জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

শিকড়ের টানে লাল-সবুজে যমজ, ফুটবলে নতুন সূর্যোদয়

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব-২০ জাতীয় ফুটবল দলের হয়ে খেলতে ঢাকায় রোনান সুলিভান ও ডেক্লেন সুলিভান। ছবি: বাফুফে

রোনান সুলিভান ও ডেক্লেন সুলিভান। এই যমজের বেড়ে ওঠা যুক্তরাষ্ট্রে। কিন্তু তাদের শেকড় বাংলাদেশ। আর সেই লাল-সবুজের টানে তারা রোববার (১৫ মার্চ) রাতে ঢাকা এসেছেন।

বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব-২০ জাতীয় ফুটবল দলের হয়ে খেলতে এই যমজ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পা রাখেন। এরপর থেকে তাদের নিয়ে ফুটবল সমর্থকদের মধ্যে বইছে বাড়তি উন্মাদনা।

ডেক্লেন লাল-সবুজ জার্সি গায়ে দেওয়ার সুযোগকে বড় সম্মান হিসেবে দেখছেন। বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, লাল-সবুজ জার্সি গায়ে দেওয়ার সুযোগ পাওয়া আমার জন্য অনেক বড় সম্মানের। আমি জানি এই মুহূর্তটির গুরুত্ব। দীর্ঘ সময় আমাকে অপেক্ষা করতে হয়েছে। ভক্তরাও অধীর আগ্রহে আছেন।

ডেক্লেন আরও বলেন, দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারাটা সত্যিই গর্বের। আমি যখন মাঠে নামব, সবটুকু দিয়ে লড়াই করব।

অন্যদিকে, রোনান জানান, বাংলাদেশের হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া তাঁর জন্য মোটেও কঠিন ছিল না। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘না, এটি মোটেও কোনো কঠিন সিদ্ধান্ত ছিল না। বিশেষ করে ভক্তদের ভালোবাসা ও সমর্থন এই সিদ্ধান্ত নেওয়াটাকে অনেক সহজ করে দিয়েছে। আমি এই দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত। এখন আমাদের মূল কাজ হলো জয় ছিনিয়ে আনা।’

কুইন ও ক্যাভান অনুপ্রেরণা

রোনান ও ডেক্লেনের বাংলাদেশ যাত্রায় বড় সমর্থন জুগিয়েছেন তাদের দুই ভাই। বড় ভাই কুইন সুলিভান বর্তমানে এমএলএস-এ ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়ন ও আমেরিকার ন্যাশনাল দলের তারকা। আর ছোট ভাই ক্যাভান সুলিভান বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বিস্ময়বালক, যিনি ইতোমধ্যে ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন।

কুইন সুলিভান ভাইদের পোস্ট নিজের স্টোরিতে শেয়ার করে লিখেছেন, ‘অসাধারণ মুহূর্ত। তোমাদের নিয়ে গর্বিত।’ আর ক্যাভান সুলিভান দুই ছোট ভাইদের ছবির নিচে হার্ট ও ফায়ার ইমোজি দিয়ে মন্তব্য করেছেন, ‘যাও, জয় ছিনিয়ে আন বালকেরা।’

জমজ রোনান সুলিভান ও ডেক্লেন সুলিভান। ছবি: সেইভ বাংলাদেশ
জমজ রোনান সুলিভান ও ডেক্লেন সুলিভান। ছবি: সেইভ বাংলাদেশ

রোনান সুলিভান ও ডেক্লেন সুলিভান আইরিশ কোচ মার্ক কক্সের অধীনে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন। রোনান ক্ষিপ্রগতির ফরোয়ার্ড। ডেক্লেন নির্ভরযোগ্য রাইট-ব্যাক। যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত একাডেমি থেকে অর্জিত তাদের ট্যাকটিক্যাল জ্ঞান এবং শারীরিক সক্ষমতা বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। বিশেষ করে গোলখরা এবং রক্ষণভাগের দুর্বলতা কাটাতে এই যমজ ভূমিকা রাখবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

আসন্ন সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে রোনান সুলিভান ও ডেক্লেন সুলিভান বাংলাদেশের প্রধান অস্ত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। রোনানের গোল করার দক্ষতা এবং ডেক্লেনের রক্ষণভাগের সতর্কতা দলকে এক অনন্য ভারসাম্য দেবে। আগামী ২১ মার্চ তারা মালদ্বীপের উদ্দেশে দেশ ছাড়বেন। লাল-সবুজ জার্সিতে ‘বি’ গ্রুপের হয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২৪ মার্চ ও ভারতের বিপক্ষে ২৮ মার্চ খেলা খেলবে বাংলাদেশ।

ফিফার কোন আইনে সুযোগ পেলেন রোনান-ডেক্লেন

নিয়মতান্ত্রিকভাবে রোনান ও ডেক্লেন বাংলাদেশের পাসপোর্ট পেয়েছে। বাংলাদেশের নাগরিকত্ব আইনের ‘বংশগতি’ ধারা অনুযায়ী তারা জন্মসূত্রে এ দেশের নাগরিকত্বের দাবিদার। কারণ তাদের নানি সুলতানা আলম বাংলাদেশি।

যদিও ফিফার হয়ে খেলার ক্ষেত্রে কার্যকর হয়েছে সংস্থার ‘রেগুলেশন্স গভর্নিং দ্য অ্যাপ্লিকেশন অফ দ্য স্ট্যাটিউটস’-এর ৭ নম্বর অনুচ্ছেদ ‘গ্র্যান্ডপ্যারেন্ট রুল’। এই নিয়মে কোনো খেলোয়াড়ের দাদা-দাদি বা নানা-নানি যদি কোনো দেশে জন্মগ্রহণ করেন। তবে সেই দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার যোগ্যতা অর্জন করবেন তিনি।

বাফুফে ও সরকারের সমন্বিত প্রচেষ্টা এবং পরিবারের সমর্থন বাংলাদেশের হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নিতে সাহস জুগিয়েছে রোনান সুলিভান ও ডেক্লেন সুলিভানের। ফলে খুব দ্রুত তাদের নথিপত্র চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়েছে।

এখন অপেক্ষা কেবল সবুজ ঘাসে বল গড়ানোর; যেখানে সুলিভান ভাইদের পায়ের জাদুতে বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশের ফুটবল এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে– এমনটাই প্রত্যাশা ফুটবলপ্রেমীদের।

সম্পর্কিত