সরদার ফরিদ আহমদ

১৬ জুন। বাংলাদেশের গণমাধ্যমের ইতিহাসে একটি কালো দিন। ১৯৭৫ সালের এ দিনটিতে শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে তৎকালীন বাকশাল সরকার চারটি পত্রিকা সরকারি ব্যবস্থাপনায় রেখে বাকি সব সংবাদপত্র বন্ধ করে দেয়। এতে হাজারো সাংবাদিকসহ গণমাধ্যমকর্মী রাতারাতি বেকার হয়ে দুঃসহ জীবনে পতিত হন। রাতারাতি হাজারো সাংবাদিক ও সংবাদকর্মী বেকার হয়ে পড়েন। দেশের মানুষ হারায় বহুমতের অধিকার। রাষ্ট্রের ওপর নেমে আসে এক ধরনের চিন্তার একনায়কতন্ত্র।
শুধু সংবাদপত্র নয়, সেদিন স্তব্ধ করা হয় মানুষের কণ্ঠও। এ কারণেই ১৯৭৬ সাল থেকে সাংবাদিক সমাজ ১৬ জুনকে সংবাদপত্রের কালো দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। তবে আজ সাংবাদিক সমাজও বিভক্ত। বিভক্ত বিএফইউজে। বিভক্ত ডিইউজে। আদর্শে নয়, পেশাগত প্রশ্নে নয়; বিভক্তি মূলত রাজনৈতিক আনুগত্যে। এটাই সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি।
একটি অংশ প্রতি বছর ১৬ জুনকে সংবাদপত্রের কালো দিবস হিসেবে পালন করে। অন্য অংশটি নীরব থাকে। তাদের কাছে সংবাদপত্র বন্ধ হওয়া কোনো বিষয় নয়। তাদের কাছে বাকশালের দমননীতি কোনো প্রশ্ন নয়। তাদের কাছে সাংবাদিকদের গণহারে বেকার হয়ে যাওয়াও আলোচনার বিষয় নয়। কারণ রাজনৈতিক অবস্থান তাদের পেশাগত বিবেকের চেয়ে বড় হয়ে উঠেছে। এটাই বাস্তবতা।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের বিভক্ত চেহারা দেশের সাংবাদিকতার রাজনৈতিক চরিত্রকে উন্মোচিত করেছে। একসময় যেসব সংগঠন সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষার প্রতীক ছিল, সেগুলোর একটি অংশ আজ অনেকের কাছেই রাজনৈতিক ফ্রন্ট সংগঠনের ছাপ বহন করে।
প্রশ্ন হলো, সাংবাদিক সংগঠন কি সাংবাদিকদের হবে, নাকি রাজনৈতিক দলের? সাংবাদিক কি সত্যের সৈনিক, নাকি দলের কর্মী? এ প্রশ্নের উত্তরই আজ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
গত দেড় দশকে দেশের একটি প্রভাবশালী সাংবাদিক গোষ্ঠীর ভূমিকা নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন উঠেছে। ফ্যাসিস্ট হাসিনার ভুল, অন্যায়, দমন-পীড়ন, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা কিংবা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় তারা অনেক ক্ষেত্রেই নীরব থেকেছে বলে সমালোচনা রয়েছে। অনেক সময় ক্ষমতাসীনদের বক্তব্য ও বয়ান প্রতিষ্ঠায় তাদের সক্রিয় ভূমিকার অভিযোগও উঠেছে। সাংবাদিকতার নামে মতামত উৎপাদন হয়েছে। সংবাদের নামে প্রচারণা চলেছে।
সমালোচকের ভাষায়, অনেক সম্পাদক, কলামিস্ট ও টেলিভিশন মুখ হয়ে উঠেছিলেন রাজনৈতিক কর্মী। তারা ক্ষমতাকে প্রশ্ন করেননি। বরং ক্ষমতার ভাষাকেই জনগণের ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন। এটি সাংবাদিকতা নয়। এটি দলবাজি।
সাংবাদিক কোনো দলের কর্মী নন। সাংবাদিকের কাজ ক্ষমতাকে প্রশ্ন করা। সত্য অনুসন্ধান করা। জনগণের পক্ষে দাঁড়ানো। কিন্তু যখন সাংবাদিক নিজেই রাজনৈতিক শিবিরের অংশ হয়ে যান, তখন সংবাদ আর সংবাদ থাকে না। তখন সেটি হয়ে ওঠে প্রচারণা। ব্রিটিশ লেখক ও সাংবাদিক জর্জ অরওয়েল বলেছিলেন, ‘যে বিষয় কেউ প্রকাশ করতে দিতে চায় না, সেটিই সাংবাদিকতা। বাকিটা জনসংযোগ।’ সাংবাদিকতা আর জনসংযোগ এক জিনিস নয়। এই কথার মধ্যে সাংবাদিকতার মূল দর্শন লুকিয়ে আছে।
বাংলাদেশের একাংশের সাংবাদিকতা বহুদিন ধরেই সেই জনসংযোগের ভূমিকায় নেমে গিয়েছিল। ফলে গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জনগণের আস্থা কমেছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতি শ্রদ্ধা কমেছে।
অথচ ইতিহাস বড় নির্মম। ক্ষমতা কারও চিরস্থায়ী নয়। সরকার বদলায়। পতাকা বদলায়। কিন্তু দলীয় সাংবাদিকতার কলঙ্ক থেকে যায়। আজও দেখা যাচ্ছে, সেই পুরোনো মানসিকতা বদলায়নি। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলেছে। কিন্তু অনেকের অবস্থান বদলায়নি। তারা এখনও সমাজকে রাজনৈতিক চশমা দিয়ে দেখেন। এখনও জনগণের আন্দোলনকে জনগণের চোখে নয়, দলের চোখে বিচার করেন। এখনও তাদের কাছে রাজনৈতিক আনুগত্য পেশাগত নিরপেক্ষতার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
এটি বিপজ্জনক। কারণ মিডিয়া শুধু খবর পরিবেশন করে না। মিডিয়া মানুষের চেতনা নির্মাণ করে। রাজনৈতিক বয়ান তৈরি করে। সাংস্কৃতিক বয়ান তৈরি করে। জনগণের মনোজগতকে প্রভাবিত করে। এই কারণেই ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ এডমন্ড বার্ক সংবাদমাধ্যমকে রাষ্ট্রের ‘চতুর্থ স্তম্ভ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন। কিন্তু সেই স্তম্ভ যদি দলীয় আনুগত্যে আক্রান্ত হয়, তাহলে গণতন্ত্রের ভিত্তিও দুর্বল হয়ে যায়।
আমেরিকান সাংবাদিক ওয়াল্টার লিপম্যান সতর্ক করেছিলেন– জনগণ যে পৃথিবী দেখে, তার বড় অংশই দেখে সংবাদমাধ্যমের জানালা দিয়ে। সে জানালাটি যদি বিকৃত হয়, তাহলে জনগণের উপলব্ধিও বিকৃত হবে। জার্মান দার্শনিক হান্নাহ আরেন্ট আরও কঠোর ভাষায় বলেছিলেন, “মানুষকে মিথ্যার ওপর বিশ্বাস করানোই স্বৈরতন্ত্রের সবচেয়ে বড় শক্তি।”
সত্যকে হত্যা করা হয় না একদিনে। প্রথমে হত্যা করা হয় স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে। তারপর হত্যা করা হয় ভিন্নমতকে। সবশেষে হত্যা করা হয় সত্যকে। বাংলাদেশও সেই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে।
সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয়, যে সাংবাদিক সমাজ একদিন বাকশালের বিরুদ্ধে লড়েছিল, সেই সমাজেরই একটি অংশ আজ রাজনৈতিক সুবিধাবাদের কারণে ১৬ জুনের ইতিহাস ভুলে যেতে চায়। তারা সংবাদপত্রের কালো দিবস নিয়ে নীরব থাকে। কিন্তু সেই নীরবতাই অনেক কিছু বলে দেয়। নীরবতাও এক ধরনের অবস্থান। ইতিহাসের সামনে নিরপেক্ষ থাকার সুযোগ নেই। সংবাদপত্র বন্ধ করার পক্ষে কিংবা বিপক্ষে– একটি অবস্থান নিতেই হবে। সত্যের পক্ষে কিংবা ক্ষমতার পক্ষে– একটি অবস্থান নিতেই হবে।
দুঃখজনকভাবে বাংলাদেশের সাংবাদিক সমাজের একটি অংশ অনেক আগেই সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে। তারা সাংবাদিকের চেয়ে রাজনৈতিক পরিচয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। কিন্তু এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় দেশ। ক্ষতিগ্রস্ত হয় গণতন্ত্র। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাংবাদিকতা। কারণ দলীয় কর্মীর অভাব কোনো রাজনৈতিক দলের হয় না। কিন্তু স্বাধীন সাংবাদিকের অভাব একটি জাতির জন্য ভয়ংকর বিপদ।
আজ ১৬ জুনে তাই শুধু বাকশাল সরকারের সংবাদপত্র বন্ধের ঘটনা স্মরণ করলে হবে না, আত্মসমালোচনাও করতে হবে। প্রশ্ন করতে হবে, বাংলাদেশের সাংবাদিকতা কি সত্যিই স্বাধীন? সাংবাদিক সংগঠনগুলো কি সত্যিই পেশাজীবী সংগঠন, নাকি রাজনৈতিক শিবিরের সম্প্রসারিত রূপ? যদি সাংবাদিক সংগঠনগুলো দলীয় কার্যালয়ের ছায়ায় পরিচালিত হয়, যদি সাংবাদিকদের বিবেক দলীয় আনুগত্যের কাছে বন্দি হয়ে পড়ে, তাহলে ভবিষ্যতের ইতিহাসও নির্মম হবে।
সেদিন হয়তো মানুষ বলবে, ১৯৭৫ সালে সংবাদপত্র বন্ধ করেছিল রাষ্ট্র। আর পরবর্তী সময়ে সংবাদপত্রের আত্মাকে হত্যা করেছে দলবাজ সাংবাদিকরা। এটিও হবে ইতিহাসের আরেকটি কালো অধ্যায়।
লেখক: সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন

১৬ জুন। বাংলাদেশের গণমাধ্যমের ইতিহাসে একটি কালো দিন। ১৯৭৫ সালের এ দিনটিতে শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে তৎকালীন বাকশাল সরকার চারটি পত্রিকা সরকারি ব্যবস্থাপনায় রেখে বাকি সব সংবাদপত্র বন্ধ করে দেয়। এতে হাজারো সাংবাদিকসহ গণমাধ্যমকর্মী রাতারাতি বেকার হয়ে দুঃসহ জীবনে পতিত হন। রাতারাতি হাজারো সাংবাদিক ও সংবাদকর্মী বেকার হয়ে পড়েন। দেশের মানুষ হারায় বহুমতের অধিকার। রাষ্ট্রের ওপর নেমে আসে এক ধরনের চিন্তার একনায়কতন্ত্র।
শুধু সংবাদপত্র নয়, সেদিন স্তব্ধ করা হয় মানুষের কণ্ঠও। এ কারণেই ১৯৭৬ সাল থেকে সাংবাদিক সমাজ ১৬ জুনকে সংবাদপত্রের কালো দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। তবে আজ সাংবাদিক সমাজও বিভক্ত। বিভক্ত বিএফইউজে। বিভক্ত ডিইউজে। আদর্শে নয়, পেশাগত প্রশ্নে নয়; বিভক্তি মূলত রাজনৈতিক আনুগত্যে। এটাই সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি।
একটি অংশ প্রতি বছর ১৬ জুনকে সংবাদপত্রের কালো দিবস হিসেবে পালন করে। অন্য অংশটি নীরব থাকে। তাদের কাছে সংবাদপত্র বন্ধ হওয়া কোনো বিষয় নয়। তাদের কাছে বাকশালের দমননীতি কোনো প্রশ্ন নয়। তাদের কাছে সাংবাদিকদের গণহারে বেকার হয়ে যাওয়াও আলোচনার বিষয় নয়। কারণ রাজনৈতিক অবস্থান তাদের পেশাগত বিবেকের চেয়ে বড় হয়ে উঠেছে। এটাই বাস্তবতা।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের বিভক্ত চেহারা দেশের সাংবাদিকতার রাজনৈতিক চরিত্রকে উন্মোচিত করেছে। একসময় যেসব সংগঠন সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষার প্রতীক ছিল, সেগুলোর একটি অংশ আজ অনেকের কাছেই রাজনৈতিক ফ্রন্ট সংগঠনের ছাপ বহন করে।
প্রশ্ন হলো, সাংবাদিক সংগঠন কি সাংবাদিকদের হবে, নাকি রাজনৈতিক দলের? সাংবাদিক কি সত্যের সৈনিক, নাকি দলের কর্মী? এ প্রশ্নের উত্তরই আজ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
গত দেড় দশকে দেশের একটি প্রভাবশালী সাংবাদিক গোষ্ঠীর ভূমিকা নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন উঠেছে। ফ্যাসিস্ট হাসিনার ভুল, অন্যায়, দমন-পীড়ন, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা কিংবা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় তারা অনেক ক্ষেত্রেই নীরব থেকেছে বলে সমালোচনা রয়েছে। অনেক সময় ক্ষমতাসীনদের বক্তব্য ও বয়ান প্রতিষ্ঠায় তাদের সক্রিয় ভূমিকার অভিযোগও উঠেছে। সাংবাদিকতার নামে মতামত উৎপাদন হয়েছে। সংবাদের নামে প্রচারণা চলেছে।
সমালোচকের ভাষায়, অনেক সম্পাদক, কলামিস্ট ও টেলিভিশন মুখ হয়ে উঠেছিলেন রাজনৈতিক কর্মী। তারা ক্ষমতাকে প্রশ্ন করেননি। বরং ক্ষমতার ভাষাকেই জনগণের ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন। এটি সাংবাদিকতা নয়। এটি দলবাজি।
সাংবাদিক কোনো দলের কর্মী নন। সাংবাদিকের কাজ ক্ষমতাকে প্রশ্ন করা। সত্য অনুসন্ধান করা। জনগণের পক্ষে দাঁড়ানো। কিন্তু যখন সাংবাদিক নিজেই রাজনৈতিক শিবিরের অংশ হয়ে যান, তখন সংবাদ আর সংবাদ থাকে না। তখন সেটি হয়ে ওঠে প্রচারণা। ব্রিটিশ লেখক ও সাংবাদিক জর্জ অরওয়েল বলেছিলেন, ‘যে বিষয় কেউ প্রকাশ করতে দিতে চায় না, সেটিই সাংবাদিকতা। বাকিটা জনসংযোগ।’ সাংবাদিকতা আর জনসংযোগ এক জিনিস নয়। এই কথার মধ্যে সাংবাদিকতার মূল দর্শন লুকিয়ে আছে।
বাংলাদেশের একাংশের সাংবাদিকতা বহুদিন ধরেই সেই জনসংযোগের ভূমিকায় নেমে গিয়েছিল। ফলে গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জনগণের আস্থা কমেছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতি শ্রদ্ধা কমেছে।
অথচ ইতিহাস বড় নির্মম। ক্ষমতা কারও চিরস্থায়ী নয়। সরকার বদলায়। পতাকা বদলায়। কিন্তু দলীয় সাংবাদিকতার কলঙ্ক থেকে যায়। আজও দেখা যাচ্ছে, সেই পুরোনো মানসিকতা বদলায়নি। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলেছে। কিন্তু অনেকের অবস্থান বদলায়নি। তারা এখনও সমাজকে রাজনৈতিক চশমা দিয়ে দেখেন। এখনও জনগণের আন্দোলনকে জনগণের চোখে নয়, দলের চোখে বিচার করেন। এখনও তাদের কাছে রাজনৈতিক আনুগত্য পেশাগত নিরপেক্ষতার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
এটি বিপজ্জনক। কারণ মিডিয়া শুধু খবর পরিবেশন করে না। মিডিয়া মানুষের চেতনা নির্মাণ করে। রাজনৈতিক বয়ান তৈরি করে। সাংস্কৃতিক বয়ান তৈরি করে। জনগণের মনোজগতকে প্রভাবিত করে। এই কারণেই ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ এডমন্ড বার্ক সংবাদমাধ্যমকে রাষ্ট্রের ‘চতুর্থ স্তম্ভ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন। কিন্তু সেই স্তম্ভ যদি দলীয় আনুগত্যে আক্রান্ত হয়, তাহলে গণতন্ত্রের ভিত্তিও দুর্বল হয়ে যায়।
আমেরিকান সাংবাদিক ওয়াল্টার লিপম্যান সতর্ক করেছিলেন– জনগণ যে পৃথিবী দেখে, তার বড় অংশই দেখে সংবাদমাধ্যমের জানালা দিয়ে। সে জানালাটি যদি বিকৃত হয়, তাহলে জনগণের উপলব্ধিও বিকৃত হবে। জার্মান দার্শনিক হান্নাহ আরেন্ট আরও কঠোর ভাষায় বলেছিলেন, “মানুষকে মিথ্যার ওপর বিশ্বাস করানোই স্বৈরতন্ত্রের সবচেয়ে বড় শক্তি।”
সত্যকে হত্যা করা হয় না একদিনে। প্রথমে হত্যা করা হয় স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে। তারপর হত্যা করা হয় ভিন্নমতকে। সবশেষে হত্যা করা হয় সত্যকে। বাংলাদেশও সেই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে।
সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয়, যে সাংবাদিক সমাজ একদিন বাকশালের বিরুদ্ধে লড়েছিল, সেই সমাজেরই একটি অংশ আজ রাজনৈতিক সুবিধাবাদের কারণে ১৬ জুনের ইতিহাস ভুলে যেতে চায়। তারা সংবাদপত্রের কালো দিবস নিয়ে নীরব থাকে। কিন্তু সেই নীরবতাই অনেক কিছু বলে দেয়। নীরবতাও এক ধরনের অবস্থান। ইতিহাসের সামনে নিরপেক্ষ থাকার সুযোগ নেই। সংবাদপত্র বন্ধ করার পক্ষে কিংবা বিপক্ষে– একটি অবস্থান নিতেই হবে। সত্যের পক্ষে কিংবা ক্ষমতার পক্ষে– একটি অবস্থান নিতেই হবে।
দুঃখজনকভাবে বাংলাদেশের সাংবাদিক সমাজের একটি অংশ অনেক আগেই সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে। তারা সাংবাদিকের চেয়ে রাজনৈতিক পরিচয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। কিন্তু এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় দেশ। ক্ষতিগ্রস্ত হয় গণতন্ত্র। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাংবাদিকতা। কারণ দলীয় কর্মীর অভাব কোনো রাজনৈতিক দলের হয় না। কিন্তু স্বাধীন সাংবাদিকের অভাব একটি জাতির জন্য ভয়ংকর বিপদ।
আজ ১৬ জুনে তাই শুধু বাকশাল সরকারের সংবাদপত্র বন্ধের ঘটনা স্মরণ করলে হবে না, আত্মসমালোচনাও করতে হবে। প্রশ্ন করতে হবে, বাংলাদেশের সাংবাদিকতা কি সত্যিই স্বাধীন? সাংবাদিক সংগঠনগুলো কি সত্যিই পেশাজীবী সংগঠন, নাকি রাজনৈতিক শিবিরের সম্প্রসারিত রূপ? যদি সাংবাদিক সংগঠনগুলো দলীয় কার্যালয়ের ছায়ায় পরিচালিত হয়, যদি সাংবাদিকদের বিবেক দলীয় আনুগত্যের কাছে বন্দি হয়ে পড়ে, তাহলে ভবিষ্যতের ইতিহাসও নির্মম হবে।
সেদিন হয়তো মানুষ বলবে, ১৯৭৫ সালে সংবাদপত্র বন্ধ করেছিল রাষ্ট্র। আর পরবর্তী সময়ে সংবাদপত্রের আত্মাকে হত্যা করেছে দলবাজ সাংবাদিকরা। এটিও হবে ইতিহাসের আরেকটি কালো অধ্যায়।
লেখক: সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন

নয়াদিল্লির যন্তরমন্তরে শনিবার এক অভিনব প্রতিবাদ দেখল ভারত। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র ডাকা বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা তেলাপোকার মুখোশ পরে রাস্তায় নামেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান-সহ একাধিক নেতার পদত্যাগের দাবিতে। এই দৃশ্যকে ঘিরেই সরব হয়েছে রাজনৈতিক মহল।
১৫ ঘণ্টা আগে
বেসরকারি খাতের সবচেয়ে সফল ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকে আওয়ামী লীগ শাসনামলে কী ঘটেছিল, সেটা সবার জানা। অন্তর্বর্তী শাসনামলে ইসলামী ব্যাংকসহ কিছু ব্যাংক রক্ষায় উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়। প্রত্যাশা ছিল, নির্বাচিত সরকার এলে খাতটিতে আস্থা জাগানোর পদক্ষেপ আরও জোরালো করা হবে।
১৮ ঘণ্টা আগে
ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায়, আধুনিক যুদ্ধগুলো কেবল ভূখণ্ড দখলের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ থাকে না; তা হয়ে ওঠে একে অপরকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দেওয়ার এক দীর্ঘমেয়াদি ও নির্মম খেলা। রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত সম্প্রতি দেড় হাজারতম দিন অতিক্রম করেছে—যা স্থায়িত্বের দিক থেকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের মোট সময়সীমাকেও ছাড়
২০ ঘণ্টা আগে
দিল্লি বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানের সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে, তা একেবারেই অপ্রত্যাশিত। এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সরকারের উচিত যথাযথ অনুসন্ধানের ভিত্তিতে ভারতের কাছে এর আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দাবি করা।
১ দিন আগে