জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকীতে আনন্দমেলা উদ্বোধন কৃষকদল সভাপতির​

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
পাবনা

প্রকাশ : ৩১ মে ২০২৬, ০৮: ৪৩
ঈদ আনন্দ মেলা উদ্বোধন করেছেন কৃষক দল কেন্দ্রীয় সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন। সংগৃহীত ছবি

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকীর দিনে পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ঈদ আনন্দ মেলা ও সার্কাস উদ্বোধন করেছেন কৃষক দল কেন্দ্রীয় সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিনসহ স্থানীয় বিএনপি নেতাদের একাংশ। এতে ক্ষোভ জানিয়েছেন জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারাও।

শনিবার (৩০ মে) পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার ঐতিহাসিক বড়াল ব্রিজ খেলার মাঠে তরঙ্গ সাংস্কৃতিক ও নাট্য গোষ্ঠীর উদ্যোগে সাত দিনব্যাপী ঈদ আনন্দ মেলা ও দি বুলবুল জয়া সার্কাসের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মেলার উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন। এ সময় উপজেলা ও পৌর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

​প্রতিবছর এ দিনটি বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলো দোয়া, মিলাদ মাহফিল, আলোচনা সভা এবং স্মরণ কর্মসূচির মাধ্যমে পালন করে থাকে। এ অবস্থায় শাহাদতবার্ষিকীর দিনেই বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সার্কাস ও মেলা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকে ‘অনভিপ্রেত’ বলে মন্তব্য করেছেন দলের কয়েকজন সমর্থক ও স্থানীয় বাসিন্দা।

​স্থানীয় একাধিক বিএনপি সমর্থক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এ দিনটিতে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় কর্মসূচি প্রত্যাশিত ছিল।

​তবে আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঈদ উপলক্ষে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবেই মেলা ও সার্কাসের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে বক্তারাও মেলায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কোনো ধরনের অশ্লীলতা বা অসামাজিক কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় না দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন।

​ভাঙ্গুড়া উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সায়েক আবু সায়েম বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীর দিনে মিলাদ বা দোয়া কর্মসূচি না করে এ ধরনের আয়োজন কেন করা হলো, তা তার বোধগম্য নয়। তিনি এটিকে রাজনৈতিক দূরদর্শিতার অভাব বলেও মন্তব্য করেন।

​ভাঙ্গুড়া উপজেলা বিএনপির আহবায়ক নূর-মুজাহিদ স্বপন বলেন, আজকের দিনে (শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী) সার্কাস উদ্বোধন কোনোভাবেই ঠিক কাজ হয় নাই। উদ্বোধন একদিন আগে বা পরে করা যেতো কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, সব কিছুই ভাড়া করা তাই উদ্বোধন করতেই হয়েছে।

​পাবনা জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মাসুদ খন্দকার বলেন, এমন দিবসে মেলা বা এ ধরনের প্রোগ্রাম করাটা অন্যায়। এটির মাধ্যমে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে অবমাননা ও দলকে ছোট করা হয়েছে।

তিনি বলেন, না বুঝে অনেক সময় উপজেলার নেতারা এ ধরনের ভুল করে ফেলেন। কিন্তু কৃষকদলের সভাপতির মতো পদে থেকে উনি এটি করতেই পারেন না। এটি নিন্দনীয় ব্যাপার।

​এ বিষয়ে কথা বলতে কেন্দ্রীয় কৃষকদল সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত