গোলাম মুনতাকা

বিশ্বের কোনো এক প্রান্তের রাজপথে জনতা হয়তো ‘মুক্তি’ চাইছে, আর অন্য প্রান্তে সেই একই ‘মুক্তি’র স্লোগান দিয়ে তৈরি হচ্ছে মিসাইলের নিশানা। এই অদ্ভুত সময়ে, বিশ্বরাজনীতিতে ‘জনপ্রিয় নেতা’ কথাটির মানে খুঁজে বের করা বড্ড কঠিন।
একটা সময় ছিল যখন নেতৃত্বের মাপকাঠি হতো মাটির কাছাকাছি থাকা। জনগণ, সংগ্রাম, আর আত্মত্যাগের মধ্যেই জন্ম নিত নেতা। কিন্তু আজকের দিনে সেই সহজ অঙ্ক আর মেলে না। এখন কোনো নেতাকে জনপ্রিয় বলা হলে, আগে প্রশ্ন করতে হয়—তিনি কার চোখে জনপ্রিয়? নিজ দেশের সেই ঘামঝরা মানুষের চোখে, নাকি আন্তর্জাতিক মিডিয়া আর পশ্চিমা কূটনীতির ঝকঝকে ক্যামেরায়? এই দ্বৈত সত্তাই জন্ম দেয় এক অস্বস্তিকর প্রশ্নের, ইনি কি সত্যিকারের জননেতা, নাকি পরাশক্তিদের সাজানো দাবার বোর্ডের নিছক এক তুরুপের টেক্কা?
গ্লোবালাইজেশনের এই যুগে কোনো রাষ্ট্রই আর একা নয়। অর্থনীতি থেকে শুরু করে মানবাধিকার, সামরিক নিরাপত্তা থেকে প্রযুক্তি—সবকিছুই এক বৈশ্বিক সুতোয় গাঁথা। ফলে নেতৃত্ব এখন আর কেবল ঘরোয়া বিষয় থাকে না। একজন নেতা কীভাবে কথা বলেন, কোন ভাষায় গণতন্ত্রকে সংজ্ঞায়িত করেন, কার হাত ধরেন এসবই ঠিক করে দেয় বিশ্বমঞ্চে তার অবস্থান। আর এখানেই জনপ্রিয়তার সংজ্ঞা পাল্টে যায়। অনেক সময় জনগণের সমর্থন বা ‘ম্যান্ডেট’ গৌণ হয়ে পড়ে, মুখ্য হয়ে ওঠে পশ্চিমা বয়ান বা ন্যারেটিভ এবং তাদের স্বার্থ।
লাতিন আমেরিকার তেলসমৃদ্ধ দেশ ভেনেজুয়েলা এই দ্বান্দ্বিক রাজনীতির ধ্রুপদি উদাহরণ। প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো নিজেকে হুগো চাভেজের উত্তরসূরি হিসেবে দাবি করেন। সমর্থকদের কাছে তিনি সাম্রাজ্যবাদবিরোধী যুদ্ধের এক প্রতীক। তিনি সামাজিক ন্যায়বিচার ও বিদেশি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন বলে মনে করা হয়। তাঁরা বিশ্বাস করেন দেশের অর্থনীতির এই বেহাল দশা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ফসল। মাদুরো সেই চাপের মুখে নতি স্বীকার করেননি। কিন্তু পশ্চিমা চশমায় তাকালে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। সেখানে তিনি এক কর্তৃত্ববাদী শাসক যিনি গণতন্ত্রের গলা টিপে ধরেছেন।
জনগণের একাংশের সমর্থন থাকার পরও কি আন্তর্জাতিক অস্বীকৃতি একজনকে অবৈধ করে দিতে পারে? এই প্রশ্নে ২০১৯ সালের জুয়ান গুয়াইদোর কথা মনে পড়ে। বিরোধী এই নেতা নিজেকে 'অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট' ঘোষণা করলে পশ্চিমা বিশ্ব লুফে নিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ তাকে স্বীকৃতি দেয়। কিন্তু দেশের মাটিতে গুয়াইদোর অবস্থান ছিল নড়বড়ে। কোনো গণভিত্তি ছাড়াই কেবল আন্তর্জাতিক সমর্থনে কেউ নেতা হতে পারেন না।

গুয়াইদোর পতনের পর পশ্চিমারা নতুন বাজি ধরেছে মারিয়া কোরিনা মাচাদোর ওপর। এই নেত্রীকে তারা গণতন্ত্রের শেষ বাতিঘর হিসেবে তুলে ধরেছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্ট তাকে শাখারভ পুরস্কারে ভূষিত করেছে। এমনকি পেয়েছেন নোবেল শান্তি পুরস্কারও। কিন্তু সাম্প্রতিক ভেনেজুয়েলায় মার্কিন কমান্ডোদের হাতে মাদুরো অপহৃত হওয়ার পর মাচাদোর ভূমিকা নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে যেখানে নিন্দা জানানোর কথা সেখানে তিনি ট্রাম্পের এই আগ্রাসী পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি এই অপহরণকে ভেনেজুয়েলার জন্য ‘মুক্তি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
পরিস্থিতি নাটকীয় মোড় নেয় যখন মাচাদো ট্রাম্পের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন। তিনি এতটাই কৃতজ্ঞ যে নিজের শান্তি পুরস্কার ট্রাম্পের হাতে তুলে দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তাঁর মতে ট্রাম্পই শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে প্রকৃত ‘শান্তি’ এনেছেন। একজন শান্তিকামী বা মানবাধিকারের প্রতীকে পরিণত হওয়া নেত্রী যখন সামরিক আগ্রাসনের জন্য ভিনদেশি প্রেসিডেন্টকে পুরস্কৃত করতে চান তখন সমীকরণ বদলে যায়। তখন ‘শান্তি’ ও ‘গণতন্ত্রের’ সংজ্ঞা গুলিয়ে যায়। যা প্রমাণ করে মাচাদোর রাজনীতি এখন আর কেবল ভেনেজুয়েলার জনগণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বরং তা ওয়াশিংটনের ইচ্ছার সঙ্গে একাকার হয়ে গেছে। জনগণের সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক না থাকলে নেতৃত্ব হয় ঠুনকো। তা সামান্য ঝড়ে ভেঙে পড়ে বা অন্যের হাতের পুতুলে পরিণত হয়।
দৃষ্টি এবার মধ্যপ্রাচ্যে ফেরানো যাক। ইরানের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রেজা পাহলভির নামটি বারবার ফিরে আসে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের ঝড়ে উড়ে যাওয়া রাজপরিবারের এই শেষ প্রতিনিধি এখন পশ্চিমা বিশ্বের প্রিয়ভাজন। প্রবাসে থেকেও তিনি নিজেকে ইরানের ‘বিকল্প নেতা’ হিসেবে তুলে ধরেন। তাঁর মুখে শোনা যায় গণতন্ত্র, মানবাধিকার আর ধর্মনিরপেক্ষতার কথা, যা পশ্চিমা বিশ্বের শুনতে খুব ভালো লাগে। ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নাতীত।

কিন্তু তেহরানের রাজপথ, ইস্পাহানের অলিগলি কিংবা মাশহাদের সাধারণ মানুষের জীবনে রেজা পাহলভির অবস্থান কতটুকু? তিনি গত চার দশক ধরে দেশের মাটির গন্ধ থেকে দূরে। তাঁর কোনো রাজনৈতিক দল নেই, নেই কোনো তৃণমূল সংগঠন। তিনি যা বলেন, তা হয়তো পশ্চিমাদের এজেন্ডার সঙ্গে মেলে, কিন্তু তা কি ইরানি জনগণের প্রতিদিনের সংগ্রামকে ধারণ করে? এখানেও সেই একই সমীকরণ—তাঁর জনপ্রিয়তা জনগণের ভালোবাসার ফসল নয়, বরং আন্তর্জাতিক মহলের প্রত্যাশার প্রতিবিম্ব।
পশ্চিমারা যখন ইরানের বর্তমান শাসকের বিকল্প খোঁজে, তখন রেজা পাহলভি তাদের জন্য একটি সহজ ও সুবিধাজনক অপশন হয়ে ওঠেন। এটি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, কোনো রাষ্ট্র যদি পরাশক্তির স্বার্থের বিপরীতে দাঁড়ায়, তখন সেখানে নেতৃত্বের কৃত্রিম বিকল্প তৈরির চেষ্টা শুরু হয়।
ইউরোপের রণাঙ্গনে ভলোদিমির জেলেনস্কির উত্থান এই বিতর্কের আরেকটি জটিল অধ্যায়। ২০১৯ সালে এক বিপুল জনাদেশে তিনি ক্ষমতায় এসেছিলেন। তখন তাঁকে দেখা হতো এক দুর্নীতিবিরোধী যোদ্ধা ও সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর হিসেবে। কিন্তু ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর তাঁর ইমেজে এক নাটকীয় পরিবর্তন আসে। তিনি হয়ে ওঠেন পশ্চিমা বিশ্বের প্রতিরোধের প্রতীক। তাঁর খাকি পোশাক, না কামানো দাড়ি আর আবেগঘন বক্তৃতা তাঁকে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় করে তোলে।
কিন্তু একটু গভীরে তাকালে দেখা যায়, এই জনপ্রিয়তা ও বীরত্বগাথার পেছনে রয়েছে এক কঠিন বাস্তবতা। যুদ্ধের ময়দানে ইউক্রেন টিকে আছে পশ্চিমা অর্থ ও অস্ত্রের ওপর ভর করে। এই সহায়তা ছাড়া কি জেলেনস্কি আজকের অবস্থানে থাকতেন? এখানে নেতার জনপ্রিয়তা আর কৌশলগত প্রয়োজন মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে।

জেলেনস্কি অবশ্যই সার্বভৌম ইউক্রেনের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট, কিন্তু তাঁর টিকে থাকা বা সফল হওয়া অনেকটাই নির্ভর করছে ওয়াশিংটন বা ব্রাসেলসের সিদ্ধান্তের ওপর। এখানে নেতৃত্বের নিজস্ব সত্তা আর আন্তর্জাতিক নির্ভরশীলতার সীমারেখাটি খুবই অস্পষ্ট।
রাশিয়ার ক্ষেত্রে আলেক্সেই নাভালনির উদাহরণ পশ্চিমা ‘মিডিয়া-তৈরি’ ইমেজের এক অনন্য নজির। ক্রেমলিনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার এই নেতাকে আন্তর্জাতিক মিডিয়া এমনভাবে উপস্থাপন করেছে যেন তিনি পুতিনের একমাত্র বিকল্প। তাঁর সাহসিকতা অনস্বীকার্য, কিন্তু রাশিয়ার অভ্যন্তরে তাঁর প্রকৃত জনসমর্থন কতটুকু—তা নিয়ে বিতর্ক আছে। ২০২০ সালে বিষপ্রয়োগের শিকার হওয়ার পর বার্লিনে চিকিৎসা নেওয়া এবং ফিরে এসে জেলে যাওয়ার ঘটনা তাঁকে এক ট্র্যাজিক হিরো বা নায়কে পরিণত করেছে। কিন্তু এই হিরোইজম কতটা রাশিয়ার জনগণের হৃদয়ে আর কতটা পশ্চিমা হেডলাইনে—তা বিচার করা কঠিন।
অন্যদিকে আফগানিস্তানের হামিদ কারজাইয়ের গল্পটা করুণ। ২০০১ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকা এই নেতাকে দেখা হতো পশ্চিমাপন্থী ও জাতীয়তাবাদী হিসেবে। কিন্তু আফগান জনগণের বড় অংশের কাছে তিনি ছিলেন শুধুই ‘পুতুল সরকার’। তাঁর ক্ষমতার উৎস ছিল বিদেশি সৈন্য আর দাতা সংস্থার টাকা। যখনই সেই সমর্থন সরে গেছে, তখনই তাঁর শাসন ব্যবস্থার কঙ্কাল বেরিয়ে পড়েছে। কারজাই আমাদের মনে করিয়ে দেন, অতিরিক্ত আন্তর্জাতিক নির্ভরতা নেতৃত্বকে কতটা ঠুনকো আর জনবিচ্ছিন্ন করে ফেলতে পারে।
তবে সব উদাহরণই এমন হতাশাজনক নয়। নেলসন ম্যান্ডেলার মতো নেতারা প্রমাণ করেছেন যে, নেতৃত্বের আসল শক্তি জনগণের ভেতরেই লুকিয়ে থাকে। তিনি ২৭ বছর জেল খেটেছেন, বর্ণবাদের বিরুদ্ধে লড়েছেন—এসবই ছিল তাঁর নিজস্ব সংগ্রাম। পশ্চিমা বিশ্ব শুরুতে তাঁকে ‘সন্ত্রাসী’ বলেছিল, কিন্তু তাঁর নৈতিক জোর আর জনগণের ভালোবাসার কাছে শেষ পর্যন্ত বিশ্বকে মাথা নোয়াতে হয়েছে। ম্যান্ডেলার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সমর্থন ছিল তাঁর সংগ্রামের স্বীকৃতি, ভিত্তি নয়। তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন, জনগণের নেতা হতে হলে বিদেশি সার্টিফিকেটের দরকার পড়ে না; বরং নিজের কাজ দিয়েই সেই সার্টিফিকেট আদায় করে নেওয়া যায়।
আধুনিক বিশ্বরাজনীতির এই জটিল মানচিত্রে একটি বিষয় পরিষ্কার—জনপ্রিয়তা এখন আর একপাক্ষিক কোনো বিষয় নয়। এটি মূলত তিনটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে আছে: ১. জনগণের সমর্থন, ২. আন্তর্জাতিক বা মিডিয়া ন্যারেটিভ এবং ৩. ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ। এই তিনের মধ্যে যখন ভারসাম্য থাকে, তখন নেতৃত্ব টেকসই হয়। কিন্তু যখনই এর একটি অন্য দুটির ওপর ছড়ি ঘোরায়, তখনই সংকট তৈরি হয়।
পশ্চিমা রাজনীতির সবচেয়ে বড় অস্ত্র হলো তাদের ‘বয়ান তৈরির ক্ষমতা’। গণতন্ত্র বা মানবাধিকারের মতো মহান ধারণাগুলোকে তারা প্রয়োজনমতো কখনো ঢাল আবার কখনো তলোয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। তাদের ছকে যে নেতা ফিট করেন, তিনি নায়ক; আর যিনি করেন না, তিনি খলনায়ক। এই প্রক্রিয়ায় একটি দেশের নিজস্ব ইতিহাস, সংস্কৃতি বা সামাজিক বাস্তবতা প্রায়ই উপেক্ষিত থেকে যায়।
অবশ্য সব আন্তর্জাতিক চাপ বা সমর্থনকে ষড়যন্ত্র ভাবাটাও এক ধরনের মূর্খতা। অনেক সময় বাইরের চাপ দেশের ভেতরে সংস্কারের দরজা খুলে দেয়, স্বৈরাচারী শাসকদের লাগাম টানে। কিন্তু বিপদ তখনই হয়, যখন নেতারা জনগণের দিকে না তাকিয়ে বিদেশের দিকে তাকিয়ে সিদ্ধান্ত নেন। তখন তাঁরা আর ‘জনপ্রতিনিধি’ থাকেন না, হয়ে ওঠেন ‘প্রতিনিধি’।
নেতা বনাম তুরুপের টেক্কার এই দ্বন্দ্বে আসলে হেরে যায় সাধারণ মানুষ। সত্যিকারের নেতৃত্ব তখনই জন্ম নেয়, যখন তার শিকড় মাটির গভীরে থাকে। আন্তর্জাতিক সমর্থন সেই গাছকে ছায়া দিতে পারে, কিন্তু তার মূল বা শেকড় হতে পারে না।
এই বিভ্রান্তির যুগে আমাদের, মানে সাধারণ জনগণের দায়িত্ব অনেক বেশি। চটকদার হেডলাইন বা গালভরা বুলির আড়ালে লুকিয়ে থাকা সত্যকে চিনে নিতে হবে। আমাদের প্রশ্ন করতে হবে—এই নেতা কি আমার কথা বলছেন, নাকি অন্য কারো শেখানো বুলি আওড়াচ্ছেন? বিশ্ব রাজনীতির এই দাবার বোর্ডে আমরা যেন শুধুই ঘুঁটি না হই, তার জন্য এই সচেতনতা জরুরি। কারণ, শেষ পর্যন্ত একটি জাতির ভাগ্য বিদেশি কোনো পরাশক্তি নয়, বরং সেই জাতির সচেতন নাগরিকরাই নির্ধারণ করে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি, আল-জাজিরা, মর্ডান ডিপ্লোম্যাসি এবং দ্য গার্ডিয়ান

বিশ্বের কোনো এক প্রান্তের রাজপথে জনতা হয়তো ‘মুক্তি’ চাইছে, আর অন্য প্রান্তে সেই একই ‘মুক্তি’র স্লোগান দিয়ে তৈরি হচ্ছে মিসাইলের নিশানা। এই অদ্ভুত সময়ে, বিশ্বরাজনীতিতে ‘জনপ্রিয় নেতা’ কথাটির মানে খুঁজে বের করা বড্ড কঠিন।
একটা সময় ছিল যখন নেতৃত্বের মাপকাঠি হতো মাটির কাছাকাছি থাকা। জনগণ, সংগ্রাম, আর আত্মত্যাগের মধ্যেই জন্ম নিত নেতা। কিন্তু আজকের দিনে সেই সহজ অঙ্ক আর মেলে না। এখন কোনো নেতাকে জনপ্রিয় বলা হলে, আগে প্রশ্ন করতে হয়—তিনি কার চোখে জনপ্রিয়? নিজ দেশের সেই ঘামঝরা মানুষের চোখে, নাকি আন্তর্জাতিক মিডিয়া আর পশ্চিমা কূটনীতির ঝকঝকে ক্যামেরায়? এই দ্বৈত সত্তাই জন্ম দেয় এক অস্বস্তিকর প্রশ্নের, ইনি কি সত্যিকারের জননেতা, নাকি পরাশক্তিদের সাজানো দাবার বোর্ডের নিছক এক তুরুপের টেক্কা?
গ্লোবালাইজেশনের এই যুগে কোনো রাষ্ট্রই আর একা নয়। অর্থনীতি থেকে শুরু করে মানবাধিকার, সামরিক নিরাপত্তা থেকে প্রযুক্তি—সবকিছুই এক বৈশ্বিক সুতোয় গাঁথা। ফলে নেতৃত্ব এখন আর কেবল ঘরোয়া বিষয় থাকে না। একজন নেতা কীভাবে কথা বলেন, কোন ভাষায় গণতন্ত্রকে সংজ্ঞায়িত করেন, কার হাত ধরেন এসবই ঠিক করে দেয় বিশ্বমঞ্চে তার অবস্থান। আর এখানেই জনপ্রিয়তার সংজ্ঞা পাল্টে যায়। অনেক সময় জনগণের সমর্থন বা ‘ম্যান্ডেট’ গৌণ হয়ে পড়ে, মুখ্য হয়ে ওঠে পশ্চিমা বয়ান বা ন্যারেটিভ এবং তাদের স্বার্থ।
লাতিন আমেরিকার তেলসমৃদ্ধ দেশ ভেনেজুয়েলা এই দ্বান্দ্বিক রাজনীতির ধ্রুপদি উদাহরণ। প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো নিজেকে হুগো চাভেজের উত্তরসূরি হিসেবে দাবি করেন। সমর্থকদের কাছে তিনি সাম্রাজ্যবাদবিরোধী যুদ্ধের এক প্রতীক। তিনি সামাজিক ন্যায়বিচার ও বিদেশি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন বলে মনে করা হয়। তাঁরা বিশ্বাস করেন দেশের অর্থনীতির এই বেহাল দশা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ফসল। মাদুরো সেই চাপের মুখে নতি স্বীকার করেননি। কিন্তু পশ্চিমা চশমায় তাকালে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। সেখানে তিনি এক কর্তৃত্ববাদী শাসক যিনি গণতন্ত্রের গলা টিপে ধরেছেন।
জনগণের একাংশের সমর্থন থাকার পরও কি আন্তর্জাতিক অস্বীকৃতি একজনকে অবৈধ করে দিতে পারে? এই প্রশ্নে ২০১৯ সালের জুয়ান গুয়াইদোর কথা মনে পড়ে। বিরোধী এই নেতা নিজেকে 'অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট' ঘোষণা করলে পশ্চিমা বিশ্ব লুফে নিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ তাকে স্বীকৃতি দেয়। কিন্তু দেশের মাটিতে গুয়াইদোর অবস্থান ছিল নড়বড়ে। কোনো গণভিত্তি ছাড়াই কেবল আন্তর্জাতিক সমর্থনে কেউ নেতা হতে পারেন না।

গুয়াইদোর পতনের পর পশ্চিমারা নতুন বাজি ধরেছে মারিয়া কোরিনা মাচাদোর ওপর। এই নেত্রীকে তারা গণতন্ত্রের শেষ বাতিঘর হিসেবে তুলে ধরেছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্ট তাকে শাখারভ পুরস্কারে ভূষিত করেছে। এমনকি পেয়েছেন নোবেল শান্তি পুরস্কারও। কিন্তু সাম্প্রতিক ভেনেজুয়েলায় মার্কিন কমান্ডোদের হাতে মাদুরো অপহৃত হওয়ার পর মাচাদোর ভূমিকা নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে যেখানে নিন্দা জানানোর কথা সেখানে তিনি ট্রাম্পের এই আগ্রাসী পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি এই অপহরণকে ভেনেজুয়েলার জন্য ‘মুক্তি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
পরিস্থিতি নাটকীয় মোড় নেয় যখন মাচাদো ট্রাম্পের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন। তিনি এতটাই কৃতজ্ঞ যে নিজের শান্তি পুরস্কার ট্রাম্পের হাতে তুলে দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তাঁর মতে ট্রাম্পই শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে প্রকৃত ‘শান্তি’ এনেছেন। একজন শান্তিকামী বা মানবাধিকারের প্রতীকে পরিণত হওয়া নেত্রী যখন সামরিক আগ্রাসনের জন্য ভিনদেশি প্রেসিডেন্টকে পুরস্কৃত করতে চান তখন সমীকরণ বদলে যায়। তখন ‘শান্তি’ ও ‘গণতন্ত্রের’ সংজ্ঞা গুলিয়ে যায়। যা প্রমাণ করে মাচাদোর রাজনীতি এখন আর কেবল ভেনেজুয়েলার জনগণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বরং তা ওয়াশিংটনের ইচ্ছার সঙ্গে একাকার হয়ে গেছে। জনগণের সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক না থাকলে নেতৃত্ব হয় ঠুনকো। তা সামান্য ঝড়ে ভেঙে পড়ে বা অন্যের হাতের পুতুলে পরিণত হয়।
দৃষ্টি এবার মধ্যপ্রাচ্যে ফেরানো যাক। ইরানের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রেজা পাহলভির নামটি বারবার ফিরে আসে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের ঝড়ে উড়ে যাওয়া রাজপরিবারের এই শেষ প্রতিনিধি এখন পশ্চিমা বিশ্বের প্রিয়ভাজন। প্রবাসে থেকেও তিনি নিজেকে ইরানের ‘বিকল্প নেতা’ হিসেবে তুলে ধরেন। তাঁর মুখে শোনা যায় গণতন্ত্র, মানবাধিকার আর ধর্মনিরপেক্ষতার কথা, যা পশ্চিমা বিশ্বের শুনতে খুব ভালো লাগে। ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নাতীত।

কিন্তু তেহরানের রাজপথ, ইস্পাহানের অলিগলি কিংবা মাশহাদের সাধারণ মানুষের জীবনে রেজা পাহলভির অবস্থান কতটুকু? তিনি গত চার দশক ধরে দেশের মাটির গন্ধ থেকে দূরে। তাঁর কোনো রাজনৈতিক দল নেই, নেই কোনো তৃণমূল সংগঠন। তিনি যা বলেন, তা হয়তো পশ্চিমাদের এজেন্ডার সঙ্গে মেলে, কিন্তু তা কি ইরানি জনগণের প্রতিদিনের সংগ্রামকে ধারণ করে? এখানেও সেই একই সমীকরণ—তাঁর জনপ্রিয়তা জনগণের ভালোবাসার ফসল নয়, বরং আন্তর্জাতিক মহলের প্রত্যাশার প্রতিবিম্ব।
পশ্চিমারা যখন ইরানের বর্তমান শাসকের বিকল্প খোঁজে, তখন রেজা পাহলভি তাদের জন্য একটি সহজ ও সুবিধাজনক অপশন হয়ে ওঠেন। এটি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, কোনো রাষ্ট্র যদি পরাশক্তির স্বার্থের বিপরীতে দাঁড়ায়, তখন সেখানে নেতৃত্বের কৃত্রিম বিকল্প তৈরির চেষ্টা শুরু হয়।
ইউরোপের রণাঙ্গনে ভলোদিমির জেলেনস্কির উত্থান এই বিতর্কের আরেকটি জটিল অধ্যায়। ২০১৯ সালে এক বিপুল জনাদেশে তিনি ক্ষমতায় এসেছিলেন। তখন তাঁকে দেখা হতো এক দুর্নীতিবিরোধী যোদ্ধা ও সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর হিসেবে। কিন্তু ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর তাঁর ইমেজে এক নাটকীয় পরিবর্তন আসে। তিনি হয়ে ওঠেন পশ্চিমা বিশ্বের প্রতিরোধের প্রতীক। তাঁর খাকি পোশাক, না কামানো দাড়ি আর আবেগঘন বক্তৃতা তাঁকে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় করে তোলে।
কিন্তু একটু গভীরে তাকালে দেখা যায়, এই জনপ্রিয়তা ও বীরত্বগাথার পেছনে রয়েছে এক কঠিন বাস্তবতা। যুদ্ধের ময়দানে ইউক্রেন টিকে আছে পশ্চিমা অর্থ ও অস্ত্রের ওপর ভর করে। এই সহায়তা ছাড়া কি জেলেনস্কি আজকের অবস্থানে থাকতেন? এখানে নেতার জনপ্রিয়তা আর কৌশলগত প্রয়োজন মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে।

জেলেনস্কি অবশ্যই সার্বভৌম ইউক্রেনের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট, কিন্তু তাঁর টিকে থাকা বা সফল হওয়া অনেকটাই নির্ভর করছে ওয়াশিংটন বা ব্রাসেলসের সিদ্ধান্তের ওপর। এখানে নেতৃত্বের নিজস্ব সত্তা আর আন্তর্জাতিক নির্ভরশীলতার সীমারেখাটি খুবই অস্পষ্ট।
রাশিয়ার ক্ষেত্রে আলেক্সেই নাভালনির উদাহরণ পশ্চিমা ‘মিডিয়া-তৈরি’ ইমেজের এক অনন্য নজির। ক্রেমলিনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার এই নেতাকে আন্তর্জাতিক মিডিয়া এমনভাবে উপস্থাপন করেছে যেন তিনি পুতিনের একমাত্র বিকল্প। তাঁর সাহসিকতা অনস্বীকার্য, কিন্তু রাশিয়ার অভ্যন্তরে তাঁর প্রকৃত জনসমর্থন কতটুকু—তা নিয়ে বিতর্ক আছে। ২০২০ সালে বিষপ্রয়োগের শিকার হওয়ার পর বার্লিনে চিকিৎসা নেওয়া এবং ফিরে এসে জেলে যাওয়ার ঘটনা তাঁকে এক ট্র্যাজিক হিরো বা নায়কে পরিণত করেছে। কিন্তু এই হিরোইজম কতটা রাশিয়ার জনগণের হৃদয়ে আর কতটা পশ্চিমা হেডলাইনে—তা বিচার করা কঠিন।
অন্যদিকে আফগানিস্তানের হামিদ কারজাইয়ের গল্পটা করুণ। ২০০১ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকা এই নেতাকে দেখা হতো পশ্চিমাপন্থী ও জাতীয়তাবাদী হিসেবে। কিন্তু আফগান জনগণের বড় অংশের কাছে তিনি ছিলেন শুধুই ‘পুতুল সরকার’। তাঁর ক্ষমতার উৎস ছিল বিদেশি সৈন্য আর দাতা সংস্থার টাকা। যখনই সেই সমর্থন সরে গেছে, তখনই তাঁর শাসন ব্যবস্থার কঙ্কাল বেরিয়ে পড়েছে। কারজাই আমাদের মনে করিয়ে দেন, অতিরিক্ত আন্তর্জাতিক নির্ভরতা নেতৃত্বকে কতটা ঠুনকো আর জনবিচ্ছিন্ন করে ফেলতে পারে।
তবে সব উদাহরণই এমন হতাশাজনক নয়। নেলসন ম্যান্ডেলার মতো নেতারা প্রমাণ করেছেন যে, নেতৃত্বের আসল শক্তি জনগণের ভেতরেই লুকিয়ে থাকে। তিনি ২৭ বছর জেল খেটেছেন, বর্ণবাদের বিরুদ্ধে লড়েছেন—এসবই ছিল তাঁর নিজস্ব সংগ্রাম। পশ্চিমা বিশ্ব শুরুতে তাঁকে ‘সন্ত্রাসী’ বলেছিল, কিন্তু তাঁর নৈতিক জোর আর জনগণের ভালোবাসার কাছে শেষ পর্যন্ত বিশ্বকে মাথা নোয়াতে হয়েছে। ম্যান্ডেলার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সমর্থন ছিল তাঁর সংগ্রামের স্বীকৃতি, ভিত্তি নয়। তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন, জনগণের নেতা হতে হলে বিদেশি সার্টিফিকেটের দরকার পড়ে না; বরং নিজের কাজ দিয়েই সেই সার্টিফিকেট আদায় করে নেওয়া যায়।
আধুনিক বিশ্বরাজনীতির এই জটিল মানচিত্রে একটি বিষয় পরিষ্কার—জনপ্রিয়তা এখন আর একপাক্ষিক কোনো বিষয় নয়। এটি মূলত তিনটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে আছে: ১. জনগণের সমর্থন, ২. আন্তর্জাতিক বা মিডিয়া ন্যারেটিভ এবং ৩. ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ। এই তিনের মধ্যে যখন ভারসাম্য থাকে, তখন নেতৃত্ব টেকসই হয়। কিন্তু যখনই এর একটি অন্য দুটির ওপর ছড়ি ঘোরায়, তখনই সংকট তৈরি হয়।
পশ্চিমা রাজনীতির সবচেয়ে বড় অস্ত্র হলো তাদের ‘বয়ান তৈরির ক্ষমতা’। গণতন্ত্র বা মানবাধিকারের মতো মহান ধারণাগুলোকে তারা প্রয়োজনমতো কখনো ঢাল আবার কখনো তলোয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। তাদের ছকে যে নেতা ফিট করেন, তিনি নায়ক; আর যিনি করেন না, তিনি খলনায়ক। এই প্রক্রিয়ায় একটি দেশের নিজস্ব ইতিহাস, সংস্কৃতি বা সামাজিক বাস্তবতা প্রায়ই উপেক্ষিত থেকে যায়।
অবশ্য সব আন্তর্জাতিক চাপ বা সমর্থনকে ষড়যন্ত্র ভাবাটাও এক ধরনের মূর্খতা। অনেক সময় বাইরের চাপ দেশের ভেতরে সংস্কারের দরজা খুলে দেয়, স্বৈরাচারী শাসকদের লাগাম টানে। কিন্তু বিপদ তখনই হয়, যখন নেতারা জনগণের দিকে না তাকিয়ে বিদেশের দিকে তাকিয়ে সিদ্ধান্ত নেন। তখন তাঁরা আর ‘জনপ্রতিনিধি’ থাকেন না, হয়ে ওঠেন ‘প্রতিনিধি’।
নেতা বনাম তুরুপের টেক্কার এই দ্বন্দ্বে আসলে হেরে যায় সাধারণ মানুষ। সত্যিকারের নেতৃত্ব তখনই জন্ম নেয়, যখন তার শিকড় মাটির গভীরে থাকে। আন্তর্জাতিক সমর্থন সেই গাছকে ছায়া দিতে পারে, কিন্তু তার মূল বা শেকড় হতে পারে না।
এই বিভ্রান্তির যুগে আমাদের, মানে সাধারণ জনগণের দায়িত্ব অনেক বেশি। চটকদার হেডলাইন বা গালভরা বুলির আড়ালে লুকিয়ে থাকা সত্যকে চিনে নিতে হবে। আমাদের প্রশ্ন করতে হবে—এই নেতা কি আমার কথা বলছেন, নাকি অন্য কারো শেখানো বুলি আওড়াচ্ছেন? বিশ্ব রাজনীতির এই দাবার বোর্ডে আমরা যেন শুধুই ঘুঁটি না হই, তার জন্য এই সচেতনতা জরুরি। কারণ, শেষ পর্যন্ত একটি জাতির ভাগ্য বিদেশি কোনো পরাশক্তি নয়, বরং সেই জাতির সচেতন নাগরিকরাই নির্ধারণ করে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি, আল-জাজিরা, মর্ডান ডিপ্লোম্যাসি এবং দ্য গার্ডিয়ান

ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে তুলে আনার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন অনেকটাই সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন। আগামী এপ্রিলে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক হওয়ার কথা।
১ ঘণ্টা আগে
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্ণেল (অব.) অলি আহমদ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতের সাথে নির্বাচনী আসন সমঝোতায় যুক্ত হয়েছেন। তার দল গোটা আওয়ামী লীগ শাসনামলে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটে যুক্ত ছিলো এবং সেভাবেই বক্তব্য-বিবৃতি রাখতেন। তিনি বিএনপি সর
১৪ ঘণ্টা আগে
ইরানে চলমান বিক্ষোভ ইসলামি প্রজাতন্ত্রের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। বিক্ষোভের মূল কারণ অর্থনৈতিক হতাশা। তবে দ্রুতই তা রাষ্ট্রব্যবস্থার পরিবর্তনের দাবিতে রূপ নিচ্ছে।
১৮ ঘণ্টা আগে
ডাকসু, জাকসু, রাকসু, চাকসু'র পর জকসু। পাঁচটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনেই ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেলের জয়। কোথাও বড় জয়, কোথাও ভূমিধস। এই ধারাবাহিকতা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
১ দিন আগে