লেখা:

বহু বছর ধরে আমি একটি বিষয় শিখেছি ফুটবল এমন এক ভাষা, যা মানুষকে একত্র করে, যদিও তাদের ভাষা, সীমান্ত বা ইতিহাস এক নয়। আমি বাংলাদেশের মানুষ। দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটি ব্রাজিল থেকে ১৬ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দূরে। তবু যখন ব্রাজিলের জাতীয় দল (সেলেসাও) মাঠে নামে, তখন কোটি কোটি বাংলাদেশির হৃদয়ও ব্রাজিলের মতো এক ছন্দে স্পন্দিত হয়। ২০২৬ বিশ্বকাপে জাপানকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করার ম্যাচটি তারই প্রমাণ।
ম্যাচের শুরুতে জাপান গোল করে এগিয়ে যায়। কিছুক্ষণ মনে হয়েছিল, ম্যাচের গল্পটা হয়তো তারাই লিখবে। কিন্তু প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ব্রাজিলকে সমর্থন করতে করতে আমরা একটি বিষয় শিখেছি এক গোল পিছিয়ে পড়লে কিংবা প্রথমার্ধ শেষ হলেও ব্রাজিলের গল্প শেষ হয়ে যায় না।
৬৬ মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি মাঠে নামেন। অনেকেই বিশ্বাস করেছিলেন, তিনিই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন। শেষ পর্যন্ত যোগ করা সময়ের ৯৬তম মিনিটে তিনি জয়সূচক গোল করে ব্রাজিলকে ২-১ ব্যবধানে জয় এনে দেন। আবারও প্রমাণ হয়, ব্রাজিল কখনোই আশা ছাড়ে না।
ব্রাজিল যখন শেষ ষোলোয় ওঠার আনন্দে মেতে ওঠে, তখন বাংলাদেশও যেন নিজেদের দলের জয় উদযাপন করে।
ব্রাজিলের অনেকের কাছেই বিষয়টি বিস্ময়কর মনে হতে পারে। কিন্তু ব্রাজিলের বাইরে খুব কম দেশই আছে, যেখানে বাংলাদেশের মতো এত গভীর ভালোবাসা নিয়ে মানুষ সেলেসাওকে সমর্থন করে। বিশ্বকাপ চলাকালে খেলা শুরু হলেই অনেক রাস্তা ফাঁকা হয়ে যায়। বাড়ি, ছাদ, ভবন সবখানেই উড়তে থাকে সবুজ-হলুদ পতাকা।
অনেক শিশু জীবনে কখনো দক্ষিণ আমেরিকায় না গেলেও গায়ে জড়ায় ব্রাজিলের হলুদ জার্সি। পুরো পরিবার গভীর রাত পর্যন্ত জেগে খেলা দেখে। আমাদের এই সম্পর্ক ভূগোল বা রাজনীতির কারণে নয়, এটি গড়ে উঠেছে আবেগ থেকে।
এই ভালোবাসার শুরু ১৯৫৮ সালে। সেবার পেলের জাদুকরী ফুটবল বিশ্বকে মুগ্ধ করে এবং ব্রাজিল প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জেতে।
তখন টেলিভিশনের প্রচলন খুব সীমিত ছিল। তবুও সেই দলের গল্প পৌঁছে যায় তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান, আজকের বাংলাদেশে। ব্রাজিল তখন শুধু একটি সফল দল নয়, আনন্দ, সৃজনশীলতা, সাহস এবং স্বাধীনচেতা ফুটবলের প্রতীক হয়ে ওঠে।
সেই ভালোবাসা এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়েছে। বাবা-মা যেমন সন্তানদের ব্রাজিলকে ভালোবাসতে শিখিয়েছেন, তেমনি সেই সন্তানেরাও পরবর্তী প্রজন্মকে একই ভালোবাসা দিয়ে বড় করেছে।
আজ হয়তো বাংলাদেশই পৃথিবীর একমাত্র দেশ, যেখানে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা দুই দলেরই কোটি কোটি সমর্থক রয়েছে, দক্ষিণ আমেরিকার বাইরেও যার তুলনা বেশ কঠিন।
তবে বাংলাদেশের ব্রাজিল সমর্থকেরা শুধু শিরোপার জন্য দলটিকে ভালোবাসেন না। তাহলে বিশ্বকাপের নানা হতাশার পর অনেক আগেই তারা মুখ ফিরিয়ে নিতেন। তারা ব্রাজিলকে ভালোবাসেন, কারণ এই দল এখনো সুন্দর ফুটবলের প্রতিনিধিত্ব করে।
যে সময় ফুটবল ক্রমশ কৌশল, পরিসংখ্যান ও হিসাব-নিকাশের খেলায় পরিণত হচ্ছে, সে সময়ও ব্রাজিল মনে করিয়ে দেয় ফুটবল শিল্পও হতে পারে। তাই ব্রাজিলের প্রতিটি প্রত্যাবর্তন আমাদের এত গভীরভাবে স্পর্শ করে।
জাপান গোল করার পর বাংলাদেশের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে একই সঙ্গে ছিল আত্মবিশ্বাসও। কারণ ইতিহাস আমাদের শিখিয়েছে, ব্রাজিল পড়ে গিয়েও উঠে দাঁড়াতে জানে।
১৯৫৮ সাল থেকে সেলেসাও একটি সহজ শিক্ষা দিয়ে আসছে পড়ে যাওয়া খেলার অংশ, কিন্তু পড়ে থাকা নয়। জাপানের বিপক্ষেও সেটাই দেখা গেল। এটি শুধু শেষ ষোলোয় ওঠার গল্প নয়, এটি ছিল চরিত্রেরও প্রমাণ।
মার্টিনেল্লি জয়সূচক গোল করলেও সেই মুহূর্ত শুধু একটি গোলের নয়। এটি এমন একটি দলের প্রতিচ্ছবি, যারা শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত কখনো হার মেনে নেয় না। জয়ের পর বাংলাদেশে আবারও দেখা গেল চেনা দৃশ্য। রাস্তায় উড়ল পতাকা, তরুণেরা গভীর রাত পর্যন্ত উদযাপন করল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভরে গেল ব্রাজিল দলের প্রতি শুভেচ্ছা বার্তায়।
বাংলাদেশকে শুধু পেলে নন, মুগ্ধ করেছেন জিকো, সক্রেটিস, রোমারিও, বেবেতো, রোনালদো, রিভালদো, রোনালদিনহো, কাকা, কাফু, রবার্তো কার্লোস এবং সাম্প্রতিক সময়ে নেইমার। প্রতিটি প্রজন্মের ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার বাংলাদেশের মানুষের মনে আলাদা ছাপ রেখে গেছেন। গ্রামের মাঠে কিংবা শহরের সরু গলিতে অসংখ্য কিশোর রোনালদিনহোর কৌশল বা রোনালদোর ড্রিবল অনুকরণ করার চেষ্টা করেছে।
আজও খালি পায়ে ফুটবল খেলতে থাকা অনেক শিশুর স্বপ্ন একদিন ব্রাজিলের হলুদ জার্সি গায়ে তোলা, যদিও তারা পৃথিবীর অন্য প্রান্তে জন্মেছে। আসলে আমরা ব্রাজিলকে ভালোবাসি, কারণ তারা আমাদের শিখিয়েছে ফুটবল কল্পনা, আনন্দ ও সৌন্দর্যের উদযাপন। বাংলাদেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা ক্রিকেট হলেও বিশ্বকাপ এলেই পুরো দেশের আবহ বদলে যায়। এক মাস যেন সবাই শুধু ফুটবল নিয়েই বাঁচে।
বাড়িঘর রং করা হয় সবুজ-হলুদ বা নীল-সাদা রঙে। অনেক এলাকায় বিশাল পতাকা টাঙানো হয়, কোথাও কোথাও বিশ্বকাপ ট্রফির প্রতিরূপও তৈরি করা হয়। এটি শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়, এটি এক সামষ্টিক উৎসব।
অনেক বিদেশি জানতে চান, এত দূরের একটি দেশ কেন ব্রাজিলকে এত ভালোবাসে? উত্তরটি সহজ। ফুটবল মানুষকে এমন স্বপ্নের অংশ হতে শেখায়, যার কোনো সীমান্ত নেই। ব্রাজিলিয়ানরা জন্মগতভাবে সেলেসাওর সমর্থক, আমরা বাংলাদেশিরা হৃদয় দিয়ে ব্রাজিলকে বেছে নিয়েছি।
এর চেয়ে বড় সম্মান আর কী হতে পারে পৃথিবীর অন্য প্রান্তের কোটি কোটি মানুষ ব্রাজিলের জয়-পরাজয়কে নিজেদের বলে মনে করে? আমাদের কাছে সেলেসাও শুধু একটি ফুটবল দল নয়, এটি স্মৃতি, আবেগ এবং পারিবারিক উত্তরাধিকার।
বাবা-ছেলের গল্পে, গভীর রাতে টেলিভিশনের সামনে বসে খেলা দেখায়, পরাজয়ের কান্নায় কিংবা জয়ের আলিঙ্গনে ব্রাজিল সব সময়ই আমাদের জীবনের অংশ। বাংলাদেশের শরীয়তপুরে একদল তরুণ ব্রাজিল আবার বিশ্বকাপ না জেতা পর্যন্ত বিয়ে না করার শপথ নিয়ে একসময় আলোচনায় এসেছিলেন।
ঘটনাটি অদ্ভুত মনে হতে পারে, কিন্তু এটি একটি বড় সত্যকে তুলে ধরে বাংলাদেশে ফুটবল শুধু খেলা নয়, এটি পরিচয়, বন্ধন এবং নির্মল আবেগের নাম। ব্রাজিলের জন্য হেক্সা (ষষ্ঠ) বিশ্বকাপ হবে ইতিহাসের আরেকটি গৌরবময় অধ্যায়। আর বাংলাদেশের জন্য সেটি হবে এমন একটি দেশকে কৃতজ্ঞতা জানানোর উপলক্ষ, যে দেশটি অজান্তেই ১৯৫৮ সাল থেকে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে আনন্দ, আশা ও অনুপ্রেরণা দিয়ে আসছে।
বিশ্ব যখন ভেবেছিল সব শেষ, তখন ব্রাজিলের আসল লড়াই কেবল শুরু হচ্ছিল। আর বাংলাদেশে কোটি কোটি মানুষ প্রথম মিনিট থেকেই সেটিই বিশ্বাস করেছিল। কারণ আমাদের কাছে ব্রাজিল কখনোই শুধু একটি জাতীয় দল নয়। এটি ফুটবলকে দেখার একটি দৃষ্টিভঙ্গি, এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে বয়ে চলা আবেগের উত্তরাধিকার এবং সীমান্তের বহু দূরেও মানুষের হৃদয় জয় করার এক অনন্য উদাহরণ।
এই বিশ্বকাপের ফল যা-ই হোক না কেন, একটি সত্য কখনোই বদলাবে না যখনই সেলেসাও মাঠে নামবে, ভারত মহাসাগরের ওপারে বাংলাদেশ নামের একটি দেশ তাদের জন্য ঠিক নিজের দলের মতোই গলা ফাটিয়ে সমর্থন জানাবে। হয়তো এটাই ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের সবচেয়ে বড় জয়।
দ্য রিও টাইমস থেকে অনুবাদ করেছেন কাজী নিশাত তাবাসসুম

বহু বছর ধরে আমি একটি বিষয় শিখেছি ফুটবল এমন এক ভাষা, যা মানুষকে একত্র করে, যদিও তাদের ভাষা, সীমান্ত বা ইতিহাস এক নয়। আমি বাংলাদেশের মানুষ। দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটি ব্রাজিল থেকে ১৬ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দূরে। তবু যখন ব্রাজিলের জাতীয় দল (সেলেসাও) মাঠে নামে, তখন কোটি কোটি বাংলাদেশির হৃদয়ও ব্রাজিলের মতো এক ছন্দে স্পন্দিত হয়। ২০২৬ বিশ্বকাপে জাপানকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করার ম্যাচটি তারই প্রমাণ।
ম্যাচের শুরুতে জাপান গোল করে এগিয়ে যায়। কিছুক্ষণ মনে হয়েছিল, ম্যাচের গল্পটা হয়তো তারাই লিখবে। কিন্তু প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ব্রাজিলকে সমর্থন করতে করতে আমরা একটি বিষয় শিখেছি এক গোল পিছিয়ে পড়লে কিংবা প্রথমার্ধ শেষ হলেও ব্রাজিলের গল্প শেষ হয়ে যায় না।
৬৬ মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি মাঠে নামেন। অনেকেই বিশ্বাস করেছিলেন, তিনিই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন। শেষ পর্যন্ত যোগ করা সময়ের ৯৬তম মিনিটে তিনি জয়সূচক গোল করে ব্রাজিলকে ২-১ ব্যবধানে জয় এনে দেন। আবারও প্রমাণ হয়, ব্রাজিল কখনোই আশা ছাড়ে না।
ব্রাজিল যখন শেষ ষোলোয় ওঠার আনন্দে মেতে ওঠে, তখন বাংলাদেশও যেন নিজেদের দলের জয় উদযাপন করে।
ব্রাজিলের অনেকের কাছেই বিষয়টি বিস্ময়কর মনে হতে পারে। কিন্তু ব্রাজিলের বাইরে খুব কম দেশই আছে, যেখানে বাংলাদেশের মতো এত গভীর ভালোবাসা নিয়ে মানুষ সেলেসাওকে সমর্থন করে। বিশ্বকাপ চলাকালে খেলা শুরু হলেই অনেক রাস্তা ফাঁকা হয়ে যায়। বাড়ি, ছাদ, ভবন সবখানেই উড়তে থাকে সবুজ-হলুদ পতাকা।
অনেক শিশু জীবনে কখনো দক্ষিণ আমেরিকায় না গেলেও গায়ে জড়ায় ব্রাজিলের হলুদ জার্সি। পুরো পরিবার গভীর রাত পর্যন্ত জেগে খেলা দেখে। আমাদের এই সম্পর্ক ভূগোল বা রাজনীতির কারণে নয়, এটি গড়ে উঠেছে আবেগ থেকে।
এই ভালোবাসার শুরু ১৯৫৮ সালে। সেবার পেলের জাদুকরী ফুটবল বিশ্বকে মুগ্ধ করে এবং ব্রাজিল প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জেতে।
তখন টেলিভিশনের প্রচলন খুব সীমিত ছিল। তবুও সেই দলের গল্প পৌঁছে যায় তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান, আজকের বাংলাদেশে। ব্রাজিল তখন শুধু একটি সফল দল নয়, আনন্দ, সৃজনশীলতা, সাহস এবং স্বাধীনচেতা ফুটবলের প্রতীক হয়ে ওঠে।
সেই ভালোবাসা এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়েছে। বাবা-মা যেমন সন্তানদের ব্রাজিলকে ভালোবাসতে শিখিয়েছেন, তেমনি সেই সন্তানেরাও পরবর্তী প্রজন্মকে একই ভালোবাসা দিয়ে বড় করেছে।
আজ হয়তো বাংলাদেশই পৃথিবীর একমাত্র দেশ, যেখানে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা দুই দলেরই কোটি কোটি সমর্থক রয়েছে, দক্ষিণ আমেরিকার বাইরেও যার তুলনা বেশ কঠিন।
তবে বাংলাদেশের ব্রাজিল সমর্থকেরা শুধু শিরোপার জন্য দলটিকে ভালোবাসেন না। তাহলে বিশ্বকাপের নানা হতাশার পর অনেক আগেই তারা মুখ ফিরিয়ে নিতেন। তারা ব্রাজিলকে ভালোবাসেন, কারণ এই দল এখনো সুন্দর ফুটবলের প্রতিনিধিত্ব করে।
যে সময় ফুটবল ক্রমশ কৌশল, পরিসংখ্যান ও হিসাব-নিকাশের খেলায় পরিণত হচ্ছে, সে সময়ও ব্রাজিল মনে করিয়ে দেয় ফুটবল শিল্পও হতে পারে। তাই ব্রাজিলের প্রতিটি প্রত্যাবর্তন আমাদের এত গভীরভাবে স্পর্শ করে।
জাপান গোল করার পর বাংলাদেশের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে একই সঙ্গে ছিল আত্মবিশ্বাসও। কারণ ইতিহাস আমাদের শিখিয়েছে, ব্রাজিল পড়ে গিয়েও উঠে দাঁড়াতে জানে।
১৯৫৮ সাল থেকে সেলেসাও একটি সহজ শিক্ষা দিয়ে আসছে পড়ে যাওয়া খেলার অংশ, কিন্তু পড়ে থাকা নয়। জাপানের বিপক্ষেও সেটাই দেখা গেল। এটি শুধু শেষ ষোলোয় ওঠার গল্প নয়, এটি ছিল চরিত্রেরও প্রমাণ।
মার্টিনেল্লি জয়সূচক গোল করলেও সেই মুহূর্ত শুধু একটি গোলের নয়। এটি এমন একটি দলের প্রতিচ্ছবি, যারা শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত কখনো হার মেনে নেয় না। জয়ের পর বাংলাদেশে আবারও দেখা গেল চেনা দৃশ্য। রাস্তায় উড়ল পতাকা, তরুণেরা গভীর রাত পর্যন্ত উদযাপন করল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভরে গেল ব্রাজিল দলের প্রতি শুভেচ্ছা বার্তায়।
বাংলাদেশকে শুধু পেলে নন, মুগ্ধ করেছেন জিকো, সক্রেটিস, রোমারিও, বেবেতো, রোনালদো, রিভালদো, রোনালদিনহো, কাকা, কাফু, রবার্তো কার্লোস এবং সাম্প্রতিক সময়ে নেইমার। প্রতিটি প্রজন্মের ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার বাংলাদেশের মানুষের মনে আলাদা ছাপ রেখে গেছেন। গ্রামের মাঠে কিংবা শহরের সরু গলিতে অসংখ্য কিশোর রোনালদিনহোর কৌশল বা রোনালদোর ড্রিবল অনুকরণ করার চেষ্টা করেছে।
আজও খালি পায়ে ফুটবল খেলতে থাকা অনেক শিশুর স্বপ্ন একদিন ব্রাজিলের হলুদ জার্সি গায়ে তোলা, যদিও তারা পৃথিবীর অন্য প্রান্তে জন্মেছে। আসলে আমরা ব্রাজিলকে ভালোবাসি, কারণ তারা আমাদের শিখিয়েছে ফুটবল কল্পনা, আনন্দ ও সৌন্দর্যের উদযাপন। বাংলাদেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা ক্রিকেট হলেও বিশ্বকাপ এলেই পুরো দেশের আবহ বদলে যায়। এক মাস যেন সবাই শুধু ফুটবল নিয়েই বাঁচে।
বাড়িঘর রং করা হয় সবুজ-হলুদ বা নীল-সাদা রঙে। অনেক এলাকায় বিশাল পতাকা টাঙানো হয়, কোথাও কোথাও বিশ্বকাপ ট্রফির প্রতিরূপও তৈরি করা হয়। এটি শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়, এটি এক সামষ্টিক উৎসব।
অনেক বিদেশি জানতে চান, এত দূরের একটি দেশ কেন ব্রাজিলকে এত ভালোবাসে? উত্তরটি সহজ। ফুটবল মানুষকে এমন স্বপ্নের অংশ হতে শেখায়, যার কোনো সীমান্ত নেই। ব্রাজিলিয়ানরা জন্মগতভাবে সেলেসাওর সমর্থক, আমরা বাংলাদেশিরা হৃদয় দিয়ে ব্রাজিলকে বেছে নিয়েছি।
এর চেয়ে বড় সম্মান আর কী হতে পারে পৃথিবীর অন্য প্রান্তের কোটি কোটি মানুষ ব্রাজিলের জয়-পরাজয়কে নিজেদের বলে মনে করে? আমাদের কাছে সেলেসাও শুধু একটি ফুটবল দল নয়, এটি স্মৃতি, আবেগ এবং পারিবারিক উত্তরাধিকার।
বাবা-ছেলের গল্পে, গভীর রাতে টেলিভিশনের সামনে বসে খেলা দেখায়, পরাজয়ের কান্নায় কিংবা জয়ের আলিঙ্গনে ব্রাজিল সব সময়ই আমাদের জীবনের অংশ। বাংলাদেশের শরীয়তপুরে একদল তরুণ ব্রাজিল আবার বিশ্বকাপ না জেতা পর্যন্ত বিয়ে না করার শপথ নিয়ে একসময় আলোচনায় এসেছিলেন।
ঘটনাটি অদ্ভুত মনে হতে পারে, কিন্তু এটি একটি বড় সত্যকে তুলে ধরে বাংলাদেশে ফুটবল শুধু খেলা নয়, এটি পরিচয়, বন্ধন এবং নির্মল আবেগের নাম। ব্রাজিলের জন্য হেক্সা (ষষ্ঠ) বিশ্বকাপ হবে ইতিহাসের আরেকটি গৌরবময় অধ্যায়। আর বাংলাদেশের জন্য সেটি হবে এমন একটি দেশকে কৃতজ্ঞতা জানানোর উপলক্ষ, যে দেশটি অজান্তেই ১৯৫৮ সাল থেকে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে আনন্দ, আশা ও অনুপ্রেরণা দিয়ে আসছে।
বিশ্ব যখন ভেবেছিল সব শেষ, তখন ব্রাজিলের আসল লড়াই কেবল শুরু হচ্ছিল। আর বাংলাদেশে কোটি কোটি মানুষ প্রথম মিনিট থেকেই সেটিই বিশ্বাস করেছিল। কারণ আমাদের কাছে ব্রাজিল কখনোই শুধু একটি জাতীয় দল নয়। এটি ফুটবলকে দেখার একটি দৃষ্টিভঙ্গি, এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে বয়ে চলা আবেগের উত্তরাধিকার এবং সীমান্তের বহু দূরেও মানুষের হৃদয় জয় করার এক অনন্য উদাহরণ।
এই বিশ্বকাপের ফল যা-ই হোক না কেন, একটি সত্য কখনোই বদলাবে না যখনই সেলেসাও মাঠে নামবে, ভারত মহাসাগরের ওপারে বাংলাদেশ নামের একটি দেশ তাদের জন্য ঠিক নিজের দলের মতোই গলা ফাটিয়ে সমর্থন জানাবে। হয়তো এটাই ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের সবচেয়ে বড় জয়।
দ্য রিও টাইমস থেকে অনুবাদ করেছেন কাজী নিশাত তাবাসসুম
.png)

ডেঙ্গু এখন বছরজুড়ে তাড়া করা জনস্বাস্থ্য সংকট। প্রতি বর্ষায় একই শঙ্কা ফিরে আসে। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিজেই জানিয়েছেন, জুলাই-আগস্টে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়তে পারে। প্রশ্ন থেকে যায়—যে শঙ্কা মন্ত্রী নিজেই প্রকাশ করেছেন, তা মোকাবিলায় মাঠপর্যায়ে প্রস্তুতি কতটা?
২৫ মিনিট আগে
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া; ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র। আন্দোলনের শুরু, সরকার পতনের দিকে মোড় নেওয়া, ডিবি হেফাজতের অভিজ্ঞতা, অন্তর্বর্তী সরকার গঠন এবং গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পরের রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছে ঢাকা স্ট্রিম।
৪ ঘণ্টা আগে
প্রতি বছর একটি দৃশ্য নিয়মিত দেখা যায়। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল তাদের দুর্নীতি ধারণাসূচক প্রকাশ করে, এরপর তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। কেউ বলেন, বাংলাদেশের অবস্থানের প্রতি অবিচার করা হয়েছে। কেউ বলেন, সূচকটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আবার কেউ প্রশ্ন তোলেন এর পদ্ধতি নিয়ে।
৭ ঘণ্টা আগে
তারেক রহমানের চীন সফরটি আগের সফর গুলোর চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ভারতের জন্য এর কূটনৈতিক তাৎপর্য রয়েছে। কারণ ভারত দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ অংশীদার এবং একই সঙ্গে চীনের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী।
৮ ঘণ্টা আগে