জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

ফিতরা কাকে দেবেন, কীভাবে হিসাব করবেন

‎ওলিউর রহমান
‎ওলিউর রহমান

প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫: ৪১
ছবি: সংগৃহীত

চলতি বছরের সাদাকাতুল ফিতরের (ফিতরা) হার নির্ধারণ করা হয়েছে জনপ্রতি সর্বোচ্চ ২ হাজার ৮০৫ টাকা ও সর্বনিম্ন ১১০ টাকা। গতকাল বুধবার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জনসংযোগ শাখার পক্ষ থেকে দেওয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

আমাদের মনে কৌতুহল থাকে, ফিতরার সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ন হার কীভাবে নির্ধারণ করা হয়? পাশাপাশি ফিতরা কে দেবে, কাকে দিতে হবে এবং কখন দিতে হবে—এসব বিষয়েও সবার পরিস্কার ধারণা থাকে না।

সদকাতুল ফিতর কী

‘ফিতর’ আরবি ভাষার শব্দ। এর অর্থ হলো খোলা বা ভাঙা। মুসলমানরা রমযানে দীর্ঘ এক মাস রোযা পালনের পর শাওয়ালের চাঁদ দেখা দিলে রোজা ভাঙে। এ দিনটি মুসলমানদের জন্য খুশির দিন। ঈদুল ফিতর। এ দিনে সমাজের অস্বচ্ছল মানুষেরাও যেন ঈদের আনন্দে শরিক হতে পারে তাই সামর্থবান লোকেদের ওপর আবশ্যক করা হয়েছে নির্দিষ্ট হারে দান করা। ঈদের দিনের নির্দিষ্ট হারের এই দানকে বলা হয় সদকাতুল ফিতর। আমাদের প্রচলিত ভাষায় ফিতরা।

কখন দেওয়া উত্তম

আরবি শাওয়াল মাসের এক তারিখে ঈদুল ফিতরের নামায আদায়ের উদ্দেশ্যে ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বেই ফিতরা আদায় করা আবশ্যক। তবে কোনো কারণে যদি সেসময় দিতে না পারে তাহলে পরে আদায় করতে হয়। অবশ্য যে উদ্দেশ্যে ফিতরার বিধান প্রবর্তন করা হয়েছে সে উদ্দেম্য পূরণের জন্য ঈদের কয়েকদিন পূর্বেই সদকাতুল ফিতর আদায় করা উত্তম; যেন অস্বচ্ছল মানুষ প্রয়োজনীয় কেনাকাটা করে ঈদের আনন্দে শামিল হতে পারে।

ফিতরা কে দেবে, কার পক্ষ থেকে দেবে

প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্ক নর-নারী যার কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদ (সাড়ে সাত ভরি সোনা বা সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপা বা সমমূল্যের নগদ অর্থ ও ব্যবসাপণ্য) রয়েছে তাকে ফিতরা আদায় করতে হবে। পিতার জন্য তার অপ্রাপ্ত বয়সের সন্তানের পক্ষ থেকেও ফিতরা আদায় করতে হবে। স্ত্রী, প্রাপ্ত বয়স্ক সন্তানের ফিতরা স্বামী বা পিতার ওপর আবশ্যক নয়। তবে আদায় করলে আদায় হয়ে যাবে।

সাদাকাতুল ফিতর একটি ফজিলতপূর্ণ ওয়াজিব আমল। যারা নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক নন, তারাও ফিতরা দিতে পারবেন। কারণ এটা সবার জন্য সুন্নত ইবাদত।

কাকে দিতে হবে

দুস্থ, দরিদ্র, অসহায় লোক, যারা যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত তাদেরকে ফিতরা দেওয়া যায়। তবে নিজের পরিবারের ঊর্ধতন এবং অধস্তন লোকদের এবং স্বামী-স্ত্রী পরস্পরকে ফিতরা প্রদান করা যাবে না।

ফিতরার হিসাব কীভাবে করা হয়

ফিতরা নির্ধারণের ক্ষেত্রে পাঁচটি খাদ্য-পণ্য বিবেচনায় নেওয়া হয়। সেগুলো হলো, গমের আটা, যব, কিশমিশ, খেজুর ও পনির। এসব পণ্যের যেকোনো একটি দ্বারা ফিতরা প্রদান করা যাবে।

ফিতরার পরিমাপ গমের ক্ষেত্রে ‘অর্ধ সা’ এবং বাকি চারটি পণ্যের ক্ষেত্রে ‘এক সা’ নির্ধারণ করা হয়েছে। ‘সা’ হলো আরবের প্রাচীন মাপ পদ্ধতি। কেজি ও গ্রাম হিসেবে ‘এক সা’ সমপরিমাণ ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম এবং ‘অর্ধ সা’ সমপরিমাণ ১ কেজি ৬৫০ গ্রাম।

এ হিসাবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলতি বছরে গম বা আটা দ্বারা ফিতরা আদায় করলে অর্ধ সা বা ১ কেজি ৬৫০ গ্রাম বা এর বাজার মূল্য ১১০ (এক শ দশ) টাকা প্রদান করতে হবে।

যব দ্বারা আদায় করলে এক সা বা ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর বাজার মূল্য ৫৯৫ (পাঁচ শ পঁচানব্বই) টাকা, খেজুর দ্বারা আদায় করলে এক সা বা ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর বাজার মূল্য ২৪৭৫ (দুই হাজার চার শ পঁচাত্তর) টাকা, কিশমিশ দ্বারা আদায় করলে এক সা বা ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর বাজার মূল্য ২৬৪০ (দুই হাজার ছয় শ চল্লিশ) টাকা ও পনির দ্বারা আদায় করলে এক সা বা ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর বাজার মূল্য ২৮০৫ (দুই হাজার আট শ পাঁচ) টাকা ফিতরা প্রদান করতে হবে।

অর্থাৎ গমের হিসেবে সর্বনিম্ন ১১০ টাকা এবং পনিরের হিসেবে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৮০৫ টাকা প্রদান করতে হবে।

সদকাতুল ফিতরের শিক্ষা

সদকাতুল ফিতর কেবল একটি নির্ধারিত অঙ্কের দান নয়; এটি রমজানের আত্মশুদ্ধিকে পূর্ণতা দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। আমাদের সামান্য সহযোগিতাই হয়তো কারও ঈদের হাসির কারণ হতে পারে। তাই সময়মতো ও আন্তরিকতার সঙ্গে ফিতরা আদায় করে ঈদের আনন্দকে সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া আমাদের নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব।

ফিতরার মূল উদ্দেশ্য সমাজে বৈষম্য কমানো এবং ঈদের আনন্দে সবাইকে শরিক করা। তাই কেবল দায়সারা নয়, বরং আন্তরিকতা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে ফিতরা আদায় করা উচিত। আমাদের সচেতনতা ও সহমর্মিতাই পারে ঈদকে সত্যিকারের সার্বজনীন আনন্দে পরিণত করতে।

  • মাওলানা ওলিউর রহমান: শিক্ষক, মাদরাসাতুল মুত্তাকীন, উত্তরা, ঢাকা
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত