leadT1ad

জামায়াত নেতার ‘কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যে’ ডাকসুর নীরবতা নিয়ে নাছিরের প্রশ্ন

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

নাছির উদ্দিন নাছির। সংগৃহীত ছবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) একসময় ‘বেশ্যাখানা ও মাদকের আড্ডা’ ছিল বলে মন্তব্য করেছেন বরগুনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মো. শামীম আহসান। তাঁর এই বক্তব্যে তীব্র সমালোচনা করে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির বলেছেন, ‘ডাকসু সম্পর্কে জামায়াত নেতা মো. শামীম আহসান যে কুরুচিপূর্ণ, দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন, তা কেবল ডাকসুকে অপমান নয়, বরং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজারো বর্তমান-সাবেক শিক্ষার্থী, শিক্ষক, এবং এদেশের গৌরবোজ্জ্বল উচ্চশিক্ষার ইতিহাসকেই চরমভাবে অপমানিত করেছে।’

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড আইডি থেকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।

এই ইস্যুতে বক্তব্যের বিষয়ে ডাকসুর বর্তমান পর্ষদের নেতাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন নাছির। তিনি লিখেছেন, ‘যারা তুচ্ছ ঘটনায় লম্বা বিবৃতি দেয়, তারা আজ রহস্যজনকভাবে নীরব। জামায়াত নেতার এমন জঘন্য বক্তব্যের পরেও অফিশিয়ালি কোনো প্রতিবাদ না জানানোই প্রমাণ করে যে, শিবির পরিচালিত এই বর্তমান ডাকসু এখন জামায়াতের দলদাসে পরিণত হয়েছে। প্রতিষ্ঠান হিসেবে ডাকসুর জন্য এটি চরম লজ্জার।’

‘ন্যক্কারজনক’ এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানিয়ে ছাত্রদলের এই নেতা বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান ও নারী শিক্ষার্থীদের মর্যাদা নিয়ে এই কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের জন্য দল হিসেবে জামায়াতকে অবিলম্বে ক্ষমা চাইতে হবে।’

এই বক্তব্যের জন্য জামায়াতের সমালোচনা করে নাছির বলেন, ‘একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজার হাজার নারী শিক্ষার্থীকে নিয়ে এমন কুরূচিপূর্ণ বক্তব্য স্পষ্ট পদ্ধতিগত নারী-বিদ্বেষ। আসলে জামায়াত নেতার এই বক্তব্যে অবাক হওয়ার কিছু নেই। কারণ নিমগাছে কখনো আম ফলে না। যাদের রাজনৈতিক ডিএনএ-তে নারী-বিদ্বেষ, ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ইতিহাস লেগে আছে, তাদের মুখ থেকে এর চেয়ে ভালো কিছু আশা করা যায় না। ১৯৭১ সালে এই সংগঠনের নেতা-কর্মীরাই পাকিস্তানি হায়েনাদের সঙ্গে মিলে এদেশের লাখ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির সহযোগী হয়েছিল। জনসভায় দাঁড়িয়ে এই ধরনের কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য মূলত তাদের সেই পুরোনো অন্ধকার ও নারী-বিদ্বেষী মানসিকতারই নগ্ন বহিঃপ্রকাশ।’

একই পোস্টে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সদস্য সর্বমিত্র চাকমারও সমালোচনা করেন তিনি। সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় মাঠে খেলতে আসা বেশ কয়েকজন কিশোর-তরুণকে কানে ধরিয়ে উঠবস করিয়েছেন।

তিনি লিখেছেন, সর্বমিত্র চাকমার একের পর এক অমানবিক ও স্বেচ্ছাচারী কর্মকাণ্ড সমস্ত সীমা লঙ্ঘন করেছে। কখনো অসহায় বৃদ্ধকে লাঞ্ছিত করা, তো কখনো কোমলমতি শিশুদের কান ধরে ওঠবস করানো—এগুলো কি একজন ছাত্র প্রতিনিধির কাজ? আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার এই ধৃষ্টতা তিনি কোথায় পেলেন? বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ ধরনের অমানবিক কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

সর্বমিত্রের এসব কর্মকাণ্ডের নেপথ্যে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর পরিকল্পিত ইন্ধন রয়েছে অভিযোগ করে নাছির লিখেছেন, ‘আপনারা জানেন, তিনি ছাত্রশিবির মনোনীত প্যানেল থেকে নির্বাচিত। পর্দার সামনে সর্বমিত্রের মুখ দেখা গেলেও, এসব অরাজকতার নেপথ্যে কলকাঠি নাড়ছে মূলত শিবির। এটি তাদের চিরচেনা দমনমূলক, সহিংস ও কর্তৃত্ববাদী রাজনৈতিক সংস্কৃতিরই এক কদর্য বহিঃপ্রকাশ। সর্বমিত্রের এহেন কর্মকাণ্ড প্রমাণ করেছে, শিবিরের হাতে ছাত্রসংসদের দায়িত্ব দেওয়া বানরের হাতে খন্তা দেওয়ারই নামান্তর।’

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত