leadT1ad

ফেনী-১

ভারত থেকে আসা বন্যা ও সীমান্ত নিরাপত্তার ‘নিশ্চয়তা’ চান ভোটাররা

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
ফেনী

প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩: ১৪
ফেনীর প্রধান সমস্যা ভারতের উজান থেকে আসা বন্যা। ছবিটি ২০২৪ সালের বন্যার। ছবি: সংগৃহীত

বারবার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত জনপদ ফেনীর উত্তরাঞ্চলীয় তিন উপজেলা পরশুরাম, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া নিয়ে গঠিত ফেনী-১ আসন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনের ভোটারদের প্রধান দাবি, বন্যা নিয়ন্ত্রণে স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ। শুধু মৌখিক প্রতিশ্রুতি নয়, এবার প্রার্থীদের কাছ থেকে বাস্তবায়নের ‘নিশ্চয়তা’ আদায় করতে বদ্ধপরিকর এই জনপদের সাধারণ মানুষ ও তরুণ ভোটাররা।

ফেনী-১ আসনটি ঐতিহাসিকভাবে বিএনপি চেয়ারপারসন ‘খালেদা জিয়ার আসন’ হিসেবে পরিচিত। তবে এবার তাঁর বিকল্প হিসেবে ধানের শীষ প্রতীকে লড়ছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক মুন্সি রফিকুল আলম। নির্বাচনে অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীরা হলেন—এস এম কামাল উদ্দিন (জামায়াত-দাঁড়িপাল্লা), মোতাহের হোসেন চৌধুরী (জাতীয় পার্টি-লাঙ্গল), কাজী গোলাম কিবরিয়া (ইসলামী আন্দোলন-হাতপাখা), আনোয়ার উল্লাহ ভূঁইয়া (বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন-বটগাছ), ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী (বাংলাদেশ কংগ্রেস-ডাব) এবং মাহবুব মোর্শেদ মজুমদার (বাংলাদেশ মুসলিম লীগ-হারিকেন)।

স্থানীয় ভোটাররা মনে করেন, সীমান্তবেষ্টিত এই অঞ্চলের প্রধান সমস্যা ভারতের উজানের পানিতে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা। ৯২৮ বর্গ কিলোমিটার এলাকার বাসিন্দারা এবার টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণে সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি চান।

এছাড়া ভারত সীমান্তবর্তী হওয়ায় এলাকাটি মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানের নিরাপদ রুট হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। মাদকদ্রব্যের অবাধ প্রবেশের কারণে স্থানীয় যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

পরশুরামের স্থানীয় সাংবাদিক আবু ইউসুফ মিন্টু বলেন, ‘ফেনীর প্রধান সমস্যা ভারতের উজান থেকে আসা বন্যা। এছাড়া সীমান্তের ওপার থেকে চোরাই পথে আসা মাদকও বড় সমস্যা। এবারের ভোটে যিনি নির্বাচিত হবেন, তার কাছে এসব সমস্যার সমাধান চাই আমরা।’

এছাড়া উপজেলা হাসপাতালগুলোতে শয্যা বাড়ানো এবং সরকারি কলেজগুলোতে অনার্স কোর্স চালু করাসহ মহিলা কলেজগুলোকে সরকারীকরণ এবং ফেনী-বিলোনিয়া ট্রেন লাইন পুনরায় চালুর দাবিও জানান তিনি।

তরুণ ভোটার শহিদ উল্লাহ বলেন, ‘ছাত্র-যুবকদের জন্য প্রতিটি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম স্থাপন আমাদের অন্যতম দাবি। প্রতিটি ইউনিয়ন পর্যায়ে একটি করে মাধ্যমিক স্কুল সরকারিকরণ এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরির নিশ্চয়তা চাই আমরা।’

জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ফেনী-১ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৬৫২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯৮ হাজার ৭৫৯ এবং মহিলা ভোটার ১ লাখ ৮৬ হাজার ৮৯০ জন। এ আসনে তরুণ ভোটারের সংখ্যা ১ লাখ ৭৯ হাজার ১৫ জন।

রাজনৈতিক ইতিহাসে দেখা যায়, ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগের এবিএম মূসা জয়ী হওয়ার পর দীর্ঘ সময় আসনটি দলটির হাতছাড়া ছিল। ১৯৭৯ সালে জাগদলের জাফর ইমাম এবং পরবর্তীতে ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে তিনি জাতীয় পার্টির হয়ে জয় পান। ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রতিটি নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়া এ আসন থেকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন। ২০১৪ ও ২০১৮ সালে জাসদ (ইনু) এবং ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ এ আসনে জয়লাভ করে। তবে এবারের নির্বাচনে দেড় দশক পর মানুষ অবাধে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাওয়ায় জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে চান ভোটাররা।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত