ঈদে তৎপর এনসিপি, তৃণমূলে নির্বাচনের একক প্রস্তুতি

প্রকাশ : ২৯ মে ২০২৬, ১৬: ০৩
স্ট্রিম গ্রাফিক

স্থানীয় নির্বাচন ঘিরে তৃণমূল গোছাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এ জন্য ঈদুল আজহার টানা ছুটি কাজে লাগাচ্ছেন দলটির নেতারা। সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিজ এলাকায় অবস্থান করে সাধারণ মানুষের কাছে যাওয়ার নির্দেশনা কেন্দ্র থেকে দেওয়া হয়েছে।

গত ৯ এপ্রিল সংসদে স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) সংশোধন বিল-২০২৬ পাস হয়। ফলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক আর থাকবে না। এনসিপির নেতারা জানিয়েছেন, দলীয় প্রতীক না থাকলে যোগ্য, দক্ষ ও ক্লিন ইমেজের ব্যক্তির বিজয়ী হওয়ার বেশি থাকে। সেভাবেই তারা প্রার্থী বাছাই করছেন এবং তাদের এককভাবে নির্বাচনী লড়াইয়ের শক্তি অর্জন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। প্রার্থীরাও ভোট করার জন্য নিবেদিত কর্মী ঠিক করছেন।

এ ব্যাপারে এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন জানিয়েছেন, গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে আসা দল হিসেবে তারা স্বকীয়তা বজায় রাখতে চান। তিনি বলেন, বড় কোনো দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ নির্বাচন করলে স্বাধীনভাবে আদর্শিক অবস্থান তুলে ধরা কঠিন। এজন্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিতে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঈদে তাঁরা সেভাবেই ভোটারদের সামনে হাজির হচ্ছেন।

স্থানীয় নির্বাচন সামনে রেখে সারা দেশেই বিভিন্ন দল ও সংগঠন থেকে মানুষ এনসিপিতে ভিড়ছেন। এখন পর্যন্ত বড় কোনো রাজনৈতিক চরিত্র না এলেও, তরুণ এবং ক্লিন ইমেজের অনেকে দলটিতে শামিল হচ্ছেন। দলটির নেতারা বলছেন, বিএনপির কর্মকাণ্ডে হতাশা থেকে তরুণরা এনসিপিতে আসছেন। নতুন ভোটারদের বড় অংশ এনসিপিকে বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি দেখতে চান। এজন্য তরুণ নেতাদের প্রতি আস্থা রাখা হচ্ছে।

এনসিপির স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য তাহসিন রিয়াজ বলেন, দলের বয়স মাত্র এক বছর। পুরোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সাংগঠনিক শক্তি তুলনা করলে আমরা শিশু। তবে যেভাবে মানুষ এনসিপির দিকে ঝুঁকছেন, তা আশার। এসব মানুষকে এক ছাতার নিচে রাখতে দ্রুত জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিটি করা হবে। সাংগঠনিক দুর্বলতা কাটিয়েই নির্বাচনী লড়াই করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এনসিপি এখনো একটি রূপান্তরমান রাজনৈতিক শক্তি। আন্দোলনের আবেগকে সাংগঠনিক শক্তিতে রূপ দিতে না পারলে দলটির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক কে এম মহিউদ্দিন বলেন, এনসিপির সবচেয়ে বড় শক্তি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রতীকী অবস্থান। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে হলে শুধু আবেগ নয়, শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তিও প্রয়োজন।

তাঁর মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন এনসিপির জন্য একটি পরীক্ষার মঞ্চ হতে যাচ্ছে। এখানে তাঁরা কতটা জনসমর্থন ধরে রাখতে পারে, সেটিই ভবিষ্যতের জাতীয় রাজনীতিতে তাদের অবস্থান নির্ধারণ করবে। দলীয় প্রতীক না থাকা এনসিপির জন্য ভালো হবে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক– সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, এনসিপির প্রতি মানুষের প্রচণ্ড আগ্রহ রয়েছে। নতুন সদস্য নেওয়ার ক্ষেত্রে দলটিকে যেমন সতর্ক হতে হবে, তেমনি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রার্থী মনোনয়নেও দক্ষতার ছাপ রাখতে হবে।

এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে বিভিন্ন অঞ্চলের জনপ্রিয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। নতুন-পুরোনোদের নিয়ে শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তোলা হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দক্ষ, যোগ্য ও স্বচ্ছ ভাবমর্যাদার প্রার্থীকে ভোটারের সামনে হাজির করা হবে। সেভাবেই তৃণমূলে কাজ চলছে।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত