সৈয়দ মিসবাহ উদ্দিন আহমদ

২২ এপ্রিল বিশ্বজুড়ে আর্থ ডে বা ‘ধরিত্রী দিবস’ পালিত হয়। তবে বাংলাদেশের জন্য এটি কেবল লোকদেখানো কোনো অনুষ্ঠান হওয়া উচিত নয়। জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর শুধু বিজ্ঞানীদের আলোচনার বিষয় নয়, এটি আমাদের প্রতিদিনের কঠিন বাস্তবতা। তাই সাধারণ মানুষ চায়, সরকার যেন এই দিনটিকে দেশের নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের টিকে থাকার লড়াই হিসেবে গুরুত্ব দেয়।
ধরিত্রী দিবসের সূচনা হয় ১৯৭০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে, যখন পরিবেশ দূষণ ও শিল্পায়নের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে জনসচেতনতা গড়ে তুলতে সিনেটর গেলর্ড নেলসন একটি গণআন্দোলনের ডাক দেন এবং পরিবেশকর্মী ডেনিস হায়েস এই আন্দোলনের সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রথম পালিত ধরিত্রী দিবসে প্রায় দুই কোটি মানুষ অংশগ্রহণ করে পরিবেশ বিপর্যয়ের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ জানায়।
এনসাইক্লোপেডিয়া ব্রিটানিকার বর্ণনা অনুযায়ী, আর্থ ডে একটি বার্ষিক বৈশ্বিক আয়োজন, যা পরিবেশ সচেতনতা, সংরক্ষণ এবং টেকসই উন্নয়নকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে প্রতি বছর ২২ এপ্রিল উদ্যাপিত হয়। ১৯৬০-এর দশকের পরিবেশবাদী আন্দোলন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রথম আয়োজনটি ছিল এক ধরনের ‘টিচ-ইন’, যা পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রে ক্লিন এয়ার অ্যাক্ট ও বিপন্ন প্রজাতি সংরক্ষণ আইনের মতো গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়নে ভূমিকা রাখে। ১৯৯০ সালে ডেনিস হায়েসের উদ্যোগে আর্থ ডে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক রূপ লাভ করে, যেখানে ১৪১টি দেশের প্রায় ২০ কোটি মানুষ অংশ নেয়। বর্তমানে বৃক্ষরোপণ, সমুদ্রসৈকত ও পার্ক পরিষ্কার, পরিবেশ শিক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সচেতনতা কার্যক্রম এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির পক্ষে জনসমর্থন গড়ে তোলার মতো কার্যক্রমের মাধ্যমে দিনটি উদ্যাপিত হয়। যদিও দিবসটি প্রধানত ২২ এপ্রিল বিশ্বব্যাপী পালিত হয়, তবে কিছু অঞ্চলে বসন্তের সময়েও দিবসটি পালন করা হয়।
দিবসটি বাংলাদেশের জন্য কেবল প্রতীকী রাখা ঠিক হবে না। বরং, দিবসটিকে আমাদের জন্য তো বটেই আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অস্তিত্ব রক্ষায় একটি সতর্কবার্তা হিসেবে বিশদ কর্মপরিকল্পনার আহ্বানসহ বাস্তবায়নের উপযোগী করে তুলতে হবে।
জার্মানভিত্তিক পরিবেশ ও নীতি গবেষণা সংস্থা জার্মানওয়াচ তাদের বহুল আলোচিত ক্লাইমেট রিস্ক প্রতিবেদনে ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশকে বিশ্বের অন্যতম জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় স্থান দিয়েছে। এই সূচকে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, তাপপ্রবাহসহ জলবায়ুজনিত দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি, প্রাণহানি এবং অর্থনৈতিক প্রভাবের ভিত্তিতে দেশগুলোর ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হয়। বাংলাদেশ বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে তেমন অবদান না রাখলেও ভৌগোলিক অবস্থান, জনঘনত্ব এবং উপকূলীয় ভঙ্গুরতার কারণে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত এখানে তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি তীব্রভাবে প্রতিফলিত হয়, যা জার্মান ওয়াচের মূল্যায়নে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা, নদীভাঙন, এবং লবণাক্ততার বিস্তার, এসব কেবল পরিসংখ্যান নয়; এগুলো মানুষের ঘরবাড়ি হারানো, জীবিকা বিপন্ন হওয়া এবং অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতির করুণ বাস্তবতা।
বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি, বিশ্বের বৃহত্তম বদ্বীপগুলোর একটি। গঙ্গা–ব্রহ্মপুত্র–মেঘনা ডেল্টা সিস্টেম একদিকে আমাদের উর্বরতা ও সমৃদ্ধির উৎস, অন্যদিকে এটি আমাদের ভঙ্গুরতার কারণও বটে। এই বদ্বীপের পরিবেশগত ভারসাম্য বিঘ্নিত হলে কৃষি উৎপাদন থেকে শুরু করে নদীপথ পরিবহন সবকিছুই বিপর্যস্ত হতে পারে। ফলে পরিবেশ সংরক্ষণ এখানে কেবল উন্নয়নের একটি খাত নয়। সামগ্রিক রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার ভিত্তি বলে প্রতীয়মান।
এই প্রেক্ষাপটে সুন্দরবনের গুরুত্ব বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট হিসেবে এটি শুধু জীববৈচিত্র্যের ভাণ্ডার নয়, বরং ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে খুব কার্যকরী। সুন্দরবনের ক্ষয় মানে উপকূলীয় অঞ্চলের প্রাকৃতিক নিরাপত্তা সার্বিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়া, যা শেষ পর্যন্ত জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে সম্পর্কিত। তাই পরিবেশ সংরক্ষণকে আলাদা কোনো খাত হিসেবে নয়, বরং কৌশলগত নিরাপত্তার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা জরুরি।
অন্যদিকে, নগরায়নের চাপও বাংলাদেশের পরিবেশ সংকটকে তীব্রতর করছে। ঢাকা আজ বিশ্বের অন্যতম দূষিত নগরীতে পরিণত হয়েছে। বায়ুদূষণ, পানিদূষণ, শব্দদূষণ এবং অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নগরবাসীর জীবনমানকে প্রতিনিয়ত অবনতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই বাস্তবতায় ‘পৃথিবী দিবস’ আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—উন্নয়ন যদি পরিবেশবিনাশী হয়, তবে তা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হতে পারে না।
সুনীল অর্থনীতির উচ্চাকাঙ্খী বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কারণে বাংলাদেশের সামুদ্রিক পরিসরও আজ নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। বঙ্গোপসাগরে আমাদের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা যেমন মৎস্যসম্পদ, জ্বালানি, এবং সমুদ্রবাণিজ্য দেশের ভবিষ্যৎ টেকসই উন্নয়নের একটি প্রধান ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে। তবে এই সম্ভাবনা বাস্তবায়নের পূর্বশর্ত হলো দূরদৃষ্টি সম্পন্ন টেকসই ব্যবস্থাপনা। সামুদ্রিক দূষণ, অতিরিক্ত আহরণ এবং পরিবেশগত অবক্ষয় যদি নিয়ন্ত্রণে না আনা যায়, তবে এই সম্ভাবনাই ভবিষ্যতে সংকটে পরিণত হতে পারে। ফলে আর্থ ডে আমাদের সুনীল অর্থনীতিকে পরিবেশগত ভারসাম্যের সঙ্গে যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
শুধু তাই নয়, এখানে একটি নৈতিক মাত্রাও রয়েছে। বাংলাদেশ বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে খুবই সামান্য অবদান রাখলেও জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগীদের মধ্যে অন্যতম। এই বাস্তবতা আন্তর্জাতিক পরিসরে আমাদের জলবায়ু ন্যায্যতার দাবি জানানোর একটি নৈতিক অবস্থান প্রদান করে। ‘পৃথিবী দিবস’ কে সেই দাবি আরও জোরালোভাবে জানানোর একটি বৈশ্বিক মঞ্চ হিসাবে আমরা ব্যবহার করতে পারি।
অতএব, ‘পৃথিবী দিবস’ বা আর্থ ডে বাংলাদেশের জন্য কেবল একটি আন্তর্জাতিক দিবস নয়; একটি কৌশলগত বাস্তবতা হতে পারে। পরিবেশ সংরক্ষণ এখানে বিলাসিতা নয়, বরং জাতির ভবিষ্যৎ অস্তিত্বের আবশ্যকীয়তা। তাই, রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণে পরিবেশকে কেন্দ্রস্থলে না রাখলে উন্নয়ন অচিরেই সংকটে পরিণত হবার আশংকা থেকে যায়।
পরিশেষে, একটি বিষয় আমাদেরকে স্পষ্টভাবে বুঝতে হবে। প্রকৃতির সঙ্গে সংঘাত করে নয়, বরং তার সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সহাবস্থান করেই বাংলাদেশের টেকসই উন্নত ভবিষ্যৎ নির্মিত হতে পারে। এটাই হোক এ বছরের ‘পৃথিবী দিবস’ বা আর্থ ডে তে আমাদের প্রতিপাদ্য।

২২ এপ্রিল বিশ্বজুড়ে আর্থ ডে বা ‘ধরিত্রী দিবস’ পালিত হয়। তবে বাংলাদেশের জন্য এটি কেবল লোকদেখানো কোনো অনুষ্ঠান হওয়া উচিত নয়। জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর শুধু বিজ্ঞানীদের আলোচনার বিষয় নয়, এটি আমাদের প্রতিদিনের কঠিন বাস্তবতা। তাই সাধারণ মানুষ চায়, সরকার যেন এই দিনটিকে দেশের নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের টিকে থাকার লড়াই হিসেবে গুরুত্ব দেয়।
ধরিত্রী দিবসের সূচনা হয় ১৯৭০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে, যখন পরিবেশ দূষণ ও শিল্পায়নের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে জনসচেতনতা গড়ে তুলতে সিনেটর গেলর্ড নেলসন একটি গণআন্দোলনের ডাক দেন এবং পরিবেশকর্মী ডেনিস হায়েস এই আন্দোলনের সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রথম পালিত ধরিত্রী দিবসে প্রায় দুই কোটি মানুষ অংশগ্রহণ করে পরিবেশ বিপর্যয়ের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ জানায়।
এনসাইক্লোপেডিয়া ব্রিটানিকার বর্ণনা অনুযায়ী, আর্থ ডে একটি বার্ষিক বৈশ্বিক আয়োজন, যা পরিবেশ সচেতনতা, সংরক্ষণ এবং টেকসই উন্নয়নকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে প্রতি বছর ২২ এপ্রিল উদ্যাপিত হয়। ১৯৬০-এর দশকের পরিবেশবাদী আন্দোলন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রথম আয়োজনটি ছিল এক ধরনের ‘টিচ-ইন’, যা পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রে ক্লিন এয়ার অ্যাক্ট ও বিপন্ন প্রজাতি সংরক্ষণ আইনের মতো গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়নে ভূমিকা রাখে। ১৯৯০ সালে ডেনিস হায়েসের উদ্যোগে আর্থ ডে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক রূপ লাভ করে, যেখানে ১৪১টি দেশের প্রায় ২০ কোটি মানুষ অংশ নেয়। বর্তমানে বৃক্ষরোপণ, সমুদ্রসৈকত ও পার্ক পরিষ্কার, পরিবেশ শিক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সচেতনতা কার্যক্রম এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির পক্ষে জনসমর্থন গড়ে তোলার মতো কার্যক্রমের মাধ্যমে দিনটি উদ্যাপিত হয়। যদিও দিবসটি প্রধানত ২২ এপ্রিল বিশ্বব্যাপী পালিত হয়, তবে কিছু অঞ্চলে বসন্তের সময়েও দিবসটি পালন করা হয়।
দিবসটি বাংলাদেশের জন্য কেবল প্রতীকী রাখা ঠিক হবে না। বরং, দিবসটিকে আমাদের জন্য তো বটেই আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অস্তিত্ব রক্ষায় একটি সতর্কবার্তা হিসেবে বিশদ কর্মপরিকল্পনার আহ্বানসহ বাস্তবায়নের উপযোগী করে তুলতে হবে।
জার্মানভিত্তিক পরিবেশ ও নীতি গবেষণা সংস্থা জার্মানওয়াচ তাদের বহুল আলোচিত ক্লাইমেট রিস্ক প্রতিবেদনে ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশকে বিশ্বের অন্যতম জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় স্থান দিয়েছে। এই সূচকে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, তাপপ্রবাহসহ জলবায়ুজনিত দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি, প্রাণহানি এবং অর্থনৈতিক প্রভাবের ভিত্তিতে দেশগুলোর ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হয়। বাংলাদেশ বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে তেমন অবদান না রাখলেও ভৌগোলিক অবস্থান, জনঘনত্ব এবং উপকূলীয় ভঙ্গুরতার কারণে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত এখানে তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি তীব্রভাবে প্রতিফলিত হয়, যা জার্মান ওয়াচের মূল্যায়নে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা, নদীভাঙন, এবং লবণাক্ততার বিস্তার, এসব কেবল পরিসংখ্যান নয়; এগুলো মানুষের ঘরবাড়ি হারানো, জীবিকা বিপন্ন হওয়া এবং অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতির করুণ বাস্তবতা।
বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি, বিশ্বের বৃহত্তম বদ্বীপগুলোর একটি। গঙ্গা–ব্রহ্মপুত্র–মেঘনা ডেল্টা সিস্টেম একদিকে আমাদের উর্বরতা ও সমৃদ্ধির উৎস, অন্যদিকে এটি আমাদের ভঙ্গুরতার কারণও বটে। এই বদ্বীপের পরিবেশগত ভারসাম্য বিঘ্নিত হলে কৃষি উৎপাদন থেকে শুরু করে নদীপথ পরিবহন সবকিছুই বিপর্যস্ত হতে পারে। ফলে পরিবেশ সংরক্ষণ এখানে কেবল উন্নয়নের একটি খাত নয়। সামগ্রিক রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার ভিত্তি বলে প্রতীয়মান।
এই প্রেক্ষাপটে সুন্দরবনের গুরুত্ব বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট হিসেবে এটি শুধু জীববৈচিত্র্যের ভাণ্ডার নয়, বরং ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে খুব কার্যকরী। সুন্দরবনের ক্ষয় মানে উপকূলীয় অঞ্চলের প্রাকৃতিক নিরাপত্তা সার্বিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়া, যা শেষ পর্যন্ত জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে সম্পর্কিত। তাই পরিবেশ সংরক্ষণকে আলাদা কোনো খাত হিসেবে নয়, বরং কৌশলগত নিরাপত্তার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা জরুরি।
অন্যদিকে, নগরায়নের চাপও বাংলাদেশের পরিবেশ সংকটকে তীব্রতর করছে। ঢাকা আজ বিশ্বের অন্যতম দূষিত নগরীতে পরিণত হয়েছে। বায়ুদূষণ, পানিদূষণ, শব্দদূষণ এবং অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নগরবাসীর জীবনমানকে প্রতিনিয়ত অবনতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই বাস্তবতায় ‘পৃথিবী দিবস’ আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—উন্নয়ন যদি পরিবেশবিনাশী হয়, তবে তা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হতে পারে না।
সুনীল অর্থনীতির উচ্চাকাঙ্খী বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কারণে বাংলাদেশের সামুদ্রিক পরিসরও আজ নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। বঙ্গোপসাগরে আমাদের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা যেমন মৎস্যসম্পদ, জ্বালানি, এবং সমুদ্রবাণিজ্য দেশের ভবিষ্যৎ টেকসই উন্নয়নের একটি প্রধান ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে। তবে এই সম্ভাবনা বাস্তবায়নের পূর্বশর্ত হলো দূরদৃষ্টি সম্পন্ন টেকসই ব্যবস্থাপনা। সামুদ্রিক দূষণ, অতিরিক্ত আহরণ এবং পরিবেশগত অবক্ষয় যদি নিয়ন্ত্রণে না আনা যায়, তবে এই সম্ভাবনাই ভবিষ্যতে সংকটে পরিণত হতে পারে। ফলে আর্থ ডে আমাদের সুনীল অর্থনীতিকে পরিবেশগত ভারসাম্যের সঙ্গে যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
শুধু তাই নয়, এখানে একটি নৈতিক মাত্রাও রয়েছে। বাংলাদেশ বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে খুবই সামান্য অবদান রাখলেও জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগীদের মধ্যে অন্যতম। এই বাস্তবতা আন্তর্জাতিক পরিসরে আমাদের জলবায়ু ন্যায্যতার দাবি জানানোর একটি নৈতিক অবস্থান প্রদান করে। ‘পৃথিবী দিবস’ কে সেই দাবি আরও জোরালোভাবে জানানোর একটি বৈশ্বিক মঞ্চ হিসাবে আমরা ব্যবহার করতে পারি।
অতএব, ‘পৃথিবী দিবস’ বা আর্থ ডে বাংলাদেশের জন্য কেবল একটি আন্তর্জাতিক দিবস নয়; একটি কৌশলগত বাস্তবতা হতে পারে। পরিবেশ সংরক্ষণ এখানে বিলাসিতা নয়, বরং জাতির ভবিষ্যৎ অস্তিত্বের আবশ্যকীয়তা। তাই, রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণে পরিবেশকে কেন্দ্রস্থলে না রাখলে উন্নয়ন অচিরেই সংকটে পরিণত হবার আশংকা থেকে যায়।
পরিশেষে, একটি বিষয় আমাদেরকে স্পষ্টভাবে বুঝতে হবে। প্রকৃতির সঙ্গে সংঘাত করে নয়, বরং তার সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সহাবস্থান করেই বাংলাদেশের টেকসই উন্নত ভবিষ্যৎ নির্মিত হতে পারে। এটাই হোক এ বছরের ‘পৃথিবী দিবস’ বা আর্থ ডে তে আমাদের প্রতিপাদ্য।

তীব্র গরমের কারণে জনজীবন ভোগান্তির মুখে পড়েছে। এটাকে বলা যায় এক ধরণের জনস্বাস্থ্যের বিপদ। চলমান এই তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে দেশজুড়ে ব্যাপক লোডশেডিং পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। তথ্যমতে, দেশে বর্তমানে প্রায় ২০০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে।
১ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশ আজ এমন এক সাংস্কৃতিক ও আত্মিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে শুধু সংস্কৃতি নয়, জ্ঞান, বিশ্বাস এবং মানুষের নিজস্ব উপলব্ধির পথও সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
৩ ঘণ্টা আগে
বিএনপির সঙ্গে বছরের পর বছর আমাদের জোট ছিল। তো ১১-দলীয় ঐক্যের জোটও দীর্ঘমেয়াদি হবে– এটি আমরা প্রত্যাশা করি। জোটকে শুধু মজবুত নয়, টিকিয়ে রাখার স্বার্থেও সংরক্ষিত আসনে ছাড় দিয়েছে জামায়াত।
৮ ঘণ্টা আগে
চরের মাটি আর লোনা বাতাসের সংসারে এক ধরনের জুয়া খেলা চলে প্রতি বছর। কৃষক বীজ বোনেন, মাটিতে মিশিয়ে দেন হাজার হাজার টাকা। তারপর শুরু হয় অপেক্ষা। সেই অপেক্ষার নাম তরমুজ।
২০ ঘণ্টা আগে