নির্বিচারে বৃক্ষনিধন, প্রাকৃতিক বন ধ্বংস করে ফলজ বাগান তৈরি এবং সংরক্ষিত বনাঞ্চল বেদখল হওয়ার ফলে চরম হুমকির মুখে পড়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামের জীববৈচিত্র্য। এ অবস্থায় আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের কাছে নির্বাচনি ইশতেহারে পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বিশিষ্টজন ও পরিবেশবাদীরা।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বান্দরবানের সাঙ্গু-মাতামুহুরি ‘ভার্জিন ফরেস্ট’সহ রাঙামাটির কাচালং, রাইক্ষ্যং এবং পাবলাখালী বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যগুলো এখন অস্তিত্ব সংকটে। বনখেকোদের দৌরাত্ম্যে সংরক্ষিত এসব বনভূমি সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে, যা এই অঞ্চলের জলবায়ু ও বন্যপ্রাণীর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি (দুপ্রক) রাঙ্গামাটি জেলা কমিটির সভাপতি মো. ওমর ফারুক কাপ্তাই হ্রদের বর্তমান চিত্র তুলে ধরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘দখল ও দূষণে কাপ্তাই হ্রদ এখন ‘‘ত্রাহি মধুসূদন’’ অবস্থায়। রাঙ্গামাটি পৌরসভার প্রায় ৫ হাজার বাড়িঘর হ্রদ দখল করে গড়ে উঠেছে, যা রাজনৈতিক আনুকূল্য ছাড়া সম্ভব নয়। শহরের শৌচাগারগুলোর ৪০ শতাংশ বর্জ্য সরাসরি হ্রদে গিয়ে মিশছে, আর সেই দূষিত পানিই সরবরাহ করছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ।’
ওমর ফারুক আরও যোগ করেন, ‘গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে পানি ও পয়োনিষ্কাশন অব্যবস্থাপনার কারণে বছরে প্রায় ২ লাখ ৭২ হাজার মানুষ মারা যান। তাই ইশতেহারে শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, বরং পরিবেশ রক্ষায় সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা উচিত।’
‘ন্যাচার অ্যান্ড বায়োডাইভার্সিটি অব সিএইচটি’-এর সংগঠক রিকোর্স চাকমা বলেন, ‘প্রার্থীরা কেবল অবকাঠামোগত উন্নয়নের কথা বলছেন। কিন্তু কাপ্তাই হ্রদকে কীভাবে টেকসই করা যায় এবং লেকটিকে দখল-দূষণ থেকে কীভাবে রক্ষা করা যায়, সেই পরিকল্পনা ইশতেহারে থাকা জরুরি ছিল।’
উন্নয়নকর্মী নুকু চাকমার মতে, পার্বত্য অঞ্চলে অনেক বিরল প্রজাতির বন্যপ্রাণী রয়েছে। রাজনৈতিক নেতারা সচেতন ও উদ্যোগী হলে এই জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং কাপ্তাই হ্রদ বাঁচানো সম্ভব।
রাঙ্গামাটি জেলা নির্বাচন অফিসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৯ হাজার ২৬৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৬৩ হাজার ৪১০ জন এবং নারী ২ লাখ ৪৫ হাজার ৮৫৫ জন। হিজড়া ভোটার রয়েছেন ২ জন।
পাহাড়ের ৫ লক্ষাধিক ভোটারের প্রত্যাশা, প্রার্থীরা কেবল ক্ষমতার লড়াই নয়, বরং পাহাড়ের প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষায় আন্তরিক হবেন। ব্যালটের মাধ্যমে তারা এমন এক নেতৃত্ব বেছে নিতে চান, যিনি উন্নয়নের পাশাপাশি পাহাড়ের সবুজকে বাঁচিয়ে রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবেন।