জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

গাইবান্ধা-৫

‘ভোটের আগে সবাই আব্বা-চাচা বলে ডাকে, জেতার পর কেউ উঁকি দেয় না’

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
গাইবান্ধা

প্রকাশ : ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ২১: ৫৪
ফারুক আলম সরকার ও আব্দুল ওয়ারেজ। ছবি: সংগৃহীত

গাইবান্ধা-৫ (ফুলছড়ি-সাঘাটা) আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। এক সময়ের প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ মাঠ থেকে পুরোপুরি অদৃশ্য এবং তাদের দীর্ঘদিনের মিত্র জাতীয় পার্টির প্রতি সাধারণ ভোটারদের অনীহার কারণে এখানে মূল লড়াই হচ্ছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে। চরাঞ্চলবেষ্টিত এই আসনে এখন ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পূর্বাভাস দিচ্ছেন স্থানীয়রা।

এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ফারুক আলম সরকার। স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, বিগত নির্বাচনে দল থেকে বারবার ‘বহিরাগত’ বা সুযোগসন্ধানীদের মনোনয়ন দেওয়া হলেও এবারই প্রথম একজন রাজপথের তৃণমূল নেতাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন জেলা নায়েবে আমীর ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়ারেজ।

আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির অনুপস্থিতিতে এই দুই দলের নেতাকর্মীরা এখন ফুরফুরে মেজাজে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। জামায়াত নেতা প্রভাষক হারুন অর রশিদ বলেন, ‘মানুষ এখন সচেতন। আমাদের প্রার্থীর জয় এবার সুনিশ্চিত।’

আসনটির তিনভাগের দুইভাগই চরাঞ্চল। প্রতি বছর যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে হাজার হাজার মানুষ ভিটেমাটি হারান। প্রবীণ ভোটার হাসান আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ভোটের আগে সবাই আব্বা-চাচা বলে ডাকে, কিন্তু জেতার পর আর কেউ এলাকায় উঁকি দেয় না। এবার আর কাউকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করব না।’

তরুণ ভোটারদের কণ্ঠেও পরিবর্তনের সুর। সানজিদা আকতার বলেন, ‘আমরা এবার দলকে নয়, যোগ্য ও সৎ ব্যক্তিকে ভোট দেব।’ আরেক তরুণ ইমরুল হুদা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘তরুণদের সাথে গাদ্দারি করলে ৫ আগস্টের মতো পরিণতি ভোগ করতে হবে।’

গাইবান্ধা-৫ আসনের ইতিহাস মূলত অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক পরিক্রমার সঙ্গে জড়িত। তিনি ১৯৮৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত জাতীয় পার্টি এবং ২০০৮ থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের হয়ে এ আসনটি দখলে রেখেছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর উপ-নির্বাচনে এবং ২০২৪ সালের দ্বাদশ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মাহমুদ হাসান রিপন বিজয়ী হন। তবে ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর মাহমুদ হাসান রিপন বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন।

নির্বাচন কমিশন সূত্র অনুযায়ী, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ৩ লাখ ৭৫ হাজার ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে ২ জন হিজড়া ভোটার রয়েছেন।

সম্পর্কিত