স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের প্রথম অর্থসচিব, দেশের আর্থিক খাতের কিংবদন্তী পুরুষ মতিউল ইসলাম আর আমাদের মধ্যে নেই। ২০ নভেম্বর ৯৫ বছর বয়সে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেছেন।
মতিউল ইসলাম শুধু একজন সফল আমলাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন সৌম্যকান্তি চেহারার একজন উদ্যমী ব্যক্তিত্ব, যিনি বয়সের সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে কাজ করে গেছেন আজীবন।
মতিউল ইসলাম ছিলেন সেই বিরল ব্যক্তিত্বদের একজন, যিনি দেশের ক্রান্তিকালে আর্থিক খাতের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের হাল ধরেছিলেন। স্বাধীনতা-পরবর্তী ভঙ্গুর অর্থনীতিকে সঠিক পথে চালনা করার মতো কঠিন দায়িত্ব তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পালন করেছেন। দেশের স্বার্থে তাঁর নেওয়া অনেক কৌশলগত এবং সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করেছে, যার সুফল আমরা আজও ভোগ করছি। তাঁর মতো একজন সুযোগ্য এবং দূরদর্শী অর্থসচিব পাওয়াটা ছিল সে সময়ের জন্য অত্যন্ত জরুরি। তাঁর দেখানো পথেই আমাদের অর্থনীতি ধীরে ধীরে আজকের অবস্থানে এসে দাঁড়িয়েছে।
কর্মজীবনের ব্যস্ততার মধ্যেও মতিউল ইসলাম ছিলেন একজন অনন্য ব্যক্তিত্ব। বয়সের ভার তাঁকে কখনো কাবু করতে পারেনি। এই বয়সেও তিনি বিভিন্ন কোম্পানির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে গেছেন এবং তাঁর কাজের স্পৃহা ছিল তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণার। আমি যখন অর্থসচিবের দায়িত্ব পালন করি, তখন তিনি প্রায়ই আমাকে মূল্যবান পরামর্শ দিতেন। তাঁর মতো একজন অভিভাবকের সান্নিধ্য পাওয়া ছিল আমার জন্য পরম সৌভাগ্যের। তাঁর মৃত্যুতে দেশ শুধু একজন কিংবদন্তীকেই হারায়নি, আমরা হারিয়েছি একজন অভিভাবককে।
ব্যক্তিজীবনে মতিউল ইসলাম ছিলেন অত্যন্ত অমায়িক এবং বন্ধুবৎসল। অল্পতেই তিনি মানুষকে আপন করে নিতে পারতেন। বিভিন্ন আড্ডায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাঁর কথা শোনার সুযোগ হয়েছে। তাঁর জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতা আমাদের মতো তরুণদের জন্য ছিল পাথেয়।
মতিউল ইসলামের প্রয়াণ দেশের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁর মতো ব্যক্তিত্বরা আমাদের সমাজে বিরল। তাঁর কর্মময় জীবন এবং দেশের প্রতি তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। আমরা তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করি।