স্ট্রিম সম্পাদকীয়

নরসিংদীর মেথিকান্দা রেলস্টেশনে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী ছিন্নমূল নারী ববি বেগম যেভাবে দুর্বৃত্তদের হাতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন, সেটাকে মর্মান্তিক বললেও কম বলা যায়। বাকপ্রতিবন্ধী প্রবীণ এ নারীর জমানো অর্থ কেড়ে নিতেই যে কিছু অমানুষ তার ওপর চড়াও হয়েছিল, সেটা ইতোমধ্যে স্পষ্ট। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের গ্রেপ্তার করে সামনে এনেছে। দেখতে এরা মানুষের মতোই। অতঃপর তাদের কঠোরতম সাজা নিশ্চিত করে সেটা প্রচারেরও ব্যবস্থা করতে হবে সরকারকে। এর ভেতর দিয়ে বার্তা দিতে হবে যে, এমন ঘৃণ্য অপরাধ বরদাশত করতে রাষ্ট্র বিন্দুমাত্র রাজি নয়।
ববি বেগম সম্পর্কে যে বর্ণনা মিলেছে, তা পড়ে অবশ্য কেউ অবাক হবে না। এমন ছিন্নমূল অনেককেই আমরা এখানে-সেখানে বিচরণ করতে দেখি। তবে ওই নারীর জমানো কয়েক হাজার টাকা কেড়ে নিতে তার সঙ্গে যে অমানুষিক আচরণ করা হয়েছে, সেটা কল্পনা করতেও গা শিউরে ওঠে। দীর্ঘ দুই যুগ ধরে তিনি মেথিকান্দা স্টেশনে থেকে সেটাকেই ঘরবাড়ি বানিয়ে ফেলেছিলেন। পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে স্থানীয়দের কাজকর্ম করে দিয়ে, এমনকি ভিক্ষা করে কিছু অর্থকড়ি জমিয়েছিলেন ববি বেগম। সেটাই যে কাল হবে, তা হয়তো ঘূণাক্ষরেও চিন্তা করতে পারেননি। গভীর রাতে অবিশ্বাস্যভাবে আক্রান্ত হলে তিনি সেই সঞ্চিত অর্থ ছাড়তে চাননি স্বভাবতই। তিনি তো জানতেন না, বেপরোয়া দুর্বৃত্তদের কবলে পড়লে অর্থ কিংবা জিনিসপত্র নির্বিবাদে ছেড়ে দেওয়াই ভালো। তাই আঘাতের পর আঘাত সহ্য করেছেন ববি বেগম কষ্টার্জিত অর্থ রক্ষা করতে।
হাসপাতালে নীত হওয়ার আগে চেয়ারে বসে থাকা ক্ষতবিক্ষত, হতবিহ্বল ওই নারীর ছবি সংবাদমাধ্যম আর ফেসবুকে এসেছে। সেই ছবির দিকে তাকানা যায় না। যে কোনো সংবেদনশীল মানুষের বুক কেঁপে উঠবে এই ছবি দেখলে এবং তার ওপর পরিচালিত হামলার বিবরণ শুনলে।
আমরা জানি না অসহায় এ নারীকে সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া এবং যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া গিয়েছিল কিনা। স্থানীয় যাদের সহায়তায় তিনি দীর্ঘদিন ওই রেলস্টেশনে ছিলেন; ধরে নেওয়া যায়, তারা চেষ্টায় কোনো ত্রুটি রাখেননি। তারপরও বাঁচানো যায়নি ববি বেগমকে। পরিচয়হীন এ নারীকে মেথিকান্দা স্টেশনের সামনে সামাজিক কবরস্থানে দাফনের খবর রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের কেউ কেউ এবং দীর্ঘদিন ধরে চেনা ওখানকার মানুষজন তার জানাজায় অংশ নিয়েছেন, এমন খবরে মন হয়তো কিছুটা শান্ত হয়ে আসে। কিন্তু স্বস্তি মেলে না। এমন একজন দুস্থ মানুষের সঞ্চিত অর্থ কেড়ে নিতে যারা তাকে হায়েনার মতো আঘাত করেছে, তাদের কঠোরতর সাজায়ও কি আমাদের যন্ত্রণার উপশম হবে?
বাকপ্রতিবন্ধী এই নারীর সত্যিই কি কেউ ছিল না? এমন আরও যারা পথেঘাটে আশ্রিত—রাষ্ট্র তাদের কল্যাণে নিবেদিত হতে পারছে না কেন? ববি বেগমদের সংখ্যা কি এতই বেশি যে, সরকার তাদের পুনর্বাসনে অক্ষম? যে সমাজে ঘরেও অনেকে নিরাপত্তাহীন, সেখানে গৃহহীন ববি বেগমরা কীভাবে রক্ষা করবে সামান্য সঞ্চয়? অপরাধীদের মধ্যে যারা ভয়ানক বেপরোয়া, তাদের কাছ থেকে এদেরকে নিরাপদে রাখা তো সত্যিই কঠিন। আমরা জানি না, মেথিকান্দা স্টেশনে আশ্রিত ওই নারী কোনো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় এসেছিলেন কিনা। এসব কর্মসূচিতে ভাতা অবশ্য সামান্য। তবু দেশের নাগরিক হিসেবে এটা ববি বেগমদের প্রতি রাষ্ট্রের দায় মোচনের একটা প্রয়াস।
আমরা ববি বেগমের ঘটনায় সরকারের নীতিনির্ধারকদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, বিষয়টিতে দৃষ্টি দিন। তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া ঘৃণ্য অপরাধীদের দ্রুত সাজার ব্যবস্থা করুন। ছিন্নমূল এসব মানুষের মধ্যে অনেক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধীও আছে। নিজেদের রক্ষার সামান্যতম সক্ষমতাও কিন্তু ওদের নেই।

নরসিংদীর মেথিকান্দা রেলস্টেশনে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী ছিন্নমূল নারী ববি বেগম যেভাবে দুর্বৃত্তদের হাতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন, সেটাকে মর্মান্তিক বললেও কম বলা যায়। বাকপ্রতিবন্ধী প্রবীণ এ নারীর জমানো অর্থ কেড়ে নিতেই যে কিছু অমানুষ তার ওপর চড়াও হয়েছিল, সেটা ইতোমধ্যে স্পষ্ট। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের গ্রেপ্তার করে সামনে এনেছে। দেখতে এরা মানুষের মতোই। অতঃপর তাদের কঠোরতম সাজা নিশ্চিত করে সেটা প্রচারেরও ব্যবস্থা করতে হবে সরকারকে। এর ভেতর দিয়ে বার্তা দিতে হবে যে, এমন ঘৃণ্য অপরাধ বরদাশত করতে রাষ্ট্র বিন্দুমাত্র রাজি নয়।
ববি বেগম সম্পর্কে যে বর্ণনা মিলেছে, তা পড়ে অবশ্য কেউ অবাক হবে না। এমন ছিন্নমূল অনেককেই আমরা এখানে-সেখানে বিচরণ করতে দেখি। তবে ওই নারীর জমানো কয়েক হাজার টাকা কেড়ে নিতে তার সঙ্গে যে অমানুষিক আচরণ করা হয়েছে, সেটা কল্পনা করতেও গা শিউরে ওঠে। দীর্ঘ দুই যুগ ধরে তিনি মেথিকান্দা স্টেশনে থেকে সেটাকেই ঘরবাড়ি বানিয়ে ফেলেছিলেন। পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে স্থানীয়দের কাজকর্ম করে দিয়ে, এমনকি ভিক্ষা করে কিছু অর্থকড়ি জমিয়েছিলেন ববি বেগম। সেটাই যে কাল হবে, তা হয়তো ঘূণাক্ষরেও চিন্তা করতে পারেননি। গভীর রাতে অবিশ্বাস্যভাবে আক্রান্ত হলে তিনি সেই সঞ্চিত অর্থ ছাড়তে চাননি স্বভাবতই। তিনি তো জানতেন না, বেপরোয়া দুর্বৃত্তদের কবলে পড়লে অর্থ কিংবা জিনিসপত্র নির্বিবাদে ছেড়ে দেওয়াই ভালো। তাই আঘাতের পর আঘাত সহ্য করেছেন ববি বেগম কষ্টার্জিত অর্থ রক্ষা করতে।
হাসপাতালে নীত হওয়ার আগে চেয়ারে বসে থাকা ক্ষতবিক্ষত, হতবিহ্বল ওই নারীর ছবি সংবাদমাধ্যম আর ফেসবুকে এসেছে। সেই ছবির দিকে তাকানা যায় না। যে কোনো সংবেদনশীল মানুষের বুক কেঁপে উঠবে এই ছবি দেখলে এবং তার ওপর পরিচালিত হামলার বিবরণ শুনলে।
আমরা জানি না অসহায় এ নারীকে সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া এবং যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া গিয়েছিল কিনা। স্থানীয় যাদের সহায়তায় তিনি দীর্ঘদিন ওই রেলস্টেশনে ছিলেন; ধরে নেওয়া যায়, তারা চেষ্টায় কোনো ত্রুটি রাখেননি। তারপরও বাঁচানো যায়নি ববি বেগমকে। পরিচয়হীন এ নারীকে মেথিকান্দা স্টেশনের সামনে সামাজিক কবরস্থানে দাফনের খবর রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের কেউ কেউ এবং দীর্ঘদিন ধরে চেনা ওখানকার মানুষজন তার জানাজায় অংশ নিয়েছেন, এমন খবরে মন হয়তো কিছুটা শান্ত হয়ে আসে। কিন্তু স্বস্তি মেলে না। এমন একজন দুস্থ মানুষের সঞ্চিত অর্থ কেড়ে নিতে যারা তাকে হায়েনার মতো আঘাত করেছে, তাদের কঠোরতর সাজায়ও কি আমাদের যন্ত্রণার উপশম হবে?
বাকপ্রতিবন্ধী এই নারীর সত্যিই কি কেউ ছিল না? এমন আরও যারা পথেঘাটে আশ্রিত—রাষ্ট্র তাদের কল্যাণে নিবেদিত হতে পারছে না কেন? ববি বেগমদের সংখ্যা কি এতই বেশি যে, সরকার তাদের পুনর্বাসনে অক্ষম? যে সমাজে ঘরেও অনেকে নিরাপত্তাহীন, সেখানে গৃহহীন ববি বেগমরা কীভাবে রক্ষা করবে সামান্য সঞ্চয়? অপরাধীদের মধ্যে যারা ভয়ানক বেপরোয়া, তাদের কাছ থেকে এদেরকে নিরাপদে রাখা তো সত্যিই কঠিন। আমরা জানি না, মেথিকান্দা স্টেশনে আশ্রিত ওই নারী কোনো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় এসেছিলেন কিনা। এসব কর্মসূচিতে ভাতা অবশ্য সামান্য। তবু দেশের নাগরিক হিসেবে এটা ববি বেগমদের প্রতি রাষ্ট্রের দায় মোচনের একটা প্রয়াস।
আমরা ববি বেগমের ঘটনায় সরকারের নীতিনির্ধারকদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, বিষয়টিতে দৃষ্টি দিন। তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া ঘৃণ্য অপরাধীদের দ্রুত সাজার ব্যবস্থা করুন। ছিন্নমূল এসব মানুষের মধ্যে অনেক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধীও আছে। নিজেদের রক্ষার সামান্যতম সক্ষমতাও কিন্তু ওদের নেই।
.png)

৩১ মে, রাত। যশোরের শার্শা উপজেলার সাদিপুর সীমান্তের কাছে টহলরত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা দেখতে পান, সীমান্তের কাঁটাতারের একটি অংশ কেটে ফেলা হয়েছে। ওপারে দাঁড়িয়ে ছিলেন অনেক মানুষ। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুও ছিল।
৭ ঘণ্টা আগে
দেশের প্রতিটি নাগরিকের একটি সুনির্দিষ্ট ও নিশ্চিত পরিচয় থাকা জরুরি। এর অভাবে অনেক মানুষ রয়ে গেছেন তথ্যের অন্ধকারে। অনেক মানুষ হয়রানির শিকার হয়েছেন শুধু একটি কাগজের টুকরোর অভাবে। পরিচয়পত্র নেই বলে গ্রামের অসহায় বৃদ্ধা বঞ্চিত হচ্ছেন প্রাপ্য সরকারি সাহায্য থেকে।
৮ ঘণ্টা আগে
কয়েক দশক আগেও বিশ্বব্যাপী জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমানো ছিল আন্তর্জাতিক নীতিনির্ধারকদের অন্যতম অগ্রাধিকার। কিন্তু এখন পরিস্থিতি উল্টে গেছে। এখন বিশ্লেষক ও নীতিনির্ধারকরা মানুষের ছোট পরিবার বেছে নেওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন। অথচ অতীতে এই প্রবণতাকেই ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হতো।
১১ ঘণ্টা আগে
চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির পাহাড়ি জনপদ কয়েক দিন ধরে যা প্রত্যক্ষ করছে, তা পুঞ্জীভূত অবহেলার ফল। সেখানে পাহাড়ধস ও পানিতে ডুবে পাঁচ দিনে অন্তত ৩৩ প্রাণহানি হয়েছে, যার বড় অংশ আবার কক্সবাজারে রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের বাসিন্দা।
১০ জুলাই ২০২৬