মাইনুল ইসলাম

শিশুকে বিদ্যালয়ে ভর্তি করা নিয়ে আমাদের দেশে মা-বাবার উদ্বেগ নতুন কিছু নয়। বিশেষ করে কর্মজীবী মা-বাবারা প্রতিদিন এক ধরনের মানসিক চাপে থাকেন। স্কুলে ঠিক মতো পৌঁছাল কি না, শিশুটি নিরাপদ আছে কি না—এমন নানা দুশ্চিন্তা তাঁদের তাড়া করে ফেরে। ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে এই দুশ্চিন্তা আরও গভীর। কারণ এই বয়সেই শিশুর মনে স্কুল সম্পর্কে প্রথম ধারণা তৈরি হয়। স্কুল মানে কি আনন্দ, নাকি ভয়?
এই বাস্তবতার মধ্যেই রাজধানীর একটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চার বছর বয়সী এক শিশুর ওপর নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেই দৃশ্য কোনোভাবেই একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মানানসই নয়। অফিসের কক্ষে শিশুটিকে টেনে নেওয়া, চড় মারা ও গলা চেপে ধরা হয়েছে। এমনকি স্ট্যাপলার দেখিয়ে মুখ সেলাই করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এসব কেবল শারীরিক নির্যাতন নয়, বরং শিশুর মনে ভয় ঢুকিয়ে দেওয়ার নিষ্ঠুর পদ্ধতি।
সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো, নির্যাতনকারীরা ছিলেন সেই স্কুলেরই প্রধান শিক্ষক ও ব্যবস্থাপক। যাঁদের হাতে শিশুর নিরাপত্তা থাকার কথা, তাঁরাই হয়ে উঠেছেন শিশুর আতঙ্কের উৎস। এর ফল শিশুটি এখনো বয়ে বেড়াচ্ছে। পত্রিকায় প্রকাশ, সে ঘুমের মধ্যেও চিৎকার করে বলছে—‘মুখ সেলাই করে দিও না।’ স্কুলের কথা শুনলেই শিশুটি ভয়ে কেঁপে উঠছে। চার বছরের একটি শিশুর মনে এই ভয় ঢুকে গেলে তার প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে।
আমরা অনেক সময় শিশুর আচরণকে অজুহাত বানাই। শিশুটি চঞ্চল বা জেদি হতে পারে, তবে এটি কোনো অপরাধ নয়। যে শিশু আচরণগত সমস্যায় ভুগছে, তার সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সহায়তা, শাস্তি নয়। ভয় দেখিয়ে বা আঘাত করে কোনো শিশুকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না; এতে শুধু তার মন ভেঙে যায়, শিশুটির শৈশব রক্তাক্ত হয়।
এই ঘটনাটি আমাদের আবার মনে করিয়ে দেয়—শিক্ষক হওয়া মানে কেবল পাঠ্যবই পড়ানো নয়। শিক্ষক শিশুর কাছে নিরাপত্তার প্রতীক। তিনি শিশুর ভুলের পেছনের কারণ বোঝার চেষ্টা করবেন। যিনি নিজের রাগ সামলাতে পারেন না বা ক্ষমতার দাপটে শিশুকে ভয় দেখান, তিনি শিক্ষক নামের অমর্যাদা করছেন।
বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও এখানে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সিসিটিভি থাকলেই কি নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়? যদি সেই ফুটেজ কেউ না দেখে বা কোনো জবাবদিহি না থাকে, তবে ক্যামেরা কেবল দেয়ালের শোভা। প্রতিটি স্কুলে স্পষ্ট শিশু সুরক্ষা নীতিমালা থাকা উচিত। শিশুকে কোথায় নেওয়া যাবে বা কোন পরিস্থিতিতে অভিভাবককে জানানো হবে—এসব বিষয়ে স্বচ্ছ নিয়ম থাকা জরুরি।
রাষ্ট্রের দায়িত্ব এখানে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। শিশু আইন, ২০১৩ অনুযায়ী, কোনো শিশুকে শারীরিক বা মানসিকভাবে আঘাত করা বা ভয় দেখানো দণ্ডনীয় অপরাধ। শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক বা স্কুল মালিক—কেউই এই আইনের ঊর্ধ্বে নন। এই আইন শিশুকে নিরাপদ রাখার কথা বলেছে শুধু পরিবারে নয়, বিদ্যালয়েও।
একই সঙ্গে ‘বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নিবন্ধন বিধিমালা, ২০২৩’ কর্তৃপক্ষকে শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব দিয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো—নীতিমালা আছে, আইন আছে, তবে কার্যকর নজরদারি নেই। বিশেষ করে কিন্ডারগার্টেন ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরকারের নিয়ন্ত্রণ খুব দুর্বল। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান তদারকি ছাড়াই চলে এবং শিশুরা সেখানে নীরবে ভোগে।
শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটা খুব সাধারণ কিন্তু গভীর—আমরা কেমন সমাজ তৈরি করতে চাই? যে সমাজে একটি চার বছরের শিশু ঘুমের মধ্যেও আতঙ্কে কেঁদে ওঠে, সেই সমাজ কি নিজেকে সভ্য বলতে পারে? বিদ্যালয় যদি শিশুর কাছে ভয়ের জায়গা হয়ে ওঠে, তবে সেই শিক্ষা মানুষ গড়ে না; মানুষ ভাঙে।
শিশুকে আঘাত করা মানে শুধু শরীরে কষ্ট দেওয়া নয়; তার বিশ্বাস ও শৈশবকেও ক্ষতবিক্ষত করা। এই দায় কোনো একটি নির্দিষ্ট স্কুলের নয়—এটি রাষ্ট্রের ও সমাজের। আজ যদি আমরা শিশুদের পাশে না দাঁড়াই, তবে ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না।

শিশুকে বিদ্যালয়ে ভর্তি করা নিয়ে আমাদের দেশে মা-বাবার উদ্বেগ নতুন কিছু নয়। বিশেষ করে কর্মজীবী মা-বাবারা প্রতিদিন এক ধরনের মানসিক চাপে থাকেন। স্কুলে ঠিক মতো পৌঁছাল কি না, শিশুটি নিরাপদ আছে কি না—এমন নানা দুশ্চিন্তা তাঁদের তাড়া করে ফেরে। ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে এই দুশ্চিন্তা আরও গভীর। কারণ এই বয়সেই শিশুর মনে স্কুল সম্পর্কে প্রথম ধারণা তৈরি হয়। স্কুল মানে কি আনন্দ, নাকি ভয়?
এই বাস্তবতার মধ্যেই রাজধানীর একটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চার বছর বয়সী এক শিশুর ওপর নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেই দৃশ্য কোনোভাবেই একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মানানসই নয়। অফিসের কক্ষে শিশুটিকে টেনে নেওয়া, চড় মারা ও গলা চেপে ধরা হয়েছে। এমনকি স্ট্যাপলার দেখিয়ে মুখ সেলাই করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এসব কেবল শারীরিক নির্যাতন নয়, বরং শিশুর মনে ভয় ঢুকিয়ে দেওয়ার নিষ্ঠুর পদ্ধতি।
সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো, নির্যাতনকারীরা ছিলেন সেই স্কুলেরই প্রধান শিক্ষক ও ব্যবস্থাপক। যাঁদের হাতে শিশুর নিরাপত্তা থাকার কথা, তাঁরাই হয়ে উঠেছেন শিশুর আতঙ্কের উৎস। এর ফল শিশুটি এখনো বয়ে বেড়াচ্ছে। পত্রিকায় প্রকাশ, সে ঘুমের মধ্যেও চিৎকার করে বলছে—‘মুখ সেলাই করে দিও না।’ স্কুলের কথা শুনলেই শিশুটি ভয়ে কেঁপে উঠছে। চার বছরের একটি শিশুর মনে এই ভয় ঢুকে গেলে তার প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে।
আমরা অনেক সময় শিশুর আচরণকে অজুহাত বানাই। শিশুটি চঞ্চল বা জেদি হতে পারে, তবে এটি কোনো অপরাধ নয়। যে শিশু আচরণগত সমস্যায় ভুগছে, তার সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সহায়তা, শাস্তি নয়। ভয় দেখিয়ে বা আঘাত করে কোনো শিশুকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না; এতে শুধু তার মন ভেঙে যায়, শিশুটির শৈশব রক্তাক্ত হয়।
এই ঘটনাটি আমাদের আবার মনে করিয়ে দেয়—শিক্ষক হওয়া মানে কেবল পাঠ্যবই পড়ানো নয়। শিক্ষক শিশুর কাছে নিরাপত্তার প্রতীক। তিনি শিশুর ভুলের পেছনের কারণ বোঝার চেষ্টা করবেন। যিনি নিজের রাগ সামলাতে পারেন না বা ক্ষমতার দাপটে শিশুকে ভয় দেখান, তিনি শিক্ষক নামের অমর্যাদা করছেন।
বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও এখানে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সিসিটিভি থাকলেই কি নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়? যদি সেই ফুটেজ কেউ না দেখে বা কোনো জবাবদিহি না থাকে, তবে ক্যামেরা কেবল দেয়ালের শোভা। প্রতিটি স্কুলে স্পষ্ট শিশু সুরক্ষা নীতিমালা থাকা উচিত। শিশুকে কোথায় নেওয়া যাবে বা কোন পরিস্থিতিতে অভিভাবককে জানানো হবে—এসব বিষয়ে স্বচ্ছ নিয়ম থাকা জরুরি।
রাষ্ট্রের দায়িত্ব এখানে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। শিশু আইন, ২০১৩ অনুযায়ী, কোনো শিশুকে শারীরিক বা মানসিকভাবে আঘাত করা বা ভয় দেখানো দণ্ডনীয় অপরাধ। শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক বা স্কুল মালিক—কেউই এই আইনের ঊর্ধ্বে নন। এই আইন শিশুকে নিরাপদ রাখার কথা বলেছে শুধু পরিবারে নয়, বিদ্যালয়েও।
একই সঙ্গে ‘বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নিবন্ধন বিধিমালা, ২০২৩’ কর্তৃপক্ষকে শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব দিয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো—নীতিমালা আছে, আইন আছে, তবে কার্যকর নজরদারি নেই। বিশেষ করে কিন্ডারগার্টেন ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরকারের নিয়ন্ত্রণ খুব দুর্বল। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান তদারকি ছাড়াই চলে এবং শিশুরা সেখানে নীরবে ভোগে।
শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটা খুব সাধারণ কিন্তু গভীর—আমরা কেমন সমাজ তৈরি করতে চাই? যে সমাজে একটি চার বছরের শিশু ঘুমের মধ্যেও আতঙ্কে কেঁদে ওঠে, সেই সমাজ কি নিজেকে সভ্য বলতে পারে? বিদ্যালয় যদি শিশুর কাছে ভয়ের জায়গা হয়ে ওঠে, তবে সেই শিক্ষা মানুষ গড়ে না; মানুষ ভাঙে।
শিশুকে আঘাত করা মানে শুধু শরীরে কষ্ট দেওয়া নয়; তার বিশ্বাস ও শৈশবকেও ক্ষতবিক্ষত করা। এই দায় কোনো একটি নির্দিষ্ট স্কুলের নয়—এটি রাষ্ট্রের ও সমাজের। আজ যদি আমরা শিশুদের পাশে না দাঁড়াই, তবে ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য আছেন সাতজন। তাঁরা মূলত বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেই যুক্ত ছিলেন। সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্রভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হয়েছেন। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে এককভাবে প্রার্থী হওয়ার কারণে তাদেরকে ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ বলা হয়। যদিও সংবিধান বা নির্বাচনি আইনে ‘বিদ্রোহী প্রার
১০ ঘণ্টা আগে
প্রতি বছর বাংলাদেশে গড়ে প্রায় ২৫ হাজার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় জীবন ও সম্পদের প্রাণহানিও ব্যাপক। বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিসের দেওয়া পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত পাঁচ বছরে অগ্নিকাণ্ডে মোট ৬৫০ জনের মৃত্যু ও ২ হাজার ৩৬৮ কোটি টাকার সম্পদের ক্ষতি হয়েছে।
১৪ ঘণ্টা আগে
এই মহাবিপদ থেকে বাঁচতে পাকিস্তানের সামনে এখন ‘বিচক্ষণ কূটনীতি’ এবং একমুখী আমেরিকা-নির্ভরতা কাটিয়ে চীন-রাশিয়া-তুরস্ক বলয়ে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে তুরস্কের সঙ্গে প্রস্তাবিত ‘মুসলিম ন্যাটো’ গঠন এবং নিজস্ব ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা করাই হবে তাদের টিকে থাকার মূল চাবিকাঠি।
১ দিন আগে
বোরো মৌসুম মানে বাংলাদেশের কৃষির সবচেয়ে বড় মুহূর্ত। দেশের মোট চাল উৎপাদনের প্রায় ৬০ শতাংশ আসে এই একটি মৌসুম থেকে। ডিসেম্বর থেকে মে পর্যন্ত কৃষকের পুরো জীবন আবর্তিত হয় এই ফসলকে ঘিরে। হাল চাষ থেকে শুরু করে ধান কাটা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে কৃষকের শরীরে ঘাম, চোখে স্বপ্ন। কিন্তু এবার সেই স্বপ্নের গায়ে
২ দিন আগে