leadT1ad

৪ দশকের আক্ষেপ ‘চন্দ্রঘোনা সেতু’: রাঙ্গামাটি-বান্দরবান সংযোগে এবার কি মিলবে সমাধান

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
রাঙ্গামাটি

প্রকাশ : ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩: ৪৬
চন্দ্রঘোনা ফেরি। স্ট্রিম ছবি

রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনা-রাইখালী ফেরি রুটে কর্ণফুলী নদীর ওপর একটি স্থায়ী পাকা সেতু নির্মাণ—এই জনপদের মানুষের চার দশকের পুরোনো দাবি। বছরের পর বছর ধরে রাজনৈতিক পালাবদল হয়েছে, এসেছে অসংখ্য আশ্বাস, কিন্তু আলোর মুখ দেখেনি সেতুটি। আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এই অবহেলিত জনপদের প্রধান দাবি হিসেবে আবারও সামনে এসেছে ‘চন্দ্রঘোনা সেতু’। জনদাবির মুখে প্রার্থীরাও দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি, তবে ভোটারদের মনে প্রশ্ন—এবারও কি এটি নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার নিছক ‘অস্ত্র’ হিসেবেই থাকবে?

সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের প্রস্তাবনার ভিত্তিতে ২০২২ সালে সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের ব্রিজ ম্যানেজমেন্ট উইং (বিএমডব্লিউ) এই প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু করে। বিএমডব্লিউ-এর তথ্য অনুযায়ী, কর্ণফুলী নদীতে তীব্র স্রোত থাকার কারণে নদীর মাঝখানে কোনো পিলার ছাড়াই একটি আধুনিক সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ৪৩০ মিটার প্রস্থের এই নদীর ওপর ৫৫০ মিটার দীর্ঘ সেতুর এই প্রস্তাবনা বর্তমানে মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় ঝুলে আছে।

রাঙ্গামাটি জেলা থেকে সড়কপথে বান্দরবানে যাতায়াতের একমাত্র রুট এটিই। খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটির মানুষ বান্দরবান যাওয়ার জন্য এই পথ ব্যবহার করে থাকেন। বর্তমানে যাতায়াতের একমাত্র ভরসা লক্কড়-ঝক্কড় ফেরি। স্থানীয়দের হিসেবে, প্রতিদিন গড়ে ৪ থেকে ৫ শতাধিক ছোট-বড় যানবাহন এই ফেরি দিয়ে পার হয়। রাইখালী পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্র, তুলা উন্নয়ন অফিস এবং রাজস্থলী উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য এই সেতুটি অপরিহার্য।

চন্দ্রঘোনা এলাকার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম লাভলু বলেন, ‘সেতু না থাকায় ফেরি পারাপারে বিড়ম্বনার কারণে প্রতিদিন কোটি টাকার কাঁচামাল নষ্ট হচ্ছে। ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি এখন চরমে।’ বর্ষা মৌসুমে তীব্র স্রোত বা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ফেরি বন্ধ থাকলে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে দুই জেলার সরাসরি যোগাযোগ।

দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে যে, স্থানীয় ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলার একটি প্রভাবশালী ব্যবসায়িক সিন্ডিকেটের বাধার কারণে সেতু নির্মাণের কাজ এগোতে পারেনি। ফেরি ও ঘাটকেন্দ্রিক স্বার্থের কারণে এই চক্রটি বারবার বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করেন স্থানীয়রা।

এই জনগুরুত্বপূর্ণ দাবিকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী ময়দানে প্রার্থীদের মধ্যে চলছে কথার লড়াই। রাঙ্গামাটি আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী দীপেন দেওয়ান সম্প্রতি কাপ্তাইয়ের এক সমাবেশে এই সেতু নির্মাণকে ‘চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে নিয়েছেন। তিনি স্থানীয়দের ওয়াদা দিয়ে বলেন, ‘আমি যদি নির্বাচিত হই, চন্দ্রঘোনা সেতু প্রশ্নে কোনো আপস করব না। সিন্ডিকেটের বাধা ডিঙিয়ে এটি বাস্তবায়ন করাই হবে আমার মূল কাজ।’

অন্যদিকে, রাঙামাটির একমাত্র স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী পহেল চাকমা বলেন, ‘আমি জানি কেউ বলছে নদীর স্রোত আর কেউ বলছে সিন্ডিকেটের বাধার কথা। নির্বাচিত হলে আমি স্থানীয়দের মতামতকে অগ্রাধিকার দিয়ে এই সমস্যা সমাধানের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করব।’

রাঙামাটি জেলা নির্বাচন অফিসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৯ হাজার ২৬৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৬৩ হাজার ৪১০ জন এবং নারী ২ লাখ ৪৫ হাজার ৮৫৫ জন। হিজড়া ভোটার রয়েছেন ২ জন।

কাপ্তাই ও রাজস্থলীবাসীর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান কি এবার হবে? ১২ ফেব্রুয়ারির ব্যালট যুদ্ধে তারা এমন এক প্রতিনিধি বেছে নিতে চান, যিনি সিন্ডিকেটের দেয়াল ভেঙে কর্ণফুলীর ওপর চার দশকের লালিত স্বপ্নের সেতুটি বাস্তবায়ন করবেন।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত