শিশুধর্ষণ বাড়ছে, রাষ্ট্রের দায় এড়ানোর সুযোগ কি আছে

প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭: ৪৩
স্ট্রিম গ্রাফিক
স্ট্রিম গ্রাফিক

ঢাকার সাভারে সাত বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাটিও আমাদের একটি কঠিন বাস্তবতা দেখায়—আমাদের শিশুরা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ ও অরক্ষিত। অভিযোগ অনুযায়ী, মাদ্রাসায় ভর্তি হওয়ার তিন সপ্তাহ পর থেকেই প্রায় ছয় মাস ধরে শিশুটিকে একাধিকবার যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। সহপাঠী থেকে শিক্ষক, একের পর এক মানুষের হাতে নির্যাতনের শিকার হওয়ার পরও শিশুটির নিরাপত্তা কোনোভাবেই নিশ্চিত করা যায়নি। অভিযোগ জানাতে গিয়েও সে নিরাপদ আশ্রয় পায়নি।

এ ছাড়া, ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে ১১ বছরের এক শিশুসহ সারা দেশে অসংখ্য শিশুর সঙ্গে ঘটে যাওয়া যৌন নিপীড়নের ঘটনাগুলোও আমাদের দেশের শিশুদের নিরাপত্তা, বিচারহীনতা ও রাষ্ট্রের দায় নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও প্রশ্নের জন্ম দেয়।

ঘটনাগুলো সামনে আসার সময়ই পুলিশের একটি পরিসংখ্যানও প্রকাশ্যে আসে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম সাত মাসে দেশে শিশুধর্ষণের অভিযোগে ১ হাজার ৪৮৫টি মামলা হয়েছে। ২০২৫ সালের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ৯৯৮, আর ২০২৪ সালের প্রথম সাত মাসে ৭৫১। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে মামলা বেড়েছে প্রায় ৪৯ শতাংশ, দুই বছরের ব্যবধানে প্রায় ৯৮ শতাংশ (প্রথম আলো, ৫ সেপ্টেম্বর)।

মামলার সংখ্যা দিয়ে অবশ্য দেশে ঠিক কত শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে, তা নির্ধারণ করা যায় না। মামলা হয়েছে মানেই সব ঘটনা ঘটেছে, আবার মামলা হয়নি মানেই ঘটনা ঘটেনি, এমন সরল সমীকরণও এখানে প্রযোজ্য নয়। সামাজিক লজ্জা, পারিবারিক চাপ, ভয় কিংবা অপরাধীর সঙ্গে সম্পর্কের কারণে অনেক পরিবার অভিযোগ করতেও দেরি করে। পুলিশের কর্মকর্তারাও বলছেন, মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতায় শিশুধর্ষণের একটি উল্লেখযোগ্য অংশের সঙ্গে পরিচিত মানুষ জড়িত, যাদের মধ্যে স্বজন, প্রতিবেশী ও পরিবারের বিশ্বাসভাজন ব্যক্তিও থাকেন। অভিযোগ করতে দেরি হলে গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহও কঠিন হয়ে পড়ে।

এখানেই শিশুর নিরাপত্তার প্রশ্নটি একটু ভিন্নভাবে দেখতে হয়। বিপদ সব সময় অপরিচিত মানুষের কাছ থেকে আসে না। যে মানুষকে পরিবার চেনে, যে মানুষ শিশুর কাছে যেতে পারে, তার কাছ থেকেও ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ফলে শিশুকে শুধু অপরিচিত মানুষের বিষয়ে সতর্ক করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। শিশুর চারপাশে যারা থাকেন, তাদের আচরণ, দায়িত্ব এবং জবাবদিহির ব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ।

শিশুকে বলা হয়, অপরিচিত কারও সঙ্গে কোথাও যেও না, কারও কাছ থেকে কিছু নিও না। কিন্তু পরিচিত কেউ যদি সীমা লঙ্ঘন করে, তখন শিশুটি কী করবে? একটি শিশুকে তার চারপাশের প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ককে সন্দেহ করতে শেখানো কোনো সমাধান নয়। বরং এমন পরিবেশ তৈরি করা দরকার, যেখানে কোনো অস্বস্তিকর আচরণ ঘটলে শিশু তা বলতে পারে এবং তার কথা গুরুত্ব দিয়ে শোনা হবে। সেই পরিবেশ তৈরির দায়িত্ব পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের। আর অভিযোগের পর আইনগত সুরক্ষা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের।

গফরগাঁওয়ের ঘটনাটি যেন আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, শিশু সুরক্ষার বর্তমান ব্যবস্থার দুর্বলতাগুলো ঠিক কোথায়। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার পরও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। তাঁর মুঠোফোন জব্দ করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। আবার স্থানীয়ভাবে সালিসে বিষয়টি মীমাংসার প্রস্তাবও উঠেছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। অথচ ধর্ষণের মতো অপরাধ কোনো সামাজিক বিরোধ নয় যে স্থানীয় সালিসে এর নিষ্পত্তি হবে।

এখানে রাষ্ট্রের দায়িত্বের প্রশ্নটি সামনে আসে। অভিযোগ ওঠার পর প্রথম কাজ হওয়া উচিত শিশুটিকে নিরাপদ করা, প্রমাণ সংরক্ষণ করা এবং আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা। অভিযুক্ত ব্যক্তি পরিচিত কি না, স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী কি না, পরিবার বা সমাজে তাঁর অবস্থান কী, এসবের কোনোটিই তদন্তের বিকল্প হতে পারে না। একই সঙ্গে অভিযুক্তের ন্যায্য তদন্ত ও আইনি অধিকারও নিশ্চিত করতে হবে। জবাবদিহি মানে প্রতিশোধ নয়, বরং সত্য উদঘাটনের একটি নিরপেক্ষ প্রক্রিয়া।

যে মানুষকে পরিবার চেনে, যে মানুষ শিশুর কাছে যেতে পারে, তার কাছ থেকেও ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ফলে শিশুকে শুধু অপরিচিত মানুষের বিষয়ে সতর্ক করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। শিশুর চারপাশে যারা থাকেন, তাদের আচরণ, দায়িত্ব এবং জবাবদিহির ব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ।

আইনেও দ্রুততার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করা হয়েছে। ২০২৫ সালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে পরিবর্তন এনে ধর্ষণ মামলার তদন্ত ও বিচার শেষ করার সময়সীমা কমানো হয়। আইনের সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী, ৯(৯বি) ছাড়া ধর্ষণের মামলার তদন্ত ১৫ দিনের মধ্যে এবং বিচার ৯০ দিনের মধ্যে শেষ করার বিধান করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে আদালত সময় বাড়াতে পারেন। ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের বিধানও বহাল রয়েছে।

কিন্তু আইন করে সময়সীমা নির্ধারণ করা আর বাস্তবে সেই সময়ের মধ্যে তদন্ত ও বিচার শেষ করা এক বিষয় নয়। এ কারণেই শুধু আইনের ধারা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকার সুযোগ নেই। তদন্ত কতটা পেশাদার হচ্ছে, আলামত কত দ্রুত সংগ্রহ হচ্ছে, সাক্ষীরা আদালতে হাজির হচ্ছেন কি না, তদন্ত কর্মকর্তার বদলি হলে মামলার অগ্রগতি কীভাবে বজায় থাকছে, এসব প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ।

দ্রুত বিচার যে অসম্ভব নয়, তার উদাহরণও আছে। রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় বিচারিক আদালত মাত্র ১৯ দিনের মধ্যে রায় দিয়েছিলেন। দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। দ্রুত নিষ্পত্তির কারণে মামলাটি আলোচনায় আসে। একই ধরনের দ্রুততা সব মামলায় নিশ্চিত করা সম্ভব কি না, সেই প্রশ্ন অবশ্যই থাকবে। কিন্তু এই উদাহরণ অন্তত দেখায়, তদন্ত, প্রসিকিউশন ও আদালতের মধ্যে সমন্বয় থাকলে বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতার মধ্যে আটকে থাকা অনিবার্য নয়।

অন্যদিকে, হাইকোর্টের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের ৯৯টি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ১ লাখ ৩২ হাজার ১০৭টি মামলা বিচারাধীন ছিল। এর মধ্যে ৩০ হাজার ৩৬৫টি মামলা পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে ঝুলে আছে। এই মামলাগুলো শুধু শিশুধর্ষণের নয়, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতায় হওয়া বিভিন্ন ধরনের মামলা। তারপরও নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলার বিচারপ্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতার এই চিত্র শিশুধর্ষণের মামলার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।

একটি শিশুর জন্য পাঁচ বছরও কম সময় নয়। মামলা চলতে চলতে তার বয়স বাড়ে, স্কুল বদলায়, পরিবারকে বারবার আদালত ও আইনজীবীর কাছে যেতে হয়। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলে সাক্ষ্য ও আলামত দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আবার অভিযুক্ত ব্যক্তি জামিনে বেরিয়ে এলে ভুক্তভোগী পরিবার নতুন চাপের মুখে পড়তে পারে। তাই দ্রুত বিচার শুধু অপরাধীকে শাস্তি দেওয়ার বিষয় নয়, শিশুর নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সঙ্গেও এর সম্পর্ক আছে।

শাস্তির প্রশ্নটিও তাই এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতায় ২১ হাজার ৯৩৯টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা ছিল ৭ হাজার ৬৮টি। এসব ধর্ষণ মামলার ভুক্তভোগীদের মধ্যে ৫ হাজার ১৭১ জন প্রাপ্তবয়স্ক নারী এবং ১ হাজার ৮৯৭ জন শিশু। ২০২৪ সালে ধর্ষণের মামলা ছিল ৫ হাজার ৫৬৬টি, যার মধ্যে শিশু ভুক্তভোগীর সংখ্যা ছিল ১ হাজার ২১৯।

এই পরিসংখ্যানের অর্থ শুধু আরও কঠোর শাস্তির দাবি তোলা নয়। অপরাধ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ হলো শাস্তির নিশ্চয়তা। একজন সম্ভাব্য অপরাধী যদি জানেন যে অভিযোগের পর তদন্ত হবে, আলামত সংগ্রহ হবে, তাঁকে আইনের আওতায় আনা হবে এবং বিচার শেষ হবে, তাহলে আইনের প্রতিরোধমূলক ভূমিকা তৈরি হয়। কিন্তু মামলা হওয়ার পর যদি তদন্ত থেমে থাকে, সাক্ষ্যপ্রমাণ নষ্ট হয় কিংবা বিচার বছরের পর বছর ঝুলে থাকে, তাহলে কঠোর শাস্তির বিধানও তার পূর্ণ কার্যকারিতা হারায়।


এই জায়গায় বিচারব্যবস্থার পাশাপাশি তদন্তপ্রক্রিয়াকেও গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ একটি মামলার ফলাফল অনেক সময় আদালতে যাওয়ার আগেই নির্ধারিত হয়ে যায়। তদন্তের মান খারাপ হলে, আলামত যথাযথভাবে সংরক্ষণ না হলে কিংবা সাক্ষীর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে আদালতের সামনে সত্য প্রমাণ করাও কঠিন হয়ে পড়ে। তাই শিশুধর্ষণের মামলায় তদন্তের প্রতিটি ধাপের ওপর নজরদারি এবং দায়বদ্ধতা প্রয়োজন।

সমস্যাটিকে শুধু পরিবার বা সমাজের দায়িত্ব হিসেবেও দেখা যাবে না। পরিবার শিশুকে নিরাপদ পরিবেশ দেবে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বয়সোপযোগী সচেতনতা তৈরি করবে, সমাজ অভিযোগ গোপন বা আপসের চাপ দেবে না। কিন্তু অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর আইন প্রয়োগ, তদন্ত, বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করার ক্ষমতা রাষ্ট্রের হাতেই। এই জায়গায় রাষ্ট্রের দায় অন্য সবার চেয়ে আলাদা।

তাই শিশুধর্ষণের সংখ্যা বাড়ছে কি না, প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেখানেই আলোচনা থামানো ঠিক হবে না। বরং আরও কয়েকটি প্রশ্ন সামনে রাখতে হবে। কতগুলো অভিযোগের তদন্ত নির্ধারিত সময়ে শেষ হচ্ছে? কতটি মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়া হচ্ছে? কতটি মামলায় বিচার শুরু হচ্ছে? কতগুলো মামলায় সাজা হচ্ছে? কতগুলো মামলা পাঁচ বছর বা তারও বেশি সময় ধরে ঝুলে আছে? আর মামলা করতে গিয়ে ভুক্তভোগী পরিবার কী ধরনের সামাজিক ও আর্থিক চাপের মুখে পড়ছে?

এই তথ্যগুলো নিয়মিত ও সহজবোধ্যভাবে প্রকাশ করা দরকার। পুলিশ সদর দপ্তরের কাছে অপরাধের মামলা-সংক্রান্ত তথ্য আছে, আদালতের কাছেও বিচারাধীন মামলার হিসাব আছে। কিন্তু একটি অভিযোগ থেকে তদন্ত, তদন্ত থেকে অভিযোগপত্র, অভিযোগপত্র থেকে বিচার এবং বিচার থেকে রায় পর্যন্ত পুরো পথটির সমন্বিত চিত্র সাধারণ মানুষের সামনে খুব স্পষ্ট নয়। জবাবদিহির জন্য এই তথ্যপ্রবাহ জরুরি।

শিশুকে আরও সতর্ক হতে বলা সহজ। পরিবারকে আরও সাবধান হতে বলা সহজ। কিন্তু শিশুর নিরাপত্তার পুরো দায় শিশুর ওপর বা তার পরিবারের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যায় না। নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা এবং অপরাধ ঘটলে কার্যকর প্রতিকার নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রের বড় দায়িত্ব।

শিশুধর্ষণের ঊর্ধ্বমুখী মামলার সংখ্যা তাই কেবল একটি অপরাধ পরিসংখ্যান নয়। এটি আমাদের তদন্তব্যবস্থা, বিচারব্যবস্থা, সামাজিক প্রতিক্রিয়া এবং রাষ্ট্রীয় জবাবদিহির সক্ষমতাকেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়। রাষ্ট্রের দায়িত্ব শুধু আইন প্রণয়ন বা শাস্তির বিধান করা নয়। সেই আইন যেন দ্রুত, নিরপেক্ষ ও কার্যকরভাবে প্রয়োগ হয়, সেটি নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

প্রশ্নটি শেষ পর্যন্ত তাই শুধু, শিশুধর্ষণ বাড়ছে কেন, তা নয়। প্রশ্ন হলো, একটি শিশু নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর রাষ্ট্র তার পাশে কত দ্রুত দাঁড়ায় এবং অপরাধীর বিরুদ্ধে আইন কতটা কার্যকরভাবে কাজ করে। সেই জায়গায় ঘাটতি থাকলে রাষ্ট্রের দায় এড়ানোর সুযোগ কি সত্যিই আছে?

  • মো. আব্বাস: ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক ও যোগাযোগ পেশাজীবী
Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত