স্ট্রিম সম্পাদকীয়
অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা বড় করার দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই অন্তর্বর্তী সরকার এতে আরো বেশ কিছু ওষুধ সংযোজন করেছিল। প্রস্তুতকারীরা ভালোভাবে না নিলেও ওষুধ সেবনকারী বিরাট জনগোষ্ঠীর জন্য পদক্ষেপটি ছিল ইতিবাচক। অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা বড় হলে নির্দিষ্ট দামে বেশি ওষুধ কিনতে পারার নিশ্চয়তায় আশ্বস্ত থাকে মানুষ। তাদের অনেককে তো নিয়মিত ওষুধ সেবন করতে হয়। এটা কর্মক্ষম থাকার জন্যও জরুরি। এ অবস্থায় অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা আগের জায়গায় চলে যাওয়ার যে খবর মিলেছে, তাতে স্বভাবতই তৈরি হয়েছে হতাশা।
অন্তর্বর্তী সরকারের পদক্ষেপ বাতিলের বিষয়ে ব্যাখ্যা অবশ্য পাওয়া গেছে। এর বিরুদ্ধে আদালতে রিটও নাকি রয়েছে। সরকার তালিকাটি হালনাগাদ করবে বলেও জানানো হয়েছে। জনগণের ওপর যাতে বাড়তি চাপ না পড়ে এবং ওষুধের বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা বজায় থাকে– বলা হয়েছে সেটা নিশ্চিত করার কথাও। সরকারি ভাষ্য অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকার নিয়ম না মেনে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা বাড়িয়েছিল। এখন বিএনপি সরকারের উচিত হবে কোনো প্রক্রিয়াগত জটিলতা না রেখে তালিকাটি দ্রুতই পরিবর্তিত সময়ের উপযোগী করা। সরকারের সিদ্ধান্তে যে তালিকায় আমরা ফিরে এলাম, সেটা ১৯৯৪ সালে প্রণীত। এর মধ্যে কয়েকটি সরকার আসা-যাওয়া করলেও তালিকা হালনাগাদ হয়নি। ওষুধ প্রস্তুতকারকদের চাপেই কাজটা হয়নি বলে ধরে নিতে হবে।
ইতোমধ্যে বাজারে ওষুধের সংখ্যা কয়েকগুণ হয়েছে। প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও। ওষুধে আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণই বলা যায়। রপ্তানিও হচ্ছে। এ সমস্ত কিছুর মধ্যে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকাটি ১৯৯৪ সালে থেকে যাওয়াটা ছিল বেদনাদায়ক। অন্তর্বর্তী সরকার যথেষ্ট শর্ত পূরণ না করলেও তালিকাভুক্ত ওষুধ দ্বিগুণেরও বেশি করার যে পদক্ষেপ নিয়েছিল, তাতে সদিচ্ছা ছিল বৈকি। সেটা নির্বাচিত সরকারের মধ্যে আরও বেশি করে দেখতে চাইবে মানুষ। অত্যাবশ্যকীয় তালিকায় থাকা বেশ কিছু ওষুধ নিয়মিত সেবনকারীরাও কিনে থাকে। শিশু ও প্রবীণদের মাঝে মাঝেই প্রয়োজন হয়, এমন কিছু ওষুধও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। সব বয়সী মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় লাগে– নির্দিষ্ট দামে এমন সব ওষুধ যত বেশি জোগানো যায়, ততই মঙ্গল। চিকিৎসা গ্রহণের বেলায় ওষুধ কিনতেই সিংহভাগ অর্থ ব্যয় হয় মানুষের। আর এ ক্ষেত্রে ‘পকেট থেকে ব্যয়’ অব্যাহতভাবে বাড়ার ঘটনাকে কোনোভাবেই ইতিবাচক বলা যাবে না। এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশ এ ক্ষেত্রে অপেক্ষাকৃত ভালো অবস্থানে আছে বলেই জানা যায়।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে একাধিকবার ওষুধের দাম বৃদ্ধি বড় খবর হয়েছিল। প্রস্তুতকারকরা নিজেরা সিদ্ধান্ত নিয়ে দাম বাড়িয়ে দেয় বলেও অভিযোগ ওঠে তখন। আইনত ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সম্মতি ছাড়া কোনো ওষুধের দাম বাড়ানোর সুযোগ নেই। আর অত্যাবশ্যকীয় বলে তালিকাভুক্ত ওষুধের বেলায় তো সরকারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তালিকাভুক্ত কিছু ওষুধের দামও মাঝে বাড়ানো হয় এই যুক্তিতে যে, দীর্ঘদিন সেগুলোর দাম না বাড়লেও উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে। ওষুধের কাঁচামালের দাম মাঝে বেড়েছিল বটে। বিশ্ববাজারে পরে সেটা কমে আসার খবরও মিলেছিল। ওষুধ শিল্পে গ্যাসের দাম বৃদ্ধিসহ কিছু সমস্যার কথা অনস্বীকার্য। কারা কী উপকরণ ব্যবহার করছে, সে প্রশ্নও রয়েছে। দেশে ওষুধের কাঁচামাল উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগটিও আছে ঝুলে। এ অবস্থায় অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ছোট হওয়া সংক্রান্ত খবর হতাশার সৃষ্টি করলেও আমরা আশা করব, সরকার দ্রুত এর গ্রহণযোগ্য নিষ্পত্তি করবে। তালিকার বাইরে যে বিপুলসংখ্যক ওষুধ রয়েছে; সেগুলোর প্রয়োজনীয়তা, মান আর দামের দিকেও দৃষ্টি দিতে হবে– জনস্বার্থ মাথায় রেখে।
অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা বড় করার দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই অন্তর্বর্তী সরকার এতে আরো বেশ কিছু ওষুধ সংযোজন করেছিল। প্রস্তুতকারীরা ভালোভাবে না নিলেও ওষুধ সেবনকারী বিরাট জনগোষ্ঠীর জন্য পদক্ষেপটি ছিল ইতিবাচক। অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা বড় হলে নির্দিষ্ট দামে বেশি ওষুধ কিনতে পারার নিশ্চয়তায় আশ্বস্ত থাকে মানুষ। তাদের অনেককে তো নিয়মিত ওষুধ সেবন করতে হয়। এটা কর্মক্ষম থাকার জন্যও জরুরি। এ অবস্থায় অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা আগের জায়গায় চলে যাওয়ার যে খবর মিলেছে, তাতে স্বভাবতই তৈরি হয়েছে হতাশা।
অন্তর্বর্তী সরকারের পদক্ষেপ বাতিলের বিষয়ে ব্যাখ্যা অবশ্য পাওয়া গেছে। এর বিরুদ্ধে আদালতে রিটও নাকি রয়েছে। সরকার তালিকাটি হালনাগাদ করবে বলেও জানানো হয়েছে। জনগণের ওপর যাতে বাড়তি চাপ না পড়ে এবং ওষুধের বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা বজায় থাকে– বলা হয়েছে সেটা নিশ্চিত করার কথাও। সরকারি ভাষ্য অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকার নিয়ম না মেনে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা বাড়িয়েছিল। এখন বিএনপি সরকারের উচিত হবে কোনো প্রক্রিয়াগত জটিলতা না রেখে তালিকাটি দ্রুতই পরিবর্তিত সময়ের উপযোগী করা। সরকারের সিদ্ধান্তে যে তালিকায় আমরা ফিরে এলাম, সেটা ১৯৯৪ সালে প্রণীত। এর মধ্যে কয়েকটি সরকার আসা-যাওয়া করলেও তালিকা হালনাগাদ হয়নি। ওষুধ প্রস্তুতকারকদের চাপেই কাজটা হয়নি বলে ধরে নিতে হবে।
ইতোমধ্যে বাজারে ওষুধের সংখ্যা কয়েকগুণ হয়েছে। প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও। ওষুধে আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণই বলা যায়। রপ্তানিও হচ্ছে। এ সমস্ত কিছুর মধ্যে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকাটি ১৯৯৪ সালে থেকে যাওয়াটা ছিল বেদনাদায়ক। অন্তর্বর্তী সরকার যথেষ্ট শর্ত পূরণ না করলেও তালিকাভুক্ত ওষুধ দ্বিগুণেরও বেশি করার যে পদক্ষেপ নিয়েছিল, তাতে সদিচ্ছা ছিল বৈকি। সেটা নির্বাচিত সরকারের মধ্যে আরও বেশি করে দেখতে চাইবে মানুষ। অত্যাবশ্যকীয় তালিকায় থাকা বেশ কিছু ওষুধ নিয়মিত সেবনকারীরাও কিনে থাকে। শিশু ও প্রবীণদের মাঝে মাঝেই প্রয়োজন হয়, এমন কিছু ওষুধও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। সব বয়সী মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় লাগে– নির্দিষ্ট দামে এমন সব ওষুধ যত বেশি জোগানো যায়, ততই মঙ্গল। চিকিৎসা গ্রহণের বেলায় ওষুধ কিনতেই সিংহভাগ অর্থ ব্যয় হয় মানুষের। আর এ ক্ষেত্রে ‘পকেট থেকে ব্যয়’ অব্যাহতভাবে বাড়ার ঘটনাকে কোনোভাবেই ইতিবাচক বলা যাবে না। এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশ এ ক্ষেত্রে অপেক্ষাকৃত ভালো অবস্থানে আছে বলেই জানা যায়।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে একাধিকবার ওষুধের দাম বৃদ্ধি বড় খবর হয়েছিল। প্রস্তুতকারকরা নিজেরা সিদ্ধান্ত নিয়ে দাম বাড়িয়ে দেয় বলেও অভিযোগ ওঠে তখন। আইনত ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সম্মতি ছাড়া কোনো ওষুধের দাম বাড়ানোর সুযোগ নেই। আর অত্যাবশ্যকীয় বলে তালিকাভুক্ত ওষুধের বেলায় তো সরকারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তালিকাভুক্ত কিছু ওষুধের দামও মাঝে বাড়ানো হয় এই যুক্তিতে যে, দীর্ঘদিন সেগুলোর দাম না বাড়লেও উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে। ওষুধের কাঁচামালের দাম মাঝে বেড়েছিল বটে। বিশ্ববাজারে পরে সেটা কমে আসার খবরও মিলেছিল। ওষুধ শিল্পে গ্যাসের দাম বৃদ্ধিসহ কিছু সমস্যার কথা অনস্বীকার্য। কারা কী উপকরণ ব্যবহার করছে, সে প্রশ্নও রয়েছে। দেশে ওষুধের কাঁচামাল উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগটিও আছে ঝুলে। এ অবস্থায় অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ছোট হওয়া সংক্রান্ত খবর হতাশার সৃষ্টি করলেও আমরা আশা করব, সরকার দ্রুত এর গ্রহণযোগ্য নিষ্পত্তি করবে। তালিকার বাইরে যে বিপুলসংখ্যক ওষুধ রয়েছে; সেগুলোর প্রয়োজনীয়তা, মান আর দামের দিকেও দৃষ্টি দিতে হবে– জনস্বার্থ মাথায় রেখে।
.png)

সংবিধান একটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন। কিন্তু সংবিধানকে কেবল একটি আইনি দলিল হিসেবে দেখলে তার প্রকৃত তাৎপর্য অনুধাবন করা যায় না। এটি রাষ্ট্রের রাজনৈতিক দর্শন, ক্ষমতার বণ্টন, নাগরিকের অধিকার এবং রাষ্ট্র-নাগরিক সম্পর্কের মৌলিক ভিত্তি নির্ধারণ করে।
৬ ঘণ্টা আগে
হাসিনার পলায়নের দুই বছর পূর্তি হলো ৫ আগস্ট ২০২৬-এ। ২০২৪-এর জুলাইয়ে ছিল ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ। এর পরের জুলাইগুলো নানান কারণে কিছুটা বিবর্ণ হয়েছে। ঐক্যবদ্ধ রূপ আক্ষরিক অর্থে দেখা না গেলেও ফ্যাসিস্টের প্রশ্নে সবাই এক সূত্রে গাঁথা।
৭ ঘণ্টা আগে
দুই বছর আগে ৫ আগস্ট ক্ষমতা থেকে ন্যাক্কারজনকভাবে বিদায় নিতে হয়েছিল শেখ হাসিনাকে। সেই দিনটিকে সামনে রেখে নয়াদিল্লিতে তিনি আয়োজন করেছিলেন ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলন। এতে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে নতুন করে অস্বস্তি যুক্ত হয়েছে।
৯ ঘণ্টা আগে‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে, যার উদ্দেশ্য বিতর্কিত র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বা র্যাবকে নতুন নাম ও কাঠামোয় পুনর্গঠন। এর আগে বাহিনীটির নাম বদলে ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’ রাখার কথা শোনা গিয়েছিল।
০৭ আগস্ট ২০২৬