leadT1ad

ভোলার ১৭ লাখ ভোটারের প্রধান দাবি নদীভাঙন রোধ ও বালু সিন্ডিকেট নির্মূল

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
ভোলা

প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৮: ৪৬
দ্বীপ জেলা ভোলার মানুষের কাছে নদীভাঙন মানেই এক চিরস্থায়ী আতঙ্ক। স্ট্রিম ছবি

দ্বীপ জেলা ভোলার মানুষের কাছে নদীভাঙন মানেই এক চিরস্থায়ী আতঙ্ক। প্রতিবছর বর্ষা এলেই মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর করাল গ্রাসে বিলীন হয় হাজার হাজার মানুষের ঘরবাড়ি ও সহায়-সম্বল। আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোলার প্রায় ১৭ লাখ ভোটারের কাছে প্রধান দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে নদীভাঙন রোধ, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ এবং উন্নত যোগাযোগ ও চিকিৎসাসেবা।

চরফ্যাশন, মনপুরা, দৌলতখান, তজুমদ্দিন ও ভোলা সদর উপজেলার বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রাকৃতিক কারণের পাশাপাশি মেঘনা নদী থেকে অপরিকল্পিতভাবে ড্রেজিং করে বালু উত্তোলনই এই ভয়াবহ ভাঙনের অন্যতম কারণ। এই বালু উত্তোলনের সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতাকর্মীদের সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি না থাকায় এই সিন্ডিকেট দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

চরফ্যাশনের ভোটার আকবার আলী অভিযোগের সুরে বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাই জড়িত। তারাই সিন্ডিকেট করে বালু তোলে। প্রশাসনের কোনো নজর নেই।

জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ভোলায় এবার মোট ভোটার সংখ্যা ১৬ লাখ ৯২ হাজার ৬৮৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৮ লাখ ৭৯ হাজার ৮৯৭ জন এবং নারী ৮ লাখ ১২ হাজার ৭৭৫ জন। হিজড়া ভোটার রয়েছেন ১৬ জন। এই ১৭ লক্ষাধিক ভোটারের প্রত্যাশা—এবার এমন প্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন, যিনি নদীবেষ্টিত এই জেলাকে রক্ষা করতে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেবেন এবং বালু সিন্ডিকেট নির্মূলে কঠোর হবেন।

ভোলা-১ (সদর) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও জেলা নায়েবে আমীর অধ্যক্ষ মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘নদীভাঙন রোধে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা আমার অগ্রাধিকার। নদী থেকে অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে আমি আপসহীন। আমার নিজের দলের কেউ যদি এই অনিয়মের সাথে জড়িত থাকে, তবে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

অন্যদিকে ভোলা-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. হাফিজ ইব্রাহিম বলেন, ‘অতীতে বিএনপি সরকারের আমলে বোরহানউদ্দিন ও দৌলতখান উপজেলায় নদীভাঙন রোধে ব্যাপক উন্নয়নকাজ হয়েছে। ভবিষ্যতেও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণে আমরা অগ্রাধিকার দেব। পাশাপাশি ভোলার গ্যাস ও বিদ্যুৎ সম্পদকে কাজে লাগিয়ে শিল্পকারখানা স্থাপন করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে।’

তিনিও বালু সিন্ডিকেট নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘নির্বাচিত হলে আমার দলের কোনো নেতাকর্মী যদি অবৈধ বালু উত্তোলনের মতো নদী ধ্বংসের কাজে লিপ্ত হয়, তবে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোলার মানুষের কাছে এবারের নির্বাচন শুধু জয়-পরাজয়ের লড়াই নয়, বরং এটি তাদের মানচিত্রে টিকে থাকার লড়াই। চার দশকের পুঞ্জীভূত বঞ্চনা আর নদী ভাঙনের দীর্ঘশ্বাস থেকে মুক্তি পেতে প্রার্থীরা কার ওপর আস্থা রাখেন, তা-ই এখন দেখার বিষয়।

Ad 300x250

সম্পর্কিত