leadT1ad

গাইবান্ধা-৪

গোবিন্দগঞ্জে বড় ফ্যাক্টর ‘আত্মগোপনে’ থাকা আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ‘কোন্দল’

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
গাইবান্ধা

প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬: ৫২
ডা. আব্দুর রহিম ও শামীম কায়সার লিংকন। ছবি: সংগৃহীত

রংপুর বিভাগের আট জেলার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত এবং বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই আসনটিতে এবার বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের ‘আত্মগোপনে’ থাকা নেতাকর্মীদের গতিবিধি ও বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল।

বিগত কয়েকটি নির্বাচনে এই আসনে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদের একচ্ছত্র আধিপত্য থাকলেও ৫ আগস্টের পর তিনি বর্তমানে ভারতে আত্মগোপনে আছেন। তবে স্থানীয়দের দাবি, তাঁর অনেক কর্মী-সমর্থক প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং কৌশলে জামায়াতের ‘ভোট ব্যাংক এজেন্ট’ হিসেবে কাজ করার চেষ্টা করছেন।

অন্যদিকে, বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের অভিযোগ, দুর্দিনের ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে অনেক ক্ষেত্রে টাকার বিনিময়ে পদায়ন করা হচ্ছে। স্থানীয় সাংবাদিক নুর আলম আকন্দ বলেন, উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হওয়ায় এই আসনে ব্যবসা-বাণিজ্যের গুরুত্ব অনেক। প্রার্থীরাও এখানে অনেক তৎপর। তবে এবারের নির্বাচনে এখানকার বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল বড় ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করবে।

বিএনপি নেতা জিল্লুর রহমান বলেন, সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদ এখানে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। তিনি ও তার নেতাকর্মীরা এখন আত্মগোপনে থাকলেও তার কিছু সমর্থক জামায়াতের ভোট ব্যাংক এজেন্ট হিসেবে কাজ করার চেষ্টা করছে। ফলে আওয়ামী লীগের বড় ভোট ব্যাংকটি যে প্রার্থীর দিকে যাবে, জয়ের সম্ভাবনা তাঁরই বেশি।

তবে গোবিন্দগঞ্জে বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক লক্ষ্য করা গেছে। বিএনপির প্রার্থী শামীম কায়সার লিংকন এবং জামায়াতের প্রার্থী ডা. আব্দুর রহিম একে অপরের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন এবং সৌহার্দ্যমূলক আচরণ করছেন।

উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজু বলেন, ‘সাধারণ ভোটাররা ধানের শীষকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করবে। আমাদের প্রার্থীর যথেষ্ট সুনাম রয়েছে এবং ভোটাররা তাঁকে মনে-প্রাণে বেছে নিয়েছেন।’

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. আব্দুর রহিম সরকার বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে আছি। নির্বাচিত হলে চাঁদাবাজদের দমন করব এবং মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় লড়াই করব।’

গাইবান্ধা-৪ আসনের রাজনৈতিক ইতিহাস বেশ বৈচিত্র্যময়। ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টি জয়ী হলেও ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত বিএনপি ও জাপা পালাক্রমে জয়লাভ করে। ২০০১ সালে বিএনপির এম মোত্তালিব আকন্দ জয়ী হন এবং তাঁর মৃত্যুর পর উপ-নির্বাচনে তাঁর ছেলে শামীম কায়সার লিংকন নির্বাচিত হন। ২০০৮ ও ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের ইঞ্জিনিয়ার মনোয়ার হোসেন চৌধুরী এবং ২০১৪ ও ২০২৪ সালে আবুল কালাম আজাদ নির্বাচিত হন।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৭২ হাজার ৬৬৭ জন। এর মধ্যে নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছেন ২১ হাজার ৭৮৮ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ৭ জন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ব্যালট যুদ্ধে ৪ লাখ ৭২ হাজার ভোটারের রায় শেষ পর্যন্ত কার দিকে যায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত