রাষ্ট্রপতি পদে সর্বজনশ্রদ্ধেয় ব্যক্তি

প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০২৬, ২৩: ০৯
সম্পাদকীয় প্রতীকী ছবি। স্ট্রিম গ্রাফিক
সম্পাদকীয় প্রতীকী ছবি। স্ট্রিম গ্রাফিক

নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে আমরা রাষ্ট্রপতি হিসেবে পেতে যাচ্ছি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে। জাতীয় সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ আসন নিয়ে সরকার গঠনকারী বিএনপি থেকে মনোনয়ন লাভের পর তাঁর রাষ্ট্রপতি হওয়াটা অবশ্য ছিল সময়ের ব্যাপার। সেই পর্ব অতিক্রান্ত হয়েছে। অচিরেই বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে শপথ নেবেন তিনি।

বিএনপির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জড়িত মির্জা ফখরুল দুঃসময়ে দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকে যে ভূমিকা রেখেছেন, সেই কারণেও তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। দল-মত নির্বিশেষে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য মানুষ বলেও তিনি বিবেচিত। ছাত্র রাজনীতিতে থাকাবস্থায় ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণের গৌরব ছিল তাঁর। অর্থশাস্ত্রের ছাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করলেও শেষতক রাজনৈতিক জীবনই বেছে নেন। স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত প্রতিনিধি থেকে তিনি এক পর্যায়ে হন জাতীয় সংসদ সদস্য। মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবেও কাজ করেন বেগম খালেদা জিয়ার দ্বিতীয় শাসনামলে। তবে তাঁকে সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে স্বৈরশাসনবিরোধী আন্দোলনে। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে আপসহীন ভাবমূর্তি অর্জনকারী বেগম জিয়ার পাশে থেকে কাজ শুরু করে তিনি সেই অভিজ্ঞতারই যেন প্রয়োগ ঘটান— যখন তারেক রহমান জোরপূর্বক নির্বাসিত এবং বেগম জিয়া ষড়যন্ত্রমূলকভাবে কারান্তরীণ।

২০১৪ সালের একতরফা নির্বাচন থেকে স্বৈরতান্ত্রিকভাবে দেশ পরিচালনার যে ধারা ভয়ংকর হয়ে ওঠে, তার বিরুদ্ধে পরিচালিত সংগ্রামের অগ্রভাগে থেকে ধারাবাহিক জেল-জুলুমের শিকার হন মির্জা ফখরুল। বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেটারও স্বীকৃতি দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি পদে তাঁকে মনোনীত করে। দলের বাইরের বিভিন্ন মহল থেকেও মির্জা ফখরুলকেই মনে করা হচ্ছিল যোগ্যতম প্রার্থী।

দলীয়ভাবে মনোনীত হলেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি অবশ্য আর দলের কেউ নন। এখন তিনি সব দল-মতের মানুষের রাষ্ট্রপতি। একদা রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার ব্যবস্থা থাকাকালে রাষ্ট্রপতির যে ব্যাপক নির্বাহী ক্ষমতা ছিল, সেটা আর না থাকলেও রাষ্ট্রপতি পদটি গুরুত্বহীন নয়। মর্যাদার দিক থেকেও তিনি সবার উপরে। প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি তাঁর দ্বারাই নিয়োগ লাভ করে থাকেন। অন্যান্য কাজ অবশ্য তিনি করেন প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মতো বর্ণাঢ্য ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি হওয়ায় এ পদটিও হৃত গৌরব ফিরে পাবে বলে সবার ধারণা। পরমতসহিষ্ণু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্রের অধিকারী এই রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজনে পরামর্শও নিতে পারবেন। তাঁদের গভীর আন্তরিকতা ও আস্থাপূর্ণ সম্পর্ক এ ক্ষেত্রে সহায়ক হবে বলেই আমাদের ধারণা।

দেশের বড় যে কোনো সংকটে সংসদীয় ব্যবস্থায়ও রাষ্ট্রপতির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে দেখা গেছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রে উত্তরণের পর তেমন শংকা অবশ্য কম। তারপরও সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং সব দল-মতের মানুষের আস্থা অর্জনকারী একজন মানুষ রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকলে সেটা বাড়তি ভরসার কারণ হয় বৈকি। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও এ বিষয়ে যথেষ্ট অবহিত আর শ্রদ্ধাশীল বলে আমরা বিশ্বাস করি।

আগামী জাতীয় নির্বাচনের সময় সেটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা থাকবে বলেই সাব্যস্ত হয়েছে। তখন রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুলের ভূমিকা হয়ে উঠবে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। দেশ একটি নজিরবিহীন গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতিতেও রয়েছে। সংস্কারের ধারায় সামনে রয়েছে সুশাসন জোরদার আর গণতন্ত্রকে সমৃদ্ধ করার কাজ। এর আওতায় রাষ্ট্রপতির সীমিত ভূমিকাকে কিছুটা বিস্তৃত করার প্রশ্নও আলোচিত হচ্ছে। নতুন রাষ্ট্রপতি শপথ গ্রহণের পর সরকার ও বিরোধী দলের উচিত হবে এ প্রশ্নের গ্রহণযোগ্য নিষ্পত্তির পথে এগোনো। আমাদের লক্ষ্য হোক সুশাসন ও গণতন্ত্র জোরদারের পথে জনগণের অধিকার সুনিশ্চিত করা।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত

রাষ্ট্রপতি পদে সর্বজনশ্রদ্ধেয় ব্যক্তি