যথাসময়ে, সুষ্ঠুভাবে করা হোক স্থানীয় নির্বাচন

প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩: ১০
সম্পাদকীয় প্রতীকী ছবি। স্ট্রিম গ্রাফিক
সম্পাদকীয় প্রতীকী ছবি। স্ট্রিম গ্রাফিক

স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রসঙ্গটি আলোচিত হচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই। কোনো কোনো রাজনৈতিক দল জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছিল। তবে মাঠে থাকা প্রধান দল বিএনপি এতে সায় দেয়নি। তৎকালীন সরকারও মনে করেনি, আগে স্থানীয় নির্বাচন সম্পন্ন করা প্রয়োজন।

বিভিন্ন স্তরের স্থানীয় পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠান সহজ নয়; এতে সময়ও লাগে প্রচুর। অন্তর্বর্তী সরকার সেদিকে না এগিয়ে ভালোই করেছে। সংস্কার বিষয়ক সংলাপে অগ্রগতি এনেই তারা নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) বলেন জাতীয় নির্বাচনে যেতে। আর সেই নির্বাচনটি কেবল জাতীয়ভাবে নয়; আন্তর্জাতিকভাবেও গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছে।

নির্বাচিত সরকার গঠনের পর থেকেই কথাটি উঠছে যে, অতঃপর যত দ্রুত সম্ভব স্থানীয় নির্বাচন হওয়া প্রয়োজন। সরকারের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় সম্প্রতি ইসির তরফ থেকে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের ‘সম্ভাব্য’ দিনক্ষণ বিষয়ে বক্তব্য দেওয়া হলে সেটা ঘিরে সবার আগ্রহ তৈরি হয়। পরে অবশ্য সরকারের দিক থেকে জানানো হয়, তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে ইসির আলোচনা হয়নি। ইসিও পরে তার অবস্থান সুস্পষ্ট করে জানায়, সরকার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেই স্থানীয় নির্বাচনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হবে।

এ ক্ষেত্রে সমন্বয়হীনতার একটা প্রকাশ ঘটেছে বলেই মনে হচ্ছে। তবে এই সম্পাদকীয় লেখার দিন ইসির উদ্যোগে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে যে বৈঠক হয়েছে, সেটি উৎসাহব্যঞ্জক। ইউপিসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দিনক্ষণ নির্ধারণ যে কঠিন; একজন নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্যে সেটিও স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। বিদ্যমান শিক্ষা অবকাঠামো এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের কাজে লাগিয়ে নির্বাচন করতে হচ্ছে বলে তাদের কাজের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়, এমনটা নিশ্চিত করেই এর দিনক্ষণ স্থির করতে হবে। পবিত্র রমজান এবং দুটি পাবলিক পরীক্ষার সময়সূচিও রাখতে হবে বিবেচনায়।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনুকূলে নিয়ে আসার প্রশ্নটিও জরুরি। জাতীয় নির্বাচনে সহিংসতা হয়নি বললেই চলে। তাই বলে স্থানীয় নির্বাচনেও সহিংসতা হবে না, এমনটা ধরে নেওয়া যায় না। ইতোপূর্বে এ ধরনের নির্বাচনে ব্যাপক সহিংসতার নজির রয়েছে। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছিল। নির্বাচিত সরকারের আমলেও সেই ধারা বিপরীতমুখী হয়নি বলে আসছে স্থানীয় নির্বাচনে সহিংসতার শংকা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। আর সম্ভাব্য সহিংসতা রোধে দায়িত্ব নিতে হবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তথা সরকারকেই। সার্বিকভাবে পরিস্থিতি অনুকূল না হলে ইসির পক্ষেও সুষ্ঠুভাবে স্থানীয় নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভবপর হবে না; যেটা তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব।

সুতরাং সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে যথেষ্ট আলোচনা ও সার্বিক সমন্বয় করেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দিনক্ষণ নির্ধারণের দিকে ইসিকে এগোতে হবে। তাদের তরফ থেকে তেমন বক্তব্যই দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় নির্বাচন বিষয়ক আইনেও সরকারের সিদ্ধান্ত ও সম্মতিতে এ ক্ষেত্রে অগ্রসর হওয়ার কথা সবার জানা। এটাও অনস্বীকার্য, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর স্থানীয় সরকারে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছিল; জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে এখনো সেটা পূরণ করা যায়নি। ‘প্রশাসক’ নিয়োগের মাধ্যমে যেভাবে এর কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, তা নিয়েও বিতর্ক কম নেই। এ অবস্থায় স্থানীয় নির্বাচনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সংবিধান নির্দেশিত ধারায় পরিচালনার কোনো বিকল্প নেই। এর সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে জনসেবা নিশ্চিত করাসহ গণতন্ত্র শক্তিশালীকরণের প্রশ্নটি সরাসরি জড়িত। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের উপযুক্ত সময় বেছে নেওয়া এবং এর যথাযথ আয়োজনের বিষয়টিও জরুরি। এ ক্ষেত্রে সরকারের দৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকারের পাশাপাশি ইসির দায়িত্বপূর্ণ ভূমিকাই প্রত্যাশিত।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত