবে ভিন্ন আকারে। একই নির্ভরতার কারণে এবার সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে সরবরাহ ব্যবস্থায়।

এই পরিস্থিতি দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ জ্বালানি পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।

২০২৬ সালের এই সংকটের পর দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো যে জ্বালানি কৌশল গ্রহণ করবে, সেটিই নির্ধারণ করবে ভবিষ্যতে একই ধরনের সংকটে তারা আবারও সমানভাবে বিপদে পড়বে, নাকি ধীরে ধীরে এই ভৌগোলিক নির্ভরতা কমাতে সক্ষম হবে।

গ্লোবাল এনার্জি মনিটরের হিসাবে, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান এলএনজি আমদানি সক্ষমতা দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা করছে। দক্ষিণ এশিয়ায় গ্যাস টার্মিনাল ও পাইপলাইনে সম্ভাব্য বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ১০৭ বিলিয়ন ডলার।

কিন্তু সরবরাহ ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় ঝুঁকি, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়া, ইতিমধ্যেই বাস্তবে দেখা গেছে।

একই ধরনের অবকাঠামোতে আরও বিনিয়োগ করা তাই একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত, যা এখন নতুন করে গভীরভাবে পর্যালোচনার দাবি রাখে।

বিকল্প পথ: নির্ভরতা কমানোর কৌশল

দক্ষিণ এশিয়ার দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি চুক্তিগুলো তখনকার বাস্তবতায় যৌক্তিক সিদ্ধান্ত ছিল। সে সময় মূল উদ্বেগ ছিল আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটের দামের অস্থিরতা।

কিন্তু এসব চুক্তি একটি মৌলিক দুর্বলতা দূর করতে পারেনি। পুরো অঞ্চলের গ্যাস সরবরাহ একটি মাত্র সমুদ্রপথের ওপর নির্ভরশীল, যা দক্ষিণ এশিয়ার কোনো দেশ নিয়ন্ত্রণ বা সুরক্ষা দিতে পারে না।

এই পরিস্থিতির একটি বিকল্প পথ রয়েছে—শুধুমাত্র সরবরাহ নিরাপদ করার চেষ্টা না করে এলএনজির ওপরই নির্ভরতা কমিয়ে আনা।

পাকিস্তানে সৌরবিদ্যুতের সম্প্রসারণ এই বিকল্পের একটি বাস্তব উদাহরণ। বর্তমান সংকটে দেশটির বিদ্যুৎ খাত আংশিকভাবে স্থিতিশীল থাকতে পেরেছে এই সৌরশক্তির কারণে।

গবেষণা অনুযায়ী, পাকিস্তানে প্রতি এক গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ২৫ বছরে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের এলএনজি আমদানি ব্যয় সাশ্রয় করতে পারে।

এর বাইরেও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে। দেশীয়ভাবে উৎপাদিত প্রতি গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ মানে হলো, সেই পরিমাণ জ্বালানি আর হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে আসার ওপর নির্ভর করতে হয় না।

অন্যদিকে বাংলাদেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে তুলনামূলক কম বিনিয়োগ করেছে। ফলে বর্তমান সংকটে দেশটির বিকল্প ব্যবস্থা কম এবং চাপ বেশি।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের বিষয়টি শুধু জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। এটি একটি কৌশলগত সিদ্ধান্তও। সৌর প্যানেল বা বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্র বিদেশি রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি কোম্পানির মূল্য নির্ধারণের ওপর নির্ভরশীল নয়। এগুলোর জন্য এমন কোনো সমুদ্রপথের প্রয়োজন হয় না, যা হঠাৎ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

বর্তমান সংকটের পর দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো যখন তাদের জ্বালানি নিরাপত্তা পুনর্মূল্যায়ন করছে, তখন এই পার্থক্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

২০২৬ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা তিন দেশই জ্বালানি খাতে কিছুটা আশাবাদী অবস্থানে ছিল। কিন্তু মার্চে এসে তারা সবাই জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেমে পড়ে।

এই আকস্মিক পরিবর্তন দেখিয়ে দিয়েছে, একটি মাত্র সমুদ্রপথের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ।

২০২৬ সালের এই সংকটের পর দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো যে জ্বালানি কৌশল গ্রহণ করবে, সেটিই নির্ধারণ করবে ভবিষ্যতে একই ধরনের সংকটে তারা আবারও সমানভাবে বিপদে পড়বে, নাকি ধীরে ধীরে এই ভৌগোলিক নির্ভরতা কমাতে সক্ষম হবে।

লেখক: মেজবাহনুর মাসুম একজন সাংবাদিক এবং ডালাসভিত্তিক বাংলা ভাষার পত্রিকা 'ডালাস বার্তা'র নির্বাহী সম্পাদক।

(দ্য ডিপ্লোম্যাটে প্রকাশিত ইংরেজি লেখাটির অনুবাদ করেছেন মাহবুবুল আলম তারেক)

সম্পর্কিত