ওলিউর রহমান

ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। এখানে সব মানুষের অধিকার ও দায়িত্ব সুস্পষ্ঠভাবে নির্ধারিত। বিশেষ করে শ্রমিকের অধিকারের প্রতি ইসলাম অত্যন্ত গুরুত্ব প্রদান করেছে৷ কোরআনে প্রত্যেককে তাদের ন্যায্য পারিশ্রমিক বুঝিয়ে দেওয়ার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে৷ রাসূল সা. মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তে সর্বশেষ যে কয়েকটি নসিহত উম্মতকে করেছেন তার একটি হল অধিনস্তদের প্রতি সদাচার।
ঘাম শুকানোর পূর্বেই পারিশ্রমিক আদায়ের নির্দেশ
শ্রমিকদের হক আদায়ের ব্যাপারে রাসূল সা.-এর নির্দেশনা খুবই স্পষ্ট। তিনি বলেছেন, একজন শ্রমিকের ঘাম শুকানোর পূর্বেই তোমরা তার পারিশ্রমিক আদায় করে দাও। (ইবনে মাজাহ)
এই নির্দেশনা অত্যন্ত মর্মস্পর্শী। এতে বোঝা যায়, শ্রমিকের প্রাপ্য দেরি করা ইসলামে অপছন্দনীয়। অথচ আমাদের সমাজে অনেক সময় অযথা গড়িমসি করা হয়, যা স্পষ্টতই অন্যায় ও গুনাহের কাজ।
ন্যায্য মজুরি পরিশোধ করা
শ্রমিকের মজুরি ন্যায্য হতে হবে। কাজের পরিমাণ অনুযায়ী সঠিক পারিশ্রমিক নির্ধারণ করা জরুরি। কম দেওয়া বা প্রতারণা করা হারাম। আল্লাহ তাআলা কোরআনে বলেন, ‘তোমরা মাপে পূর্ণ দাও এবং ওজনে কম দিয়ো না।’ শ্রমিকের ন্যায্য পারিশ্রমিক যথাযথ আদায় করাও কোরআনের এই নির্দেশের অন্তর্ভূক্ত।
অধীনস্থদের প্রতি সদাচার
ইসলামের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা হলো অধিনস্তদের প্রতি সদাচার করা। রাসূল সা. হাদিসে অধীনস্থদের ভাই বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘তোমাদের অধীনস্থরা তোমাদের ভাই।’
অতএব তাদের সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ করা প্রত্যেক মুসলিমের দায়িত্ব। ইসলাম কাউকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করার অনুমতি দেয় না।
সামর্থের অধিক বোঝা চাপানো যাবে না
শ্রমিকের ওপর তার সামর্থ্যের বাইরে কাজ চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। যদি কাজ বেশি হয়, তাহলে তাকে সহায়তা করতে হবে।
আল্লাহ কোনো প্রাণের ওপর তার সামর্থ্যের বাইরে দায়িত্ব আরোপ করেন না।” (সূরা আল-বাকারা ২:২৮৬)
এ ছাড়াও সহিহ বুখারির হাদিসে রাসূল সা. এর এই হাদীস উল্লেখ আছে—তোমরা তোমাদের অধীনস্থদের এমন কাজ দিয়ো না, যা তাদের সামর্থ্যের বাইরে। যদি দাও, তবে তাদের সাহায্য করো।’
কাজের পরিবেশ নিরাপদ রাখা
শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ নিরাপদ রাখা অত্যন্ত জরুরি। এমন কোনো কাজ দেওয়া যাবে না, যা তার জন্য ক্ষতিকর বা ঝুঁকিপূর্ণ। রাসূল সা. শ্রমিকদের দ্বারা এমন কাজ করাতে নিষেধ করেছেন যা তারা নিজেরা করতে অপারগ।
হাদিসে এসেছে, তোমাদের অধিনস্তরা তোমাদের ভাই। তোমরা নিজেরা যা খাও, তাদেরকে তা-ই খেতে দাও, নিজেরা যে পোশাক পরো, তাদের তা-ই পরতে দাও। ( সহিহ বুখারী)
মজুরি আটকে রাখার পরিণতি ভয়াবহ
শ্রমিকদের দিয়ে কাজ সম্পন্ন করিয়ে নিয়েও তাদের মজুরি প্রদান না করা সুস্পষ্ট জুলুম। আল্লাহ তায়ালা স্বয়ং এসব প্রতারক জালেমদের ভয়াবহ পরিণতির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। হাদিসে কুদসিতে উল্লেখ আছে আল্লাহ বলেন, ‘তিন ব্যক্তি আছে, কিয়ামতের দিন আমি তাদের বিরুদ্ধে বাদী হব। তাদের একজন হলো—যে শ্রমিক নিয়োগ করে তার কাজ পূর্ণভাবে নেয়, কিন্তু তার মজুরি দেয় না। (সহিহ বুখারি)
অতএব, ইসলামের শিক্ষা হলো, একজন শ্রমিক শুধু কাজের মাধ্যম নয়, বরং একজন সম্মানিত মানুষ। তার ঘাম, পরিশ্রম এবং সময়ের মূল্য যথাযথভাবে আদায় করা প্রত্যেকের ঈমানি দায়িত্ব।
আমরা যদি সত্যিই ইসলামের অনুসারী হই, তবে আমাদের জীবন ও কর্মক্ষেত্রে এই ন্যায়ের প্রতিফলন থাকা উচিত। শ্রমিকের অধিকার রক্ষা করা শুধু সামাজিক দায়িত্ব নয়, বরং আল্লাহর কাছে জবাবদিহির বিষয়।

ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। এখানে সব মানুষের অধিকার ও দায়িত্ব সুস্পষ্ঠভাবে নির্ধারিত। বিশেষ করে শ্রমিকের অধিকারের প্রতি ইসলাম অত্যন্ত গুরুত্ব প্রদান করেছে৷ কোরআনে প্রত্যেককে তাদের ন্যায্য পারিশ্রমিক বুঝিয়ে দেওয়ার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে৷ রাসূল সা. মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তে সর্বশেষ যে কয়েকটি নসিহত উম্মতকে করেছেন তার একটি হল অধিনস্তদের প্রতি সদাচার।
ঘাম শুকানোর পূর্বেই পারিশ্রমিক আদায়ের নির্দেশ
শ্রমিকদের হক আদায়ের ব্যাপারে রাসূল সা.-এর নির্দেশনা খুবই স্পষ্ট। তিনি বলেছেন, একজন শ্রমিকের ঘাম শুকানোর পূর্বেই তোমরা তার পারিশ্রমিক আদায় করে দাও। (ইবনে মাজাহ)
এই নির্দেশনা অত্যন্ত মর্মস্পর্শী। এতে বোঝা যায়, শ্রমিকের প্রাপ্য দেরি করা ইসলামে অপছন্দনীয়। অথচ আমাদের সমাজে অনেক সময় অযথা গড়িমসি করা হয়, যা স্পষ্টতই অন্যায় ও গুনাহের কাজ।
ন্যায্য মজুরি পরিশোধ করা
শ্রমিকের মজুরি ন্যায্য হতে হবে। কাজের পরিমাণ অনুযায়ী সঠিক পারিশ্রমিক নির্ধারণ করা জরুরি। কম দেওয়া বা প্রতারণা করা হারাম। আল্লাহ তাআলা কোরআনে বলেন, ‘তোমরা মাপে পূর্ণ দাও এবং ওজনে কম দিয়ো না।’ শ্রমিকের ন্যায্য পারিশ্রমিক যথাযথ আদায় করাও কোরআনের এই নির্দেশের অন্তর্ভূক্ত।
অধীনস্থদের প্রতি সদাচার
ইসলামের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা হলো অধিনস্তদের প্রতি সদাচার করা। রাসূল সা. হাদিসে অধীনস্থদের ভাই বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘তোমাদের অধীনস্থরা তোমাদের ভাই।’
অতএব তাদের সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ করা প্রত্যেক মুসলিমের দায়িত্ব। ইসলাম কাউকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করার অনুমতি দেয় না।
সামর্থের অধিক বোঝা চাপানো যাবে না
শ্রমিকের ওপর তার সামর্থ্যের বাইরে কাজ চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। যদি কাজ বেশি হয়, তাহলে তাকে সহায়তা করতে হবে।
আল্লাহ কোনো প্রাণের ওপর তার সামর্থ্যের বাইরে দায়িত্ব আরোপ করেন না।” (সূরা আল-বাকারা ২:২৮৬)
এ ছাড়াও সহিহ বুখারির হাদিসে রাসূল সা. এর এই হাদীস উল্লেখ আছে—তোমরা তোমাদের অধীনস্থদের এমন কাজ দিয়ো না, যা তাদের সামর্থ্যের বাইরে। যদি দাও, তবে তাদের সাহায্য করো।’
কাজের পরিবেশ নিরাপদ রাখা
শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ নিরাপদ রাখা অত্যন্ত জরুরি। এমন কোনো কাজ দেওয়া যাবে না, যা তার জন্য ক্ষতিকর বা ঝুঁকিপূর্ণ। রাসূল সা. শ্রমিকদের দ্বারা এমন কাজ করাতে নিষেধ করেছেন যা তারা নিজেরা করতে অপারগ।
হাদিসে এসেছে, তোমাদের অধিনস্তরা তোমাদের ভাই। তোমরা নিজেরা যা খাও, তাদেরকে তা-ই খেতে দাও, নিজেরা যে পোশাক পরো, তাদের তা-ই পরতে দাও। ( সহিহ বুখারী)
মজুরি আটকে রাখার পরিণতি ভয়াবহ
শ্রমিকদের দিয়ে কাজ সম্পন্ন করিয়ে নিয়েও তাদের মজুরি প্রদান না করা সুস্পষ্ট জুলুম। আল্লাহ তায়ালা স্বয়ং এসব প্রতারক জালেমদের ভয়াবহ পরিণতির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। হাদিসে কুদসিতে উল্লেখ আছে আল্লাহ বলেন, ‘তিন ব্যক্তি আছে, কিয়ামতের দিন আমি তাদের বিরুদ্ধে বাদী হব। তাদের একজন হলো—যে শ্রমিক নিয়োগ করে তার কাজ পূর্ণভাবে নেয়, কিন্তু তার মজুরি দেয় না। (সহিহ বুখারি)
অতএব, ইসলামের শিক্ষা হলো, একজন শ্রমিক শুধু কাজের মাধ্যম নয়, বরং একজন সম্মানিত মানুষ। তার ঘাম, পরিশ্রম এবং সময়ের মূল্য যথাযথভাবে আদায় করা প্রত্যেকের ঈমানি দায়িত্ব।
আমরা যদি সত্যিই ইসলামের অনুসারী হই, তবে আমাদের জীবন ও কর্মক্ষেত্রে এই ন্যায়ের প্রতিফলন থাকা উচিত। শ্রমিকের অধিকার রক্ষা করা শুধু সামাজিক দায়িত্ব নয়, বরং আল্লাহর কাছে জবাবদিহির বিষয়।

দৃশ্য-১: কোরবানির ঈদের দিন দুপুর। শহরের মহল্লাতে এসময় সমাজের নিম্ন আয়ের কিছু মানুষ মাংস সংগ্রহের জন্য বের হয়। বাসায় বাসায় ঘুরে এক টুকরো, দুই টুকরো মাংস সংগ্রহ করে দলবেঁধে। রাতের বেলায় সেই মাংস রান্না করে তারা ঈদের দিনে ভাল-মন্দ খায়।
৩ দিন আগে
জিলহজ মাস ইবাদত, ত্যাগ ও আত্মসমর্পণের অনন্য এক মৌসুম। হজ ও কোরবানির মতো ইসলামের দুই মহান ইবাদত এ মাসের সঙ্গেই জড়িত। তাই মুসলিম উম্মাহর কাছে জিলহজ মাসের গুরুত্ব অত্যন্ত গভীর ও তাৎপর্যপূর্ণ।
৫ দিন আগে
সৌদি আরবে জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। আগামী ২৭ মে বুধবার দেশটিতে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন হবে। সৌদি আরবের পরের দিন বাংলাদেশে ঈদ উদযাপিত হয়।
১৩ দিন আগে
ইউএইভিত্তিক সংবাদমাধ্যম খালিজ টাইমস জানিয়েছে, জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব অনুসারে কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) আগামী ২৭ মে ঈদুল আজহা হবে। সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর এক দিন পর বাংলাদেশে ঈদ উদযাপিত হয়।
১৯ দিন আগে