সিলেটকে ‘স্মার্ট সিটি’ হিসেবে গড়তে চাই: এনসিপি প্রার্থী আফজাল

বাংলাদেশের রাজনীতির নতুন ধারার প্রতিশ্রুতি নিয়ে মাঠে নেমেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। গত ২৯ মার্চ রাতে পাঁচ সিটি করপোরেশনে মেয়র প্রার্থী ঘোষণার মধ্য দিয়ে দলটি তাদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনী প্রস্তুতির আনুষ্ঠানিক জানান দিয়েছে। সিলেট সিটি করপোরেশনে এনসিপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে লড়বেন অ্যাডভোকেট মো. আব্দুর রহমান আফজাল। একসময় ছাত্রদলের রাজনীতি করা আফজাল এখন এনসিপির মহানগর আহ্বায়কের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও আধুনিক সিলেটের স্বপ্ন দেখছেন। সিলেটের জলাবদ্ধতা, নিরাপত্তা, প্রবাসী বিনিয়োগ এবং জেন-জিদের ভাবনা নিয়ে স্ট্রিমের হয়ে তাঁর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন হাসিবুর রহমান।

প্রকাশ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ২৩: ১৫
অ্যাডভোকেট মো. আব্দুর রহমান আফজাল। সংগৃহীত ছবি

স্ট্রিম: এনসিপি সিলেটের মতো গুরুত্বপূর্ণ নগরীতে আপনাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেখা যাচ্ছে, সিটি করপোরেশনগুলোতে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বদলে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এই পুরো প্রক্রিয়াকে আপনি একজন আইনজীবী এবং রাজনীতিবিদ হিসেবে কীভাবে দেখছেন?

আব্দুর রহমান আফজাল: দেখুন, প্রশাসক নিয়োগের বিষয়টি বিশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি বা অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে যাওয়ার নিরিখে দেখা যেতে পারে। আইনগতভাবে হয়তো এটি সম্ভব, কিন্তু গণতান্ত্রিক চেতনার জায়গায় এটি একটি বড় শূন্যতা। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার প্রাণ হলো জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি। একজন প্রশাসক কখনো একজন নির্বাচিত মেয়রের মতো দায়বদ্ধতা অনুভব করতে পারেন না। আমি মনে করি, প্রশাসক নিয়োগ কেবল একটি সাময়িক সমাধান হতে পারে, কিন্তু কখনোই স্থায়ী ব্যবস্থা নয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত দ্রুততম সময়ে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করে জনগণের ম্যান্ডেট প্রতিষ্ঠা করা। জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো উন্নয়নই টেকসই হয় না।

স্ট্রিম: আপনি ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও সংসদীয় বা সিটি নির্বাচনের মতো বড় পরিসরের ভোটের রাজনীতিতে এই প্রথম পা রাখছেন। হঠাৎ করে এমন একটি বিশাল কর্মযজ্ঞে নামার প্রস্তুতি কতটুকু?

আব্দুর রহমান আফজাল: অনেকে হয়তো ভাবতে পারেন আমি হঠাৎ করেই নির্বাচনে এসেছি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আমি দীর্ঘ দিন ধরে সংগঠন এবং সরাসরি জনসম্পৃক্ত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। আমার কাছে রাজনীতি মানেই হলো মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ। তাই মেয়রের মতো বড় পদের জন্য লড়াকে আমি কোনো ধকল বা মানসিক চাপ হিসেবে দেখছি না; বরং এটিকে আমি একটি পবিত্র দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করেছি। আমার প্রাত্যহিক জীবনের কাজের ধরনই হলো মানুষের সমস্যার কথা শোনা এবং তা সমাধানের পথ খোঁজা। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সেই কাজগুলো এখন একটি সুনির্দিষ্ট ও বড় প্ল্যাটফর্মে করার সুযোগ পাচ্ছি। তাই আমি খুব স্বাভাবিকভাবেই সবকিছু এগিয়ে নিচ্ছি এবং জনগণের বিপুল সাড়া পাচ্ছি।

স্ট্রিম: এখনো নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়নি। এমনকি ভোট কবে হবে তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। এনসিপি এত আগে প্রার্থী ঘোষণা করার পেছনে কোনো বিশেষ কৌশল বা উদ্দেশ্য কী আছে?

আব্দুর রহমান আফজাল: আমাদের কৌশল খুবই পরিষ্কার—আমরা হঠাৎ রাজনীতি করতে চাই না। আমরা চাই একটি সুপরিকল্পিত এবং সুসংগঠিত দল হিসেবে জনগণের সামনে যেতে। আগাম প্রার্থী ঘোষণার প্রধান সুবিধা হলো, আমরা হাতে অনেকটা সময় পাচ্ছি। এই সময়ে আমরা আমাদের দল এনসিপির আদর্শ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারছি, প্রতিটি ওয়ার্ডে গিয়ে মানুষের সমস্যাগুলো নিজের চোখে দেখতে পারছি এবং দীর্ঘমেয়াদী একটি উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি করতে পারছি। আমরা বিশ্বাস করি, নির্বাচনের ঠিক আগে আগে প্রচারণা শুরু করলে ভোটারদের সঙ্গে আত্মার সম্পর্ক তৈরি হয় না। আমরা পরিকল্পিতভাবে ভোটারদের ঘরের দরজায় পৌঁছাতে চাই, যাতে তারা বুঝতে পারেন আমরা শুধু ভোটের জন্য আসিনি, আমরা তাদের জীবনমান পরিবর্তনের স্বপ্ন নিয়ে এসেছি।

স্ট্রিম: এনসিপি গত জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল এবং ৬টি আসন লাভ করেছে। জাতীয় নির্বাচনের সেই অভিজ্ঞতা আপনি আপনার এই সিটি নির্বাচনে কীভাবে কাজে লাগাতে চান?

আব্দুর রহমান আফজাল: জাতীয় নির্বাচন আমাদের জন্য একটি অ্যাসিড টেস্ট ছিল। সেখান থেকে আমাদের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—মাঠপর্যায়ে সংগঠনকে যতটা শক্তিশালী করা যাবে, ফল তত ভালো আসবে। আমরা দেখেছি যে শুধু বড় বড় স্লোগান নয়, বরং ভোটারদের প্রকৃত প্রত্যাশা বুঝে কার্যকর প্রচারণা পরিচালনা করাই হলো জয়ের চাবিকাঠি। সিটি নির্বাচন যেহেতু স্থানীয় সমস্যাভিত্তিক, তাই জাতীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতাকে আমরা এখানে আরও বাস্তবমুখী উপায়ে প্রয়োগ করছি। রাস্তাঘাট, পানি, বিদ্যুৎ—এই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সমস্যাগুলো নিয়ে মানুষ যেভাবে ভাবে, জাতীয় নির্বাচনে হয়তো সেই ফোকাসটা ভিন্ন ছিল। তবে সংগঠন পরিচালনার কৌশল এবং প্রতিকূলতা মোকাবিলার সাহস আমরা সেই নির্বাচন থেকেই অর্জন করেছি।

স্ট্রিম: সিলেট একটি ঐতিহাসিক এবং গুরুত্বপূর্ণ শহর। কিন্তু আপনার মতে সিলেটের মূল সমস্যাগুলো কী? আপনি যদি মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হন, তবে গতানুগতিক মেয়রদের বাইরে গিয়ে সিলেটবাসীকে নতুন কী দেবেন?

আব্দুর রহমান আফজাল: সিলেট একটি সম্ভাবনাময় শহর হওয়া সত্ত্বেও সঠিক পরিকল্পনা এবং জবাবদিহির অভাবে আজ ধুঁকছে। গত কয়েক দশকে আমরা দেখেছি পরিকল্পনাহীন নগরায়ন। আমি সিলেটকে একটি আধুনিক, নিরাপদ এবং প্রযুক্তিনির্ভর ‘স্মার্ট সিটি’ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।

প্রথমেই কথা বলি জলাবদ্ধতা ও ড্রেনেজ নিয়ে। এটি সিলেটের বর্তমান সবচেয়ে বড় ক্ষত। প্রতি বছর বর্ষায় সিলেট পানির নিচে চলে যায়। ড্রেন আছে কিন্তু পানি সরে না, কারণ খালগুলো ভরাট হয়ে গেছে এবং ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক বিজ্ঞানভিত্তিক নয়। আমি শুধু রাস্তা উঁচু করার নামে বাজেট অপচয় করব না। আমার পরিকল্পনা হলো একটি ‘সমন্বিত ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যান’ বাস্তবায়ন করা। খালগুলো দখলমুক্ত করে সেগুলোর গভীরতা বাড়ানো হবে এবং আধুনিক ড্রেনেজ সিস্টেমের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশন নিশ্চিত করা হবে।

দ্বিতীয়ত, নাগরিক নিরাপত্তা। বর্তমানে শহরে চুরি, ছিনতাই এবং সামাজিক অস্থিরতা বাড়ছে। আমি ‘স্মার্ট সিটি সিকিউরিটি সিস্টেম’ চালু করব। পুরো শহরকে সিসিটিভি নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হবে এবং একটি কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল থাকবে। এছাড়া দ্রুত রেসপন্স টিম থাকবে যারা আপদকালীন সময়ে নাগরিকদের সহায়তা দেবে।

তৃতীয়ত, সিলেটের অর্থনীতির প্রাণ হলো প্রবাসী আয়। প্রবাসীরা সিলেটে বিনিয়োগ করতে এসে নানা হয়রানির শিকার হন। আমি মেয়রের কার্যালয়ে একটি ডেডিক্যাটেড এনবিআর বিজনেস ফ্যাসিলিটেশন ডেস্ক তৈরি করব। তারা যেন এক জায়গা থেকেই সব আইনি ও কারিগরি সহায়তা পান এবং কোনো হয়রানি ছাড়াই ব্যবসা শুরু করতে পারেন, সেই পরিবেশ আমি নিশ্চিত করব। একই সুবিধা স্থানীয় তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্যও থাকবে।

চতুর্থত, নাগরিক সেবাকে সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজড করব। ট্রেড লাইসেন্স থেকে শুরু করে সব ধরনের ট্যাক্স ও সনদ অনলাইনে পাওয়া যাবে। এতে দুর্নীতি কমবে। আর একটি ইউনিক উদ্যোগ হবে ‘সিটি-ওয়াইড হেলথ ইন্স্যুরেন্স’। সিটি করপোরেশনের অধীনে নাগরিকদের জন্য একটি স্বাস্থ্যবীমা ব্যবস্থা চালু করা আমার অগ্রাধিকার।

স্ট্রিম: বর্তমান সময়ে জেন-জি প্রজন্মের আলাদা রাজনৈতিক গুরুত্ব আছে। সিলেটের জেন-জিদের নিয়ে আপনি কী ভাবছেন? আপনার ইশতেহারে তাদের জন্য কী থাকছে?

আব্দুর রহমান আফজাল: জেন-জিরা প্রথাগত রাজনীতির বাইরে চিন্তা করে। তারা বক্তৃতায় বিশ্বাস করে না, ফলাফল দেখতে চায়। আমার নির্বাচনী পরিকল্পনায় জেন-জিরা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

আমি তাদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেব। ফেসবুক লাইভ, পডকাস্ট বা শর্ট ভিডিওর মাধ্যমে আমি তাদের প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেব। জেন-জিদের প্রধান চিন্তা তাদের ক্যারিয়ার। সিলেট সিটির উদ্যোগে আমি ‘ফ্রি স্কিল ট্রেনিং সেন্টার’ এবং ‘ফ্রিল্যান্সিং হাব’ গড়ে তুলব। সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আমি তাদের পার্টনার বানাতে চাই। একতরফা বক্তৃতা নয়, বরং ‘টাউনহল মিটিং’-এর আয়োজন করব যেখানে তরুণরা আমাকে বলবে যে তারা কী চায়। পরিচ্ছন্নতা অভিযান বা রক্তদানের মতো সামাজিক কাজে তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আমি নিশ্চিত করব। তরুণরা যদি দেখে তাদের আইডিয়া অনুযায়ী শহর চলছে, তবেই তারা আমাকে সমর্থন দেবে।

স্ট্রিম: শোনা যাচ্ছে যে আসন্ন স্থানীয় নির্বাচন দলীয় প্রতীকে না হয়ে নির্দলীয় হতে পারে। এটি আপনার জন্য কতটা সুবিধাজনক বা অসুবিধাজনক বলে মনে করেন?

আব্দুর রহমান আফজাল: দলীয় প্রতীক ছাড়া নির্বাচন হলে সেটি ব্যক্তিগত যোগ্যতা এবং গ্রহণযোগ্যতার বড় একটি পরীক্ষা হয়। আমি মনে করি এটি একটি ইতিবাচক দিক হতে পারে যদি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত হয়। এতে করে দলবাজির চেয়ে প্রার্থীর কাজ এবং ভিশন বেশি প্রাধান্য পায়। জনগণ সরাসরি বিচার করতে পারবে কে তাদের জন্য যোগ্য। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, আমার দীর্ঘদিনের সামাজিক ও রাজনৈতিক কাজ আমাকে মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করেছে, তাই প্রতীকের চেয়ে কাজই আমার মূল শক্তি হবে।

স্ট্রিম: জাতীয় নির্বাচনে এনসিপি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটবদ্ধ ছিল। কিন্তু স্থানীয় নির্বাচনে দেখা যাচ্ছে আপনারাও প্রার্থী দিচ্ছেন, আবার জামায়াতও প্রার্থী দিচ্ছে। এতে কি জোটের মধ্যে কোনো বিরোধ তৈরি হবে না? অথবা ভোটের অঙ্কে কি কোনো প্রভাব পড়বে না?

আব্দুর রহমান আফজাল: জাতীয় নির্বাচন এবং স্থানীয় নির্বাচন দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বাস্তবতা। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা এবং এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়। আলাদা প্রার্থী থাকা মানেই এই নয় যে আমাদের মধ্যে কোনো বিরোধ আছে। এটি একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক প্রতিযোগিতার অংশ হতে পারে। তবে আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, এনসিপি একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক শক্তি। আমরা ১১ দলীয় ঐক্যজোটের অংশ। আমাদের দলের নীতিনির্ধারক ও জোটের নেতা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন, আমি তার প্রতি অনুগত থাকব। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না। তবে আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের কর্মসূচি ও পরিকল্পনা অন্য যেকোনো দলের চেয়ে ভিন্ন এবং বাস্তবসম্মত।

স্ট্রিম: সিলেট সিটির ভোটারদের উদ্দেশ্যে আপনি কী বলতে চান?

আব্দুর রহমান আফজাল: সিলেটবাসীর উদ্দেশ্যে আমার একটিই বার্তা—আপনারা একবার পরিবর্তনের পক্ষে দাঁড়ান। আমরা এমন একটি সিটি করপোরেশন চাই যেখানে সাধারণ মানুষকে তাদের হকের জন্য কোনো কর্মকর্তার পিছে ঘুরতে হবে না। আমি দুর্নীতিমুক্ত, বাসযোগ্য এবং নিরাপদ সিলেটের অঙ্গীকার করছি। আমি প্রতিশ্রুতি দিয়ে নয়, কাজ দিয়ে আপনাদের বিশ্বাস অর্জন করতে চাই। আপনাদের একটি ভোট শুধু মেয়র নির্বাচনের জন্য নয়, বরং সিলেটের আগামী প্রজন্মের ভাগ্য বদলের জন্য। দোয়া এবং সমর্থন পেলে আমি সিলেটকে দেশের সেরা এবং আধুনিক শহর হিসেবে গড়ে তুলব, ইনশাআল্লাহ।

স্ট্রিম: আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ সময় দেওয়ার জন্য।

আব্দুর রহমান আফজাল: আপনাকেও ধন্যবাদ। স্ট্রিমের সব পাঠকের জন্য ভালোবাসা রইল।

সর্বাধিক পঠিত
লেটেস্ট
Ad 300x250

সম্পর্কিত