স্ট্রিম সম্পাদকীয়
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালনের সময় আমরা গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করি তাদের, যারা ৫ আগস্ট পর্যন্ত পরিচালিত সেই আন্দোলনে শহীদ হয়েছেন। ছাত্র-তরুণরা পুরোভাগে থাকলেও দেশের সর্বস্তরের মানুষ শামিল হয়েছিল গণঅভ্যুত্থানে। সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন শুরু হলেও সরকারের অপবাদ ও বেপরোয়া দমন-পীড়নের রাজনীতি সেটিকে ভিন্ন দিকে ঠেলে দেয়। বিশেষ করে রংপুরে পুলিশের গুলিতে আবু সাঈদের আত্মদানের ঘটনা ছাত্র-জনতাকে বেঁধে ফেলে এক সূত্রে। তারপরও কোনো কার্যকর সমঝোতার পথে না গিয়ে নির্বিচার হত্যাকাণ্ড চালিয়ে আন্দোলন দমনের চেষ্টা মানুষকে ঠেলে দেয় সরকার পতনের দিকে। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ভারতে গিয়ে আশ্রয় নেওয়ার দিনও পুলিশ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হাতে বহু মানুষ মারা যায়।
জুলাইয়ের মধ্যভাগ থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত পরিচালিত আন্দোলন দমনে সরকার যে নিষ্ঠুরতার পরিচয় দেয়, সাম্প্রতিক দুনিয়ায় তা বিরল। জাতিসংঘের প্রতিবেদনেও এর বিবরণ রয়েছে। সরকারও জুলাই শহীদদের যে তালিকা তৈরি করেছে, তাতে এ পর্যন্ত শহীদের সংখ্যা ৮৪৪। এর কয়েক গুণ আহতের অনেকে চোখ হারিয়েছে; অনেকেই হয়ে পড়েছে পঙ্গু। তাদের সুচিকিৎসার বিষয়ে কম অভিযোগ এ পর্যন্ত ওঠেনি। জুলাই হত্যাকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার কাজটিও সম্পন্ন হয়নি দুই বছরে।
নজিরবিহীন ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শাস্তি বিধানের কাজটি প্রত্যাশিত গতিতে এগোচ্ছে না দেখেও মানুষ কিছুটা হতাশ। তবে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করতে গিয়ে ন্যায়বিচারের দাবি অগ্রাহ্য করা যাবে না। এমন গুরুত্বপূর্ণ বিচারের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ যেন না থাকে। নিরপরাধ কেউ যেন সাজা ভোগ না করে, সেটাও নিশ্চিত করা চাই। হাসিনা সরকার পতনের পর চলতে থাকা অস্থিরতায় আওয়ামী লীগের নিরপরাধ কর্মী-সমর্থকসহ অনেকেই মবের শিকার হয়েছে। অর্থনীতিতেও এর বিরূপ প্রভাব পড়ে। অরাজনৈতিক অন্তর্বর্তী সরকার সেই পরিস্থিতি সামলাতে সফল হয়নি। কাজটি সহজও ছিল না। তাদের হাতে সূচিত রাষ্ট্র সংস্কার প্রক্রিয়াটিও প্রত্যাশিত রূপ পায়নি। তবে দেরিতে হলেও তারা সুষ্ঠুভাবে জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন করে বিদায় নিয়েছেন।
অনেক দেশেই গণঅভ্যুত্থান গণতন্ত্রে উত্তরণের বদলে পথ হারিয়ে অরাজকতায় নিমজ্জিত হয়। বাংলাদেশে সেটি ঘটেনি। মূলধারার একটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে প্রায় ছয় মাস দেশ পরিচালনা করছে। শুরুতেই তারা দেশের ভেতর ও বাইরে থেকে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লেও তা মোকাবিলায় সচেষ্ট। অন্তর্বর্তী সরকারের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্নের দায়িত্বও বর্তেছে তাদের ওপর। এর মধ্যে রয়েছে জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার ও সংস্কারের দাবি পূরণের প্রশ্ন। বিচার আইনসম্মত পথে এগোবে; তবে সংস্কার নিয়ে বিতর্ক রয়ে গেছে, যার গ্রহণযোগ্য নিষ্পত্তি কাম্য। সার্বভৌম জাতীয় সংসদেই এর মীমাংসা হওয়ার কথা।
হাসিনা সরকার পতনের সঙ্গে ‘ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা’ বিলোপেরও দাবি উঠেছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থান থেকে। ক্ষমতাসীন বিএনপিরও রয়েছে পূর্বঘোষিত সংস্কার কর্মসূচি। দুইয়ের লক্ষ্য মোটামুটি অভিন্ন। লক্ষ্য রাষ্ট্রকে গণতান্ত্রিক করা। এ ধরনের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা মুক্তিযুদ্ধেও স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর সেটি পূরণের পথে আমাদের এগোতে হবে, সন্দেহ নেই। গণতান্ত্রিক অধিকার, সরকারের জবাবদিহি, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন আর জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়, এমন বিধি-ব্যবস্থায় অবশ্যই যেতে হবে। জনপ্রতিনিধিত্বশীল শাসন কায়েমের পর ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংস্কারের এজেন্ডা বাস্তবায়নে এগোতে হবে আমাদের। তাতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সার্থকতা যেমন নিহিত; তেমনি এতে নিরাপদ ও সমৃদ্ধ হবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালনের সময় আমরা গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করি তাদের, যারা ৫ আগস্ট পর্যন্ত পরিচালিত সেই আন্দোলনে শহীদ হয়েছেন। ছাত্র-তরুণরা পুরোভাগে থাকলেও দেশের সর্বস্তরের মানুষ শামিল হয়েছিল গণঅভ্যুত্থানে। সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন শুরু হলেও সরকারের অপবাদ ও বেপরোয়া দমন-পীড়নের রাজনীতি সেটিকে ভিন্ন দিকে ঠেলে দেয়। বিশেষ করে রংপুরে পুলিশের গুলিতে আবু সাঈদের আত্মদানের ঘটনা ছাত্র-জনতাকে বেঁধে ফেলে এক সূত্রে। তারপরও কোনো কার্যকর সমঝোতার পথে না গিয়ে নির্বিচার হত্যাকাণ্ড চালিয়ে আন্দোলন দমনের চেষ্টা মানুষকে ঠেলে দেয় সরকার পতনের দিকে। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ভারতে গিয়ে আশ্রয় নেওয়ার দিনও পুলিশ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হাতে বহু মানুষ মারা যায়।
জুলাইয়ের মধ্যভাগ থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত পরিচালিত আন্দোলন দমনে সরকার যে নিষ্ঠুরতার পরিচয় দেয়, সাম্প্রতিক দুনিয়ায় তা বিরল। জাতিসংঘের প্রতিবেদনেও এর বিবরণ রয়েছে। সরকারও জুলাই শহীদদের যে তালিকা তৈরি করেছে, তাতে এ পর্যন্ত শহীদের সংখ্যা ৮৪৪। এর কয়েক গুণ আহতের অনেকে চোখ হারিয়েছে; অনেকেই হয়ে পড়েছে পঙ্গু। তাদের সুচিকিৎসার বিষয়ে কম অভিযোগ এ পর্যন্ত ওঠেনি। জুলাই হত্যাকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার কাজটিও সম্পন্ন হয়নি দুই বছরে।
নজিরবিহীন ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শাস্তি বিধানের কাজটি প্রত্যাশিত গতিতে এগোচ্ছে না দেখেও মানুষ কিছুটা হতাশ। তবে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করতে গিয়ে ন্যায়বিচারের দাবি অগ্রাহ্য করা যাবে না। এমন গুরুত্বপূর্ণ বিচারের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ যেন না থাকে। নিরপরাধ কেউ যেন সাজা ভোগ না করে, সেটাও নিশ্চিত করা চাই। হাসিনা সরকার পতনের পর চলতে থাকা অস্থিরতায় আওয়ামী লীগের নিরপরাধ কর্মী-সমর্থকসহ অনেকেই মবের শিকার হয়েছে। অর্থনীতিতেও এর বিরূপ প্রভাব পড়ে। অরাজনৈতিক অন্তর্বর্তী সরকার সেই পরিস্থিতি সামলাতে সফল হয়নি। কাজটি সহজও ছিল না। তাদের হাতে সূচিত রাষ্ট্র সংস্কার প্রক্রিয়াটিও প্রত্যাশিত রূপ পায়নি। তবে দেরিতে হলেও তারা সুষ্ঠুভাবে জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন করে বিদায় নিয়েছেন।
অনেক দেশেই গণঅভ্যুত্থান গণতন্ত্রে উত্তরণের বদলে পথ হারিয়ে অরাজকতায় নিমজ্জিত হয়। বাংলাদেশে সেটি ঘটেনি। মূলধারার একটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে প্রায় ছয় মাস দেশ পরিচালনা করছে। শুরুতেই তারা দেশের ভেতর ও বাইরে থেকে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লেও তা মোকাবিলায় সচেষ্ট। অন্তর্বর্তী সরকারের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্নের দায়িত্বও বর্তেছে তাদের ওপর। এর মধ্যে রয়েছে জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার ও সংস্কারের দাবি পূরণের প্রশ্ন। বিচার আইনসম্মত পথে এগোবে; তবে সংস্কার নিয়ে বিতর্ক রয়ে গেছে, যার গ্রহণযোগ্য নিষ্পত্তি কাম্য। সার্বভৌম জাতীয় সংসদেই এর মীমাংসা হওয়ার কথা।
হাসিনা সরকার পতনের সঙ্গে ‘ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা’ বিলোপেরও দাবি উঠেছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থান থেকে। ক্ষমতাসীন বিএনপিরও রয়েছে পূর্বঘোষিত সংস্কার কর্মসূচি। দুইয়ের লক্ষ্য মোটামুটি অভিন্ন। লক্ষ্য রাষ্ট্রকে গণতান্ত্রিক করা। এ ধরনের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা মুক্তিযুদ্ধেও স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর সেটি পূরণের পথে আমাদের এগোতে হবে, সন্দেহ নেই। গণতান্ত্রিক অধিকার, সরকারের জবাবদিহি, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন আর জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়, এমন বিধি-ব্যবস্থায় অবশ্যই যেতে হবে। জনপ্রতিনিধিত্বশীল শাসন কায়েমের পর ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংস্কারের এজেন্ডা বাস্তবায়নে এগোতে হবে আমাদের। তাতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সার্থকতা যেমন নিহিত; তেমনি এতে নিরাপদ ও সমৃদ্ধ হবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ।
.png)

জুলাই আন্দোলনে শহীদ আবু সাঈদের মৃত্যু আমাকে প্রবলভাবে নাড়া দিলেও আমাকে সরাসরি রাজপথে নামতে বাধ্য করেছিল শিশু রিয়া গোপের মর্মান্তিক মৃত্যু। ছাদে খেলতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হওয়া ওই শিশুটির জায়গায় আমি বারবার আমার নিজের সন্তানকে কল্পনা করছিলাম।
৩৭ মিনিট আগে
নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের যে গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা ছিল, তা আজও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থান যেন নব্বইয়ের সেই আকাঙ্ক্ষারই এক নতুন পুনরাবৃত্তি, যেখানে জনগণ আবারও একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের দাবি তুলেছে।
২ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের ভিত গড়ে উঠেছে ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি, সীমান্তবর্তী মানুষের জীবনযাত্রা এবং পারস্পরিক নির্ভরতার ওপর। সেই কারণেই দুই দেশের সম্পর্কে যখন টানাপোড়েন দেখা দেয়, তখন অনেক সময় আনুষ্ঠানিক আলোচনার পাশাপাশি প্রতীকী কিছু পদক্ষেপও বিশেষ গুরুত্ব পায়।
৩ ঘণ্টা আগে
জুলাই আন্দোলনের প্রাথমিক চাওয়া ছিল ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নিপীড়ন বন্ধ করা, যা পরে এক দফা অর্থাৎ সরকারের পতনের দাবিতে পরিণত হয়। যে উদ্দেশ্যে মানুষ রাস্তায় নেমেছিল, ৫ই আগস্টের পর সেই স্বৈরাচার থেকে মুক্তি অর্জনই আমাদের প্রথম ও প্রধান সফলতা।
৩ ঘণ্টা আগে