৫ সিটিতে মেয়রপ্রার্থী এনসিপির, ঢাকায় আসিফ-আদীব

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

ঢাকা দক্ষিণে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও উত্তরে আরিফুল ইসলাম আদীবকে মেয়র প্রার্থী করেছে এনসিপি। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার দুটিসহ (উত্তর ও দক্ষিণ) পাঁচ সিটি করপোরেশনে মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। রোববার (২৯ মার্চ) রাতে রাজধানীর বাংলামটরে অস্থায়ী কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন।

মেয়র প্রার্থীরা হলেন– ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া; ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব; কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে জাতীয় যুব শক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তরিকুল ইসলাম; রাজশাহী সিটি করপোরেশনে রাজশাহী মহানগরের আহ্বায়ক মোহাম্মদ মোবাশ্বের আলী এবং সিলেট সিটি করপোরেশনে মহানগরের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান আফজাল।

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন স্থানীয় সরকার পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানে বিএনপি সরকারের প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে ৫ দাবি তুলে ধরেন। তিনি আগামী ছয় মাসের মধ্যে দেশের সব স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন করার দাবি জানান।

কুমিল্লা, রাজশাহী ও সিলেট সিটি করপোরেশনে তিন নেতাকে মেয়র প্রার্থী করেছে এনসিপি। ছবি: সংগৃহীত
কুমিল্লা, রাজশাহী ও সিলেট সিটি করপোরেশনে তিন নেতাকে মেয়র প্রার্থী করেছে এনসিপি। ছবি: সংগৃহীত

এনসিপির ৫ দাবি

সংবাদ সম্মেলনে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এগুলো হলো– আগামী ছয় মাসের মধ্যে সব স্তরের স্থানীয় নির্বাচন সম্পন্ন করা; জেলা ও সিটির পর উপজেলা বা পৌরসভায় নতুন করে প্রশাসক নিয়োগ না দেওয়া; বর্তমানে দায়িত্বরত প্রশাসকদের আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া; দলীয় প্রতীক ও দলীয় মনোনয়ন ছাড়া নির্দলীয় নির্বাচনের অধ্যাদেশ সংসদে পাস করা এবং একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করা।

বিএনপি-আওয়ামী লীগের সমালোচনা

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি নেতারা অভিযোগ করেন, বিএনপি ক্ষমতায় এসে স্থানীয় সরকারের জায়গাগুলো দলীয় লোক দিয়ে কবজা করার পরিকল্পনা করছে।

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রশাসক নিয়োগের বিরোধিতা করলেও এখন বিএনপি সরকার সব প্রতিষ্ঠানে নিজেদের লোক বসাচ্ছে। তারা সংবিধান লঙ্ঘনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করছে।

এ সময় আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়ে সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগ বা তাদের কোনো দোসরকে এবারের স্থানীয় নির্বাচনে কোনোভাবেই অংশ নিতে দেওয়া হবে না। এটি কোনো দাবি নয়, এটিই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। নতুন বাংলাদেশের দিশায় আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।

দলীয় প্রতীকহীন নির্বাচনের পক্ষে অবস্থান

নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে এনসিপির নেতারা বলেন, দলীয় প্রতীক থাকলে প্রশাসন ও ক্ষমতাশীন দল প্রভাব খাটানোর সুযোগ পায়। প্রতীকহীন নির্বাচন হলে একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হবে এবং অশুভ প্রভাব থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান সারজিস আলম, সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ প্রমুখ।

সম্পর্কিত