leadT1ad

রাজশাহী-১: নির্বাচনি ব্যয় মেটাতে নেতাকর্মীদের এক মাসের বেতন ‘চাইছে’ জামায়াত

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
রাজশাহী

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। স্ট্রিম গ্রাফিক

রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনটি পুনরুদ্ধারে মরিয়া হয়ে উঠেছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমানকে বিজয়ী করতে এবার ব্যাপক নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দলের সদস্য ও রোকনদের কাছ থেকে ‘নির্বাচনি ওয়াদা’ হিসেবে মোটা অংকের টাকা সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে গুঞ্জন উঠেছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

তহবিল সংগ্রহের অভিনব কৌশল

গোদাগাড়ী উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনে বিশাল ব্যয় সামাল দিতে জামায়াত অভ্যন্তরীণভাবে একটি বড় তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই ‘নির্বাচনি ওয়াদা’ অনুযায়ী, জামায়াতের যেসব সদস্য বা রোকন চাকরিজীবী, তারা তাদের এক মাসের পুরো বেতন দলকে দেবেন। অন্যদিকে, যারা চাকরিজীবী নন কিন্তু নিয়মিত ‘ইয়ানত’ (মাসিক চাঁদা) দেন, তাদের এবার স্বাভাবিক ইয়ানতের চেয়ে ২০ গুণ বেশি টাকা এককালীন জমা দিতে বলা হয়েছে। সাধারণ কর্মীদের ক্ষেত্রে সামর্থ্য অনুযায়ী দান করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের গোদাগাড়ী শাখার একজন দায়িত্বশীল নেত্রী নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্ট্রিমকে বলেন, ‘আমাদের জেলা, থানা ও ইউনিয়ন আমিরদের পক্ষ থেকে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রোকন ও কর্মীদের মাঝে এই ওয়াদা করা হয়েছে। যারা চাকরিজীবী তারা এক মাসের বেতন দেবেন আর বাকিরা ইয়ানতের ২০ গুণ টাকা দেবেন।’

হলফনামার বাইরেও বিশাল ব্যয়ের প্রশ্ন


অধ্যাপক মুজিবুর রহমান তাঁর নির্বাচনি হলফনামায় মোট ৩৭ লাখ টাকা ব্যয়ের হিসাব দিয়েছেন। এর মধ্যে তাঁর নিজের ৫ লাখ এবং বড় ভাই ড. ওবায়দুল্লাহর কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা ধার নেওয়ার কথা উল্লেখ আছে। এছাড়া আরেক ভাই ডা. আব্দুল বাকী, ফিনল্যান্ড প্রবাসী ছেলে খালেদ সাইফুল্লাহ এবং যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ছেলে সুহাইল মাহমুদ প্রত্যেকে ৫ লাখ টাকা করে স্বেচ্ছায় দান করবেন বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় পাঁচজন শুভাকাঙ্ক্ষীর কাছ থেকে আরও ১২ লাখ টাকা অনুদান পাওয়ার হিসাব দেওয়া হয়েছে।

এই শুভাকাঙ্ক্ষীরা হচ্ছেন—তানোরের সাদিপুর এলাকার আব্দুল কাদেরের কাছ থেকে ৫ লাখ, রাজশাহী কোর্ট এলাকার মো. শহিদুল্লাহর কাছ থেকে ২ লাখ, গোদাগাড়ীর কাঁকনহাটের আবুল হাসানের কাছ থেকে ২ লাখ, মুন্ডুমালার আনিসুর রহমানের কাছ থেকে ১ লাখ ও মহিষালবাড়ির আনারুল ইসলামের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা দান হিসেবে নিয়ে নির্বাচনে খরচ করবেন অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।

তবে প্রশ্ন উঠেছে, হলফনামায় প্রদর্শিত এই ৩৭ লাখ টাকার বাইরে দলীয়ভাবে সংগৃহীত এই বিপুল অর্থ নির্বাচনি ব্যয়ের সীমানা অতিক্রম করবে কি না। এ বিষয়ে প্রার্থীর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

বিষয়টি নিয়ে রাজশাহী জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আব্দুল খালেক বলেন, ‘এটি মূলত সংগঠনের অভ্যন্তরীণ বিষয়। নেতাকর্মীরা যে টাকা দিচ্ছেন তা সাংগঠনিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যয় হবে। একটি ওয়ার্ড সভাপতি তাঁর এলাকায় কাজ করবেন, সেখানে খরচ হবে। এটাকে প্রার্থীর ব্যক্তিগত নির্বাচনি ব্যয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। আমাদের সারা বছরই সাংগঠনিক প্রোগ্রাম ও খরচ থাকে।’

নির্বাচনি ওয়াদা হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর গোদাগাড়ী-তানোরের চাকরিজীবী সদস্য ও রোকনেরা একমাসের বেতন কিংবা ২০ গুণ হারে ইয়ানত দিলে কত টাকা সংগ্রহ হবে জানতে চাইলে অধ্যাপক আব্দুল খালেক একটু হেসে বলেন, ‘ওটা কিন্তু আপনাকে বলা যাবে না। ওই হিসাব নিয়েই বা আপনি কি করবেন বলেন? সংগঠনের এগুলো ইন্টার্নাল বিষয়।’

রাজশাহী-১ আসনে ১৯৮৬ সালে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর ১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আসনটি বিএনপির ব্যারিস্টার আমিনুল হকের দখলে ছিল। ২০০৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত টানা চারবার আওয়ামী লীগের ওমর ফারুক চৌধুরী এখান থেকে নির্বাচিত হন। ব্যারিস্টার আমিনুল হকের মৃত্যুর পর এবার এখানে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন তাঁর ছোট ভাই মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দীন। তাঁর সঙ্গেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামছেন জামায়াতের হেভিওয়েট প্রার্থী অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।

Ad 300x250

সম্পর্কিত