দেশ অস্থিতিশীল হলে বিনিয়োগকারীরা আগ্রহ হারাবেন: প্রধানমন্ত্রী

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

বক্তৃতা করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংগৃহীত ছবি

দেশের সার্বিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগে আগ্রহ হারাবেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্টকারীদের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

রোববার (৯ আগস্ট) চট্টগ্রামে গৃহ হস্তান্তর, অনুদান ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘দেশে কর্মসংস্থান বাড়াতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মিল-কারখানা স্থাপনে উৎসাহিত করতে হবে। তবে বিনিয়োগের পূর্বশর্ত হিসেবে দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা জরুরি। দেশে বিশৃঙ্খলা থাকলে বিনিয়োগ ও শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হবে, ফলে নতুন কর্মসংস্থানও তৈরি করা সম্ভব হবে না।’

তিনি বলেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন, স্কুল-কলেজ নির্মাণ, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ নিশ্চিত করতেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা জরুরি। বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীরা সুযোগ পেলে শেষ পর্যন্ত জনগণই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সরকারপ্রধান বলেন, এখন বাংলাদেশের মানুষের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়—দেশকে এগিয়ে নেওয়া হবে, নাকি ঝগড়া-ফ্যাসাদ ও বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ে থাকা হবে। স্বাধীনতার পাঁচ দশকের বেশি সময় পর এখন দেশ গঠন ও জনগণের জন্য কাজ করার সময়।

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, বিগত স্বৈরাচার আমলে দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত গুটিকয়েক ব্যক্তির স্বার্থে পরিচালিত হয়েছে। জনগণের স্বার্থে সেই অপরিকল্পিত ব্যবস্থা পুনর্গঠন করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। এরই মধ্যে এ বিষয়ে কাজ শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, আগামী ১০ বছরের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিকল্পনা জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে এবং তা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, মিল-কারখানা ও বাসাবাড়িতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করার পাশাপাশি যানবাহনসহ বিভিন্ন খাতে প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহের ব্যবস্থা করা হবে।

বিএনপির জ্বালানি পরিকল্পনা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কারও বিকল্প পরিকল্পনা থাকলে তা জনগণের সামনে উপস্থাপন করা উচিত। কিন্তু বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়ে দেশে বিশৃঙ্খলা বা জনগণের শান্তি নষ্ট করা যাবে না।

তিনি বলেন, পৃথিবীর অনেক দেশ বাংলাদেশের পরে স্বাধীন হয়েও কাজ ও পরিশ্রমের মাধ্যমে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। তাই বাংলাদেশকে আর পিছিয়ে থাকা যাবে না। জনগণের জীবনমান উন্নত করা এবং দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করাই এখন একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত