আপনারা কোন দেশের শাসক, কাকে খুশি করছেন, বিএনপিকে ডা. শফিকুর

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
রংপুর

রংপুরে ১১-দলীয় ঐক্যের সমাবেশে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের নীরব থাকার কড়া সমালোচনা করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, বিস্তীর্ণ এলাকা সীমান্ত। সেখানে সুড়সুড়ি দিচ্ছে প্রতিবেশী ভারত। অথচ আমাদের সরকার মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছে।

শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে ১১-দলীয় ঐক্যের সমাবেশে এসব কথা বলেন বিরোধীধলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, গণভোটের রায় কার্যকর, সীমান্ত হত্যা ও পুশইন বন্ধ এবং জনদুর্ভোগ নিরসনে চার দাবিতে এই সমাবেশ হয়।

বিএনপির উদ্দেশ্যে জামায়াত আমির বলেন, ‘কার ভয়ে, কাকে খুশি করার জন্য আপনারা মুখে কুলুপ দিয়েছেন? আপনারা ঠিক কোন দেশের শাসক? দেশের জনগণের নাড়ির পালস বুঝার চেষ্টা করুন। জনগণের অভিপ্রায়-আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে মেহেরবানি করে অবস্থান নেবেন না। নিলে কী হয়, সাম্প্রতিক ইতিহাস থেকে সবারই সবক গ্রহণ করা উচিত। আমাদের সাফ কথা, তিস্তার ব্যাপারে কোনো ধানাই-পানাই বুঝি না। তিস্তা প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘সীমান্তে ভারতের অবস্থানের আমরা প্রতিবাদ করছি, জনগণ প্রতিবাদ করছে। শুধু প্রতিবাদ নয়, প্রতিরোধ করার জন্য বিজিবির সৈনিকদের সঙ্গে সমানতালে জনগণ লড়াই করে যাচ্ছে। আমরা এই সংগ্রামী বীরদের অভিনন্দন জানাই। কিন্তু সরকারের মুখ থেকে এই ব্যাপারে এখন পর্যন্ত একটা শব্দও আসে নাই।’

শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের গণভোট বাস্তবায়নের দাবি থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য অনেক কথা বলা হচ্ছে। পরিষ্কার কথা, আমরা জাতির সঙ্গে বেইমানি করতে পারব না। জাতিকে আমরা কথা দিয়েছি, লড়াই আমরা করে যাব, গণভোট বাস্তবায়নে বাধ্য করব। এর থেকে এক চুল পরিমাণ আমরা সরব না। এই আবু সাঈদের রক্তে ভেজা রংপুরে আরেকবার এই অঙ্গীকার ব্যস্ত ব্যক্ত করে গেলাম।’

তিনি বলেন, যে বৈষম্য দূর করে দেশের পচা রাজনীতিকে বিদায় এবং নতুন বাংলাদেশ করার জন্য আমাদের সন্তানেরা লড়াই করেছিল, সেই বাংলাদেশ গড়ার জন্যই সংস্কারের উদ্দেশে গণভোট হয়েছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দিতে বলেছিলেন। কিন্তু এখন সেটি রক্ষা করছেন না।

শফিকুর রহমান আরও বলেন, তিস্তা নিয়ে সরকারি দল নির্বাচনের আগে জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাও– এই আন্দোলন করেছে। কিন্তু তিস্তা নিয়ে এই বাজেটে ১০ টাকার বরাদ্দও নেই। আমরা কথার ফুলঝুরি শুনতে চাই না। আমরা বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চাই। এই সরকার ব্যর্থ হলে আগামীতে আপনাদের সহযোগিতা, দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থন নিয়ে ভোটে ১১ দল সরকার গঠন করে সেই দাবি বাস্তবায়ন করবে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত