এনসিপির ওপর হামলার নিন্দা জামায়াত জানাল জোটের ব্যানারে

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০২৬, ২২: ৪০
সংবাদ সম্মেলনে ১১-দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। ছবি: সংগৃহীত

হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের গাড়িবহরে ছাত্রদলের হামলা, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপসহ অন্য নেতাদের রাস্তায় পুলিশি হেনস্তার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ১১-দলীয় ঐক্য। বুধবার (২৯ জুলাই) রাত ৯টার দিকে ১১-দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান।

এর আগে হবিগঞ্জে এনসিপির নেতাকর্মীর ওপর ছাত্রদলের হামলার ঘটনায় উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়ে পৃথক বিবৃতি দেয় ১১-দলীয় ঐক্যের শরিক মাওলানা মামুনুল হকের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এবং বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি। সম্প্রতি ১১-দলীয় ঐক্য থেকে ঘোষণা দিয়ে বেরিয়ে যাওয়া বাছিত আজাদের নেতৃত্বাধীন খেলাফত মজলিসও পৃথক বিবৃতিতে এই ঘটনার নিন্দা জানায়। এছাড়া বিএনপি জোটের শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম উদ্বেগ প্রকাশ করে সহাবস্থানের ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীনদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছে।

১১-দলীয় ঐক্যের ভেতরে-বাইরের ইসলামপন্থী বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বিবৃতি দিয়ে এনসিপির পক্ষে অবস্থান ব্যক্ত করলেও, এই জোটের প্রধান শরিক জামায়াতে ইসলামী বুধবার সন্ধ্যা কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। এমনকি দলটির শীর্ষ নেতাদের সামাজিক মাধ্যমে তেমন কোনো পোস্টও দেখা যায়নি।

বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই বিবৃতি এল। হামিদুর রহমান আযাদের এই বিবৃতি ফেসবুকে জামায়াতের অফিসিয়াল পেজে পোস্ট করা হয়েছে। তবে এককভাবে জামায়াত অবস্থান না জানানোয় এই পোস্টের নিচেও ব্যবহারকারীদের তীর্যক মন্তব্য করতে দেখা গেছে।

বিবৃতিতে ১১-দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে হবিগঞ্জ শহরের কোর্ট মসজিদ ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে এনসিপি শীর্ষ নেতাদের গাড়িবহরে সন্ত্রাসী হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। ওই হামলার প্রতিবাদে বুধবার (২৯ জুলাই) হবিগঞ্জে এক কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার পথে ১৪৪ ধারা জারি করে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলসহ বিভিন্ন স্থানে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ এনসিপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের পুলিশের আটকে দেওয়া গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের শামিল। আমরা এই আচরণের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। একইসঙ্গে দায়ীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে জনগণ, রাজনৈতিক দল বাক্‌স্বাধীনতা ফিরে পেয়েছে। রাজনৈতিক বক্তব্যের কারণে কারও ওপর হামলার স্থান গণতন্ত্রে নেই। কারও বক্তব্য আক্রমণাত্মক হলে, এর জবাব রাজনৈতিকভাবে দিতে হবে। কিন্তু কথার জবাব সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেওয়া পূর্বের ফ্যাসিবাদী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ।

হামিদুর রহমান আযাদ আরও বলেন, সরকার রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের ওপর সন্ত্রাসীদের লেলিয়ে দিয়েছে। হবিগঞ্জে বিএনপির যেসব নেতাকর্মী আইন হাতে তুলে নিয়ে এনসিপি নেতাদের ওপর হামলা চালিয়েছে, অবিলম্বে সেসব সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।

Ad 300x250

সম্পর্কিত