আনুশেহ আনাদিল

মানুষের তৈরি সমস্ত শৃঙ্খল, বৈষম্য এবং দাসত্ব দূর করে একটি সাম্যভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গড়ে তুলতেই পৃথিবীতে এসেছিলেন প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। তিনি কখনোই কোনো বংশগত রাজতন্ত্র, সাম্রাজ্য বা ক্ষমতার মসনদ প্রতিষ্ঠা করতে চাননি। প্রিয়নবীর (সা.) সুমহান আদর্শ ছিল মানুষ যেন শুধু মহান আল্লাহর ইবাদত করে এবং অন্য কোনো মানুষের দাসত্ব বা মনস্তাত্ত্বিক গোলামিতে না জড়ায়।
কিন্তু ইতিহাসের নির্মম বাঁকে, প্রিয়নবীর (সা.) তিরোধানের ঠিক পরপরই ইসলামের সেই মুক্ত ও গণতান্ত্রিক আত্মাকে জবরদস্তি করে বন্দি করা হলো রাজমুকুট আর স্বৈরাচারের খাঁচায়।
৬৮০ খ্রিষ্টাব্দে মুয়াবিয়ার মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র ইয়াজিদ খেলাফতকে পারিবারিক রাজতন্ত্রে রূপান্তরিত করার ঘোষণা দেয় এবং জোরপূর্বক সাধারণ মানুষের কাছ থেকে আনুগত্যের শপথ দাবি করে। সে চেয়েছিল প্রিয়নবীর (সা.) দৌহিত্র হজরত হুসাইন (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এবং অন্যান্য সাহাবিরা তার অবৈধ রাজতন্ত্রের সামনে মাথা নত করুক।
সে সময় কুফার সাধারণ মানুষ, যারা প্রিয়নবীর (সা.) পরিবারের প্রতি গভীর অনুরাগী ছিল, তারা শত শত চিঠি পাঠিয়ে হজরত হুসাইনকে (রা.) কুফায় আসার অনুরোধ জানায়। তারা আশ্বস্ত করে যে প্রিয়নবীর (সা.) পরিবারই তাদের প্রকৃত পথপ্রদর্শক এবং তারা তাঁর হাতে হাত রেখে বায়াত নেবে। কিন্তু পরিস্থিতি পাল্টে দিতে ইয়াজিদ তার নিষ্ঠুর সেনাপতি উবায়দুল্লাহ ইবনে জিয়াদকে কুফায় পাঠায়।
ইবনে জিয়াদ কুফায় প্রবেশ করে চরম ভয়ভীতি, হুমকি ও বলপ্রয়োগের মাধ্যমে পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে দেয়। সাধারণ মানুষ ও কুফাবাসীকে ভয় দেখিয়ে তাদের মুখ বন্ধ করে দেওয়া হয়। তারা বাধ্য হয় ইয়াজিদের সেনাশক্তির প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করতে।
হজরত হুসাইন (রা.) এই অবৈধ ও স্বৈরাচারী রাজতন্ত্রের কাছে আত্মসমর্পণ করতে স্পষ্ট অস্বীকৃতি জানান। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন, তাঁর মতো মানুষ কোনো অবস্থাতেই ইয়াজিদের মতো দুর্নীতিগ্রস্ত ও পাপিষ্ঠ শাসকের কাছে মাথা নত করবে না। এরপর কারবালার মরুপ্রান্তরে তাঁর পরিবার ও ৭২ জন সঙ্গীকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পানি বন্ধ করে দিয়ে এক পৈশাচিক কায়দায় তাঁদের নির্মমভাবে শহিদ করা হয়।
কারবালার সেই মর্মান্তিক ঘটনার মধ্য দিয়ে যে রাজতান্ত্রিক ও স্বৈরাচারী ধারা শুরু হয়েছিল, তার আধুনিক উত্তরাধিকার আজও টিকে আছে। মক্কা-মদিনার পবিত্র ভূমি আজ এমন সব রাজতন্ত্রের কবজায়, যারা ইসলামের নামে সাধারণ মানুষের ধর্মীয় আবেগকে জিম্মি করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
এই রাজনীতির দীর্ঘ ও বিষাক্ত ছায়া আজ এসে পড়েছে আমাদের প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশেও। বিদেশি পেট্রোডলারের প্রভাবে এবং কঠোর ওয়াহাবি সংস্কৃতির আড়ালে আমাদের দেশের সহজ-সরল মানুষের মনে ইসলামের নামে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে এক গভীর ভয় ও গোঁড়ামি। এর ফলে আমাদের দেশের পরিশ্রমী মানুষগুলো জীবিকার অন্বেষণে সংযুক্ত আরব আমিরাত বা সৌদি আরবের মরুপ্রান্তরে পাড়ি জমিয়ে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কাজ করে ঠিকই, কিন্তু এক অদৃশ্য দাসত্বের শৃঙ্খল সবসময় তাদের পা জড়িয়ে রাখে। নিজের দেশেই আজ আমরা পরবাসী, আর প্রবাসে আমাদের মানুষেরা আধুনিক দাসত্বের শিকার।
আজকের এই সংকটময় সময়ে যখন ফিলিস্তিনের গাজায় মানবতা চরম বিপন্ন এবং ইসরায়েলি আগ্রাসনে লাখ লাখ ফিলিস্তিনি রক্ত ঝরাচ্ছে, তখন সেই তথাকথিত ধনী রাজতন্ত্রগুলোর ভূমিকা কী? সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত বা উপসাগরীয় অঞ্চলের কোনো রাজপরিবার কি ফিলিস্তিনের পক্ষে সত্যিকার অর্থে দাঁড়িয়েছে? তারা কখনোই ফিলিস্তিনের মুক্তি চায় না, কারণ তাদের ক্ষমতা টিকে আছে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির কৃপায়।
পক্ষান্তরে, আজকের এই দিনে আমাদের সাহসের সঙ্গে স্বীকার করতে হবে যে, এই রাজতন্ত্রগুলোর বিপরীতে একমাত্র ইরান এবং তার মিত্ররাই ফিলিস্তিনের নিপীড়িত মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে, প্রকাশ্যে ইসরায়েল ও পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। ফিলিস্তিনের মুক্তির প্রশ্নে আজ কে কার পক্ষে আর কে কার বিরুদ্ধে—তা দিবালোকের মতো স্পষ্ট।
যতদিন না আমরা মানসিকভাবে এই রাজতন্ত্র ও ওয়াহাবি সংস্কৃতির গোলামি থেকে মুক্ত হব, ততদিন না প্রবাসের মরুপ্রান্তরে আমাদের মানুষের শারীরিক দাসত্ব ঘুচবে, আর না আমাদের দেশের মানুষের আত্মা স্বাধীন হবে।
প্রিয়নবীর (সা.) আসল শিক্ষা—প্রেম, ন্যায়বিচার ও মানবতার ইসলামকে আবার ফিরিয়ে আনতে হবে আমাদের ঘরে ঘরে। ভয়ের দেয়াল ভেঙে এবং এই মনস্তাত্ত্বিক গোলামি থেকে বেরিয়ে আসার দায়িত্ব আজ আমাদের নিজেদেরই নিতে হবে।

মানুষের তৈরি সমস্ত শৃঙ্খল, বৈষম্য এবং দাসত্ব দূর করে একটি সাম্যভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গড়ে তুলতেই পৃথিবীতে এসেছিলেন প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। তিনি কখনোই কোনো বংশগত রাজতন্ত্র, সাম্রাজ্য বা ক্ষমতার মসনদ প্রতিষ্ঠা করতে চাননি। প্রিয়নবীর (সা.) সুমহান আদর্শ ছিল মানুষ যেন শুধু মহান আল্লাহর ইবাদত করে এবং অন্য কোনো মানুষের দাসত্ব বা মনস্তাত্ত্বিক গোলামিতে না জড়ায়।
কিন্তু ইতিহাসের নির্মম বাঁকে, প্রিয়নবীর (সা.) তিরোধানের ঠিক পরপরই ইসলামের সেই মুক্ত ও গণতান্ত্রিক আত্মাকে জবরদস্তি করে বন্দি করা হলো রাজমুকুট আর স্বৈরাচারের খাঁচায়।
৬৮০ খ্রিষ্টাব্দে মুয়াবিয়ার মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র ইয়াজিদ খেলাফতকে পারিবারিক রাজতন্ত্রে রূপান্তরিত করার ঘোষণা দেয় এবং জোরপূর্বক সাধারণ মানুষের কাছ থেকে আনুগত্যের শপথ দাবি করে। সে চেয়েছিল প্রিয়নবীর (সা.) দৌহিত্র হজরত হুসাইন (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এবং অন্যান্য সাহাবিরা তার অবৈধ রাজতন্ত্রের সামনে মাথা নত করুক।
সে সময় কুফার সাধারণ মানুষ, যারা প্রিয়নবীর (সা.) পরিবারের প্রতি গভীর অনুরাগী ছিল, তারা শত শত চিঠি পাঠিয়ে হজরত হুসাইনকে (রা.) কুফায় আসার অনুরোধ জানায়। তারা আশ্বস্ত করে যে প্রিয়নবীর (সা.) পরিবারই তাদের প্রকৃত পথপ্রদর্শক এবং তারা তাঁর হাতে হাত রেখে বায়াত নেবে। কিন্তু পরিস্থিতি পাল্টে দিতে ইয়াজিদ তার নিষ্ঠুর সেনাপতি উবায়দুল্লাহ ইবনে জিয়াদকে কুফায় পাঠায়।
ইবনে জিয়াদ কুফায় প্রবেশ করে চরম ভয়ভীতি, হুমকি ও বলপ্রয়োগের মাধ্যমে পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে দেয়। সাধারণ মানুষ ও কুফাবাসীকে ভয় দেখিয়ে তাদের মুখ বন্ধ করে দেওয়া হয়। তারা বাধ্য হয় ইয়াজিদের সেনাশক্তির প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করতে।
হজরত হুসাইন (রা.) এই অবৈধ ও স্বৈরাচারী রাজতন্ত্রের কাছে আত্মসমর্পণ করতে স্পষ্ট অস্বীকৃতি জানান। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন, তাঁর মতো মানুষ কোনো অবস্থাতেই ইয়াজিদের মতো দুর্নীতিগ্রস্ত ও পাপিষ্ঠ শাসকের কাছে মাথা নত করবে না। এরপর কারবালার মরুপ্রান্তরে তাঁর পরিবার ও ৭২ জন সঙ্গীকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পানি বন্ধ করে দিয়ে এক পৈশাচিক কায়দায় তাঁদের নির্মমভাবে শহিদ করা হয়।
কারবালার সেই মর্মান্তিক ঘটনার মধ্য দিয়ে যে রাজতান্ত্রিক ও স্বৈরাচারী ধারা শুরু হয়েছিল, তার আধুনিক উত্তরাধিকার আজও টিকে আছে। মক্কা-মদিনার পবিত্র ভূমি আজ এমন সব রাজতন্ত্রের কবজায়, যারা ইসলামের নামে সাধারণ মানুষের ধর্মীয় আবেগকে জিম্মি করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
এই রাজনীতির দীর্ঘ ও বিষাক্ত ছায়া আজ এসে পড়েছে আমাদের প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশেও। বিদেশি পেট্রোডলারের প্রভাবে এবং কঠোর ওয়াহাবি সংস্কৃতির আড়ালে আমাদের দেশের সহজ-সরল মানুষের মনে ইসলামের নামে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে এক গভীর ভয় ও গোঁড়ামি। এর ফলে আমাদের দেশের পরিশ্রমী মানুষগুলো জীবিকার অন্বেষণে সংযুক্ত আরব আমিরাত বা সৌদি আরবের মরুপ্রান্তরে পাড়ি জমিয়ে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কাজ করে ঠিকই, কিন্তু এক অদৃশ্য দাসত্বের শৃঙ্খল সবসময় তাদের পা জড়িয়ে রাখে। নিজের দেশেই আজ আমরা পরবাসী, আর প্রবাসে আমাদের মানুষেরা আধুনিক দাসত্বের শিকার।
আজকের এই সংকটময় সময়ে যখন ফিলিস্তিনের গাজায় মানবতা চরম বিপন্ন এবং ইসরায়েলি আগ্রাসনে লাখ লাখ ফিলিস্তিনি রক্ত ঝরাচ্ছে, তখন সেই তথাকথিত ধনী রাজতন্ত্রগুলোর ভূমিকা কী? সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত বা উপসাগরীয় অঞ্চলের কোনো রাজপরিবার কি ফিলিস্তিনের পক্ষে সত্যিকার অর্থে দাঁড়িয়েছে? তারা কখনোই ফিলিস্তিনের মুক্তি চায় না, কারণ তাদের ক্ষমতা টিকে আছে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির কৃপায়।
পক্ষান্তরে, আজকের এই দিনে আমাদের সাহসের সঙ্গে স্বীকার করতে হবে যে, এই রাজতন্ত্রগুলোর বিপরীতে একমাত্র ইরান এবং তার মিত্ররাই ফিলিস্তিনের নিপীড়িত মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে, প্রকাশ্যে ইসরায়েল ও পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। ফিলিস্তিনের মুক্তির প্রশ্নে আজ কে কার পক্ষে আর কে কার বিরুদ্ধে—তা দিবালোকের মতো স্পষ্ট।
যতদিন না আমরা মানসিকভাবে এই রাজতন্ত্র ও ওয়াহাবি সংস্কৃতির গোলামি থেকে মুক্ত হব, ততদিন না প্রবাসের মরুপ্রান্তরে আমাদের মানুষের শারীরিক দাসত্ব ঘুচবে, আর না আমাদের দেশের মানুষের আত্মা স্বাধীন হবে।
প্রিয়নবীর (সা.) আসল শিক্ষা—প্রেম, ন্যায়বিচার ও মানবতার ইসলামকে আবার ফিরিয়ে আনতে হবে আমাদের ঘরে ঘরে। ভয়ের দেয়াল ভেঙে এবং এই মনস্তাত্ত্বিক গোলামি থেকে বেরিয়ে আসার দায়িত্ব আজ আমাদের নিজেদেরই নিতে হবে।
.png)

জশনে জুলুস বা ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন কেবল বাংলাদেশ কিংবা ভারতীয় উপমহাদেশের কোনো একক বা বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়। বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে ইসলামের ইতিহাস ও চর্চার দিকে তাকালে দেখা যায়—মিশর, ইয়েমেন থেকে শুরু করে আফ্রিকার নানা দেশে যুগ যুগ ধরে অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দঘন পরিবেশে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আগ
২ ঘণ্টা আগে
সম্প্রতি মন্ত্রিসভার দায়িত্ব পুনর্বণ্টনে আফরোজা খানম রিতা খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। এটিকে শুধু মন্ত্রণালয় পরিবর্তন হিসেবে না দেখে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও আস্থার বহিঃপ্রকাশ হিসেবেও দেখা যায়।
১ দিন আগে
রোহিঙ্গা সংকট নয় বছর পেরিয়ে দশম বছরে পদার্পণ করলো। এই দীর্ঘ সময়ে বাংলাদেশ এর টেকসই সমাধানে একটুও এগোতে পারেনি। বিগত পুরো সময়টা জুড়ে প্রায় ১.২ মিলিয়ন রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মৌলিক চাহিদার যোগানোই যেন ছিল বাংলাদেশের প্রধান কাজ। নয় বছরের ইতিহাসের দিকে তাকালে নানা রকম টানাপোড়েনও দেখা যায়।
২৫ আগস্ট ২০২৬
কোক-পেপসি যেহেতু আলাদা বোতলে একই বস্তু, ফলে বর্জনীয়—কল্লোল মোস্তফার এই যুক্তিটা আমার কাছে খুব আকর্ষণীয় লেগেছে। আপদ-বিপদ তত্ত্ব শুনেছি আগে, জ্বলন্ত চুলা-ফুটন্ত কড়াই ইত্যাদি আরও অনেক কিছু। কিন্তু এটা আমার কাছেও নতুন একভাবে উপস্থাপন। এই উপমাটা আগে শুনিনি, ফলে ভালো লেগেছে।
২৪ আগস্ট ২০২৬