আবু তাহের খান

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র তার উচ্চস্বর কিছুটা নিচু করে সম্প্রতি তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে ইরানের কাছে যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব পাঠিয়েছে। জবাবে ইরান ৫ দফা শর্ত দিয়ে যা যা বলেছে, যুদ্ধ বন্ধের জন্য সেগুলো খুবই প্রাসঙ্গিক এবং ন্যূনতম যৌক্তিক শর্ত। তবে বাংলাদেশের একটি দৈনিক পত্রিকা নিজ চোখে মার্কিন লেন্স লাগিয়ে এসবকে বলেছে ‘কঠিন’ শর্ত। কিন্তু কেন এসব শর্ত তাদের কাছে কঠিন মনে হলো এবং এ ধরনের শর্ত যুক্তরাষ্ট্র আরোপ করলেও সেসবকে তারা কঠিন বলতেন কিনা, সেটি প্রশ্ন বৈকি। তবে অনুমান করি, তারা তখন সেসবকে বলতেন অপরিহার্য শর্ত।
যা হোক, যুদ্ধ বন্ধের জন্য ইরানের দেওয়া পাঁচ শর্তের প্রথম ও অন্যতম শর্ত হলো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সামরিক ঘাঁটিগুলো বন্ধ করা। ধারণা করি, বিশ্বের যে কোনো শান্তিকামী বিবেকবান মানুষই এ প্রস্তাব সমর্থন করবেন। বস্তুত মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী ও টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য এর কোনো বিকল্প নেই। আর এটি না করে অন্য যে ব্যবস্থাই নেওয়া হোক না কেন, তা হবে লোক দেখানো ও চোখ ধোঁয়ানো উদ্যোগ এবং সেগুলো কখনো টেকসই হবে না। অতএব যুদ্ধ বন্ধে ইরানের এ প্রস্তাব কঠিন তো নয়ই; বরং বলা যেতে পারে, এ মুহূর্তের অপরিহার্য ন্যূনতম শর্ত।
এরই ধারাবাহিকতায় বলা যেতে পারে, যুক্তরাষ্ট্র যদি মধ্যপ্রাচ্য থেকে তার ঘাঁটিগুলো সরিয়েও নেয়, যে সম্ভাবনা আপাতত খুবই ক্ষীণ, তাহলেও বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে না; যদি অন্যত্র থাকা ঘাঁটিগুলো তারা প্রত্যাহার করে না নেয়। বিশ্বে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো এ মুহূর্তে বস্তুতই বিশ্বশান্তির জন্য বড় হুমকি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে ভেনিজুয়েলার বৈধ রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরোকে মধ্যরাতে রাষ্ট্রীয় বাসভবন থেকে সস্ত্রীক উঠিয়ে নিয়ে আসতে পারলেন, সেটি গুয়ানতানামো বে-তে মার্কিন ঘাঁটি থাকার কারণেই সম্ভব হয়েছে। একইভাবে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনিকে হত্যা করাও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সহজ হতো না, যদি ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের নানা স্থানে তাদের ঘাঁটি না থাকত। মোট কথা, বিশ্বের নানা স্থানে বিষফোঁড়ার মতো গড়ে ওঠা এই মার্কিন ঘাঁটিগুলো পদে পদে বিশ্ববাসীর জন্য আতঙ্ক ও অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আমরা এ-ও জানি, উল্লিখিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো শুধু বিশ্বশান্তির জন্য নয়; বিশ্বের রাষ্ট্র, সমাজ, অর্থনীতি, পরিবেশ, সংস্কৃতি প্রভৃতিকে সংকটের দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্যও বহুলাংশে দায়ী। মানুষের প্রাকৃতিক জীবনপ্রণালির ওপরও তা নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পৃথিবীর যে সম্পদ মানবজাতির কল্যাণ, উন্নয়ন ও মানবিক মর্যাদা বৃদ্ধির কাজে ব্যবহৃত হতে পারতো, তার একটি বিরাট অংশই এখন চলে যাচ্ছে এ ঘাঁটিগুলোর ব্যয় মেটানো এবং এগুলোকে রমরমা ও হালনাগাদ রাখার পেছনে। এ ঘাঁটিগুলোয় প্রতি বছরই নতুন নতুন অস্ত্র ও সরঞ্জাম যুক্ত হচ্ছে, যার মানে পৃথিবীতে নিয়মিতই এসব অস্ত্র ও সরঞ্জাম উৎপাদন বাড়ছে; যদিও একইসঙ্গে পৃথিবীজুড়ে বাড়ছে খাদ্য, চিকিৎসা, বাসস্থান ও শিক্ষাবঞ্চিত মানুষ। বাংলাদেশেও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে অন্তত ৩০ লাখ লোক নতুন করে দারিদ্র্যসীমার ভেতর এবং ১ লাখ ৬০ হাজার তরুণ বেকারত্বের পরিধিতে প্রবেশ করেছে। অথচ যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে প্ররোচিত করছে তাদের কাছ থেকে বেশি করে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম কিনতে এবং বাংলাদেশকে তাতে এক রকম সাড়াও দিতে হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় কখন যে তারা এদেশেও ঘাঁটি স্থাপনের অনুমতি চেয়ে বসে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গত ৯ ফেব্রুয়ারি পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার পর থেকে সেটিও অনেকের কাছে দুশ্চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যা হোক, বিশ্বজুড়ে আতঙ্কের প্রতীক হয়ে মানবতা ও শান্তির বিপরীতে দাঁড়িয়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর ভয়াবহতা সম্পর্কে বিশ্বের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ জানলেও মূল ভুক্তভোগীদের বেশির ভাগই তা জানে না। জানলে এমন একটি ঘটনা কখনোই ঘটা সম্ভব হতো না—বিশ্বের ৪০টিরও বেশি দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, যেগুলো ঘাঁটিভুক্ত ও ঘাঁটিবহির্ভূত দেশগুলোর কোটি কোটি মানুষের অনেক মৌলিক অধিকার ও ন্যূনতম সুখ-শান্তিটুকু নিষ্ঠুরভাবে কেড়ে নিয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লালনকারী চল্লিশটি দেশের অধিকাংশই অর্থনৈতিকভাবে অগ্রসর, যেগুলোর সরকার প্রায়ই সম্প্রীতি, শান্তি ও মানবাধিকারের কথা বলে। বাস্তবে তারা আচরণ করছে এর বিপরীতটি। নইলে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ এবং অস্ট্রেলিয়া, কানাডা বা জাপানের মতো রাষ্ট্র কেন বছরের পর বছর যুক্তরাষ্ট্রকে নিজ দেশে সামরিক ঘাঁটি টিকিয়ে রাখতে দেবে?
প্রসঙ্গত বলা প্রয়োজন, বিশ্বশান্তি বিরোধী এসব সামরিক ঘাঁটি টিকিয়ে রাখার কারণে ক্ষোভ ও অসন্তোষ শুধু বাংলাদেশের মতো অনগ্রসর দেশগুলোয় বিদ্যমান কিংবা বাড়ছে, তা নয়। এ নিয়ে ঘাঁটি-সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জনগণের মধ্যেও ব্যাপক অসন্তোষ রয়েছে। কারণ, এসব সামরিক ঘাঁটির পরিপোষণ ও সেগুলো টিকিয়ে রাখার কারণে তাদের জীবনমানও প্রচণ্ডভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তদুপরি শান্তি ও নৈতিকতার বিষয় তো আছেই। তবে খানিকটা হলেও আশার কথা, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক ইরান আক্রমণের পরিপ্রেক্ষিতে ন্যাটোভুক্ত ইউরোপীয় দেশগুলো ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি প্রকাশ্যে অসন্তোষ ব্যক্ত করতে শুরু করেছে।
ইউরোপীয় নেতারা ইতোমধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বলে দিয়েছেন, ‘এটি আমাদের যুদ্ধ নয়’। তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরান যুদ্ধে যোগদানে অস্বীকৃতিও জানিয়েছেন। আসলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপর্যুপরি আগ্রাসী ও উচ্ছৃঙ্খল আচরণে যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ মিত্রই এখন প্রচণ্ড বিরক্ত। তাদের এ বিরক্তি ও ক্ষোভ যদি এক পর্যায়ে ওইসব দেশ থেকে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে রূপ নেয়, তাহলে মোটেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। বরং বিশ্বশান্তি ও মানবতার স্বার্থে সেটাই হওয়া উচিৎ বলে মনে করি।
পরিশেষে বলব, ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই যেভাবে একের পর এক উচ্ছৃঙ্খল ও স্বেচ্ছাচারী আচরণ করে যাচ্ছেন, সেগুলো অনেকটাই রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শামিল। আর তার এ ধরনের আচরণের কারণে নিজ দেশ, মিত্র দেশ এবং অন্যত্র তার ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি মানুষের অসন্তোষ যেভাবে বাড়ছে, তাতে ধারণা করা যায়, অদূর ভবিষ্যতে বিভিন্ন দেশ থেকে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি প্রত্যাহার করে নেওয়ার দাবি প্রচণ্ডভাবে আবির্ভূত হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। এটাও ধারণা করা যায়, সে দাবি সর্বাগ্রে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র ইউরোপ থেকেই উঠতে পারে। আর সেটি যত দ্রুত উঠবে, ইউরোপ তথা বিশ্বের জন্য ততই মঙ্গল। আমরা সব দেশকেই অপর দেশের সামরিক ঘাঁটিমুক্ত তথা স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চাই।
আবু তাহের খান: অ্যাডজাঙ্কট ফ্যাকাল্টি, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি; সাবেক পরিচালক, বিসিক, শিল্প মন্ত্রণালয়

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র তার উচ্চস্বর কিছুটা নিচু করে সম্প্রতি তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে ইরানের কাছে যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব পাঠিয়েছে। জবাবে ইরান ৫ দফা শর্ত দিয়ে যা যা বলেছে, যুদ্ধ বন্ধের জন্য সেগুলো খুবই প্রাসঙ্গিক এবং ন্যূনতম যৌক্তিক শর্ত। তবে বাংলাদেশের একটি দৈনিক পত্রিকা নিজ চোখে মার্কিন লেন্স লাগিয়ে এসবকে বলেছে ‘কঠিন’ শর্ত। কিন্তু কেন এসব শর্ত তাদের কাছে কঠিন মনে হলো এবং এ ধরনের শর্ত যুক্তরাষ্ট্র আরোপ করলেও সেসবকে তারা কঠিন বলতেন কিনা, সেটি প্রশ্ন বৈকি। তবে অনুমান করি, তারা তখন সেসবকে বলতেন অপরিহার্য শর্ত।
যা হোক, যুদ্ধ বন্ধের জন্য ইরানের দেওয়া পাঁচ শর্তের প্রথম ও অন্যতম শর্ত হলো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সামরিক ঘাঁটিগুলো বন্ধ করা। ধারণা করি, বিশ্বের যে কোনো শান্তিকামী বিবেকবান মানুষই এ প্রস্তাব সমর্থন করবেন। বস্তুত মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী ও টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য এর কোনো বিকল্প নেই। আর এটি না করে অন্য যে ব্যবস্থাই নেওয়া হোক না কেন, তা হবে লোক দেখানো ও চোখ ধোঁয়ানো উদ্যোগ এবং সেগুলো কখনো টেকসই হবে না। অতএব যুদ্ধ বন্ধে ইরানের এ প্রস্তাব কঠিন তো নয়ই; বরং বলা যেতে পারে, এ মুহূর্তের অপরিহার্য ন্যূনতম শর্ত।
এরই ধারাবাহিকতায় বলা যেতে পারে, যুক্তরাষ্ট্র যদি মধ্যপ্রাচ্য থেকে তার ঘাঁটিগুলো সরিয়েও নেয়, যে সম্ভাবনা আপাতত খুবই ক্ষীণ, তাহলেও বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে না; যদি অন্যত্র থাকা ঘাঁটিগুলো তারা প্রত্যাহার করে না নেয়। বিশ্বে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো এ মুহূর্তে বস্তুতই বিশ্বশান্তির জন্য বড় হুমকি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে ভেনিজুয়েলার বৈধ রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরোকে মধ্যরাতে রাষ্ট্রীয় বাসভবন থেকে সস্ত্রীক উঠিয়ে নিয়ে আসতে পারলেন, সেটি গুয়ানতানামো বে-তে মার্কিন ঘাঁটি থাকার কারণেই সম্ভব হয়েছে। একইভাবে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনিকে হত্যা করাও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সহজ হতো না, যদি ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের নানা স্থানে তাদের ঘাঁটি না থাকত। মোট কথা, বিশ্বের নানা স্থানে বিষফোঁড়ার মতো গড়ে ওঠা এই মার্কিন ঘাঁটিগুলো পদে পদে বিশ্ববাসীর জন্য আতঙ্ক ও অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আমরা এ-ও জানি, উল্লিখিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো শুধু বিশ্বশান্তির জন্য নয়; বিশ্বের রাষ্ট্র, সমাজ, অর্থনীতি, পরিবেশ, সংস্কৃতি প্রভৃতিকে সংকটের দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্যও বহুলাংশে দায়ী। মানুষের প্রাকৃতিক জীবনপ্রণালির ওপরও তা নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পৃথিবীর যে সম্পদ মানবজাতির কল্যাণ, উন্নয়ন ও মানবিক মর্যাদা বৃদ্ধির কাজে ব্যবহৃত হতে পারতো, তার একটি বিরাট অংশই এখন চলে যাচ্ছে এ ঘাঁটিগুলোর ব্যয় মেটানো এবং এগুলোকে রমরমা ও হালনাগাদ রাখার পেছনে। এ ঘাঁটিগুলোয় প্রতি বছরই নতুন নতুন অস্ত্র ও সরঞ্জাম যুক্ত হচ্ছে, যার মানে পৃথিবীতে নিয়মিতই এসব অস্ত্র ও সরঞ্জাম উৎপাদন বাড়ছে; যদিও একইসঙ্গে পৃথিবীজুড়ে বাড়ছে খাদ্য, চিকিৎসা, বাসস্থান ও শিক্ষাবঞ্চিত মানুষ। বাংলাদেশেও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে অন্তত ৩০ লাখ লোক নতুন করে দারিদ্র্যসীমার ভেতর এবং ১ লাখ ৬০ হাজার তরুণ বেকারত্বের পরিধিতে প্রবেশ করেছে। অথচ যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে প্ররোচিত করছে তাদের কাছ থেকে বেশি করে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম কিনতে এবং বাংলাদেশকে তাতে এক রকম সাড়াও দিতে হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় কখন যে তারা এদেশেও ঘাঁটি স্থাপনের অনুমতি চেয়ে বসে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গত ৯ ফেব্রুয়ারি পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার পর থেকে সেটিও অনেকের কাছে দুশ্চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যা হোক, বিশ্বজুড়ে আতঙ্কের প্রতীক হয়ে মানবতা ও শান্তির বিপরীতে দাঁড়িয়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর ভয়াবহতা সম্পর্কে বিশ্বের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ জানলেও মূল ভুক্তভোগীদের বেশির ভাগই তা জানে না। জানলে এমন একটি ঘটনা কখনোই ঘটা সম্ভব হতো না—বিশ্বের ৪০টিরও বেশি দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, যেগুলো ঘাঁটিভুক্ত ও ঘাঁটিবহির্ভূত দেশগুলোর কোটি কোটি মানুষের অনেক মৌলিক অধিকার ও ন্যূনতম সুখ-শান্তিটুকু নিষ্ঠুরভাবে কেড়ে নিয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লালনকারী চল্লিশটি দেশের অধিকাংশই অর্থনৈতিকভাবে অগ্রসর, যেগুলোর সরকার প্রায়ই সম্প্রীতি, শান্তি ও মানবাধিকারের কথা বলে। বাস্তবে তারা আচরণ করছে এর বিপরীতটি। নইলে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ এবং অস্ট্রেলিয়া, কানাডা বা জাপানের মতো রাষ্ট্র কেন বছরের পর বছর যুক্তরাষ্ট্রকে নিজ দেশে সামরিক ঘাঁটি টিকিয়ে রাখতে দেবে?
প্রসঙ্গত বলা প্রয়োজন, বিশ্বশান্তি বিরোধী এসব সামরিক ঘাঁটি টিকিয়ে রাখার কারণে ক্ষোভ ও অসন্তোষ শুধু বাংলাদেশের মতো অনগ্রসর দেশগুলোয় বিদ্যমান কিংবা বাড়ছে, তা নয়। এ নিয়ে ঘাঁটি-সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জনগণের মধ্যেও ব্যাপক অসন্তোষ রয়েছে। কারণ, এসব সামরিক ঘাঁটির পরিপোষণ ও সেগুলো টিকিয়ে রাখার কারণে তাদের জীবনমানও প্রচণ্ডভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তদুপরি শান্তি ও নৈতিকতার বিষয় তো আছেই। তবে খানিকটা হলেও আশার কথা, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক ইরান আক্রমণের পরিপ্রেক্ষিতে ন্যাটোভুক্ত ইউরোপীয় দেশগুলো ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি প্রকাশ্যে অসন্তোষ ব্যক্ত করতে শুরু করেছে।
ইউরোপীয় নেতারা ইতোমধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বলে দিয়েছেন, ‘এটি আমাদের যুদ্ধ নয়’। তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরান যুদ্ধে যোগদানে অস্বীকৃতিও জানিয়েছেন। আসলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপর্যুপরি আগ্রাসী ও উচ্ছৃঙ্খল আচরণে যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ মিত্রই এখন প্রচণ্ড বিরক্ত। তাদের এ বিরক্তি ও ক্ষোভ যদি এক পর্যায়ে ওইসব দেশ থেকে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে রূপ নেয়, তাহলে মোটেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। বরং বিশ্বশান্তি ও মানবতার স্বার্থে সেটাই হওয়া উচিৎ বলে মনে করি।
পরিশেষে বলব, ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই যেভাবে একের পর এক উচ্ছৃঙ্খল ও স্বেচ্ছাচারী আচরণ করে যাচ্ছেন, সেগুলো অনেকটাই রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শামিল। আর তার এ ধরনের আচরণের কারণে নিজ দেশ, মিত্র দেশ এবং অন্যত্র তার ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি মানুষের অসন্তোষ যেভাবে বাড়ছে, তাতে ধারণা করা যায়, অদূর ভবিষ্যতে বিভিন্ন দেশ থেকে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি প্রত্যাহার করে নেওয়ার দাবি প্রচণ্ডভাবে আবির্ভূত হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। এটাও ধারণা করা যায়, সে দাবি সর্বাগ্রে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র ইউরোপ থেকেই উঠতে পারে। আর সেটি যত দ্রুত উঠবে, ইউরোপ তথা বিশ্বের জন্য ততই মঙ্গল। আমরা সব দেশকেই অপর দেশের সামরিক ঘাঁটিমুক্ত তথা স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চাই।
আবু তাহের খান: অ্যাডজাঙ্কট ফ্যাকাল্টি, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি; সাবেক পরিচালক, বিসিক, শিল্প মন্ত্রণালয়

আপনার নেগ্রোনি নামিয়ে রাখুন, প্রাডা হ্যান্ডব্যাগ সরিয়ে দিন এবং হাতে তুলে নিন একটি পেপারব্যাক বই। পরের বার কেউ যখন আপনার ছবি তুলতে ফোন বের করবে, তখন লিপস্টিক নয়, বরং পড়ার চশমা হাতে নিন। কারণ এখন বুদ্ধিমত্তাই নতুন আকর্ষণ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে।
৪ ঘণ্টা আগে
বাংলায় আমরা বলি সড়ক দুর্ঘটনা। ইংরেজিতে সেটিকে লেখা হয় ‘রোড ক্র্যাশ’। ক্র্যাশের বাংলা দুর্ঘটনা হয় না। উপযুক্ত বাংলা পাওয়া যায় না বলেই হয়তো দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু আপনি যখন কোনো ঘটনাকে ‘দুর্ঘটনা’ বলে উল্লেখ করবেন বা মেনে নেবেন, তখন সেখানে কাউকে দায়ী করা যায় না। মনে হয় সেখানে কারও দায় নেই।
১ দিন আগে
হ্যাঁ আমরা সেই কম হেঁটে যাওয়া মানুষের পথে হেঁটেছিলাম। যে পথ ভয়ের, ক্ষয়ের, ত্যাগের এবং অস্তিত্বের সেই পথেই আমরা হেঁটেছি। ১৯৭১ সাল; বাঙালি হেঁটেছে অস্তিত্বের পথে। জীবনের সহজ সুখের সমস্ত পথ রুদ্ধ করে, ব্যক্তিগত সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য আর জীবনের মায়া ত্যাগ করে স্বাধীনতার কণ্টকাকীর্ণ পথ বেছে নিয়েছিল অজস্র যুবা
১ দিন আগে
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে যে বর্বরোচিত সামরিক অভিযান শুরু করেছিল, তা মানব ইতিহাসের অন্যতম সুপরিকল্পিত ও নৃশংস নিধনযজ্ঞ হিসেবে চিহ্নিত।
২ দিন আগে