ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-২ (সদর) আসনের রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে আলোচনা এখন তুঙ্গে। এই আসনে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী, বর্ষীয়ান নেতা ও সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনুর বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন জামায়াতে ইসলামীর নতুন মুখ ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর। অভিজ্ঞ বনাম নবীনের এই লড়াইয়ে মাঠের হাওয়া কার দিকে যায়, তা নিয়ে নগরজুড়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
পুরো সিটি করপোরেশন এলাকা নিয়ে গঠিত এই আসনে মিজানুর রহমান মিনু এক সুপরিচিত নাম। ১৯৯১ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত টানা তিন মেয়াদে সিটি মেয়রের দায়িত্ব পালন করা মিনু ২০০১ সালে এই আসনের সংসদ সদস্যও ছিলেন। ২০০৮ এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি অংশ নিলেও রাজনৈতিক বাস্তবতায় পরাজিত হন। তবে এবারের পটপরিবর্তনে বিএনপি তাঁর ওপরই আস্থা রেখেছে।
স্থানীয় ভোটারদের মতে, মিনুর দীর্ঘদিনের জনসম্পৃক্ততা ও সহজলভ্যতা তাঁর বড় শক্তি। নগরের ভেড়িপাড়া এলাকার বাসিন্দা আনিসুর রহমান বলেন, ‘সদর আসনে মিনুর গ্রহণযোগ্যতা বেশি। তিনি সাধারণ মানুষের মাঝে সহজে মিশে যেতে পারেন।’ শিরোইল কলোনির সুলতান মাহমুদ জানান, পরিচিত মুখ হিসেবে মিনুকেই সবাই চেনেন, নতুন করে জামায়াত প্রার্থীর নাম শুনছেন তাঁরা।
পেশায় চিকিৎসক ও রাজশাহী মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর প্রথমবারের মতো জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এর আগে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) ছাত্র সংসদ ও চিকিৎসক সংগঠনের নির্বাচনে অভিজ্ঞ এই নেতা মনে করেন, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে জামায়াতের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। তফশিল ঘোষণার আগের শোডাউন ও গণসংযোগে অভূতপূর্ব সাড়া পেয়েছি। ফ্যাসিবাদী আমলে আমাদের নেতাদের জুডিশিয়াল কিলিং করা হয়েছে। গুম করা হয়েছে। এখনও শিবিরের অনেক নেতাকে খুঁজে পাওয়া যায় না। নিপীড়িত দল হিসেবে সাধারণ মানুষ আমাদের গ্রহণ করেছে।’
ডা. জাহাঙ্গীর আরও বলেন, ‘বিগত সময়ে জোট থাকায় আমাদের ভোটে তাঁর (মিনু) জয় ত্বরান্বিত হয়েছে। এবার জোট নেই, তাই আমাদের ভোট আমাদেরই থাকবে। নির্বাচিত হলে আমি রাজশাহীতে ইপিজেড স্থাপন এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ৩ হাজার শয্যায় উন্নীত করে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করব।’
নিজের জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী মিজানুর রহমান মিনু বলেন, ‘রাজশাহীর মানুষ আমাকে চেনে, আমি দীর্ঘ সময় তাদের সাথে আছি। জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস এবং তারা কল্যাণের জন্যই আমাকে বেছে নেবে।’ তিনি ঘোষণা দেন, নির্বাচিত হলে ভূমিদস্যু, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের নির্মূল করে রাজশাহীকে শান্তির নগরী হিসেবে গড়ে তুলবেন।
মিনু আরও বলেন, ‘আমরা যারা নির্বাচন করছি তারা সবাই ভাই-ভাই, এই মাটির সন্তান। সবার প্রতি আমার শ্রদ্ধা আছে। আমি ভোটের রায় মেনে নেব।’ নির্বাচিত হলে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে আইটি সেক্টরের উন্নয়ন ও বিদেশের মাটিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে বেকারত্ব দূর করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
রাজশাহী সদর আসনে মোট ৬ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ হলেও লড়াই মূলত বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৫৬৪ জন ভোটারের এই আসনে শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞতার জয় হয় নাকি পরিবর্তনের ডাক সফল হয়, তা-ই এখন দেখার বিষয়।