ওলিউর রহমান

রমজানের ১৫ তারিখ রাত। আকাশে পূর্ণিমার চাঁদ। চাঁদের মৃদু আলোতে বর্ণিল পোশাকে সজ্জিত মহল্লার কচিকাঁচার দল হল্লা করতে করতে ছুটছে এক বাড়ি থেকে আরেক বাড়িতে। দরজায় কড়া নেড়ে সবাইকে জানাচ্ছে রমজানের মধ্যভাগের শুভেচ্ছা। প্রত্যেক বাড়ি থেকেই তাদেরকে বিতরণ করা হচ্ছে মিষ্টান্ন, দেওয়া হচ্ছে ছোট ছোট উপহার।
প্রতি বছর রমজানের ১৫ তারিখ রাত এভাবেই উদযাপন করে বাহরাইনের শিশু-কিশোরেরা। এই উদযাপন স্থানীয়ভাবে ‘কারকাউন’ নামে পরিচিত।
রমজানে মুসলিম বিশ্বজুড়ে নানা রকম লোকাচার দেখা যায়। যেমন পুরান ঢাকায় একসময় সেহরিতে কাওয়ালের দল কাসিদা গাইতে গাইতে মহল্লাবাসীকে জাগিয়ে তুলত। কোনো কোনো দেশে সূর্যাস্তের সময় কামান দাগিয়ে ইফতারের ঘোষণা দেওয়া হয়। এগুলো ধর্মীয় বিধান নয়, বরং স্থানীয় সংস্কৃতির অংশ।
বাহরাইনের কারকাউন অনুষ্ঠানও তেমনই একটি প্রাচীন লোকঐতিহ্য। গবেষণাভিত্তিক নির্দিষ্ট সাল জানা না গেলেও, এটি উপসাগরীয় অঞ্চলে বহু প্রজন্ম ধরে পালিত হয়ে আসছে বলে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সূত্রে উল্লেখ রয়েছে। পরবর্তীতে কুয়েত, কাতার, ওমানসহ উপসাগরীয় অন্যান্য অঞ্চলেও ভিন্ন ভিন্ন নামে ছড়িয়ে পড়ে এ আনুষ্ঠানিকতা। কোথাও একে বলা হয় কারকীআন, কোথাও কারানকুহ, কোথাও বা অন্য নামে পরিচিত।
‘কারকাউন’ শব্দটির উৎপত্তি সম্পর্কে একাধিক মত রয়েছে। কেউ বলেন, এটি আরবি ‘কারউল বাব’ তথা দরজায় কড়া নাড়ার শব্দগত অনুকরণ থেকে এসেছে। আবার কেউ এটিকে শিশুদের হাতে ধরা পাত্রে মিষ্টির ঠোকাঠুকির শব্দের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করেন।
এ দিনকে কেন্দ্র করে প্রাচীন বাহরাইনের মহল্লাগুলো নতুন সাজে সজ্জিত হয়। বাড়িতে বাড়িতে প্রস্তুত করা হয় নানা পদের মিষ্টান্ন। আত্মীয়-স্বজনকে দাওয়াত করা হয়। কয়েকদিন ধরে চলে প্রস্তুতি। অনেক এলাকায় শিশুরা নিজেরাই চাঁদা তুলে সবার জন্য ছোট উপহার কিনে।
সন্ধ্যা হলে কচিকাঁচার দল দফ বাজিয়ে প্রাচীন আরবীয় সুরে গান গাইতে গাইতে মিছিলের আকারে এক বাড়ি থেকে আরেক বাড়ি যায়। কোথাও কোথাও প্রতীকী ঘোড়া বা শোভাযাত্রার সাজও দেখা যায়। শিশুরা ছোট থলে বা বাক্স সঙ্গে রাখে, যেখানে দেওয়া মিষ্টি ও উপহার জমা করে।
বাড়ির বড়রা সমবেত হয়ে তাদের স্বাগত জানান এবং মিষ্টিমুখ করান। লাওয ও জাওয নামে বিশেষ পদের মিষ্টান্ন প্রস্তুতের প্রচলন রয়েছে এ দিনে। অনেকে সামর্থ্য অনুযায়ী বখশিশও দেন।
এভাবেই প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বাহরাইনের শিশু-কিশোরেরা রমজানের মধ্যভাগকে আনন্দ, উৎসবের মধ্য দিয়ে স্বাগত জানায়। ধর্মীয় আবহের ভেতর সামাজিক বন্ধনকে দৃঢ় করার এই লোকঐতিহ্য এখনো টিকে আছে সময়ের ভেতর দিয়ে।

রমজানের ১৫ তারিখ রাত। আকাশে পূর্ণিমার চাঁদ। চাঁদের মৃদু আলোতে বর্ণিল পোশাকে সজ্জিত মহল্লার কচিকাঁচার দল হল্লা করতে করতে ছুটছে এক বাড়ি থেকে আরেক বাড়িতে। দরজায় কড়া নেড়ে সবাইকে জানাচ্ছে রমজানের মধ্যভাগের শুভেচ্ছা। প্রত্যেক বাড়ি থেকেই তাদেরকে বিতরণ করা হচ্ছে মিষ্টান্ন, দেওয়া হচ্ছে ছোট ছোট উপহার।
প্রতি বছর রমজানের ১৫ তারিখ রাত এভাবেই উদযাপন করে বাহরাইনের শিশু-কিশোরেরা। এই উদযাপন স্থানীয়ভাবে ‘কারকাউন’ নামে পরিচিত।
রমজানে মুসলিম বিশ্বজুড়ে নানা রকম লোকাচার দেখা যায়। যেমন পুরান ঢাকায় একসময় সেহরিতে কাওয়ালের দল কাসিদা গাইতে গাইতে মহল্লাবাসীকে জাগিয়ে তুলত। কোনো কোনো দেশে সূর্যাস্তের সময় কামান দাগিয়ে ইফতারের ঘোষণা দেওয়া হয়। এগুলো ধর্মীয় বিধান নয়, বরং স্থানীয় সংস্কৃতির অংশ।
বাহরাইনের কারকাউন অনুষ্ঠানও তেমনই একটি প্রাচীন লোকঐতিহ্য। গবেষণাভিত্তিক নির্দিষ্ট সাল জানা না গেলেও, এটি উপসাগরীয় অঞ্চলে বহু প্রজন্ম ধরে পালিত হয়ে আসছে বলে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সূত্রে উল্লেখ রয়েছে। পরবর্তীতে কুয়েত, কাতার, ওমানসহ উপসাগরীয় অন্যান্য অঞ্চলেও ভিন্ন ভিন্ন নামে ছড়িয়ে পড়ে এ আনুষ্ঠানিকতা। কোথাও একে বলা হয় কারকীআন, কোথাও কারানকুহ, কোথাও বা অন্য নামে পরিচিত।
‘কারকাউন’ শব্দটির উৎপত্তি সম্পর্কে একাধিক মত রয়েছে। কেউ বলেন, এটি আরবি ‘কারউল বাব’ তথা দরজায় কড়া নাড়ার শব্দগত অনুকরণ থেকে এসেছে। আবার কেউ এটিকে শিশুদের হাতে ধরা পাত্রে মিষ্টির ঠোকাঠুকির শব্দের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করেন।
এ দিনকে কেন্দ্র করে প্রাচীন বাহরাইনের মহল্লাগুলো নতুন সাজে সজ্জিত হয়। বাড়িতে বাড়িতে প্রস্তুত করা হয় নানা পদের মিষ্টান্ন। আত্মীয়-স্বজনকে দাওয়াত করা হয়। কয়েকদিন ধরে চলে প্রস্তুতি। অনেক এলাকায় শিশুরা নিজেরাই চাঁদা তুলে সবার জন্য ছোট উপহার কিনে।
সন্ধ্যা হলে কচিকাঁচার দল দফ বাজিয়ে প্রাচীন আরবীয় সুরে গান গাইতে গাইতে মিছিলের আকারে এক বাড়ি থেকে আরেক বাড়ি যায়। কোথাও কোথাও প্রতীকী ঘোড়া বা শোভাযাত্রার সাজও দেখা যায়। শিশুরা ছোট থলে বা বাক্স সঙ্গে রাখে, যেখানে দেওয়া মিষ্টি ও উপহার জমা করে।
বাড়ির বড়রা সমবেত হয়ে তাদের স্বাগত জানান এবং মিষ্টিমুখ করান। লাওয ও জাওয নামে বিশেষ পদের মিষ্টান্ন প্রস্তুতের প্রচলন রয়েছে এ দিনে। অনেকে সামর্থ্য অনুযায়ী বখশিশও দেন।
এভাবেই প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বাহরাইনের শিশু-কিশোরেরা রমজানের মধ্যভাগকে আনন্দ, উৎসবের মধ্য দিয়ে স্বাগত জানায়। ধর্মীয় আবহের ভেতর সামাজিক বন্ধনকে দৃঢ় করার এই লোকঐতিহ্য এখনো টিকে আছে সময়ের ভেতর দিয়ে।

সামর্থ্যের কারণে সাধারণত মানুষ জীবনে একবারই হজ করে৷ ভিন্ন দেশ ও বৈচিত্র্যপূর্ণ পরিবেশে এই ইবাদতের আনুষ্ঠানিকতা পালন করতে হয়। তাই প্রথমবার হজযাত্রীদের তাওয়াফ, ইহরামসহ প্রতিটা গুরুত্বপূর্ণ আমল বিষয়ে আগে থেকে কিছু মাসআলা জেনে রাখা ভালো।
৭ দিন আগে
পয়লা বৈশাখ এলেই নানা বিতর্ক চোখে পড়ে। কেউ এটাকে সংস্কৃতি বলে আঁকড়ে ধরতে চায়, কেউ ধর্মের নামে পুরোটা প্রত্যাখ্যান করতে চায়। কিন্তু এই তর্কের ভিড়ে আমার মনে পড়ে যায় একেবারে অন্যরকম এক বৈশাখ।
১০ দিন আগে
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে এক পীরকে পিটিয়ে হত্যা করেছে স্থানীয় উত্তেজিত জনতা। কয়েক মাস আগে পার্শ্ববর্তী জেলা রাজবাড়িতেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলায় মাজারে হামলার খবর এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়।
১১ দিন আগে
ইসলামের দৃষ্টিতে সময় শুধু গতি নয়; বরং তা ইবাদত, আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের একেকটি সুযোগ। মাসগুলোর মধ্যে রমজান যেমন বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ, তেমনি সপ্তাহের দিনগুলোর মধ্যেও রয়েছে একটি শ্রেষ্ঠ দিন—শুক্রবার, যা মুসলমানদের কাছে ‘জুমার দিন’ নামে বেশি পরিচিত।
১৪ দিন আগে