জোরালো হচ্ছে দক্ষতার সঙ্গে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার দাবি

প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০২৬, ২২: ৫৭
সম্পাদকীয় প্রতীকী ছবি। স্ট্রিম গ্রাফিক

সরকারের ছয় মাস তার কাজ মূল্যায়নের যথেষ্ট সময় নয়। তবে নজিরবিহীন গণঅভ্যুত্থানের পর নির্বাচিত হয়ে আসা একটি সরকারের এক-দশমাংশ সময় সামান্যও নয়। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকার দেড় বছরের মতো সময় দেশ পরিচালনা করেছে। সাড়ে ১৫ বছরের আওয়ামী অপশাসনের পর তাদের কাজের ভালো-মন্দেও পরিস্থিতি বিশেষ রূপ নেয়। ছয় মাসে সেখান থেকে উত্তরণের দিকে যাওয়া কঠিন বৈকি। তবে এর মধ্যেও জনগণ মূল্যায়ন করবে, সেই লক্ষ্য অর্জনে সরকারের সদিচ্ছা কতখানি ছিল। চ্যালেঞ্জ বেশি বলে সেটা মোকাবিলায় সরকারের প্রত্যয়ে দৃঢ়তাও দেখতে চাইবে মানুষ।

গণতান্ত্রিক নির্বাচন একটি সরকারের রাজনৈতিক ও আইনগত বৈধতা জোগায়, যেটা তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের শতভাগ রয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও শুরু থেকে সরকারটিকে সেভাবেই নিয়েছে। সম্পর্ক উন্নয়নের প্রক্রিয়াও চলমান। রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারও আন্তর্জাতিক সমর্থন কম পায়নি। নির্বাচিত সরকারের আমলে সেটার আরও সম্প্রসারণই স্বাভাবিক। অন্তর্বর্তী শাসনামলে প্রতিবেশি ভারতের সঙ্গে জটিলতায় নিক্ষিপ্ত সম্পর্ক উন্নয়নের প্রক্রিয়াও সূচিত হয়েছে। পররাষ্ট্রনীতিতে বর্তমান সরকারের স্লোগান ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। আমরা আশা করব, সামনের দিনগুলোয় এর প্রয়োগ আরও বলিষ্ঠভাবে ঘটানো হবে। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারসাম্য রাখাটাও গুরুত্বপূর্ণ।

সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় থেকে ১০০ দিনের ‘হানিমুন পিরিয়ড’ও পায়নি, এটা অনস্বীকার্য। বর্ধিত মাত্রায় আবির্ভূত কিছু সমস্যা আগে থেকে অনুমান করাও বোধকরি সম্ভবপর ছিল না। অচেনা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা যে কত কঠিন, সেটা বোঝা যাচ্ছে চলমান জ্বালানি সংকটে। ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি তেলের পর গ্যাস এবং গ্যাস থেকে সৃষ্ট বিদ্যুৎ সংকট এতটা তীব্র হয়ে উঠবে, তা সম্ভবত কারোরই জানা ছিল না। সামাজিক সুরক্ষায় নতুন কিছু কর্মসূচি যুক্ত করে সরকার জনজীবনে স্বস্তি জোগানোর যে প্রয়াস নিয়েছিল, সেটাও ক্ষয়ে যাওয়ার উপক্রম মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতিতে। সরকার শুরু থেকে কর্মসংস্থানে জোর দিলেও বেড়ে ওঠা জ্বালানি সংকটে শিল্প ও সেবা খাত ঝিমিয়ে পড়ায় মূল্যস্ফীতির প্রভাবও যেন বেশি করে অনুভূত হচ্ছে। ১৮ মাসের মধ্যে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির নীতিগত প্রতিশ্রুতি ছিল বিএনপির। দীর্ঘদিন ধরে কর্মসংস্থানহীন প্রবৃদ্ধি এবং অন্তর্বর্তী শাসনামলে নতুন করে কর্মহীনতা বাড়ায় ওই প্রতিশ্রুতি ছিল রাজনৈতিক সদিচ্ছারই প্রকাশ। তবে মনে হয়, এ ধরনের লক্ষ্য অর্জনের পথে বিদ্যমান আর সম্ভাব্য জটিলতাগুলো যথেষ্ট বিচার করে দেখা হয়নি। ক্ষমতাপ্রত্যাশী যে কোনো রাজনৈতিক দলেরই এ ক্ষেত্রে গবেষণাকর্মে উৎসাহ প্রয়োজন।

নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকারকে নিয়মিত কাজগুলো দক্ষভাবে সম্পাদন এবং ‘মাইলফলক পদক্ষেপ’ গ্রহণের মাধ্যমে নিজ চারিত্র্য-বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট করে জনমনে জাগিয়ে তুলতে হয় আস্থা। অনির্বাচিত অন্তর্বর্তী সরকারের কাছেও মানুষ আশা করেছিল দক্ষতার সঙ্গে সরকার পরিচালনা। নির্বাচিত সরকারের কাছে তার প্রত্যাশা আরও অনেক বেশি। জনগণ আশা করে, সরকার স্বচ্ছতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও দক্ষভাবে তা বাস্তবায়ন করবে। কোনো ক্ষেত্রে ব্যর্থ হলে সেটা অক্লেশে স্বীকার এবং ব্যর্থতা অতিক্রমের প্রয়াস নেবে। এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতা শুরু থেকে দৃশ্যমান হলেও গোটা সরকারের কাজে সেটা কতখানি প্রকাশ পাচ্ছে, সেই প্রশ্ন রয়েছে। পারফরম্যান্স বিচার করে মন্ত্রিসভায় কিছু রদবদল আসন্ন বলে খবর মিলছে অবশ্য। জ্বালানি নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা ও মূল্যস্ফীতি মোকাবিলা এখনকার বড় অগ্রাধিকার। এতে আবার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ভেতর দিয়ে আসা রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নটি যেন চাপা পড়ে না যায়। সংস্কার হলে সুষ্ঠুভাবে দেশ পরিচালনায় সরকারের সামর্থ্য বাড়বে বলেই আমাদের অনুমান।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত

জোরালো হচ্ছে দক্ষতার সঙ্গে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার দাবি