আইনুল হক কাসেমীর মুক্তি দাবি হেফাজতে ইসলামের

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ১৮: ৫০
মাওলানা আইনুল হক কাসেমী। ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া

তরুণ লেখক মাওলানা আইনুল হক কাসেমীকে নিরপরাধ দাবি করে অবিলম্বে তাঁকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম।

গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও এলাকার কর্মস্থল থেকে আইনুল হককে সাদা পোশাকে তুলে নেওয়া হয়। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার জেরে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুরের মামলায় পরে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো হেফাজতের যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদীর সই করা বিবৃতি বলা হয়, আমরা প্রথম আলো অফিস ভাঙচুরের মামলায় কারাবন্দি নিরপরাধ আলেম আইনুল হক কাসেমীর দ্রুত মুক্তি দাবি করছি। ইতোমধ্যে বিনাবিচারে জেলে তাঁর ১০০ দিন পার হয়েছে। এটি সুস্পষ্ট মানবাধিকার লঙ্ঘন। এই রাষ্ট্রীয় মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায় সদ্যবিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের। বর্তমান বিএনপি সরকারের কাছে আমাদের জোর দাবি, আইনুল হক কাসেমীসহ সংশ্লিষ্ট মামলায় যারা নিরপরাধ, তাদের অবিলম্বে মুক্তি দিয়ে রাষ্ট্রের দায় মোচন করুন।

হেফাজতের ভাষ্যে, ভাঙচুরের সঙ্গে মাওলানা আইনুল হক কাসেমীর কোনো সম্পর্ক নেই। প্রথম আলোর কঠোর সমালোচক হওয়ায় তাঁকে ‘ষড়যন্ত্রমূলকভাবে’ ফাঁসানো হয়েছে। বিনাবিচারে একজন নিরীহ আলেম এতদিন জেল খাটতে পারেন না। বিষয়টি চরম অমানবিক। এমনকি তা নিয়ে প্রথম আলো কর্তৃপক্ষেরও কোনো মাথাব্যথা নেই। সুশীল সমাজ, মানবাধিকার সংগঠন ও ইসলামী দলগুলোকে আইনুল হক কাসেমীসহ অন্যান্য আলেমে মুক্তির দাবিতে সোচ্চার হওয়ার জোরালো আহ্বান জানায় সংগঠনটি।

আজিজুল হক ইসলামাবাদী বিবৃতিতে বলেছেন, ২০১৩ সালে হেফাজতের শাহবাগবিরোধী আন্দোলন ও ২০২১ সালে মোদিবিরোধী আন্দোলনের সময় রাজপথে প্রতিবাদী আলেমদের ‘দমন’ এবং ‘হত্যার সম্মতি’ উৎপাদন করেছিল প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার। এছাড়া তাদের ‘ইসলামোফোবিক এডিটোরিয়াল পলিসি’ এদেশের আলেম-ওলামা, মাদ্রাসা শিক্ষার্থী ও ধার্মিক প্রজন্মকে ‘জঙ্গি’ অপবাদে চিত্রিত করার জন্য দায়ী। তাদের বিভিন্ন ‘ফেব্রিকেটেড’ রিপোর্ট ও ফিচারে ইসলামী মূল্যবোধকে ‘জঙ্গিবাদের’ লক্ষণ হিসেবেও দেখানো হয়েছে।

তিনি বলেন, ওয়ান-ইলেভেনের সময় প্রথম ও ডেইলি স্টারের অসংখ্য ‘বানোয়াট’ রিপোর্টে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং মরহুমা খালেদা জিয়ার চরিত্র হনন করা হয়েছিল। পত্রিকা দুটির পাপ ও জুলুমের বিচার আজও হয়নি। এদেশে গণমাধ্যমের প্রকৃত সংস্কার করতে হলে মানহানির অভিযোগে পত্রিকা দুটির সম্পাদকের বিচার হওয়া জরুরি।

হেফাজতের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে নতুন প্রজন্মের চিন্তা-চেতনায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটে গেছে। এজেন্ডা-সাংবাদিকতা ও হাস্যকর শিল্পব্যবসা দিয়ে তাদের আর ভোলানো যাবে না। আমরা সহিংসতা সমর্থন করি না। ‘আধিপত্যবাদের’ মুখপাত্র হিসেবে চিহ্নিত প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ এবং সমালোচনা জারি থাকবে।

সম্পর্কিত