ইমরান হোসাইন

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (এসসিবিএ) আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ৪০ জনের বেশি প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এই মনোনয়ন বাতিল প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন উপকমিটি, বারের বর্তমান অ্যাডহক কমিটি এবং বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে মতবিরোধ ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগের সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে বার প্রাঙ্গণে।
প্রার্থীরা বলছেন, কোনো নোটিশ বা কারণ দর্শানো ছাড়াই ওপরের নির্দেশে অবৈধভাবে তাঁদের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। অন্যদিকে নির্বাচন উপকমিটি বলছে, মনোনয়ন যাচাই-বাছাই করা তাঁদের কাজ নয়, এটি সম্পাদকের বিধিসম্মত দায়িত্ব। তবে বারের অ্যাডহক কমিটি ও বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীদের দাবি—জুলাইযোদ্ধা ও সাধারণ আইনজীবীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষ সাধারণ সভার (ইজিএম) সিদ্ধান্ত ও সরকারি গেজেট অনুযায়ী প্রার্থিতা বাতিলের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বাছাইয়ের দায়িত্ব সম্পাদকের, আমার নয়
নির্বাচন উপকমিটির আহ্বায়ক ও সাবেক বিচারপতি মেফতাহ উদ্দিন চৌধুরী জানিয়েছেন, মনোনয়ন যাচাই-বাছাই (স্ক্রুটিনি) করার দায়িত্ব নির্বাচন উপকমিটির নয়, বরং এটি বারের বর্তমান সম্পাদকের দায়িত্ব।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, তিনি ছয় সদস্যবিশিষ্ট নির্বাচন উপকমিটির আহ্বায়ক। গত ২৭ তারিখ তিনি উপকমিটি সংক্রান্ত একটি চিঠি পেয়েছেন। এ বিষয়ে একটি রেজল্যুশনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, "এরা আগের দিন একটা রেজল্যুশন দিয়েছে। আমি বললাম রেজল্যুশনটা কী আমাকে দাও। আমাকে গতকাল বিকেলে একটা রেজল্যুশন দিয়েছে। এখন ওই রেজল্যুশনের ভাষ্য অনুযায়ী যে বা যারা আওয়ামী লীগ বা আওয়ামী লীগের দোসর বা স্বৈরাচারের দোসর, যেটা আমরা সাধারণ ভাষায় বলি, এরা এখানে ভোট করতে পারবে না।"
মনোনয়ন যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, "নিয়ম হলো মনোনয়ন দাখিল পরবর্তীতে মনোনয়ন পত্রটা স্ক্রুটিনি হয়। স্ক্রুটিনি হলে কিছু মঞ্জুর হয়, কিছু বাদ পড়ে। মঞ্জুর যাদের হয়, এটা আবার প্রত্যাহারের একটা সময় থাকে। কেউ যদি প্রত্যাহার করে, তারপরে নির্বাচন হয়। প্রত্যাহারের সময়টা এখন ৩ তারিখ পর্যন্ত আছে।"
বাছাইয়ের দায়িত্ব কার—সে বিষয়ে স্পষ্ট করে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, "স্ক্রুটিনির (যাচাই-বাছাই) দায়িত্বটা হচ্ছে বর্তমান সম্পাদকের। এটা আমাদের সুপ্রিম কোর্ট বারের সংবিধান অনুযায়ী সম্পাদকের দায়িত্ব। আমাকে বলেছিল স্ক্রুটিনি করতে, আমি বললাম দুঃখিত, আমি পারব না। এটা আইন অনুযায়ী আমার দায়িত্ব না।"
প্রার্থিতা বাতিলের বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি বলেন, "সম্পাদকের দায়িত্ব, সম্পাদক করবেন। আমি ওটায় যাব না। আমি যাইনি। কাকে কাকে তারা বাদ দিয়েছে, কাদের বাদ দেয়নি এটা আমি জানিও না, জানতে চাইও না। এটা ওদের দায়িত্ব, আমার কী।"
বাতিল হওয়া প্রার্থীদের অসন্তোষের বিষয়ে তিনি বলেন, "বাদ দেওয়াতে একপক্ষ তো অবশ্যই অসন্তুষ্ট। এরা বারের সদস্য। এটা বার বুঝবে। আমার দায়িত্ব এইটা না, আমি যাইনি। শেষ! আমার আর কোনো কথা নেই।"
যাদের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে, বারের গঠনতন্ত্র সেটি অনুমতি দেয় কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "ওইটা সম্পাদক বলবেন। এটা নিয়ে আমি কোনো কথা বলব না। আমার দৃষ্টিভঙ্গি যাই হোক, আমি এটা বলতে যাব না। আই এম নট আ পার্ট অব দ্যাট স্ক্রুটিনি। এটা সাংবিধানিক দায়িত্ব।" সবশেষে তিনি বলেন, "নির্বাচন কমিশনের আমি যেটা বুঝতেছি কাজ হলো নির্বাচন পরিচালনা করা। ৩ তারিখের পরেই আমার আলাপটা শুরু হবে।"
বিনা নোটিশে প্রার্থিতা বাতিল: ক্ষুব্ধ প্রার্থীরা
মনোনয়ন বাতিল হওয়া সম্পাদক পদপ্রার্থী মোতাহার হোসেন সাজু অভিযোগ করেছেন, কোনো ধরনের নোটিশ বা প্রকাশ্যে যাচাই-বাছাই ছাড়াই ৪০ জনের বেশি প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা সুপ্রিম কোর্ট অঙ্গনের জন্য অযৌক্তিক, অবৈধ ও কলঙ্কজনক। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "কালকেও যখন তথাকথিত একটি স্ক্রুটিনি দেখানো হয়েছে, যেখানে স্ক্রুটিনি হয় সবসময় প্রার্থী, প্রস্তাবক, সমর্থকদের উপস্থিতিতে। বাতিলকৃত প্রার্থীদের সামনে কোনো স্ক্রুটিনি হয়নি। বৈধ-অবৈধর কোনো প্রশ্ন এখানে নেই।"
তিনি আরও বলেন, "যাদের এভাবে তথাকথিত বাদ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের আজ পর্যন্ত জানার কোনো সুযোগও হয়নি আসলে তাঁদের কী কারণে বাদ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন উপকমিটির যিনি আহ্বায়ক ছিলেন, সাবেক বিচারপতি মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী, তিনি কালকে কিন্তু সেই সভায় উপস্থিত ছিলেন না। আরও দুইজন সদস্যও অনুপস্থিত ছিলেন।" বাতিলের কাজটা যখন সম্পাদক নিজ দায়িত্বে নিয়েছেন, তাঁরা আর উপস্থিত থাকেননি বলে দাবি করেছেন আইনজীবী সাজু।
রাজনৈতিক পরিচয়ের ধোঁয়া তুলে প্রার্থিতা বাতিল বারের গঠনতন্ত্র পরিপন্থী উল্লেখ করে তিনি বলেন, "আমাদের মধ্যে কোনো প্যানেল নেই, কোনো দল নেই। এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন তিনিও কিন্তু ওই বিশেষ সাধারণ সভায় উপস্থিত ছিলেন না। আমি যতটুকু শুনেছি তাঁদের যে অভ্যন্তরীণ ফোরামে বৈঠক হয়েছে, সেখানেও তিনি একমত হননি।" আইনজীবী সাজু এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, জয়নুল আবেদীন, রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং বদরুদ্দোজা বাদলের মতো জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবি জানান।
সদস্য পদের প্রার্থী ব্যারিস্টার উপমা বিশ্বাস ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “১৫(২) নিয়ম অনুযায়ী আমাদের সদস্যপদ আছে, ফি দেওয়া আছে এবং ভোটার তালিকায় নাম আছে। কিন্তু তারপরও তাঁরা কোনো ধরনের অফিশিয়াল কারণ না দেখিয়ে আমার প্রার্থিতা বাতিল করেছেন।” তিনি বলেন, “সুপ্রিম কোর্ট বার তো একটা পেশাজীবী সংগঠন। এটা কোনো রাজনৈতিক নির্বাচন না। আমাদের এখানে আমি খ্রিস্টান। আরেকজন প্রার্থী ছিলেন তিনি বৌদ্ধ এবং আদিবাসী। আরেকজন ছিলেন ইসলাম ধর্মের। আমি যদি আজকে এই নির্বাচনটা করতাম, খ্রিস্টান কমিউনিটি থেকে আমি প্রথম কোনো নারী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতাম। অথচ এখানে আমার সাংবিধানিক অধিকার খর্ব করা হয়েছে।”
ট্রেজারার পদের প্রার্থী সাগরিকা ইসলাম বলেন, "আমি একদম ব্যক্তিগতভাবে ৯ জনের সমর্থন নিয়ে ট্রেজারার প্রার্থী হিসেবে তিনটি মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছি। তিনটি ফরমই তাঁরা বাতিল করেছেন। ব্যাখ্যা চাইলে তাঁরা বলছেন, 'আমরা জানি না, এরা ওপর থেকে বাছাই হয়েছে।' তাঁরা হচ্ছেন পুতুল। তাঁরা শুধু নাম ঘোষণা করেছেন।" তিনি বলেন, "আমি কোনো দল বা দলীয় মনোনয়ন থেকে ফরম জমা দিইনি। আমরা আওয়ামী লীগও করি না, বিএনপিও করি না, জামায়াতও করি না। আমার জন্মের পর আমি শুনিনি যে কোনো দল সমর্থন করলে তার মনোনয়ন বাতিল হয়ে যাবে।"
কী আছে গঠনতন্ত্রে
গঠনতন্ত্রের ১৫ (৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, যাচাই-বাছাইয়ের (স্ক্রুটিনি) জন্য নির্ধারিত দিনে সমিতির সম্পাদক প্রস্তাবিত প্রার্থীদের যোগ্যতা ও মনোনয়ন ফরম খতিয়ে দেখবেন। প্রার্থীর সম্মতিসূচক স্বাক্ষর, নির্ধারিত ফি এবং সদস্যপদের মেয়াদ (সভাপতি ২০ বছর, সম্পাদক ১০ বছর ইত্যাদি) পূরণে ঘাটতি থাকলে সম্পাদক মনোনয়ন বাতিল করতে পারেন। তবে গঠনতন্ত্রে বলা আছে, সম্পাদকের যাচাই-বাছাই বা প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে যদি কোনো বিতর্ক বা আপত্তি দেখা দেয়, তবে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একটি সাধারণ সভা বা 'জেনারেল মিটিং' ডাকতে হবে। সেই সাধারণ সভাতেই সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে।
জুলাই যোদ্ধাদের দাবিতে প্রার্থিতা বাতিল: বিএনপি নেতারা
বিএনপির নবনির্বাচিত আইন সম্পাদক বদরুদ্দোজা বাদল জানিয়েছেন, ‘জুলাই যোদ্ধা’ ও সাধারণ আইনজীবীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষ সাধারণ সভার (ইজিএম) মাধ্যমে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সমর্থকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন। তিনি বলেন, “জুলাই যোদ্ধাসহ অনেকেই সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনে লিখিত দরখাস্ত দিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, যারাই ইতিপূর্বে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্যানেলে বা ব্যানারে নির্বাচন করেছে বা সমর্থন করেছে, তাঁদেরকে যেন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া না হয়। জুলাই যোদ্ধাদের এবং অনেক সাধারণ আইনজীবীদের দরখাস্তের পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট বার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”
জোর করে বার দখলের অভিযোগ নাকচ করে তিনি বলেন, "সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন তাঁদের সদস্যদের চাওয়া-পাওয়াকে কার্যকর করার জন্য প্রতিটি সিদ্ধান্ত সাধারণ সভায় দিয়ে বাস্তবায়ন করছে।"
জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম (সুপ্রিম কোর্ট) সদস্যসচিব আইনজীবী গাজী তৌহিদুল ইসলাম বলেন, “২৬ তারিখ একটা জরুরি সাধারণ সভা হয়েছে। জুলাই যোদ্ধারা সুপ্রিম কোর্টের সভাপতির রুমের সামনে অবস্থান নিয়ে স্মারকলিপি দিয়েছে। এছাড়া প্রায় ৫০০ থেকে ৭০০ সাধারণ আইনজীবী আবেদন দিয়েছেন যাতে করে ফ্যাসিষ্টের দোসর নিষিদ্ধ সংগঠনের কেউ এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারে।”
তিনি বলেন, “নির্বাচনে যারা অংশগ্রহণ করছে, আপনি দেখবেন এনসিপির প্রার্থী আছে, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আছে এবং বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী রয়েছে, স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছে। এখানে যারা শুধুমাত্র নিষিদ্ধ সংগঠনের এবং তাদের সহযোগী হিসেবে অতীতে ছিল, বর্তমানে রয়েছে, শুধুমাত্র তারাই অযোগ্য ঘোষিত হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “ইতিমধ্যে সরকার কর্তৃক এই দলটি নিষিদ্ধ হয়েছে। যেহেতু নিষিদ্ধ হয়েছে, তাহলে নিষিদ্ধ সংগঠনের কেউ নির্বাচনে আসার তো কোনো আইনগত সুযোগ নেই। তাঁরা আইনের দ্বারা বারিত হয়েছেন। আমরা কিন্তু কাউকে বারিত করিনি।”
মনোনয়ন বাতিল হওয়া সবার দলীয় সম্পৃক্ততার প্রমাণ আছে: হুমায়ুন কবির মঞ্জু
প্রার্থিতা বাতিলের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহফুজুর রহমান মিলনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি নির্বাচনী মুখপাত্র ও সিনিয়র সহসভাপতি হুমায়ুন কবির মঞ্জুর সাথে কথা বলতে বলেন। হুমায়ুন কবির মঞ্জু বলেন, “যাদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে, তাঁদের দলীয় সম্পৃক্ততার দালিলিক প্রমাণ (ডকুমেন্টারি) সমিতির কাছে রয়েছে। বাংলাদেশ গেজেটে সরকার যে আওয়ামী লীগ এবং তার ফ্যাসিস্ট অঙ্গসংগঠন, দোসর যারা ছিল, তাদের ব্যাপারে তো একটা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা বাংলাদেশের কোনো কাজে যুক্ত হতে পারবে না—এরকম একটা গেজেট নোটিফিকেশন জারি ও কার্যকর হয়েছে।”
তিনি বলেন, “যারা সরাসরি আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের সাথে সরাসরি জড়িত, তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তাঁদেরকে বাদ দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্র আইনিভাবে তাঁদের বয়কট করে রেখেছে। সুতরাং সেক্ষেত্রে তো আমাদের কিছু করণীয় নেই।” তিনি আরও জানান, “অনেকে টাকা তুলে নিয়ে নিজেরা নিজেদের মনোনয়ন ফরম প্রত্যাহার করে নিয়েছে। তাঁদের তো কেউ বাধ্য করেনি।”
সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য ‘জেনারেল মিটিং’ ডাকার সুযোগ আছে কি না—জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির মঞ্জু বলেন, “সেরকম কোনো অভিযোগ আমাদের সামনে আসেনি। আসলে পরে আমরা জেনারেল মিটিংয়ে সেটা নিয়ে যেতাম। আমরা সেজন্য দ্বার উন্মুক্ত রেখেছি। যদি তাঁদের কোনো দাবিদাওয়া থাকে, তাহলে আমরা সেটা জেনারেল মিটিংয়ে আলোচনা করব। আইনজীবীরা যে সিদ্ধান্ত দেবেন, ওইটাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।”
যাচাই-বাছাই শেষে টিকে যাওয়া প্রার্থীদের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, সভাপতি পদে ৫ জনের মধ্যে ৩ জনের, সহসভাপতি পদে ৫ জনের মধ্যে ৫ জনের, যুগ্ম সম্পাদকে ১৫ জনের মধ্যে ৮ জনের, কোষাধ্যক্ষে ৫ জনের মধ্যে ৩ জনের, সহকারী সম্পাদকে ১৬ জনের মধ্যে ৬ জনের এবং সদস্য পদে ৪৪ জনের মধ্যে ২৩ জনের মনোনয়ন বৈধ হয়েছে।
এদিকে গত মঙ্গলবার মনোনয়ন পত্র যাচাই-বাছাই শেষে প্রার্থিতা বাতিলের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অন্যদিকে, বিএনপি সমর্থিত ১৪ জন, জামায়াত সমর্থিত ১২ জন এবং এনসিপি সমর্থিতদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। আগামী ১৩ ও ১৪ মে সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে সভাপতি ও সম্পাদকসহ মোট ১৪টি পদে এক বছরের জন্য নেতৃত্ব নির্বাচন করবেন আইনজীবীরা।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (এসসিবিএ) আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ৪০ জনের বেশি প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এই মনোনয়ন বাতিল প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন উপকমিটি, বারের বর্তমান অ্যাডহক কমিটি এবং বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে মতবিরোধ ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগের সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে বার প্রাঙ্গণে।
প্রার্থীরা বলছেন, কোনো নোটিশ বা কারণ দর্শানো ছাড়াই ওপরের নির্দেশে অবৈধভাবে তাঁদের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। অন্যদিকে নির্বাচন উপকমিটি বলছে, মনোনয়ন যাচাই-বাছাই করা তাঁদের কাজ নয়, এটি সম্পাদকের বিধিসম্মত দায়িত্ব। তবে বারের অ্যাডহক কমিটি ও বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীদের দাবি—জুলাইযোদ্ধা ও সাধারণ আইনজীবীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষ সাধারণ সভার (ইজিএম) সিদ্ধান্ত ও সরকারি গেজেট অনুযায়ী প্রার্থিতা বাতিলের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বাছাইয়ের দায়িত্ব সম্পাদকের, আমার নয়
নির্বাচন উপকমিটির আহ্বায়ক ও সাবেক বিচারপতি মেফতাহ উদ্দিন চৌধুরী জানিয়েছেন, মনোনয়ন যাচাই-বাছাই (স্ক্রুটিনি) করার দায়িত্ব নির্বাচন উপকমিটির নয়, বরং এটি বারের বর্তমান সম্পাদকের দায়িত্ব।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, তিনি ছয় সদস্যবিশিষ্ট নির্বাচন উপকমিটির আহ্বায়ক। গত ২৭ তারিখ তিনি উপকমিটি সংক্রান্ত একটি চিঠি পেয়েছেন। এ বিষয়ে একটি রেজল্যুশনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, "এরা আগের দিন একটা রেজল্যুশন দিয়েছে। আমি বললাম রেজল্যুশনটা কী আমাকে দাও। আমাকে গতকাল বিকেলে একটা রেজল্যুশন দিয়েছে। এখন ওই রেজল্যুশনের ভাষ্য অনুযায়ী যে বা যারা আওয়ামী লীগ বা আওয়ামী লীগের দোসর বা স্বৈরাচারের দোসর, যেটা আমরা সাধারণ ভাষায় বলি, এরা এখানে ভোট করতে পারবে না।"
মনোনয়ন যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, "নিয়ম হলো মনোনয়ন দাখিল পরবর্তীতে মনোনয়ন পত্রটা স্ক্রুটিনি হয়। স্ক্রুটিনি হলে কিছু মঞ্জুর হয়, কিছু বাদ পড়ে। মঞ্জুর যাদের হয়, এটা আবার প্রত্যাহারের একটা সময় থাকে। কেউ যদি প্রত্যাহার করে, তারপরে নির্বাচন হয়। প্রত্যাহারের সময়টা এখন ৩ তারিখ পর্যন্ত আছে।"
বাছাইয়ের দায়িত্ব কার—সে বিষয়ে স্পষ্ট করে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, "স্ক্রুটিনির (যাচাই-বাছাই) দায়িত্বটা হচ্ছে বর্তমান সম্পাদকের। এটা আমাদের সুপ্রিম কোর্ট বারের সংবিধান অনুযায়ী সম্পাদকের দায়িত্ব। আমাকে বলেছিল স্ক্রুটিনি করতে, আমি বললাম দুঃখিত, আমি পারব না। এটা আইন অনুযায়ী আমার দায়িত্ব না।"
প্রার্থিতা বাতিলের বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি বলেন, "সম্পাদকের দায়িত্ব, সম্পাদক করবেন। আমি ওটায় যাব না। আমি যাইনি। কাকে কাকে তারা বাদ দিয়েছে, কাদের বাদ দেয়নি এটা আমি জানিও না, জানতে চাইও না। এটা ওদের দায়িত্ব, আমার কী।"
বাতিল হওয়া প্রার্থীদের অসন্তোষের বিষয়ে তিনি বলেন, "বাদ দেওয়াতে একপক্ষ তো অবশ্যই অসন্তুষ্ট। এরা বারের সদস্য। এটা বার বুঝবে। আমার দায়িত্ব এইটা না, আমি যাইনি। শেষ! আমার আর কোনো কথা নেই।"
যাদের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে, বারের গঠনতন্ত্র সেটি অনুমতি দেয় কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "ওইটা সম্পাদক বলবেন। এটা নিয়ে আমি কোনো কথা বলব না। আমার দৃষ্টিভঙ্গি যাই হোক, আমি এটা বলতে যাব না। আই এম নট আ পার্ট অব দ্যাট স্ক্রুটিনি। এটা সাংবিধানিক দায়িত্ব।" সবশেষে তিনি বলেন, "নির্বাচন কমিশনের আমি যেটা বুঝতেছি কাজ হলো নির্বাচন পরিচালনা করা। ৩ তারিখের পরেই আমার আলাপটা শুরু হবে।"
বিনা নোটিশে প্রার্থিতা বাতিল: ক্ষুব্ধ প্রার্থীরা
মনোনয়ন বাতিল হওয়া সম্পাদক পদপ্রার্থী মোতাহার হোসেন সাজু অভিযোগ করেছেন, কোনো ধরনের নোটিশ বা প্রকাশ্যে যাচাই-বাছাই ছাড়াই ৪০ জনের বেশি প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা সুপ্রিম কোর্ট অঙ্গনের জন্য অযৌক্তিক, অবৈধ ও কলঙ্কজনক। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "কালকেও যখন তথাকথিত একটি স্ক্রুটিনি দেখানো হয়েছে, যেখানে স্ক্রুটিনি হয় সবসময় প্রার্থী, প্রস্তাবক, সমর্থকদের উপস্থিতিতে। বাতিলকৃত প্রার্থীদের সামনে কোনো স্ক্রুটিনি হয়নি। বৈধ-অবৈধর কোনো প্রশ্ন এখানে নেই।"
তিনি আরও বলেন, "যাদের এভাবে তথাকথিত বাদ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের আজ পর্যন্ত জানার কোনো সুযোগও হয়নি আসলে তাঁদের কী কারণে বাদ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন উপকমিটির যিনি আহ্বায়ক ছিলেন, সাবেক বিচারপতি মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী, তিনি কালকে কিন্তু সেই সভায় উপস্থিত ছিলেন না। আরও দুইজন সদস্যও অনুপস্থিত ছিলেন।" বাতিলের কাজটা যখন সম্পাদক নিজ দায়িত্বে নিয়েছেন, তাঁরা আর উপস্থিত থাকেননি বলে দাবি করেছেন আইনজীবী সাজু।
রাজনৈতিক পরিচয়ের ধোঁয়া তুলে প্রার্থিতা বাতিল বারের গঠনতন্ত্র পরিপন্থী উল্লেখ করে তিনি বলেন, "আমাদের মধ্যে কোনো প্যানেল নেই, কোনো দল নেই। এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন তিনিও কিন্তু ওই বিশেষ সাধারণ সভায় উপস্থিত ছিলেন না। আমি যতটুকু শুনেছি তাঁদের যে অভ্যন্তরীণ ফোরামে বৈঠক হয়েছে, সেখানেও তিনি একমত হননি।" আইনজীবী সাজু এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, জয়নুল আবেদীন, রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং বদরুদ্দোজা বাদলের মতো জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবি জানান।
সদস্য পদের প্রার্থী ব্যারিস্টার উপমা বিশ্বাস ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “১৫(২) নিয়ম অনুযায়ী আমাদের সদস্যপদ আছে, ফি দেওয়া আছে এবং ভোটার তালিকায় নাম আছে। কিন্তু তারপরও তাঁরা কোনো ধরনের অফিশিয়াল কারণ না দেখিয়ে আমার প্রার্থিতা বাতিল করেছেন।” তিনি বলেন, “সুপ্রিম কোর্ট বার তো একটা পেশাজীবী সংগঠন। এটা কোনো রাজনৈতিক নির্বাচন না। আমাদের এখানে আমি খ্রিস্টান। আরেকজন প্রার্থী ছিলেন তিনি বৌদ্ধ এবং আদিবাসী। আরেকজন ছিলেন ইসলাম ধর্মের। আমি যদি আজকে এই নির্বাচনটা করতাম, খ্রিস্টান কমিউনিটি থেকে আমি প্রথম কোনো নারী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতাম। অথচ এখানে আমার সাংবিধানিক অধিকার খর্ব করা হয়েছে।”
ট্রেজারার পদের প্রার্থী সাগরিকা ইসলাম বলেন, "আমি একদম ব্যক্তিগতভাবে ৯ জনের সমর্থন নিয়ে ট্রেজারার প্রার্থী হিসেবে তিনটি মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছি। তিনটি ফরমই তাঁরা বাতিল করেছেন। ব্যাখ্যা চাইলে তাঁরা বলছেন, 'আমরা জানি না, এরা ওপর থেকে বাছাই হয়েছে।' তাঁরা হচ্ছেন পুতুল। তাঁরা শুধু নাম ঘোষণা করেছেন।" তিনি বলেন, "আমি কোনো দল বা দলীয় মনোনয়ন থেকে ফরম জমা দিইনি। আমরা আওয়ামী লীগও করি না, বিএনপিও করি না, জামায়াতও করি না। আমার জন্মের পর আমি শুনিনি যে কোনো দল সমর্থন করলে তার মনোনয়ন বাতিল হয়ে যাবে।"
কী আছে গঠনতন্ত্রে
গঠনতন্ত্রের ১৫ (৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, যাচাই-বাছাইয়ের (স্ক্রুটিনি) জন্য নির্ধারিত দিনে সমিতির সম্পাদক প্রস্তাবিত প্রার্থীদের যোগ্যতা ও মনোনয়ন ফরম খতিয়ে দেখবেন। প্রার্থীর সম্মতিসূচক স্বাক্ষর, নির্ধারিত ফি এবং সদস্যপদের মেয়াদ (সভাপতি ২০ বছর, সম্পাদক ১০ বছর ইত্যাদি) পূরণে ঘাটতি থাকলে সম্পাদক মনোনয়ন বাতিল করতে পারেন। তবে গঠনতন্ত্রে বলা আছে, সম্পাদকের যাচাই-বাছাই বা প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে যদি কোনো বিতর্ক বা আপত্তি দেখা দেয়, তবে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একটি সাধারণ সভা বা 'জেনারেল মিটিং' ডাকতে হবে। সেই সাধারণ সভাতেই সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে।
জুলাই যোদ্ধাদের দাবিতে প্রার্থিতা বাতিল: বিএনপি নেতারা
বিএনপির নবনির্বাচিত আইন সম্পাদক বদরুদ্দোজা বাদল জানিয়েছেন, ‘জুলাই যোদ্ধা’ ও সাধারণ আইনজীবীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষ সাধারণ সভার (ইজিএম) মাধ্যমে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সমর্থকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন। তিনি বলেন, “জুলাই যোদ্ধাসহ অনেকেই সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনে লিখিত দরখাস্ত দিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, যারাই ইতিপূর্বে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্যানেলে বা ব্যানারে নির্বাচন করেছে বা সমর্থন করেছে, তাঁদেরকে যেন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া না হয়। জুলাই যোদ্ধাদের এবং অনেক সাধারণ আইনজীবীদের দরখাস্তের পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট বার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”
জোর করে বার দখলের অভিযোগ নাকচ করে তিনি বলেন, "সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন তাঁদের সদস্যদের চাওয়া-পাওয়াকে কার্যকর করার জন্য প্রতিটি সিদ্ধান্ত সাধারণ সভায় দিয়ে বাস্তবায়ন করছে।"
জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম (সুপ্রিম কোর্ট) সদস্যসচিব আইনজীবী গাজী তৌহিদুল ইসলাম বলেন, “২৬ তারিখ একটা জরুরি সাধারণ সভা হয়েছে। জুলাই যোদ্ধারা সুপ্রিম কোর্টের সভাপতির রুমের সামনে অবস্থান নিয়ে স্মারকলিপি দিয়েছে। এছাড়া প্রায় ৫০০ থেকে ৭০০ সাধারণ আইনজীবী আবেদন দিয়েছেন যাতে করে ফ্যাসিষ্টের দোসর নিষিদ্ধ সংগঠনের কেউ এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারে।”
তিনি বলেন, “নির্বাচনে যারা অংশগ্রহণ করছে, আপনি দেখবেন এনসিপির প্রার্থী আছে, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আছে এবং বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী রয়েছে, স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছে। এখানে যারা শুধুমাত্র নিষিদ্ধ সংগঠনের এবং তাদের সহযোগী হিসেবে অতীতে ছিল, বর্তমানে রয়েছে, শুধুমাত্র তারাই অযোগ্য ঘোষিত হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “ইতিমধ্যে সরকার কর্তৃক এই দলটি নিষিদ্ধ হয়েছে। যেহেতু নিষিদ্ধ হয়েছে, তাহলে নিষিদ্ধ সংগঠনের কেউ নির্বাচনে আসার তো কোনো আইনগত সুযোগ নেই। তাঁরা আইনের দ্বারা বারিত হয়েছেন। আমরা কিন্তু কাউকে বারিত করিনি।”
মনোনয়ন বাতিল হওয়া সবার দলীয় সম্পৃক্ততার প্রমাণ আছে: হুমায়ুন কবির মঞ্জু
প্রার্থিতা বাতিলের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহফুজুর রহমান মিলনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি নির্বাচনী মুখপাত্র ও সিনিয়র সহসভাপতি হুমায়ুন কবির মঞ্জুর সাথে কথা বলতে বলেন। হুমায়ুন কবির মঞ্জু বলেন, “যাদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে, তাঁদের দলীয় সম্পৃক্ততার দালিলিক প্রমাণ (ডকুমেন্টারি) সমিতির কাছে রয়েছে। বাংলাদেশ গেজেটে সরকার যে আওয়ামী লীগ এবং তার ফ্যাসিস্ট অঙ্গসংগঠন, দোসর যারা ছিল, তাদের ব্যাপারে তো একটা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা বাংলাদেশের কোনো কাজে যুক্ত হতে পারবে না—এরকম একটা গেজেট নোটিফিকেশন জারি ও কার্যকর হয়েছে।”
তিনি বলেন, “যারা সরাসরি আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের সাথে সরাসরি জড়িত, তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তাঁদেরকে বাদ দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্র আইনিভাবে তাঁদের বয়কট করে রেখেছে। সুতরাং সেক্ষেত্রে তো আমাদের কিছু করণীয় নেই।” তিনি আরও জানান, “অনেকে টাকা তুলে নিয়ে নিজেরা নিজেদের মনোনয়ন ফরম প্রত্যাহার করে নিয়েছে। তাঁদের তো কেউ বাধ্য করেনি।”
সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য ‘জেনারেল মিটিং’ ডাকার সুযোগ আছে কি না—জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির মঞ্জু বলেন, “সেরকম কোনো অভিযোগ আমাদের সামনে আসেনি। আসলে পরে আমরা জেনারেল মিটিংয়ে সেটা নিয়ে যেতাম। আমরা সেজন্য দ্বার উন্মুক্ত রেখেছি। যদি তাঁদের কোনো দাবিদাওয়া থাকে, তাহলে আমরা সেটা জেনারেল মিটিংয়ে আলোচনা করব। আইনজীবীরা যে সিদ্ধান্ত দেবেন, ওইটাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।”
যাচাই-বাছাই শেষে টিকে যাওয়া প্রার্থীদের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, সভাপতি পদে ৫ জনের মধ্যে ৩ জনের, সহসভাপতি পদে ৫ জনের মধ্যে ৫ জনের, যুগ্ম সম্পাদকে ১৫ জনের মধ্যে ৮ জনের, কোষাধ্যক্ষে ৫ জনের মধ্যে ৩ জনের, সহকারী সম্পাদকে ১৬ জনের মধ্যে ৬ জনের এবং সদস্য পদে ৪৪ জনের মধ্যে ২৩ জনের মনোনয়ন বৈধ হয়েছে।
এদিকে গত মঙ্গলবার মনোনয়ন পত্র যাচাই-বাছাই শেষে প্রার্থিতা বাতিলের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অন্যদিকে, বিএনপি সমর্থিত ১৪ জন, জামায়াত সমর্থিত ১২ জন এবং এনসিপি সমর্থিতদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। আগামী ১৩ ও ১৪ মে সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে সভাপতি ও সম্পাদকসহ মোট ১৪টি পদে এক বছরের জন্য নেতৃত্ব নির্বাচন করবেন আইনজীবীরা।

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সবুজ পাহাড় আর ঘন বনভূমির মাঝে অবস্থিত মৌলভীবাজার ‘চায়ের রাজধানী’ নামে পরিচিত। অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এই জনপদ শুধু পর্যটনের জন্য নয়, দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ।
১ ঘণ্টা আগে
জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনের সুবিধার্থে ভোটার হওয়া বা এনআইডি আবেদনের ক্ষেত্রে কেউ এসএসসি পাস করে থাকলে তাঁর সনদ সার্ভারে আপলোড করা বাধ্যতামূলক করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
১ ঘণ্টা আগে
হামের রোগী সামলাতে দেশের চিকিৎসাকেন্দ্রগুলো যখন গলদঘর্ম, ডিএনসিসির ডেডিকেটেড কোভিড-১৯ হাসপাতালে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। এখানে নেই কোনো শয্যা-সংকট। দালালের দৌরাত্ম ছাড়াই নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে চিকিৎসা পাচ্ছেন রোগীরা।
১ ঘণ্টা আগে
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) করদাতাদের ভোগান্তি কমাতে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ই-রিটার্ন সিস্টেম চালু করেছে। গত বছরের আগস্ট থেকে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
৩ ঘণ্টা আগে