২৫ জানুয়ারি থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাজধানীসহ দেশের ৩০টি স্থানে নির্বাচনী পদযাত্রা ও পথসভা করার ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। একইসঙ্গে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করতে ও দলীয় প্রতীক ‘শাপলা কলি’র প্রচারণায় মাঠে থাকার কথা জানিয়েছে দলটি।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।
তিনি বলেন, জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে আমরা বাকি ২৭০ আসনে গণভোটের প্রতিনিধি ঘোষণার পরিকল্পনা করেছিলাম, তবে বর্তমানে ২৩৮ আসনে প্রতিনিধি ঘোষণা করা হবে। এছাড়া আগামীকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পায়রা চত্বরে এনসিপির নির্বাচনী থিম সং উদ্বোধন করা হবে।
প্রচারণায় আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে আসিফ মাহমুদ বলেন, প্রচারণার প্রথম দিনেই বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সময়সীমার তোয়াক্কা না করে রাত চারটার সময় মাইক বাজিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে এমন আচরণ হলে কর্মীরা তাতে উৎসাহিত হবে।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সমালোচনা করে আসিফ বলেন, ইসির কার্যক্রমে স্পষ্ট পক্ষপাতিত্ব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তারা আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে কোনো তৎপরতা দেখাচ্ছে না। বিএনপির পক্ষ থেকে রঙিন পোস্টার লাগানো এবং রাতভর মাইকিং করা হলেও কমিশন নীরব ভূমিকা পালন করছে, যা অন্যদের পিছিয়ে দিচ্ছে।
সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এই এনসিপি নেতা বলেন, সেনাবাহিনীকে কেন্দ্রের বাইরে রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং বলা হয়েছে সিভিল প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি নিয়ে তাদের কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। অথচ ৫ আগস্টের পর থেকেই সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেওয়া আছে। আমরা নির্বাচন কমিশনের এই বিধি পুনর্বিবেচনার দাবি জানাচ্ছি।
এসময় জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলোর শঙ্কা দূর করতে প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের দাবিও জানান তিনি।
মিডিয়ার ভূমিকা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে আসিফ মাহমুদ বলেন, আমরা দেখছি মিডিয়া একটি নির্দিষ্ট দলের দিকে ঝুঁকে গেছে। একটি মিডিয়ার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা একটি দলের প্যাডে নির্বাচনী দায়িত্ব নিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। আমরা চাই, সবাইকে প্রচারণার সমান সুযোগ দেওয়া হোক।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব মনিরা শারমিন বলেন, পুরোনো রাজনৈতিক দলগুলো এখনো নির্বাচনের নিয়ম মানছে না, কিন্তু এনসিপি তা মেনে চলছে। আমরা নিয়মতান্ত্রিকভাবেই আগামী ২৫ তারিখ থেকে আমাদের নির্বাচনী পদযাত্রা শুরু করব।