সৌমিত জয়দ্বীপ

নামকরণের ইতিহাস নিয়ে খুব বেশি ঘাঁটাঘাঁটি করতে গেলে অনেক উজির-নাজির মারতে হবে। সেদিকে যেতে চাই না। কারণটা এই না যে, ভাসুরের নাম নেওয়া পাপ। কারণ এই যে, বর্তমানটা তাতে লঘু হয়ে যাওয়ার জোগাড় হয়। কিন্তু ইতিহাস যেহেতু বলছি, সেহেতু বলাবাহুল্য বটে, ঘটনার একটা পারম্পর্য তো আছেই। বাংলাদেশে নামকরণের ইতিহাস লম্বা। সেই লম্বা পথ ধরে বাংলাদেশে আরও একবার নামকরণের কদাকার রূপটি দেখল কয়েকদিন আগে। সে কথায় একটু পরেই আসছি।
বাংলা সাহিত্যের শক্তিশালী কবিদের অন্যতম একজন মাইকেল মধূসুদন দত্তের এপিটাফ বা সমাধিলিপিটা তাঁর নিজের লেখা। লিখেছিলেন: ‘দাঁড়াও, পথিক-বর, জন্ম যদি তব বঙ্গে! তিষ্ঠ ক্ষণকাল! এ সমাধিস্থলে’। কবি মাইকেলের অমরত্ব বাংলা ভাষা-সাহিত্যে এ কবিতার জন্য নয়। পাঠক মাত্রই জানেন, সে অমরত্বের হেতু। কিন্তু এ কবিতা হলো সেই অমরত্ব লাভহেতু জন্ম নেওয়া ডাকটিকিট। ফলে কারও অমরত্ব লাভের খোয়াব দেখে এপিটাফ লেখা আর কারও অমরত্ব নিশ্চিত হওয়ার পর এপিটাফ লেখার পার্থক্য বিস্তর। মাইকেল প্রথম ভাগের মানুষ নন, অনিবার্যভাবেই দ্বিতীয় ভাগের বটেন।
পৃথিবীতে একেকজন একেক কীর্তিতে অমরত্ব লাভ করেছেন। কেউ লেখে, কেউ খেলে, কেউ গেয়ে, কেউ এঁকে কেউ রাষ্ট্র পরিচালনা করে ইত্যাদি। তবে শিল্পীদের সঙ্গে রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের একটা মৌলিক পার্থক্য আছে। শিল্পীরা বড়জোর শিল্পের বদৌলতে পাঠক-দর্শক হৃদয়ে আসন পেয়ে অমরত্ব লাভ করেন এবং সেটা নির্ভর করে পাঠক-দর্শক কীভাবে সেই শিল্পকে গ্রহণ করেছে তার ওপর। পৃথিবীতে বহু রাজনীতিক আছেন, যাঁরা শুধু কৃতিত্বের গুণেই ‘রাজনৈতিক শিল্পী’ হিসেবে মানুষের মনে চিরস্থায়ী আসন পেয়ে গেছেন। বলাবাহুল্য, ওটাই প্রকৃত অমরত্ব।
তবে সম্প্রতি এই অমরত্ব লাভের আকাঙ্ক্ষায়, বলা ভালো লালসায়, এক অভূতপূর্ব ঘটনার জন্ম হয়েছে বাংলাদেশে। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী ও বগুড়া-২ আসনের সংসদ সদস্য মীর শাহ আলম নিজের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং ‘প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠবন্ধু’ পরিচয়ের ‘প্রভাব খাটিয়ে’ খোদ নিজের বংশ ও সন্তানদের নামে স্থানীয় প্রশাসনিক ইউনিটের নামকরণ করেছেন।
ঘটনাটা ছিল সামান্য এবং অবশ্যই প্রশংসনীয়৷ প্রশংসনীয় কারণ, বগুড়ার প্রাপ্য সিটি কর্পোরেশনের মর্যাদা অবশেষে বাস্তবায়িত হয়েছে। আর সামান্য, কারণ খুব স্বভাবতই সীমান পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজন ছিল৷ ফলে সিটি কর্পোরেশন ঘোষণার পাশাপাশিই বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলাকে ভেঙে জেলার অন্যতম বাণিজ্যকেন্দ্র মোকামতলাকে উপজেলায় উন্নীত করা হয় পাঁচটি ইউনিয়নের সমন্বয়ে৷ কিন্তু শুধু সদর ইউনিয়ন বাদে বাকি চারটি—মীরবাড়ী, সীমান্ত, দিগন্ত ও স্বর্ণগ্রাম—ইউনিয়নের নামকরণের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে এক এমন নির্ভেজাল পরিবারতন্ত্র, যা দেখে অতীতে যারা ‘পরিবারতন্ত্র জিন্দাবাদ’ করেছেন, তারাও লজ্জা পেয়ে যাবেন! ঠিক এ কারণেই সামান্য একটি ঘটনা টক অব দ্য টাউন হয়ে গেছে।
যখন এমন নামকরণ নিয়ে বিতর্ক উঠেছে, তখন সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছেন, ঘটনা কাকতালীয় মাত্র। মানে, ওই গল্প-সিনেমায় যা ঘটে আর কী! সব ঘটনাই কাল্পনিক, কিন্তু বাস্তবের সঙ্গে মিলে গেলে কাকতালীয়!
বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এই নামকরণ বাতিলের নির্দেশ প্রদান করে বগুড়া জেলা প্রশাসককে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ঘটনা এখানেই সমাপ্ত হলে ভালো। কিন্তু তবুও দুয়েকটা কথা প্রাসঙ্গিক কারণেই বলা প্রয়োজন।
দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনের যে আকাঙ্ক্ষা জনগণ করছে, তা মীর শাহে আলমের এমন কর্মকাণ্ডে প্রচণ্ড এক ধাক্কা খেল। সেই পুরোনো পরিবারতন্ত্র, সেই পুরোনো নামকরণের সংস্কৃতিতেই যেন ঘুরপাক খাওয়া বাংলাদেশের নিয়তি হয়ে গেছে। এদেশে তো পদত্যাগের সংস্কৃতিও নেই। অন্য কোনো দেশের রাজনীতিক হলে এমন চরম দায়িত্ব জ্ঞানহীন কর্মকাণ্ডের জন্য বিব্রত হয়ে মন্ত্রী নিজে থেকেই পদত্যাগ করতেন। থাক সেসব আশাবাদ।
হতাশার কথা হলো, স্ট্যাটাস কো’র চিন্তাভাবনার সংস্কৃতি কতটা নিম্নগামী হয়ে পড়েছে ভাবুন, একজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর অমরত্ব লাভের লালসা গিয়ে পড়েছে ইউনিয়নের নামকরণে! চলতি হাওয়ার পন্থী হলেও না হয় কথা ছিল—বিশ্ববিদ্যালয়, না হয় কলেজ বা মেডিকেল কলেজ, না হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের হল—এগুলো তো অমরত্বের নিশ্চয়তা আরও বেশি দেয়। ‘সম্মান’ও বৃদ্ধি করে। অথচ সেখানে কি না ইউনিয়নের নামকরণ! এ কোন কলিকাল!
অবশ্য জানা যাচ্ছে যে, প্রতিমন্ত্রীর পরিবারের নামে এখনই ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে, আরও একটির প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী অবশ্য গত ১ জুন আধাসরকারি পত্রে এই ১০টি বাদে তাঁর বা পরিবারের নামে আর কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নামকরণ না করার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছেন। এ তাঁর একান্ত সদয় বিবেচনা বৈকি!
নামকরণ ও নাম বদলের সংস্কৃতি এ জাতির মজ্জাগত। রাজনৈতিক ক্ষমতা না থাকলে নামকরণ বাতিল বা পরিবর্তনের খড়গ কত গভীরভাবে হতে পারে তা আমরা অতীতে দেখেছি, চব্বিশের ৫ আগস্টের পর প্রথিতযশা ব্যক্তিদের নামে থাকা ভবনের নামও পর্যন্ত বদলে ফেলা হয়েছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। কিন্তু এই সংস্কৃতির একটা দফারফা হওয়া প্রয়োজন। রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ খরচ করে এত নামের নামতা পাঠ করার মতো বিলাসিতা এই দরিদ্র জনপদের নেই।
আপাতত না হয় থামল, কিন্তু শাহে আলম-কাণ্ডতেই কি থামবে একালের অমরত্বের লালসা? নাকি আরও নতুনভাবে নির্দেশ লেখা হবে— ‘দাঁড়াও, পথিক-বর’, ক্ষমতাসূত্রে এই ভূমি ও ভবনকে আমার নামে অমরত্ব প্রদান করা হয়েছে!

নামকরণের ইতিহাস নিয়ে খুব বেশি ঘাঁটাঘাঁটি করতে গেলে অনেক উজির-নাজির মারতে হবে। সেদিকে যেতে চাই না। কারণটা এই না যে, ভাসুরের নাম নেওয়া পাপ। কারণ এই যে, বর্তমানটা তাতে লঘু হয়ে যাওয়ার জোগাড় হয়। কিন্তু ইতিহাস যেহেতু বলছি, সেহেতু বলাবাহুল্য বটে, ঘটনার একটা পারম্পর্য তো আছেই। বাংলাদেশে নামকরণের ইতিহাস লম্বা। সেই লম্বা পথ ধরে বাংলাদেশে আরও একবার নামকরণের কদাকার রূপটি দেখল কয়েকদিন আগে। সে কথায় একটু পরেই আসছি।
বাংলা সাহিত্যের শক্তিশালী কবিদের অন্যতম একজন মাইকেল মধূসুদন দত্তের এপিটাফ বা সমাধিলিপিটা তাঁর নিজের লেখা। লিখেছিলেন: ‘দাঁড়াও, পথিক-বর, জন্ম যদি তব বঙ্গে! তিষ্ঠ ক্ষণকাল! এ সমাধিস্থলে’। কবি মাইকেলের অমরত্ব বাংলা ভাষা-সাহিত্যে এ কবিতার জন্য নয়। পাঠক মাত্রই জানেন, সে অমরত্বের হেতু। কিন্তু এ কবিতা হলো সেই অমরত্ব লাভহেতু জন্ম নেওয়া ডাকটিকিট। ফলে কারও অমরত্ব লাভের খোয়াব দেখে এপিটাফ লেখা আর কারও অমরত্ব নিশ্চিত হওয়ার পর এপিটাফ লেখার পার্থক্য বিস্তর। মাইকেল প্রথম ভাগের মানুষ নন, অনিবার্যভাবেই দ্বিতীয় ভাগের বটেন।
পৃথিবীতে একেকজন একেক কীর্তিতে অমরত্ব লাভ করেছেন। কেউ লেখে, কেউ খেলে, কেউ গেয়ে, কেউ এঁকে কেউ রাষ্ট্র পরিচালনা করে ইত্যাদি। তবে শিল্পীদের সঙ্গে রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের একটা মৌলিক পার্থক্য আছে। শিল্পীরা বড়জোর শিল্পের বদৌলতে পাঠক-দর্শক হৃদয়ে আসন পেয়ে অমরত্ব লাভ করেন এবং সেটা নির্ভর করে পাঠক-দর্শক কীভাবে সেই শিল্পকে গ্রহণ করেছে তার ওপর। পৃথিবীতে বহু রাজনীতিক আছেন, যাঁরা শুধু কৃতিত্বের গুণেই ‘রাজনৈতিক শিল্পী’ হিসেবে মানুষের মনে চিরস্থায়ী আসন পেয়ে গেছেন। বলাবাহুল্য, ওটাই প্রকৃত অমরত্ব।
তবে সম্প্রতি এই অমরত্ব লাভের আকাঙ্ক্ষায়, বলা ভালো লালসায়, এক অভূতপূর্ব ঘটনার জন্ম হয়েছে বাংলাদেশে। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী ও বগুড়া-২ আসনের সংসদ সদস্য মীর শাহ আলম নিজের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং ‘প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠবন্ধু’ পরিচয়ের ‘প্রভাব খাটিয়ে’ খোদ নিজের বংশ ও সন্তানদের নামে স্থানীয় প্রশাসনিক ইউনিটের নামকরণ করেছেন।
ঘটনাটা ছিল সামান্য এবং অবশ্যই প্রশংসনীয়৷ প্রশংসনীয় কারণ, বগুড়ার প্রাপ্য সিটি কর্পোরেশনের মর্যাদা অবশেষে বাস্তবায়িত হয়েছে। আর সামান্য, কারণ খুব স্বভাবতই সীমান পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজন ছিল৷ ফলে সিটি কর্পোরেশন ঘোষণার পাশাপাশিই বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলাকে ভেঙে জেলার অন্যতম বাণিজ্যকেন্দ্র মোকামতলাকে উপজেলায় উন্নীত করা হয় পাঁচটি ইউনিয়নের সমন্বয়ে৷ কিন্তু শুধু সদর ইউনিয়ন বাদে বাকি চারটি—মীরবাড়ী, সীমান্ত, দিগন্ত ও স্বর্ণগ্রাম—ইউনিয়নের নামকরণের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে এক এমন নির্ভেজাল পরিবারতন্ত্র, যা দেখে অতীতে যারা ‘পরিবারতন্ত্র জিন্দাবাদ’ করেছেন, তারাও লজ্জা পেয়ে যাবেন! ঠিক এ কারণেই সামান্য একটি ঘটনা টক অব দ্য টাউন হয়ে গেছে।
যখন এমন নামকরণ নিয়ে বিতর্ক উঠেছে, তখন সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছেন, ঘটনা কাকতালীয় মাত্র। মানে, ওই গল্প-সিনেমায় যা ঘটে আর কী! সব ঘটনাই কাল্পনিক, কিন্তু বাস্তবের সঙ্গে মিলে গেলে কাকতালীয়!
বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এই নামকরণ বাতিলের নির্দেশ প্রদান করে বগুড়া জেলা প্রশাসককে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ঘটনা এখানেই সমাপ্ত হলে ভালো। কিন্তু তবুও দুয়েকটা কথা প্রাসঙ্গিক কারণেই বলা প্রয়োজন।
দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনের যে আকাঙ্ক্ষা জনগণ করছে, তা মীর শাহে আলমের এমন কর্মকাণ্ডে প্রচণ্ড এক ধাক্কা খেল। সেই পুরোনো পরিবারতন্ত্র, সেই পুরোনো নামকরণের সংস্কৃতিতেই যেন ঘুরপাক খাওয়া বাংলাদেশের নিয়তি হয়ে গেছে। এদেশে তো পদত্যাগের সংস্কৃতিও নেই। অন্য কোনো দেশের রাজনীতিক হলে এমন চরম দায়িত্ব জ্ঞানহীন কর্মকাণ্ডের জন্য বিব্রত হয়ে মন্ত্রী নিজে থেকেই পদত্যাগ করতেন। থাক সেসব আশাবাদ।
হতাশার কথা হলো, স্ট্যাটাস কো’র চিন্তাভাবনার সংস্কৃতি কতটা নিম্নগামী হয়ে পড়েছে ভাবুন, একজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর অমরত্ব লাভের লালসা গিয়ে পড়েছে ইউনিয়নের নামকরণে! চলতি হাওয়ার পন্থী হলেও না হয় কথা ছিল—বিশ্ববিদ্যালয়, না হয় কলেজ বা মেডিকেল কলেজ, না হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের হল—এগুলো তো অমরত্বের নিশ্চয়তা আরও বেশি দেয়। ‘সম্মান’ও বৃদ্ধি করে। অথচ সেখানে কি না ইউনিয়নের নামকরণ! এ কোন কলিকাল!
অবশ্য জানা যাচ্ছে যে, প্রতিমন্ত্রীর পরিবারের নামে এখনই ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে, আরও একটির প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী অবশ্য গত ১ জুন আধাসরকারি পত্রে এই ১০টি বাদে তাঁর বা পরিবারের নামে আর কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নামকরণ না করার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছেন। এ তাঁর একান্ত সদয় বিবেচনা বৈকি!
নামকরণ ও নাম বদলের সংস্কৃতি এ জাতির মজ্জাগত। রাজনৈতিক ক্ষমতা না থাকলে নামকরণ বাতিল বা পরিবর্তনের খড়গ কত গভীরভাবে হতে পারে তা আমরা অতীতে দেখেছি, চব্বিশের ৫ আগস্টের পর প্রথিতযশা ব্যক্তিদের নামে থাকা ভবনের নামও পর্যন্ত বদলে ফেলা হয়েছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। কিন্তু এই সংস্কৃতির একটা দফারফা হওয়া প্রয়োজন। রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ খরচ করে এত নামের নামতা পাঠ করার মতো বিলাসিতা এই দরিদ্র জনপদের নেই।
আপাতত না হয় থামল, কিন্তু শাহে আলম-কাণ্ডতেই কি থামবে একালের অমরত্বের লালসা? নাকি আরও নতুনভাবে নির্দেশ লেখা হবে— ‘দাঁড়াও, পথিক-বর’, ক্ষমতাসূত্রে এই ভূমি ও ভবনকে আমার নামে অমরত্ব প্রদান করা হয়েছে!
.png)

প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্ব এশিয়ার দুটি প্রধান অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দুকে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত সুচিন্তিত এবং দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করার একটি বাস্তবসম্মত প্রয়াস।
৩ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরের গন্তব্য মালয়েশিয়া, একটি বহুমাত্রিক তাৎপর্য বহন করে। এটি নিছক কূটনৈতিক সৌজন্য নয়; বরং নতুন সরকারের অগ্রাধিকার, আঞ্চলিক বাস্তবতা এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক প্রয়োজনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।
৬ ঘণ্টা আগে
মালয়েশিয়া ও জাপানের বাজারে আম রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টির খবর উৎসাহব্যঞ্জক। ঢাকা স্ট্রিমে এ বিষয়ে যে প্রতিবেদন এসেছে, তাতে রপ্তানিকারকদের সঙ্গে আমচাষীরাও খুশি হবেন। মালয়েশিয়ার বাজারে আম রপ্তানির সম্ভাবনা নাকি বেশি জোরালো।
২১ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশে সুনীল অর্থনীতি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হলেও এর ভিত্তি হলো নির্ভরযোগ্য সমুদ্র-উপাত্ত। মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা, অফশোর জ্বালানি অনুসন্ধান, সাবমেরিন কেবল স্থাপন, সামুদ্রিক গবেষণা এবং ভবিষ্যৎ গভীর সমুদ্র সম্পদ উন্নয়নের জন্য উচ্চমানের হাইড্রোগ্রাফিক তথ্য অপরিহার্য।
১ দিন আগে