স্ট্রিম সম্পাদকীয়

ডেঙ্গু এখন বছরজুড়ে তাড়া করা জনস্বাস্থ্য সংকট। প্রতি বর্ষায় একই শঙ্কা ফিরে আসে। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিজেই জানিয়েছেন, জুলাই-আগস্টে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়তে পারে। প্রশ্ন থেকে যায়—যে শঙ্কা মন্ত্রী নিজেই প্রকাশ করেছেন, তা মোকাবিলায় মাঠপর্যায়ে প্রস্তুতি কতটা?
ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথা বারবার বলা হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন সামান্যই। ২০২৩ সাল ছিল বাংলাদেশের ডেঙ্গু ইতিহাসে সবচেয়ে বিভীষিকাময়। সে বছর ৩ লাখ ২১ হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছিলেন; প্রাণ হারিয়েছিলেন ১ হাজার ৭০৫, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ২০২৪ সালে আক্রান্ত কিছুটা কমলেও পাঁচ শতাধিক মৃত্যু হয়েছিল। ২০২৫ সালেও পরিস্থিতি পুরো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এটা বলে, ডেঙ্গু আর কোনো আকস্মিক দুর্যোগ নয়— এটি কাঠামোগত ব্যর্থতার ফল।
চলতি বছরের চিত্রও উদ্বেগজনক। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে জুনের শেষ নাগাদ আক্রান্ত প্রায় ছয় হাজারে পৌঁছেছে, মৃত্যু অন্তত আঠারো জনের। রোগ ছড়িয়ে পড়েছে ৫৮টি জেলায়: ঢাকার বাইরে বরিশাল বিভাগে সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। বর্ষার পূর্ণ মৌসুম শুরুর আগে সংক্রমণ-রেখা ঊর্ধ্বমুখী। প্রবণতাটি অব্যাহত থাকলে আগস্ট নাগাদ পরিস্থিতি ২০২৩ সালের দিকে গড়ানোর শঙ্কা রয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হাসপাতাল প্রস্তুতির ইতিবাচক কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এনএসওয়ান পরীক্ষার কিট উপজেলায় পাঠানো হয়েছে, স্যালাইনের মজুত বেড়েছে, বেসরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে শয্যা বরাদ্দের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ডেঙ্গু মূলত প্রতিরোধযোগ্য আর এর প্রধান দায়িত্ব বর্তায় স্থানীয় সরকারের ওপর। সেখানেই ঘাটতি প্রকট। মশকনিধন কার্যক্রম মৌসুমি বিজ্ঞপ্তি আর স্প্রে-অভিযানে সীমাবদ্ধ। নালা-নর্দমা; নির্মাণাধীন ভবন, পরিত্যক্ত টায়ার কিংবা ছাদের টবে জমে থাকা পানি— এডিস মশার চিরচেনা এই প্রজননস্থলগুলো অপরিবর্তিত থেকে যাচ্ছে। জনবল ও যন্ত্রপাতির ঘাটতি, ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন আর জবাবদিহির অভাব—এই তিনে মিলে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার প্রস্তুতি দুর্বল করে রেখেছে।
অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতা থেকেও শেখার আছে। সিঙ্গাপুর ওলবাকিয়া ব্যাকটেরিয়াবাহিত মশা অবমুক্ত করেছে, যা এডিস মশার প্রজননক্ষমতা কমিয়ে সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে নামিয়ে এনেছে। শ্রীলঙ্কা গড়ে তুলেছে কমিউনিটিভিত্তিক নজরদারি, যেখানে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা নিয়মিত বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রজননস্থল শনাক্ত করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেন। ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড আবার গুরুত্ব দিয়েছে তথ্যনির্ভর পূর্বাভাস মডেলে—আবহাওয়া, বৃষ্টিপাত ও জনঘনত্বের উপাত্ত বিশ্লেষণ করে হটস্পট চিহ্নিত করে মশা নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়ায়।
বাংলাদেশেও এসব মডেল অনুসরণের সুযোগ হয়তো আছে। প্রয়োজন রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের। প্রথমত, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলোর কার্যক্রমকে বছরজুড়ে চলা কাঠামোবদ্ধ কর্মসূচিতে রূপ দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিউনিটি স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করে ঘরে ঘরে প্রজননস্থল জরিপের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। তৃতীয়ত, রোগ-উপাত্ত আর বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস একত্র করে একটি পূর্ব-সতর্কীকরণ মডেল গড়া যায়, যা হটস্পট চিহ্নিতকরণে সহায়ক।
এই সংকটের আর্থিক দিকও আছে। রোগীর চিকিৎসা ব্যয়, কর্মদিবসের ক্ষতি আর পরিবারের ওপর মানসিক চাপ মিলিয়ে যে সামষ্টিক খরচ, তা জাতীয় অর্থনীতির জন্যও বোঝা। বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যয় সিংহভাগের সাধ্যের বাইরে। সরকার বেসরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে শয্যা ও পরীক্ষায় ছাড়ের নির্দেশনা দিলেও এটি কতটা বাস্তবায়ন হচ্ছে, কে জানে!
নাগরিক সচেতনতা ছাড়া কোনো কর্মসূচিই সফল হয় না। নিজ আঙিনা, ছাদ কিংবা এসির পানি পরিষ্কারের দায়িত্ব প্রতিটি পরিবারকে নিতে হবে। তবে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা জরুরি হলেও রোগী যেন হাসপাতাল পর্যন্ত পৌঁছানোরই প্রয়োজন না পড়ে। এ কারণে চিকিৎসাব্যবস্থায় যে চাপ তৈরি হয়, তাতে প্রতিবারই মূল্য দিতে হয় জীবন দিয়ে। ২০২৩ সালে ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া ১,৭০৫ জনের অনেককেই বাঁচানো যেত নিশ্চয়ই। এর পুনরাবৃত্তি রোধে এখনই দরকার পরিকল্পিত ও জবাবদিহিমূলক পদক্ষেপ— কথায় নয়, মাঠের বাস্তবতায়।

ডেঙ্গু এখন বছরজুড়ে তাড়া করা জনস্বাস্থ্য সংকট। প্রতি বর্ষায় একই শঙ্কা ফিরে আসে। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিজেই জানিয়েছেন, জুলাই-আগস্টে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়তে পারে। প্রশ্ন থেকে যায়—যে শঙ্কা মন্ত্রী নিজেই প্রকাশ করেছেন, তা মোকাবিলায় মাঠপর্যায়ে প্রস্তুতি কতটা?
ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথা বারবার বলা হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন সামান্যই। ২০২৩ সাল ছিল বাংলাদেশের ডেঙ্গু ইতিহাসে সবচেয়ে বিভীষিকাময়। সে বছর ৩ লাখ ২১ হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছিলেন; প্রাণ হারিয়েছিলেন ১ হাজার ৭০৫, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ২০২৪ সালে আক্রান্ত কিছুটা কমলেও পাঁচ শতাধিক মৃত্যু হয়েছিল। ২০২৫ সালেও পরিস্থিতি পুরো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এটা বলে, ডেঙ্গু আর কোনো আকস্মিক দুর্যোগ নয়— এটি কাঠামোগত ব্যর্থতার ফল।
চলতি বছরের চিত্রও উদ্বেগজনক। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে জুনের শেষ নাগাদ আক্রান্ত প্রায় ছয় হাজারে পৌঁছেছে, মৃত্যু অন্তত আঠারো জনের। রোগ ছড়িয়ে পড়েছে ৫৮টি জেলায়: ঢাকার বাইরে বরিশাল বিভাগে সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। বর্ষার পূর্ণ মৌসুম শুরুর আগে সংক্রমণ-রেখা ঊর্ধ্বমুখী। প্রবণতাটি অব্যাহত থাকলে আগস্ট নাগাদ পরিস্থিতি ২০২৩ সালের দিকে গড়ানোর শঙ্কা রয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হাসপাতাল প্রস্তুতির ইতিবাচক কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এনএসওয়ান পরীক্ষার কিট উপজেলায় পাঠানো হয়েছে, স্যালাইনের মজুত বেড়েছে, বেসরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে শয্যা বরাদ্দের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ডেঙ্গু মূলত প্রতিরোধযোগ্য আর এর প্রধান দায়িত্ব বর্তায় স্থানীয় সরকারের ওপর। সেখানেই ঘাটতি প্রকট। মশকনিধন কার্যক্রম মৌসুমি বিজ্ঞপ্তি আর স্প্রে-অভিযানে সীমাবদ্ধ। নালা-নর্দমা; নির্মাণাধীন ভবন, পরিত্যক্ত টায়ার কিংবা ছাদের টবে জমে থাকা পানি— এডিস মশার চিরচেনা এই প্রজননস্থলগুলো অপরিবর্তিত থেকে যাচ্ছে। জনবল ও যন্ত্রপাতির ঘাটতি, ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন আর জবাবদিহির অভাব—এই তিনে মিলে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার প্রস্তুতি দুর্বল করে রেখেছে।
অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতা থেকেও শেখার আছে। সিঙ্গাপুর ওলবাকিয়া ব্যাকটেরিয়াবাহিত মশা অবমুক্ত করেছে, যা এডিস মশার প্রজননক্ষমতা কমিয়ে সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে নামিয়ে এনেছে। শ্রীলঙ্কা গড়ে তুলেছে কমিউনিটিভিত্তিক নজরদারি, যেখানে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা নিয়মিত বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রজননস্থল শনাক্ত করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেন। ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড আবার গুরুত্ব দিয়েছে তথ্যনির্ভর পূর্বাভাস মডেলে—আবহাওয়া, বৃষ্টিপাত ও জনঘনত্বের উপাত্ত বিশ্লেষণ করে হটস্পট চিহ্নিত করে মশা নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়ায়।
বাংলাদেশেও এসব মডেল অনুসরণের সুযোগ হয়তো আছে। প্রয়োজন রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের। প্রথমত, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলোর কার্যক্রমকে বছরজুড়ে চলা কাঠামোবদ্ধ কর্মসূচিতে রূপ দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিউনিটি স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করে ঘরে ঘরে প্রজননস্থল জরিপের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। তৃতীয়ত, রোগ-উপাত্ত আর বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস একত্র করে একটি পূর্ব-সতর্কীকরণ মডেল গড়া যায়, যা হটস্পট চিহ্নিতকরণে সহায়ক।
এই সংকটের আর্থিক দিকও আছে। রোগীর চিকিৎসা ব্যয়, কর্মদিবসের ক্ষতি আর পরিবারের ওপর মানসিক চাপ মিলিয়ে যে সামষ্টিক খরচ, তা জাতীয় অর্থনীতির জন্যও বোঝা। বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যয় সিংহভাগের সাধ্যের বাইরে। সরকার বেসরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে শয্যা ও পরীক্ষায় ছাড়ের নির্দেশনা দিলেও এটি কতটা বাস্তবায়ন হচ্ছে, কে জানে!
নাগরিক সচেতনতা ছাড়া কোনো কর্মসূচিই সফল হয় না। নিজ আঙিনা, ছাদ কিংবা এসির পানি পরিষ্কারের দায়িত্ব প্রতিটি পরিবারকে নিতে হবে। তবে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা জরুরি হলেও রোগী যেন হাসপাতাল পর্যন্ত পৌঁছানোরই প্রয়োজন না পড়ে। এ কারণে চিকিৎসাব্যবস্থায় যে চাপ তৈরি হয়, তাতে প্রতিবারই মূল্য দিতে হয় জীবন দিয়ে। ২০২৩ সালে ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া ১,৭০৫ জনের অনেককেই বাঁচানো যেত নিশ্চয়ই। এর পুনরাবৃত্তি রোধে এখনই দরকার পরিকল্পিত ও জবাবদিহিমূলক পদক্ষেপ— কথায় নয়, মাঠের বাস্তবতায়।
.png)

কিছু মানুষ পৃথিবীতে আসেন ক্ষণিকের জন্য, কিন্তু চিরতরে নিভে যাওয়ার আগ মুহূর্তে তারা হয়ে ওঠেন অন্যের জীবনের অনন্ত আলোকবর্তিকা। মৃত্যু তাদের নিশ্চিহ্ন করতে পারে না। এমনই এক নির্লোভ ও মহীয়সী নারী ছিলেন মাহেরীন চৌধুরী। পেশায় ছিলেন শিক্ষিক, কিন্তু মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে প্রমাণ করে গেছেন—তিনি কেবল শ্রেণি
৩ ঘণ্টা আগে
ভারতীয় প্রকৌশলী ও শিক্ষাবিদ সোনাম ওয়াংচুককে জোর করে আদালতের নির্দেশের দোহাই দিয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার পরে দিল্লি পুলিশ ভেবেছিল, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলনটি হয়ত থেমে যাবে। কিন্তু দেখা গেল, উল্টো এই আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে গেল।
১৬ ঘণ্টা আগে
অতি সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতার অভাবকে ইঙ্গিত করে শিক্ষামন্ত্রীর দেওয়া “ফার্মের মুরগী” সংক্রান্ত রূপক এবং পরবর্তীতে জাতীয় সংসদে দেওয়া তাঁর বক্তব্য ও দুঃখ প্রকাশ রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে এক বিতর্কের অবতারণা করেছে।
১৭ ঘণ্টা আগে
পর্দা নামল ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর ষোলোটি শহরে এক মাস ধরে চলা এই মহাযজ্ঞ এখন স্মৃতি। বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের মতো বাংলাদেশের মানুষও ছিল এই আনন্দের অংশীদার।
১৭ ঘণ্টা আগে