আবুল কাসেম ফজলুল হকের পুরোনো সাক্ষাৎকার

‘যেকোনো রাষ্ট্রের অথনৈতিক পরিকল্পনার মধ্যে নৈতিক পরিকল্পনা থাকা উচিত’

আবুল কাসেম ফজলুল হক; শিক্ষাবিদ ও চিন্তক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক এই অধ্যাপক আজ রোববার (৫ জুলাই) বিকেলে মারা গেছেন। ২০২৫ সালের অক্টোবরে ছোটকাগজ নি-এর ১ম বর্ষ ১ম সংখ্যায় তাঁর এই সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয়। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রিয়াজ মাহমুদ ও নাজনীন সাথী।

সংগ্রহ: হানিফ রাশেদীন

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক। ছবি: এআই জেনারেটেড

প্রশ্ন: নৈতিকতার চর্চাটা কোথা থেকে কীভাবে হওয়া উচিত?

আবুল কাসেম ফজলুল হক: আমাদের দেশে যারা গণতন্ত্রী তাদের মধ্যে নৈতিক প্রশ্নে কোনো আলোচনা সমালোচনা দেখিনি। তারা ধরেই নিতেন আমরা বিজ্ঞান সম্মত দৃষ্টিভঙ্গিতে কথা বলব। একজন-দুজন ধর্মকে আক্রমণ করেও কথা বলতেন। সোহরাওয়ার্দী থেকে শেখ মুজিব ধর্ম সম্পর্কে সতর্ক হয়ে কথা বলতেন। আঘাত দিয়ে বলতেন না। ভেতরে কিছু লোক ছিল যারা বলতেন। যেটা শতকরা ১০০ ভাগ না। পাকিস্তান কালে আমাদের দেশে যারা ধর্ম নিরপেক্ষতার কথা বলতেন শেরে বাংলা তাদের দলের। তারা বলতেন আমরা ধর্ম নিয়ে কথা বলব না। আমরা আমাদের মতো রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে জনগণের মন জয় করব। ধর্ম যারা পালন করবেন তারা করবেন। যারা পালন করবেন না তারা করবেন না। কিন্তু দুই পক্ষের মধ্যে যাতে বিবাদ না হয়—এটা আমাদের মূল লক্ষ্য। আমরা চাই সর্বস্তরের মানুষের কল্যাণ। যেটা মানুষের চেষ্টায় মানুষ করতে পারে। প্রকৃতিতে নানা বৈষম্য আছে। সেগুলো দূর করা যাবে না। ভবিষ্যতে বিজ্ঞানের উদ্ভাবন এলে এবং সেগুলো মানুষের ব্যবহারিক জীবনে গেলে তখন পারা যাবে। এখন আমরা গণতন্ত্র চাই। গণতন্ত্র মানে জনগণের শাসন ব্যবস্থা। মানুষ তো সবাই সমান নয়। কিন্তু আইনকানুন দিয়েও ব্যবধান সৃষ্টি করা হয়েছে। এগুলো আমরা বন্ধ করব। সব মানুষের সমান সুযোগ রাখব। এই রকম কথা ছিল। এ কথাগুলো তো সবাই সুন্দরভাবে বলতে পারেন না। বিশেষ করে যারা বামপন্থী ছিলেন তাদের ভেতর থেকে কেউ কেউ উল্টাপাল্টা কথা বলে ধর্মীয় শক্তিকে আঘাত করেছেন। ফলে বামপন্থীরা উঠতেই পারে নাই। ধর্মের যে নৈতিক সিদ্ধান্ত, মানুষ এগুলোতে আকৃষ্ট। দরিদ্র ও হতদরিদ্র মানুষের কাছে এটা আশ্রয়ের অবলম্বন। মানুষ বিপদে পড়লে বড় শক্তির কাছে আশ্রয় চায়। বাস্তবে তেমন বড় শক্তির অস্তিত্ব আছে কি? নেই। মানুষের আশ্রয়ের জায়গাতেই ঈশ্বরের অস্তিত্ব। এ কথাটা প্রথমে রাজা রামমোহন রায় তার একটা ছোট্ট পুস্তিকায় বলেছেন।

রামমোহন রায় হিন্দু কমিউনিটিকে সামনে এনেছেন। মুসলমানদের বিরোধী কোনো কথা তিনি বলেননি। সবাই যখন ধর্মীয় অন্ধকার সময়ে আছেন, তখন একজন রামমোহন রায় আত্মপ্রকাশ করলেন। যিনি ইউরোপিয় সভ্যতা সর্ম্পকে যতটুকু পারা যায় জ্ঞান অর্জন করেছেন। ইংরেজি ভাষাও শিখেছেন। সর্বসাধারণের কল্যাণ করতে হবে। শুধুমাত্র ধনীদের কল্যাণ না। এইসব অনেক উন্নত চিন্তা। রামমোহন সেটা করেছিলেন। ফলে হিন্দুসমাজ একভাবে এগিয়েছে ধর্মীয় যে বদ্ধতা ছিল সেগুলো থেকে। রামমোহন শুরু করেছেন। তার পরবর্তী সময়ে হিন্দুসমাজ যেভাবে এগিয়েছে, মুসলমানরা সেভাবে পারেনি। কারণ মুসলমানরা অনেকে বৌদ্ধ ধর্ম এবং নিম্নবর্ণের হিন্দুদের থেকে মুসলমান হয়েছে। আরব থেকে এসেছে এমন লোকের সংখ্যা তো কম। এরকম বাস্তবতার মধ্যে নৈতিক প্রশ্ন ডেমোক্র্যাট এবং স্যোশালিস্টদের মধ্যে আসে নাই। আমরা যদি সোভিয়েত বা চীনের দিকে দেখি—বিপ্লবের পরে লেনিন বা মাও ধর্মীয় লোকদের নিয়ে কোনো কথা বলেননি। চেষ্টা করেছেন বিভিন্ন প্রদেশে ধর্মীয় ধারার লোকদের যুক্ত করতে। এবং পার্টি কর্মীদের বলতেন এমন কোনো কথাই আপনারা বলবেন না যাতে মানুষের ধর্মবোধে আঘাত লাগে। মাও এই লাইন ধরেই এগিয়েছেন। চীনে তো ছিল ব্যাপকভাবে বৌদ্ধ ধর্ম। কিন্তু সেখানেও ধর্মকে আঘাত না করেই পার্টি এগিয়েছে। মানুষ কী করলে ভালো হবে এবং কী করলে খারাপ হবে, এইসবের নির্দেশ প্রত্যেকটা ধর্মের মধ্যে আছে। এই বিষয়গুলোই নৈতিক সিদ্ধান্ত বা নীতি।

পরিবর্তনশীলতা প্রকৃতির নিয়মনীতির মধ্য দিয়ে করতে হবে। জরবদস্তি করে ভালো কিছু প্রতিষ্ঠা করা যায় না। মানুষের খাওয়াপরার পরই নৈতিক প্রশ্নের মীমাংসা প্রয়োজন। নৈতিকতা একটা জীবনের ব্যাপার।

ডেমোক্র্যাট বা স্যোশালিস্টরা এই বিষয়ে গুরুত্ব দেননি। কার্ল মার্কস, এঙ্গেলস, লেনিন, স্ট্যালিন প্রমুখ মানুষের মনের দিকটাতে মনোযোগ দেননি। মাও কিছুটা দিয়েছেন। আর্থসামাজিক চিন্তা ছাড়া মানুষের নৈতিকবোধ, নৈতিক বিষয় নিয়ে তাদের চিন্তা ছিল না। তারা মনে করেছেন, আমরা যদি অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক দিকটা পাল্টে দিই, তাহলেই সমস্যার সমাধান হবে। মানুষের মনের দিক নিয়ে লেনিন সচেতন ছিলেন না। মাও চীনের বাস্তবতায় কিছুটা চিন্তা করেছেন। মানুষের আর্থিক উন্নতির সাথে সাথে মানুষের নৈতিক উন্নতি সমান গুরুত্ব দিয়ে চিন্তা করা উচিত।

নৈতিকতা নিয়ে পত্রপত্রিকাতে লেখায় আমার অনেক পরিচিতজনও আমাকে বলতেন, এটা নিয়ে আপনি কেন লিখছেন, এটা তো মোল্লা-মৌলভীদের ব্যাপার। আমি বলেছি—না, এটা কমিউনিস্টদেরও ব্যাপার, বামপন্থীদেরও ব্যাপার।

প্রশ্ন: নৈতিকতার চিরায়ত আধুনিক রূপ আছে?

আবুল কাসেম ফজলুল হক: মানুষের পোশাক পরিচ্ছদের মতো করে নৈতিকতার পরিবর্তন ঘটে না। নৈতিকতা ধর্মীয়ভাবে এলেও এগুলো দীর্ঘস্থায়ী। নৈতিক বিবেচনা এবং অর্থনৈতিক বিবেচনাকে এক সাথে ভাবতে হবে। সাইকেলেজিস্টরা মন নিয়ে কি বলেন। পারিপাশ্বিকতা পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে মানুষের মস্তিষ্কে যায়। এর মধ্য দিয়ে সে বিচার বিবেচনা করে। দুনিয়া বদলাচ্ছে। প্রকৃতি বদলাচ্ছে। মানুষের অভিজ্ঞতা বদলাচ্ছে। এর মধ্যে পরিবর্তনশীলতা দরকার। পরিবর্তনশীলতা প্রকৃতির নিয়মনীতির মধ্য দিয়ে করতে হবে। জরবদস্তি করে ভালো কিছু প্রতিষ্ঠা করা যায় না। মানুষের খাওয়াপরার পরই নৈতিক প্রশ্নের মীমাংসা প্রয়োজন। নৈতিকতা একটা জীবনের ব্যাপার।

প্রশ্ন: নৈতিকতার সাথে সমাজবাস্তবতার সর্ম্পক কি?

আবুল কাসেম ফজলুল হক: নৈতিক প্রশ্নটা দু রকম হতে পারে। এক, সবার মঙ্গল চিন্তা করা। দুই, উচ্চ শ্রেণীর জন্য যা ভালো হবে। এটা ভাওতামূলক তফাৎ। এখনো বাংলাদেশে যে পাঠ্যপুস্তক সেখানে ধর্মীয় চিন্তার বাইরে নৈতিকতার কথা কেউ বলেন না। এই দেশে যারা গণতন্ত্রী এবং সমাজতন্ত্রী তারা এ বিষয়ে বেশি উদাসীন। স্কুলে ইসলাম ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা, হিন্দু ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা, বৌদ্ধ ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা, খিষ্ট্রান ধর্ম ও নেতিক শিক্ষা ইত্যাদি বই আছে। খ্রিস্টান জনসংখ্যা এখানে কম। তবু এদের সবার নৈতিক শিক্ষার পাঠ্যপুস্তক আছে। যারা গণতন্ত্রী ও সমাজতন্ত্রী তারা এই বিষয়গুলো নিয়ে উদাসীন। গণতন্ত্রী ও নৈতিক শিক্ষা—এমন বই কেন নাই? তাদের কি নৈতিক শিক্ষার দরকার নাই?

প্রশ্ন: সৎ আচরণ বলতে আমরা কী বুঝি, এর চিরায়ত অবয়ব আছে?

আবুল কাসেম ফজলুল হক: সদাচারণ দেশকালের মধ্যে। বাঙ্গালীদের সদাচারণ এক রকম, হিন্দুদের আরেক রকম, বিদেশীদের আরেক রকম—তা হলেও ভেতরে মিল আছে। এগুলো আমাদের বিবেচনায় নিতে হবে।

প্রশ্ন: গৌতম বুদ্ধ, সক্রেটিস, প্লেটো প্রমুখ নৈতিক প্রশ্নটিতে ব্যক্তির প্রজ্ঞা ও উপলব্ধির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তারা মনে করতেন আত্মমুক্তিতেই মানুষের পরম সিদ্ধি। কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?

আবুল কাসেম ফজলুল হক: সক্রেটিস, প্লেটো ও এরিস্টটলের বক্তব্য বিবেচনায় নেওয়ার গুরুত্ব আছে। কিন্তু কোনো কিছুই চিরস্থায়ী নয়। সে সময়ে কী কী প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ ছিল তার তালিকা করে এ সময়ের সাথে মিলিয়ে দেখা উচিত। আমরা হঠাৎ করেই আগাচ্ছি না। আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের চিন্তা নিয়ে ধাপে ধাপে আগাচ্ছি। এর সাথে ক্ষমতায় যারা থাকে তাদের একটা প্রভাব থাকে। যদি প্রগতিশীল শক্তি ক্ষমতায় থাকে তার প্রভাব একরকম। প্রতিক্রিয়াশীল থাকলে তার প্রভাব আরেক রকম। আমরা নৈতিকতার প্রশ্নে যে সিদ্ধান্ত নিতে চাই তাতে যেন সর্বজনীন কল্যাণ থাকে। কেবল উচ্চ শ্রেণীর কল্যাণ নয়। আমাদের চেষ্টা থাকবে প্রকৃতিসৃষ্ট সবকিছু বিবেচনায় রাখা। বৈজ্ঞানিকভাবে বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে আজকের দিনে কী করলে আমাদের কল্যাণ হবে, সে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কয়েকদিন ধরে যে মবোক্রেসি চলছে তার দ্বারা উন্নতির দিকে যাওয়া হয় না। প্রগতির দিকে যাওয়া হয় না। প্রগতিতে যেতে হলে সংগঠিত মানুষ দরকার, যে মানুষ সঠিক নেতৃত্ব দ্বারা পরিচালিত।

প্রশ্ন: সমাজ, সভ্যতার ও ইতিহাসের যে পরিণতি, কার্ল মার্কস যাকে শ্রেণি দ্বন্দ্বের পরিণতি হিসেবে দেখেছেন এবং তা থেকে একটি উন্নত সমাজব্যবস্থার রূপরেখা তিনি টানতে চেয়েছেন। তার এই দৃষ্টিভঙ্গি আপনি কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?

আবুল কাসেম ফজলুল হক: মার্কস-এঙ্গেলসের উত্তরসূরী যারা—যেমন লেনিন, স্টালিন প্রমুখ মানুষের মনের দিকটাতে গুরুত্ব দেননি। মনের দিকটা যে গুরুত্বপূর্ণ সেগুলো তারা দেখেননি। মাও কিছুটা দেখেছেন। শুধু আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তন হলেই সব পরিবর্তন হয়ে যাবে এ ধারণাটা অপর্যাপ্ত। মানুষের মনের দিক ও নৈতিক দিকটার বিষয়ে পরিচ্ছন্ন দৃষ্টি থাকার দরকার ছিল। ডিক্টেটরশিপ অব প্রলেতারিয়েত সোভিয়েত ইউনিয়নে খুব একটা কাজ করেনি। চীনের মাও সেতুং এটা ধরে রাখতে পারেননি। ন্যায়-অন্যায় বিবেচনার দিক মাওয়ের দৃষ্টি ছিল। কিন্তু তা পর্যাপ্ত না।

গর্বাচেভের সময় আমেরিকার প্রেসিডেন্ট যিনি ছিলেন তিনি গর্বাচেভের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রেখেছিলেন। দীর্ঘদিন থেকে তাদের লক্ষ্য ছিল এটা ভেঙে দেওয়ার। গর্বাচেভকে বলা হয়েছে— সোভিয়েত ভেঙে দিয়ে দেখেন, সারা দুনিয়া আপনাকে সেলিব্রেট করবে। এইসব প্ররোচণায় গর্বাচেভ তার রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে তাদের ১৪টা রাষ্ট্রকে স্বাধীনতা দিল। রাশিয়াও তার সমাজতান্ত্রিক নীতি পরিবর্তন করল। রাশিয়ার জনগণ ভাবছে, এটা তাদের নেতৃত্বের দুর্বলতা।

কয়েকদিন ধরে যে মবোক্রেসি চলছে তার দ্বারা উন্নতির দিকে যাওয়া হয় না। প্রগতির দিকে যাওয়া হয় না। প্রগতিতে যেতে হলে সংগঠিত মানুষ দরকার, যে মানুষ সঠিক নেতৃত্ব দ্বারা পরিচালিত।

বছর দেড়েক আগে গর্বাচেভ মারা গেছেন। সে উপলক্ষ্যে কেউ কেউ পুতিনকে বলেছেন তার অন্তষ্ট্যিক্রিয়ায় যেতে। পুতিন বলেছেন, তিনি তো রাশিয়ার জনগণের ক্ষতি করে গেছেন। তিনি সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোকে সহায়তা করেছেন। তিনি পশ্চিমাদের অনেক বাহবা পেয়েছিলেন। কিন্তু জনগণের তো কোনো উন্নতি হয়নি। এসব কথাগুলো বাংলা-ইংরেজি পত্রপত্রিকায় এসেছে। কিন্তু কেন এটা ভেঙেছে, তার ইতিহাস নিয়ে খুব ভালো কাজ হয়নি।

প্রশ্ন: বিগত সময়ে যে বিপর্যয়গুলো ঘটেছে তার জন্য কি নৈতিকতাই দায়ী?

আবুল কাসেম ফজলুল হক: নৈতিকতাই দায়ী। কিন্তু তার বৈষয়িক দিকও রয়েছে। যেকোনো রাষ্ট্রের অথনৈতিক পরিকল্পনার মধ্যে নৈতিক পরিকল্পনাটা থাকা উচিত। প্রকৃতি বদলাচ্ছে, মানুষ বদলাচ্ছে। এমন অবস্থায় কোনো নীতিই একইরকম থাকবে, তা বলা যায় না। পরিবর্তন হওয়ার সাথে সাথে আমাদের বদলাতে হবে। তবে এটা পোশাক-আশাক পাল্টানোর মতো দ্রুত পাল্টাবে না। সোভিয়েত যে ভেঙে গেল তাও নৈতিক বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত। লেনিন ও তার অনুসারীরা বিষয়টিতে মনযোগ দেননি। ইউরোপ ও আমেরিকা প্রথমে ভেবেছে এটা বেশিদিন টিকবে না। কিন্তু যখন তা যখন দশ বছর টিকে গেল, তখন তারা চিন্তিত হলো। অবশেষে গর্বাচেভ তা ভেঙে দিল। ফলে তা পরিবর্তন হয়ে গেল।

প্রশ্ন: এসব পরিবর্তন বৃহদার্থে কোন দিকে?

আবুল কাসেম ফজলুল হক: এই বিষয়গুলো পূর্বে মার্কসবাদীরা যেভাবে দেখেছেন সেভাবে এখন বেশি দূর দেখা যাবে না। বিজ্ঞানের সাথে সম্পর্কিত করে দেখতে হবে। মার্কসবাদকে ধর্মের মতো করে দেখা যাবে না। পরিবর্তনের দৃষ্টিতে দেখতে হবে। রাষ্ট্র গঠিত হয়, তার পুনর্গঠন দরকার হয়। রাষ্ট্র বাতিল করে দিয়ে নতুন করে গড়তে হয়। গত তিন হাজার বছরের মানুষের কর্মকাণ্ড দেখলে বুঝা যায়, সভ্যতা গড়ে ওঠে এবং একটা সময় অচল অবস্থা তৈরি হয়। তখন নতুন সভ্যতা গড়তে হয়। এ অবস্থায় যেসব জাতি তাদের আইনকানুন পরিবর্তন করে, তারা বাঁচতে পারে। আর যেসব জাতি অন্ধ বিশ্বাসরূপে অপরিবর্তনীয় অবস্থান নেয়, তারা আর চলতে পারে না।

সর্বাধিক পঠিত
লেটেস্ট
Ad 300x250

সম্পর্কিত