ওলিউর রহমান

ইফতারের পূর্বমুহূর্ত। বাসার পুরুষেরা অজু সেরে টুপি মাথায় দিয়ে খাবারের টেবিলে বসে মোনাজাতে হাত তুলেছেন। ঘরে প্রশান্ত এক আবহ।
আর রান্নাঘরে? সেখানে সময়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ।
দুই হাত চালিয়ে কাজ করছেন একজন নারী। স্বামী চিড়া খাবেন, ছেলের পছন্দ হালিম, শ্বশুরের জন্য বেলের শরবত বানাতে হবে। আরও কত কী! চুলার আগুন, কড়াইয়ের শব্দ, প্লেট সাজানো—সব মিলিয়ে এক ব্যস্ত রণক্ষেত্র।
রমজান ইবাদতের মাস। হাদিসে এসেছে, রমজান শুরু হলে ফেরেশতারা ঘোষণা দেন, ‘হে সৎকর্মশীল, তোমার সৎকর্ম বাড়িয়ে দাও।’ (তিরমিযী: ৬৮২) আরও বর্ণিত হয়েছে, রমজানে একটি নফল ইবাদতের সওয়াব ফরজের সমান, আর একটি ফরজের সওয়াব সত্তর ফরজের সমান। (সহীহ ইবনে খুযায়মা)
এই ফজিলতের আশায় রমজানে মানুষের ইবাদতের আগ্রহ বেড়ে যায়। মসজিদগুলোতে বাড়ে নামাজির সংখ্যা, তারাবির কাতার দীর্ঘ হয়। গোটা সমাজেই ইবাদতের একটা আবহ তৈরি হয়।
কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই বাড়তি ইবাদতের সুযোগ কি সবাই সমানভাবে পায়? নারীদের দিন তো কেটে যায় রন্ধনযজ্ঞেই।
সকালে ঘুম থেকে উঠে শুরু কাটা-বাটা। দুপুরে ঘর গোছানো। বিকেলে ইফতার প্রস্তুতির যুদ্ধ। সন্ধ্যায় বাসন মাজার পর রাতের খাবার ও সেহেরির প্রস্তুতি। এর ফাঁকে স্বামী-সংসারের টুকটাক ফুটফরমাশ। সারাদিনে বিশ্রামের সময় নেই। তাহলে কুরআন তিলাওয়াত করবে কখন? তারাবির নামাজে দাঁড়াবে কখন? তাহাজ্জুদের সিজদায় অশ্রু ফেলবে কখন?
রমজানে পুরুষেরা শেষরাতে উঠে যখন তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করে নারীকে তখন খাবার রেডি করতে হয়। সারা দিন পুরুষ যখন অফিসের কাজে ব্যস্ত থাকে নারীকে তখন ঘর সামলাতে হয়। সূর্যাস্তের পূর্বে পুরুষ যখন মোনাজাতে বসে নারীকে তখন ইফতারের টেবিল সাজাতে হয়। পুরুষ যখন তারাবিতে যায় নারীকে তখন রাতের খাবার প্রস্তুত করতে হয়৷ কেমন এক চক্রবন্দি জীবন নারীর।
রমজানে উপলক্ষে কর্মজীবীদের কর্মঘণ্টা কমে—কিন্তু গৃহিণীর নয়। তার কাজ ৭ দিন, ২৪ ঘণ্টা।
সংসারের প্রয়োজনীয় কাজ অবশ্যই করতে হবে। কিন্তু আমাদের সমাজে যেভাবে সব দায়িত্ব এককভাবে নারীর কাঁধে চাপানো হয়—তা রাসুলের আদর্শ নয়। রাসুল (সা.) ঘরের কাজে স্ত্রীদের সহযোগিতা করতেন। (তিরমিযী: ২৪৮৯) তিনি বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সে-ই উত্তম, যে তার স্ত্রীর কাছে উত্তম; আর আমি আমার স্ত্রীদের কাছে সর্বোত্তম।’ (তিরমিযী: ৩৮৯৫) তাহলে প্রশ্নটা ধর্মের নয়, চর্চার।
স্বাভাবিক সময়ে এবং বিশেষ করে রমজানে ঘরকন্নার কাজে অংশ নিয়ে নারীদেরকেও ইবাদতের সুযোগ করে দেওয়া সব পুরুষের অবশ্য কর্তব্য। রমজান শুধু পুরুষের ইবাদতের মাস নয়। তা ছাড়া স্ত্রীর গৃহস্থালি কাজে সহায়তা করা রাসুলের সুন্নাত এবং স্বতন্ত্র একটি ইবাদতও বটে। তাই রমজানে আমাদের খাবারের চাহিদাকে সীমিত করে নারীদের ইবাতের সুযোগ করে দেওয়া উচিত।
হাদিসে রোজার দিনে অধীনস্থদের কাজের চাপ কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর সবচেয়ে বেশি হকদার নিজের স্ত্রী। রোজার দিনে তাই সাহেরি, ইফতারে মজাদার এবং বাহারি খাবারের চাহিদা থেকে স্ত্রীদেরকে নিস্তার দেওয়া উচিত। উপরন্তু সব কাজেই তাকে সাহায্য করা কর্তব্য।
অবশ্য নামাজ, রোজা, তিলাওয়াতই কেবল ইবাদত নয়। রান্না, পরিবেশন, ঘর গোছানো—সবই ইবাদত, যদি নিয়ত থাকে আল্লাহর সন্তুষ্টি।
কিন্তু আমরা কি সেই ইবাদতের অংশীদার হচ্ছি? নাকি শুধু তার ফল ভোগ করছি?
আমাদের রমজান কাটুক ইবাদতে। শুধু মসজিদের কাতারে নয়, ঘরের ভেতরেও। নারীদের জীবন যেন গৃহস্থালি কাজের অন্তহীন চক্রে বন্দি না থাকে।
সবার তারাবি, তাহাজ্জুদ, তিলাওয়াতে রমজান হয়ে উঠুক সত্যিকারের বর্ণময়।

ইফতারের পূর্বমুহূর্ত। বাসার পুরুষেরা অজু সেরে টুপি মাথায় দিয়ে খাবারের টেবিলে বসে মোনাজাতে হাত তুলেছেন। ঘরে প্রশান্ত এক আবহ।
আর রান্নাঘরে? সেখানে সময়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ।
দুই হাত চালিয়ে কাজ করছেন একজন নারী। স্বামী চিড়া খাবেন, ছেলের পছন্দ হালিম, শ্বশুরের জন্য বেলের শরবত বানাতে হবে। আরও কত কী! চুলার আগুন, কড়াইয়ের শব্দ, প্লেট সাজানো—সব মিলিয়ে এক ব্যস্ত রণক্ষেত্র।
রমজান ইবাদতের মাস। হাদিসে এসেছে, রমজান শুরু হলে ফেরেশতারা ঘোষণা দেন, ‘হে সৎকর্মশীল, তোমার সৎকর্ম বাড়িয়ে দাও।’ (তিরমিযী: ৬৮২) আরও বর্ণিত হয়েছে, রমজানে একটি নফল ইবাদতের সওয়াব ফরজের সমান, আর একটি ফরজের সওয়াব সত্তর ফরজের সমান। (সহীহ ইবনে খুযায়মা)
এই ফজিলতের আশায় রমজানে মানুষের ইবাদতের আগ্রহ বেড়ে যায়। মসজিদগুলোতে বাড়ে নামাজির সংখ্যা, তারাবির কাতার দীর্ঘ হয়। গোটা সমাজেই ইবাদতের একটা আবহ তৈরি হয়।
কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই বাড়তি ইবাদতের সুযোগ কি সবাই সমানভাবে পায়? নারীদের দিন তো কেটে যায় রন্ধনযজ্ঞেই।
সকালে ঘুম থেকে উঠে শুরু কাটা-বাটা। দুপুরে ঘর গোছানো। বিকেলে ইফতার প্রস্তুতির যুদ্ধ। সন্ধ্যায় বাসন মাজার পর রাতের খাবার ও সেহেরির প্রস্তুতি। এর ফাঁকে স্বামী-সংসারের টুকটাক ফুটফরমাশ। সারাদিনে বিশ্রামের সময় নেই। তাহলে কুরআন তিলাওয়াত করবে কখন? তারাবির নামাজে দাঁড়াবে কখন? তাহাজ্জুদের সিজদায় অশ্রু ফেলবে কখন?
রমজানে পুরুষেরা শেষরাতে উঠে যখন তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করে নারীকে তখন খাবার রেডি করতে হয়। সারা দিন পুরুষ যখন অফিসের কাজে ব্যস্ত থাকে নারীকে তখন ঘর সামলাতে হয়। সূর্যাস্তের পূর্বে পুরুষ যখন মোনাজাতে বসে নারীকে তখন ইফতারের টেবিল সাজাতে হয়। পুরুষ যখন তারাবিতে যায় নারীকে তখন রাতের খাবার প্রস্তুত করতে হয়৷ কেমন এক চক্রবন্দি জীবন নারীর।
রমজানে উপলক্ষে কর্মজীবীদের কর্মঘণ্টা কমে—কিন্তু গৃহিণীর নয়। তার কাজ ৭ দিন, ২৪ ঘণ্টা।
সংসারের প্রয়োজনীয় কাজ অবশ্যই করতে হবে। কিন্তু আমাদের সমাজে যেভাবে সব দায়িত্ব এককভাবে নারীর কাঁধে চাপানো হয়—তা রাসুলের আদর্শ নয়। রাসুল (সা.) ঘরের কাজে স্ত্রীদের সহযোগিতা করতেন। (তিরমিযী: ২৪৮৯) তিনি বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সে-ই উত্তম, যে তার স্ত্রীর কাছে উত্তম; আর আমি আমার স্ত্রীদের কাছে সর্বোত্তম।’ (তিরমিযী: ৩৮৯৫) তাহলে প্রশ্নটা ধর্মের নয়, চর্চার।
স্বাভাবিক সময়ে এবং বিশেষ করে রমজানে ঘরকন্নার কাজে অংশ নিয়ে নারীদেরকেও ইবাদতের সুযোগ করে দেওয়া সব পুরুষের অবশ্য কর্তব্য। রমজান শুধু পুরুষের ইবাদতের মাস নয়। তা ছাড়া স্ত্রীর গৃহস্থালি কাজে সহায়তা করা রাসুলের সুন্নাত এবং স্বতন্ত্র একটি ইবাদতও বটে। তাই রমজানে আমাদের খাবারের চাহিদাকে সীমিত করে নারীদের ইবাতের সুযোগ করে দেওয়া উচিত।
হাদিসে রোজার দিনে অধীনস্থদের কাজের চাপ কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর সবচেয়ে বেশি হকদার নিজের স্ত্রী। রোজার দিনে তাই সাহেরি, ইফতারে মজাদার এবং বাহারি খাবারের চাহিদা থেকে স্ত্রীদেরকে নিস্তার দেওয়া উচিত। উপরন্তু সব কাজেই তাকে সাহায্য করা কর্তব্য।
অবশ্য নামাজ, রোজা, তিলাওয়াতই কেবল ইবাদত নয়। রান্না, পরিবেশন, ঘর গোছানো—সবই ইবাদত, যদি নিয়ত থাকে আল্লাহর সন্তুষ্টি।
কিন্তু আমরা কি সেই ইবাদতের অংশীদার হচ্ছি? নাকি শুধু তার ফল ভোগ করছি?
আমাদের রমজান কাটুক ইবাদতে। শুধু মসজিদের কাতারে নয়, ঘরের ভেতরেও। নারীদের জীবন যেন গৃহস্থালি কাজের অন্তহীন চক্রে বন্দি না থাকে।
সবার তারাবি, তাহাজ্জুদ, তিলাওয়াতে রমজান হয়ে উঠুক সত্যিকারের বর্ণময়।
.png)

সমরকন্দ মুসলিম জ্ঞানসভ্যতার ইতিহাসে এক কিংবদন্তি নাম। শতাব্দীর পর শতাব্দী এই নগরী ছিল জ্ঞান, সভ্যতা ও সংস্কৃতির এক উজ্জ্বল কেন্দ্র। বিশাল মাদরাসার প্রাঙ্গণে প্রতিধ্বনিত হতো কুরআন ও হাদিসের দরস, খানকাগুলো মুখর থাকত আধ্যাত্মিক সাধনায়,
১৭ জুলাই ২০২৬
১৯৯৫ সালের ১১ জুলাই ছিল বসনিয়ার ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ দিন। তিন বছর ধরে চলা গণহত্যা এ দিনে সকল সীমা অতিক্রম করেছিল। দেশটির সেব্রেনিৎসা শহরে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ৮ হাজারের বেশি মানুষ হত্যা করা হয়েছিল ১১ জুলাই। গতকাল ছিল সেব্রেনিৎসা গণহত্যার ৩১তম বার্ষিকী।
১২ জুলাই ২০২৬
গোটা আব্বাসী খেলাফতজুড়েই ছোট-বড় অনেক মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আব্বাসী খলীফাগণ শিক্ষা প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তবে ছত্রিশতম আব্বাসী খলিফা মুস্তানসির বিল্লাহ ছিলেন এ ক্ষেত্রে প্রবাদতুল্য ব্যক্তিত্ব।
০৩ জুলাই ২০২৬
ইসলামি বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস মহররম। আরবিতে এ মাসকে সম্মানিত মাস বলা হয়। আর এই মাসের ১০ তারিখকে বলা হয় আশুরা যা মুসলমানদের কাছে এক গভীর তাৎপর্যপূর্ণ দিন। শতাব্দীর পর শতাব্দী এই আশুরা একদিকে আল্লাহর রহমত, সাহায্য এবং ঐতিহাসিক নানা ঘটনার সাক্ষ্য বহন করে আসছে।
২৬ জুন ২০২৬