হামের চিকিৎসায় ব্যতিক্রম ডিএনসিসি কোভিড হাসপাতাল

ডিএনসিসির ডেডিকেটেড কোভিড হাসপাতাল। স্ট্রিম ছবি

হামের রোগী সামলাতে দেশের চিকিৎসাকেন্দ্রগুলো যখন গলদঘর্ম, ডিএনসিসির ডেডিকেটেড কোভিড-১৯ হাসপাতালে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। এখানে নেই কোনো শয্যা-সংকট। দালালের দৌরাত্ম্য ছাড়াই নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে চিকিৎসা পাচ্ছেন রোগীরা।

রাজধানীর মহাখালীর হাসপাতালটিতে বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, রোগীরা এসে নিয়ম মেনে টিকিট কেটে চিকিৎসক দেখাচ্ছেন। প্রয়োজনে নেওয়া হচ্ছে ভর্তি। পুরো প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করছেন আনসার সদস্যরা। নিরাপত্তায় রয়েছেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা।

হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এনসিও করপোরাল মিয়ারুল বলেন, করোনা চিকিৎসায় ডেডিকেটেড হাসপাতাল হিসেবে চিকিৎসাকেন্দ্রটি চালু করা হয়েছিল। পরিস্থিতির প্রয়োজনে পরবর্তীতে ডেঙ্গু এবং গত মাস থেকে হামের রোগীদের জন্য হাসপাতালটি ব্যবহার করা হচ্ছে। হাম ছোঁয়াচে হওয়ায় বর্তমানে এখানে অন্য কোনো রোগী ভর্তি করানো হচ্ছে না। বর্তমানে হাসপাতালে শয্যা নিয়ে কোনো সংকট নেই, বরং পর্যাপ্ত শয্যা খালি রয়েছে।

ওয়ার্ড সরদার মো. ইমরান হোসেনের দেওয়া তথ্যমতে, গত ১৬ মার্চ থেকে এই হাসপাতালে হামের চিকিৎসা শুরু হয়। শুরুর দিকে রোগীর চাপ অনেক বেশি থাকলেও বর্তমানে তা কিছুটা কমতে শুরু করেছে। হাসপাতালের মোট শয্যা এক হাজার ৫৪টি হলেও বর্তমানে ৫০০টি শয্যা পুরোপুরি প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

ইমরান হোসেন স্ট্রিমকে বলেন, ‘যখন বেশি চাপ ছিল তখন ৪০০ এর বেশি রোগী ভর্তি ছিল। বর্তমানে আজ (২৯ এপ্রিল) পর্যন্ত ৩৭৮ জন রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ১১১ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।’

তিনি আরও জানান, গত ১৬ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে এই হাসপাতালে ১৬ জন মারা গেছেন।

হাসপাতালটি স্থায়ী কোনো কাঠামোর অধীনে না হওয়ায় এখানে নিয়োজিত ডাক্তার ও নার্সরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে সাময়িকভাবে কাজ করছেন। রোগীর সংখ্যা বাড়লে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জনবল বাড়ানো হয় এবং রোগীর চাপ কমলে তাদের আবার আগের কর্মস্থলে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। এই বিশেষ ব্যবস্থার ফলেই রোগীদের সেবা দিতে কোনো হিমশিম খেতে হচ্ছে না বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ডিএনসিসির ডেডিকেটেড কোভিড হাসপাতালের ভেতরের চিত্র। স্ট্রিম ছবি
ডিএনসিসির ডেডিকেটেড কোভিড হাসপাতালের ভেতরের চিত্র। স্ট্রিম ছবি

বড়দেরও হচ্ছে হাম

এই হাসপাতালে ছোটদের পাশাপাশি হামে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হচ্ছে বেশি বয়সী মানুষও। ওয়ার্ড সরদার ইমরান স্ট্রিমকে বলেন, ‘প্রতিদিন একশ জনের মধ্যে অন্তত আট থেকে দশ জন রোগী ভর্তি হচ্ছেন যাদের বয়স ২৫-৩০ বছর।

এবিষয়ে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের সহকারী অধ্যাপক ডা. আবু তালহা বলেন, ‘যারা ছোটবেলায় হামের টিকা নেননি কিংবা যাদের আগে কখনো হাম হয়নি, তারা বড় বয়সেও আক্রান্ত হতে পারেন। এ ছাড়া যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, বিশেষ করে ক্যানসার আক্রান্ত রোগী যারা দীর্ঘ সময় ধরে কেমোথেরাপি নিচ্ছেন, তাদের ক্ষেত্রেও হামে আক্রান্ত হওয়ার ঝুকি থাকে।’

অভিভাবকদের সন্তুষ্টি

হাসপাতালটির চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে আসা বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘ছেলের হাম হওয়ায় আজই এখানে ভর্তি করেছি। কোনো ঝামেলা ছাড়াই বেড পেয়েছি এবং কোনো দালালের খপ্পরে পড়তে হয়নি।’

উত্তরা থেকে আসা মিজানুর রহমান তার মেয়ের রিলিজ নেওয়ার সময় বলেন, ‘এখানের পরিবেশ ও ডাক্তার-নার্সদের ব্যবহার খুবই ভালো। সরকারি হাসপাতালে সাধারণত যে ধরনের ভোগান্তি থাকে, এখানে তার কিছুই নেই। প্রতিটি রোগী সিঙ্গেল বেডে চিকিৎসা পাচ্ছে, যা বড় স্বস্তির।’

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার আপডেট

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় বহিঃবিভাগে ১৮৯ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন, যার মধ্যে ১১৪ জনকে ভর্তি করা হয়েছে। সুস্থ হয়ে রিলিজ পেয়েছেন ১১১ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত হয়ে এই হাসপাতালে কোনো মৃত্যু হয়নি।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত