আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ (দাগনভূঞা-সোনাগাজী) আসনে এক জটিল ও বহুমাত্রিক নির্বাচনী সমীকরণ তৈরি হয়েছে। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থী সশরীরে না থাকলেও দলটির বিশাল ‘ভোট ব্যাংক’ এখন জয়-পরাজয়ের প্রধান নিয়ামক বা ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘ দেড় দশক পর বড় দলগুলো আলাদাভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করায় এবং কওমি মাদ্রাসা কেন্দ্রিক ভোট বিভাজনের ফলে এ আসনে প্রথাগত সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে গেছে।
ফেনীর তিনটি সংসদীয় আসনের মধ্যে ফেনী-৩ আসনেই সবচেয়ে বেশি ভোটার। এখানে মূল লড়াই হচ্ছে ত্রিমুখী—বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ আব্দুল আউয়াল মিন্টু, জামায়াতে ইসলামীর ফখরুদ্দিন মানিক এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সাইফুদ্দিন শিফনের মধ্যে। এছাড়া জাতীয় পার্টির মো. আবু সুফিয়ানসহ আরও সাতটি দলের প্রার্থী মাঠে রয়েছেন।
ফেনী-১ আসনের ভোটার শরীফ উল্ল্যাহর মতে, আওয়ামী লীগের সমর্থক ভোটাররা এবার কোন দিকে ঝুঁকবেন, তা-ই হবে জয়ের মূল চাবিকাঠি। এবার বিএনপি, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন—তিন পক্ষই নানা কৌশলে আওয়ামী লীগের নীরব ভোট নিজেদের পক্ষে টানার চেষ্টা করছে। তবে আওয়ামী লীগ সমর্থকরা যদি কেন্দ্রীয় কোনো অঘোষিত নির্দেশনায় ভোটদান থেকে বিরত থাকে, তবে ফলাফলে এক অভাবনীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
দাগনভূঞার ভোটার নুসরাত জাহান জানান, সোনাগাজী ও দাগনভূঞা উপজেলায় বিপুল সংখ্যক কওমি মাদ্রাসা রয়েছে। ইতিপূর্বে এই মাদ্রাসাগুলোর শিক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবারের ভোট সাধারণত বিএনপি বা জোটের বাক্সে যেত। এবার ইসলামী আন্দোলন আলাদা নির্বাচন করায় এই ভোট ব্যাংকটি দলটির নিজস্ব প্রার্থীর দিকে যাবে, যা সরাসরি আব্দুল আউয়াল মিন্টুর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নির্বাচনী প্রচারণায় প্রার্থীরা ভোটারদের নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ফখরুদ্দিন মানিক বলেন, ‘জনসাধারণ ও তরুণদের প্রত্যাশা পূরণে আমি দীর্ঘদিন কাজ করে যাচ্ছি। জনগণ আমাকে বিজয়ী করলে তাদের চাওয়া ও প্রত্যাশা পূরণে দ্বিধা ছাড়াই বাস্তবায়ন করবো।’
বিএনপির প্রার্থী আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, ‘দুর্নীতিমুক্ত সমাজ ব্যবস্থা গঠন করে আমরা সুশাসন প্রতিষ্ঠা করব। তরুণদের মেধা কাজে লাগিয়ে অবহেলিত অংশকে মানবসম্পদে পরিণত করব। বর্তমানে জনগণ উন্নয়নে বিশ্বাসী, যদি ভোটার আওয়ামী লীগেরও হয়, উন্নয়নের জন্য তিনি আমাকেই ভোট দেবেন।’
ফেনী-৩ আসনে মোট ৫ লাখ ৮ হাজার ১৯৪ জন ভোটারের মধ্যে নারী ভোটার প্রায় ২ লাখ ৪৫ হাজার। ১৯৯১ সালে বিএনপি পেয়েছিল ৪০,৪০৬ ভোট এবং আওয়ামী লীগ পেয়েছিল ৩৪,৪৬৭ ভোট। ২০০৮ সালে বিএনপি পেয়েছিল ১ লাখ ৩৪ হাজার ৯৩৯ ভোট এবং আওয়ামী লীগ পেয়েছিল ৯৩,৬৩০ ভোট। এই বিশাল ব্যবধানের ভোটগুলো এবার কোথায় যাবে, তা নিয়েই চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।