ভোক্তার একশ টাকার কতটা যায় কৃষকের হাতে

প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০২৬, ১৭: ২০
স্ট্রিম গ্রাফিক

সিপিডির গবেষণায় একটি পরিসংখ্যান বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। কাঁচামরিচের খুচরা মূল্য খামারের মূল্যের তুলনায় ১১৬ শতাংশ বেশি, আলুর ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ, পেঁয়াজের ক্ষেত্রে ৮৭ শতাংশ। প্রশ্ন উঠেছে—এই ব্যবধান কি অস্বাভাবিক, নাকি বৈশ্বিক মানদণ্ডে স্বাভাবিক? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে প্রথমেই তাকাতে হয় বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত ও সমৃদ্ধ কৃষি অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্রের দিকে।

যুক্তরাষ্ট্রের ফুড ডলার: প্রত্যাশা পুনর্বিন্যাস

মার্কিন কৃষি মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক গবেষণা সংস্থা (ইউএসডিএ-ইআরএস) প্রতিবছর ‘ফুড ডলার সিরিজ’ প্রকাশ করে, যা ভোক্তার প্রতি এক ডলার খাদ্য ব্যয়ের কতটুকু কৃষকের কাছে যায় এবং কতটুকু বিপণন—পরিবহন, প্রক্রিয়াকরণ, সংরক্ষণ, পাইকারি ও খুচরা বিক্রয়ে ব্যয় হয় তা পরিমাপ করে। ২০২৪ সালের সর্বশেষ উপাত্ত অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের কৃষকরা দেশীয়ভাবে উৎপাদিত খাদ্যের প্রতি ডলার ভোক্তা ব্যয়ের মাত্র ১১ দশমিক ৮ সেন্ট পান; বাকি ৮৮ দশমিক ২ সেন্ট বিপণন খাতে যায়। এই অনুপাত পণ্যভেদে ভিন্ন হয়। ২০০৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, ডিমের ক্ষেত্রে খামারের ভাগ খুচরা মূল্যের প্রায় ৩৫ শতাংশ ছিল, তাজা ফল ও সবজির ক্ষেত্রে প্রায় ১৯ শতাংশ, আর সিরিয়াল ও বেকারি পণ্যের ক্ষেত্রে মাত্র ৬ শতাংশ।

এই তথ্যের তাৎপর্য গভীর। বিশ্বের সবচেয়ে দক্ষ, প্রযুক্তিনির্ভর ও প্রতিযোগিতামূলক কৃষি-বিপণন ব্যবস্থাতেও কৃষকের ভাগ ধারাবাহিকভাবে সংকুচিত হয়ে আসছে। ২০১১ সালের ১৫ দশমিক ৫ সেন্ট থেকে ২০২৪ সালে ১১ দশমিক ৮ সেন্টে নেমে এসেছে। কারণ প্রক্রিয়াকরণ, প্যাকেজিং, পরিবহন ও খুচরা বিক্রয়ের প্রকৃত মূল্য বাড়ছে এবং ভোক্তারা ক্রমে প্রস্তুত ও প্রক্রিয়াজাত খাবারের দিকে ঝুঁকছেন। অর্থাৎ বিপণন-মার্জিনের অস্তিত্ব নিজেই কোনো অন্যায়ের প্রমাণ নয়। প্রশ্ন হলো এই মার্জিন প্রকৃত সেবার বিনিময়ে অর্জিত হচ্ছে, নাকি বাজার ক্ষমতার অপব্যবহারের ফল। সিপিডির প্রতিবেদনও এই সূক্ষ্ম পার্থক্যটি স্বীকার করে বলেছে যে মোট মার্জিনের অস্তিত্ব নিজে থেকেই অতিরিক্ত মুনাফার প্রমাণ নয়। কিন্তু বাংলাদেশে এই ধরনের কোনো নিয়মিত সরকার-প্রকাশিত ‘খাদ্য-ডলার’ সূচক নেই। ফলে নীতিনির্ধারক বা গণমাধ্যম কারও কাছেই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কৃষকের ভাগ বাড়ছে না কমছে তা তুলনা করার কোনো ধারাবাহিক মানদণ্ড নেই। এটি একটি সুনির্দিষ্ট, ব্যয়সাশ্রয়ী নীতিগত শূন্যতা যা পূরণযোগ্য। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো বা কৃষি বিপণন অধিদপ্তর যদি সিপিডির পদ্ধতি ব্যবহার করে বার্ষিক একটি ‘কৃষক-ভাগ সূচক’ প্রকাশ করে, তাহলে তা নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ইথিওপিয়ার মডেল: তথ্য ও নিষ্পত্তি-নিশ্চয়তা, মধ্যস্বত্বভোগী বর্জন নয়

মধ্যস্বত্বভোগী দূর না করেও কৃষকের ভাগ নাটকীয়ভাবে বাড়ানোর সবচেয়ে চিত্তাকর্ষক দৃষ্টান্ত ইথিওপিয়া থেকে আসে। অর্থনীতিবিদ এলেনি গাব্রে-মাধিন, যিনি স্ট্যানফোর্ড, মিশিগান স্টেট ও কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষালাভ করেছেন এবং আন্তর্জাতিক খাদ্যনীতি গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইএফপিআরআই) ও বিশ্বব্যাংকে কর্মরত ছিলেন। তিনি ২০০২ সালে শস্য ব্যবসায়ীদের নিয়ে জরিপ চালিয়ে দেখতে পান, সমস্যাটি মধ্যস্বত্বভোগীর উপস্থিতি নয়, বরং ঋণ, বাজার-তথ্য, পরিবহন ও চুক্তি বলবৎযোগ্যতার অবকাঠামোগত ঘাটতি। ২০০০-২০০১ সালের বাম্পার ফলনের ঠিক পরেই ২০০২ সালে এক দুর্ভিক্ষ ঘটেছিল। কারণ বণ্টন ব্যবস্থার অদক্ষতা, উৎপাদনের ঘাটতি নয়। এই উপলব্ধি থেকেই ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ইথিওপিয়া কমোডিটি এক্সচেঞ্জ (ইসিএক্স), আফ্রিকার প্রথম আধুনিক পণ্য বিনিময় কেন্দ্র।

ইসিএক্স-এর সাফল্যের মূল চাবিকাঠি তিনটি। গুদাম রসিদ ব্যবস্থা, শূন্য-ডিফল্ট নিষ্পত্তি গ্যারান্টি (অর্থ ও পণ্য উভয় পক্ষকে পরদিনই হস্তান্তর নিশ্চিত করা), এবং একটি টোল-ফ্রি ফোন-ইন মূল্য তথ্য সেবা যা ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে মাসে ১০ লাখেরও বেশি কল গ্রহণ করেছিল, যার ৭০ শতাংশ গ্রামীণ ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে আসত। ফলাফল ছিল নাটকীয়। মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে কফি চাষের সঙ্গে জড়িত কৃষকদের চূড়ান্ত রপ্তানি মূল্যে ভাগ ৩৮ শতাংশ থেকে বেড়ে প্রায় ৭০ শতাংশে দাঁড়ায়। কারণ কৃষকরা জানতেন প্রকৃত বাজারমূল্য কত এবং সেই অনুযায়ী দর কষাকষি করতে পারতেন। লক্ষণীয় বিষয় হলো, ইসিএক্স কৃষক ও রপ্তানিকারকের মধ্যের সমবায় সংগ্রাহক বা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের বাতিল করেনি; বরং তাদের একটি স্বচ্ছ কেন্দ্রীয় বাজারে যুক্ত করেছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এর প্রয়োগযোগ্যতা স্পষ্ট। সিপিডির গবেষণায় চিহ্নিত মাছ, ডিম ও কাঁচা সবজির ক্ষেত্রে ডিজিটাল গুদাম-রসিদ ও মূল্য-তথ্য অবকাঠামো আড়তদারদের বাতিল না করেই কৃষকের দরকষাকষির অবস্থান শক্তিশালী করতে পারে।

ভারতের আমুল মডেল: মালিকানা যখন মধ্যস্বত্বভোগী স্তর প্রতিস্থাপন করে

সিপিডির গবেষণায় একটি বিস্ময়কর ও উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে—মুরগি ও গরুর মাংসের ক্ষেত্রে কৃষকরা প্রকৃতপক্ষে নেতিবাচক নিট বিপণন মার্জিন পান, অর্থাৎ তাঁরা তাঁদের মোট উৎপাদন ব্যয়ের চেয়ে কম মূল্যে বিক্রি করছেন, মূলত উচ্চ খাদ্য ব্যয়ের কারণে। এই সমস্যার একটি সমাধান রয়েছে ভারতের দুগ্ধ খাতে। ১৯৪৬ সালে গুজরাটের কাইরা জেলায় স্থানীয় কৃষকরা একচেটিয়া ব্যবসায়ী পলসন ডেইরির শোষণের প্রতিবাদে সমবায় গঠন করেন। প্রকৌশলী ভার্গিজ কুরিয়েন ১৯৪৯ সালে এই আন্দোলনে যোগ দেন, যিনি পরবর্তী সময়ে ‘শ্বেত বিপ্লব’-এর জনক হিসেবে পরিচিতি পান। তিনি একটি ত্রি-স্তর সমবায় কাঠামো তৈরি করেন। গ্রাম পর্যায়ের সমিতি, জেলা পর্যায়ের ইউনিয়ন এবং রাজ্য পর্যায়ের ফেডারেশন (জিসিএমএমএফ), যা ‘আমুল’ ব্র্যান্ডের অধীনে পরিচালিত হয়।

চারটি ভিন্ন মহাদেশের চারটি ভিন্ন অভিজ্ঞতা একটি অভিন্ন নীতিগত সত্যের দিকে ইঙ্গিত করে। কৃষকের ভাগ বাড়ানোর কার্যকর পথ মধ্যস্বত্বভোগী বর্জন নয়, বরং হয় তথ্যের অবাধ প্রবাহের অবকাঠামো তৈরি, অথবা মালিকানা কাঠামোর পুনর্বিন্যাস, অথবা পণ্যভেদে সময়োপযোগী মূল্যনীতি, অথবা প্রতিযোগিতামূলক বহুত্ব তৈরি।

আমুলের কাঠামোর মূল শক্তি হলো এটি মধ্যস্বত্বভোগীকে বাতিল করেনি, বরং কৃষককেই মালিক বানিয়ে দিয়েছে। প্রক্রিয়াকরণ ও বিপণন প্রতিষ্ঠানের মালিকানা কৃষকদের হাতে ন্যস্ত করে পেশাদার ব্যবস্থাপকদের দিয়ে তা পরিচালনা করানো হয়েছে, যাতে গণতান্ত্রিক মালিকানা ও পেশাদার দক্ষতা একসঙ্গে কাজ করে। ফলাফল-জিসিএমএমএফ ভোক্তার প্রতি রুপি ব্যয়ের প্রায় ৮০ শতাংশ কৃষক-সদস্যদের কাছে ফেরত দেয়। পশ্চিমা বেসরকারি দুগ্ধ কোম্পানিগুলোর সাধারণ ৩৫-৪০ শতাংশ হারের তুলনায় যা দ্বিগুণেরও বেশি। ৩৬ লাখ ৪০ হাজার কৃষক-সদস্য নিয়ে গঠিত এই সংস্থা প্রতিদিন প্রায় ৩৫ মিলিয়ন লিটার দুধ সংগ্রহ করে। আমুলের শিক্ষা হলো, সমবায়ীকরণ কেবল সংগ্রহ পর্যায়ে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রক্রিয়াকরণ ও ব্র্যান্ডিং পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা গেলেই প্রকৃত রূপান্তর সম্ভব। মুরগি ও ডিম উৎপাদনকারী ক্ষুদ্র চাষিদের জন্য অনুরূপ একটি জাতীয় সমবায় প্রক্রিয়াকরণ ও বিপণন কাঠামো নেতিবাচক কৃষক-মার্জিনের সরাসরি প্রতিষেধক হতে পারে।

ইন্দোনেশিয়ার চাল-নীতি: স্থিতিশীলতার সময়োপযোগিতা

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ সি পিটার টিমার চার দশকেরও বেশি সময় ধরে ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রীয় খাদ্য সংস্থা বুলগ-এর চালের মূল্য স্থিতিশীলকরণ নীতি নিয়ে গবেষণা করেছেন। তাঁর গবেষণায় তিনি দেখান যে ১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশকে ইন্দোনেশিয়ার অর্থনীতি ও ভোক্তা বাজেটে বিশাল অংশ দখল করে ছিল চাল। তখন বুলগের মজুত-ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষকের জন্য ন্যূনতম ক্রয়মূল্য ও ভোক্তার জন্য ঊর্ধ্বসীমা মূল্য বজায় রাখার নীতি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে উচ্চ লভ্যাংশ দিয়েছিল। কিন্তু ১৯৯০-এর দশকে এসে যখন অর্থনীতিতে চালের গুরুত্ব কমে আসে ও ভোক্তা বাজেটে এর অংশ সংকুচিত হয়, তখন একই স্থিতিশীলকরণ নীতির প্রান্তিক সুবিধা কমতে থাকে এবং অধিক বাজার-নির্ভর মূল্যনীতির প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

এই ‘সময়োপযোগিতার তত্ত্ব’ বাংলাদেশের জন্য বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। সিপিডির উপাত্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও জাতিসংঘ বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ইউএনডব্লিউএফপি) ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, খাদ্য একাই ভোক্তা মূল্য সূচকের ৫৯ শতাংশ দখল করে আছে। ৬০ শতাংশের বেশি পরিবার তাদের আয়ের অন্তত অর্ধেক খাদ্যের পেছনে ব্যয় করে। এই সংখ্যা ইন্দোনেশিয়ার ১৯৭০-৮০ দশকের অবস্থার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ, ১৯৯০-এর দশকের নয়। এর অর্থ, বাংলাদেশ এখনো সেই পর্যায়ে অবস্থান করছে যেখানে সক্রিয় চাল মূল্য স্থিতিশীলকরণ নীতি—খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি, খোলা বাজারে বিক্রয় (ওএমএস) ও সরকারি সংগ্রহের মাধ্যমে—তুলনামূলকভাবে উচ্চ অর্থনৈতিক প্রতিদান দিতে সক্ষম।

টমাস রিয়ার্ডনের ‘নীরব বিপ্লব’: মধ্যস্বত্বভোগী দূর নয়, বহুত্ব চাই

মিশিগান স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক টমাস রিয়ার্ডন, যিনি ২০০৩ সালে টিমার ও অন্যান্য সহলেখকের সঙ্গে ‘সুপারমার্কেট বিপ্লব’ তত্ত্ব প্রবর্তন করে উন্নয়নশীল বিশ্বের কৃষি-অর্থনীতিতে সবচেয়ে বেশি উদ্ধৃত গবেষণাপত্রগুলোর একটি রচনা করেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একটি ভিন্ন ও গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন—তথাকথিত ‘নীরব বিপ্লব’। তাঁর মতে, এশিয়া ও আফ্রিকার খাদ্য ব্যবস্থাকে বাস্তবে যা রূপান্তরিত করছে তা সুপারমার্কেট চেইন নয়, বরং সরবরাহ শৃঙ্খলের ‘লুকানো মধ্যভাগ’-এ অসংখ্য ছোট ও মাঝারি পরিবহন, গুদামজাতকরণ ও পাইকারি প্রতিষ্ঠানের বিস্তার। রিয়ার্ডনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী প্রকৃত নীতিগত লক্ষ্য হওয়া উচিত এই ‘মধ্যভাগ’-কে অনুভূমিকভাবে বহুত্বময় করা—অর্থাৎ একই কাজে প্রতিযোগিতা করা অনেক ছোট প্রতিষ্ঠান তৈরি করা—উল্লম্বভাবে বাতিল করার বদলে।

সিপিডির উপাত্ত এই তত্ত্বকে জোরালোভাবে সমর্থন করে। দশটি পণ্যের মধ্যে ছয়টির ক্ষেত্রে খুচরা বিক্রেতারা প্রধানত একটি সংকীর্ণ শ্রেণির নগর আড়তদারের ওপর নির্ভরশীল। এটি রিয়ার্ডনের ভাষায় ‘লুকানো মধ্যভাগ’-এর সংকেন্দ্রণের একটি ক্লাসিক উদাহরণ। সমাধান তাই আড়তদার বর্জন নয়, বরং পরিবহন লাইসেন্সিং, গুদাম নির্মাণ অনুমোদন ও ঋণপ্রাপ্তির প্রবেশগম্য বাধা কমিয়ে এই স্তরে নতুন প্রতিযোগীর প্রবেশ সহজ করা—যাতে একটি সংকীর্ণ গোষ্ঠীর বদলে বহু প্রতিদ্বন্দ্বী আড়তদার প্রতিযোগিতা করে, স্বাভাবিকভাবেই মার্জিন কমিয়ে আনে।

চারটি ভিন্ন মহাদেশের চারটি ভিন্ন অভিজ্ঞতা একটি অভিন্ন নীতিগত সত্যের দিকে ইঙ্গিত করে। কৃষকের ভাগ বাড়ানোর কার্যকর পথ মধ্যস্বত্বভোগী বর্জন নয়, বরং হয় তথ্যের অবাধ প্রবাহের অবকাঠামো তৈরি, অথবা মালিকানা কাঠামোর পুনর্বিন্যাস, অথবা পণ্যভেদে সময়োপযোগী মূল্যনীতি, অথবা প্রতিযোগিতামূলক বহুত্ব তৈরি। বাংলাদেশের জন্য প্রথম পদক্ষেপ হওয়া উচিত একটি বার্ষিক, সরকারি ‘কৃষক-ভাগ সূচক’ প্রবর্তন করা যাতে একটি ধারাবাহিক মানদণ্ডে ভবিষ্যতে যেকোনো হস্তক্ষেপের সাফল্য মাপা যায়।

  • এম এম মুসা: উন্নয়নকর্মী ও গবেষক
Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত