এনসিপির অঙ্গসংগঠন হচ্ছে ‘ওয়ারিয়র্স অব জুলাই’, সদস্যসংখ্যা নিয়ে ধোঁয়াশা

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১৩ মে ২০২৬, ২২: ৪৪
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। স্ট্রিম গ্রাফিক

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত প্ল্যাটফর্ম ‘ওয়ারিয়র্স অব জুলাই’ আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নতুন অঙ্গসংগঠন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে। গত ৫ মে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এনসিপিতে যোগ দিলেও তাঁদের সদস্যসংখ্যা এবং ‘ওভারল্যাপিং’ বা দ্বৈত সদস্যপদ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

ওয়ারিয়র্স অব জুলাইয়ের নেতাদের দাবি, তাঁরা ৩৬টি জেলা কমিটির মাধ্যমে ৪ হাজার আহত সদস্য নিয়ে এনসিপিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে এই সদস্যসংখ্যা নিয়ে খোদ সংগঠনের ভেতরেই দ্বিমত দেখা দিয়েছে। একই ব্যক্তি এনসিপির জেলা কমিটিতে থাকার পাশাপাশি ওয়ারিয়র্স অব জুলাইয়ের সদস্য হিসেবেও গণনায় আসায় এই ‘ওভারল্যাপিং’ সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক নাবিল এই ধোঁয়াশার সত্যতা নিশ্চিত করে স্ট্রিমকে বলেন, ‘আমরা ৪ হাজার সদস্য যোগ দিয়েছি ঠিকই, কিন্তু বিভিন্ন জেলার এনসিপির কমিটিতে থাকা লোকজনও এই সংখ্যার মধ্যে রয়েছেন। যেমন—আমার নিজের জেলাতেই ১২ জন এনসিপির জেলা কমিটিতে আছেন, আবার গত ৫ মে প্ল্যাটফর্ম হিসেবে যখন আমরা যুক্ত হয়েছি, তখন তাঁদেরসহই এনসিপিতে যুক্ত হয়েছি।’

তবে সংগঠনের সহসভাপতি আতিকুল ইসলাম গাজী এই সংখ্যাকে যৌক্তিক দাবি করে বলেন, তাঁদের তালিকাভুক্ত সাড়ে ৫ হাজার আহত সদস্য রয়েছেন। জেলা কমিটিগুলোতে একটি ‘হ্যাঁ-না’ ভোটের মাধ্যমে ৪ হাজার ১২০ জন সদস্য এনসিপিতে যোগ দেওয়ার পক্ষে মত দেন এবং সেই ভিত্তিতেই ৪ হাজার সদস্যের কথা বলা হয়েছে। তিনি আরও জানান, কেন্দ্রীয় কমিটির ৭১ জন সদস্য সরাসরি এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত। তবে এনসিপিতে যোগ দেওয়ার কারণে ৭৩ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে দুজন পদত্যাগ করেছেন।

বিএনপি কিংবা জামায়াতের মতো বড় দল বাদ দিয়ে কেন এনসিপিতে যুক্ত হলেন—এমন প্রশ্নে আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘এনসিপি ২৪-এর প্রজন্ম নিয়ে গঠিত, তারা আমাদের ধারণ করতে বাধ্য। আমরা বিএনপি-জামায়াতের কাছেও গিয়েছিলাম, কিন্তু জুলাইয়ের আহতদের জন্য তাঁদের আগ্রহ আমাদের পর্যাপ্ত মনে হয়নি। বিএনপি মাঝেমধ্যে জুলাইয়ের বিপক্ষে স্টেটমেন্ট দেয়, তাই আমরা এনসিপিকে বেছে নিয়েছি।’ তিনি স্পষ্ট করেন যে তাঁরা পদের লোভে নয়, বরং আহতদের অধিকার আদায়ে কাজ করতেই অঙ্গসংগঠন হিসেবে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এদিকে ধোঁয়াশা রয়েছে এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তর কমিটির নতুন যোগদান নিয়েও। গত ৮ মে দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে ৩ শতাধিক নেতাকর্মী নতুন করে যোগ দিয়েছেন। কিন্তু অনুষ্ঠান শেষে মাত্র ৩৫ জনের নাম প্রকাশ করায় নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক ও এনসিপির সার্চ কমিটির সদস্য আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, ‘মিডিয়া হাইপ তোলার জন্য আমরা ৩০০ সদস্যের নাম ঘোষণা করিনি, বরং সরাসরি ৩০০ জন উপস্থিত ছিলেন। যাঁরা লিডারশিপ পর্যায়ে, শুধু তাঁদের ৩৫ জনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। বাকিরা থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কাজ করবেন।’ তৃণমূল পর্যায়ে ভিত্তি শক্তিশালী করতেই সব নাম কেন্দ্রীয়ভাবে ঘোষণা করা হয়নি বলে তাঁর দাবি।

আরিফুল ইসলাম আদীব আরও জানান, খুব শিগগির পূর্ণাঙ্গ তালিকা ও সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে তৈরি হওয়া সব ধোঁয়াশা দূর করতে আনুষ্ঠানিক তালিকা প্রকাশ করা হবে। বর্তমানে ৫৪টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতে ৩ জন করে প্রতিনিধি নিয়ে কর্মশালা চালিয়ে যাচ্ছে তাঁরা।

সম্পর্কিত