স্ট্রিম সম্পাদকীয়

দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে মালয়েশিয়াকে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কূটনৈতিক দূরদর্শিতার পরিচায়ক। কূটনীতির জগতে নতুন সরকারের প্রথম সফর কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং সেই সরকারের কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির বার্তা বহন করে। এক সময়ের কৃষিপ্রধান মালয়েশিয়া যে বিস্ময়কর অর্থনৈতিক উত্তরণ ঘটিয়ে শিল্প ও প্রযুক্তিনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে, তা বাংলাদেশের জন্য একটি দৃষ্টান্ত। মালয়েশিয়া আমাদের দীর্ঘদিনের বন্ধু। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটি কখনো বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ না করে সব সময় উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে পাশে থেকেছে। ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মিলের কারণে দুই দেশের জনগণের মধ্যে যে বন্ধন রয়েছে, তাকে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক সুসম্পর্ককে আরও কার্যকর করার ক্ষেত্রে এই সফর ফলপ্রসু হতে পারে।
সফরে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ৩৩ দফার যৌথ বিবৃতি পাওয়া গেছে। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুই নেতার একান্ত বৈঠক হয়েছে। হয়েছে ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়। সম্পর্কটি এখন কেবল গতানুগতিক শ্রমবাজারের ওপর নির্ভরশীল নয়। তা এখন বহুমুখী অংশীদারত্বের পথে হাঁটছে। বিশেষ করে এলএনজি, সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল অর্থনীতির মতো উচ্চমূল্যের খাতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ আকর্ষণ করার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা বাংলাদেশের জন্য সময়োপযোগী।
মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার। এই ঘাটতি কমিয়ে আনার জন্য প্রথাগত খাতের বাইরে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে হবে। আমাদের তাজা আম এবং হালাল খাদ্যের বিশাল বাজার মালয়েশিয়ায় রয়েছে। সেখানে বসবাসরত ১০ লক্ষাধিক প্রবাসী বাংলাদেশী এই পণ্যের সবচেয়ে বড় ভোক্তা। সঠিক হালাল সার্টিফিকেশন এবং লজিস্টিকস নিশ্চিত করতে পারলে ২০৩০ সালের মধ্যে এই খাত থেকে বড় আকারের আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই সম্ভাবনা বাস্তবায়নে প্রস্তুতির ঘাটতিগুলো দ্রুত কাটিয়ে উঠতে হবে। পণ্য রপ্তানিতে লজিস্টিকস সাপোর্ট এবং সুপারশপ চেইনগুলোতে নিয়মিত সরবরাহ বজায় রাখা—এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারকে কার্যকর নীতিমালা গ্রহণ করতে হবে।
সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে প্রয়োজন বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ। মালয়েশিয়া তার অর্থনীতির মধ্যে যেসব বদল নিয়ে আসছে, আমরা কি নিজেদের জনশক্তিকে সেই মানের কারিগরি শিক্ষায় প্রস্তুত করতে পারছি? এই সফরে দুই প্রধানমন্ত্রী কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির ওপর যে জোর দিয়েছেন, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রবাসী শ্রমিকদের স্বচ্ছ ও সাশ্রয়ী নিয়োগ নিশ্চিত করতে যৌথ কমিশন সভাকে কার্যকর করার যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা অভিবাসীদের দুর্দশা লাঘবে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফর দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান ইতিবাচক সম্পর্কে নতুন মাত্রা আনতে পারে। প্রয়োজন সম্ভাবনাগুলো রূপায়ণে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে কাজ করা। মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে ব্যবসায়িক সেতুবন্ধন তৈরির যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা দ্রুত বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া কেবল বন্ধুরাষ্ট্র নয়, বরং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনৈতিক সাফল্যের অংশীদার হয়ে উঠবে।

দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে মালয়েশিয়াকে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কূটনৈতিক দূরদর্শিতার পরিচায়ক। কূটনীতির জগতে নতুন সরকারের প্রথম সফর কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং সেই সরকারের কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির বার্তা বহন করে। এক সময়ের কৃষিপ্রধান মালয়েশিয়া যে বিস্ময়কর অর্থনৈতিক উত্তরণ ঘটিয়ে শিল্প ও প্রযুক্তিনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে, তা বাংলাদেশের জন্য একটি দৃষ্টান্ত। মালয়েশিয়া আমাদের দীর্ঘদিনের বন্ধু। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটি কখনো বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ না করে সব সময় উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে পাশে থেকেছে। ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মিলের কারণে দুই দেশের জনগণের মধ্যে যে বন্ধন রয়েছে, তাকে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক সুসম্পর্ককে আরও কার্যকর করার ক্ষেত্রে এই সফর ফলপ্রসু হতে পারে।
সফরে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ৩৩ দফার যৌথ বিবৃতি পাওয়া গেছে। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুই নেতার একান্ত বৈঠক হয়েছে। হয়েছে ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়। সম্পর্কটি এখন কেবল গতানুগতিক শ্রমবাজারের ওপর নির্ভরশীল নয়। তা এখন বহুমুখী অংশীদারত্বের পথে হাঁটছে। বিশেষ করে এলএনজি, সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল অর্থনীতির মতো উচ্চমূল্যের খাতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ আকর্ষণ করার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা বাংলাদেশের জন্য সময়োপযোগী।
মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার। এই ঘাটতি কমিয়ে আনার জন্য প্রথাগত খাতের বাইরে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে হবে। আমাদের তাজা আম এবং হালাল খাদ্যের বিশাল বাজার মালয়েশিয়ায় রয়েছে। সেখানে বসবাসরত ১০ লক্ষাধিক প্রবাসী বাংলাদেশী এই পণ্যের সবচেয়ে বড় ভোক্তা। সঠিক হালাল সার্টিফিকেশন এবং লজিস্টিকস নিশ্চিত করতে পারলে ২০৩০ সালের মধ্যে এই খাত থেকে বড় আকারের আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই সম্ভাবনা বাস্তবায়নে প্রস্তুতির ঘাটতিগুলো দ্রুত কাটিয়ে উঠতে হবে। পণ্য রপ্তানিতে লজিস্টিকস সাপোর্ট এবং সুপারশপ চেইনগুলোতে নিয়মিত সরবরাহ বজায় রাখা—এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারকে কার্যকর নীতিমালা গ্রহণ করতে হবে।
সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে প্রয়োজন বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ। মালয়েশিয়া তার অর্থনীতির মধ্যে যেসব বদল নিয়ে আসছে, আমরা কি নিজেদের জনশক্তিকে সেই মানের কারিগরি শিক্ষায় প্রস্তুত করতে পারছি? এই সফরে দুই প্রধানমন্ত্রী কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির ওপর যে জোর দিয়েছেন, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রবাসী শ্রমিকদের স্বচ্ছ ও সাশ্রয়ী নিয়োগ নিশ্চিত করতে যৌথ কমিশন সভাকে কার্যকর করার যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা অভিবাসীদের দুর্দশা লাঘবে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফর দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান ইতিবাচক সম্পর্কে নতুন মাত্রা আনতে পারে। প্রয়োজন সম্ভাবনাগুলো রূপায়ণে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে কাজ করা। মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে ব্যবসায়িক সেতুবন্ধন তৈরির যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা দ্রুত বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া কেবল বন্ধুরাষ্ট্র নয়, বরং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনৈতিক সাফল্যের অংশীদার হয়ে উঠবে।
.png)

ড. শ্রীরাধা দত্ত, ভারতীয় শিক্ষাবিদ, গবেষক এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক বিশ্লেষক। দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভূ-রাজনীতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তিনি বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত।
২ ঘণ্টা আগে
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছেন। মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের ২৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তের কিছু অংশে বেড়া দেওয়া হবে।
৫ ঘণ্টা আগে
বিগত ১৭ বছর ধরে দেশের পররাষ্ট্রনীতিতে যে ধারা চলমান ছিল, তার একটি গুণগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এই নতুন পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি হলো ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ বা সবার আগে জাতীয় স্বার্থ।
১১ ঘণ্টা আগে
অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনামলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ার বিষয়টি ছিল বহুল আলোচিত। আশা ছিল, নির্বাচিত সরকার এলে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসবে। তাতে জনমনে স্বস্তি ফিরবে; বিনিয়োগ পরিস্থিতিতেও পড়বে সুপ্রভাব।
১ দিন আগে