শান্ত-মুমিনুল-মুশফিকে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৪১৩ রান

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৯ মে ২০২৬, ১৪: ১৩
নবম টেস্ট সেঞ্চুরি করেছেন শান্ত

মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে চিরচেনা হোম অব ক্রিকেটে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৪১৩ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর দাঁড় করিয়েছে বাংলাদেশ। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর নবম টেস্ট সেঞ্চুরি এবং মুমিনুল হক ও মুশফিকুর রহিমের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে এই লড়াকু পুঁজি পায় স্বাগতিকরা। জবাবে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমেছে পাকিস্তান।

শুক্রবার (৮ মে) টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা মোটেও সুখকর ছিল না বাংলাদেশের। শাহীন শাহ আফ্রিদি ও হাসান আলীর করা গ্রিন উইকেটের সুইংয়ে প্রথম আধা ঘণ্টাতেই দুই ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় (৮) ও সাদমান ইসলাম (১৩) সাজঘরে ফেরেন। দলীয় মাত্র ৩২ রানে ২ উইকেট হারিয়ে যখন ধুঁকছিল দল, তখন হাল ধরেন অধিনায়ক শান্ত ও অভিজ্ঞ মুমিনুল হক।

পরে দিনের প্রথম সেশনে এই জুটি কেবল বিপর্যয়ই সামাল দেননি, বরং ওয়ানডে মেজাজে রান তুলে পাল্টা আক্রমণ করেন পাকিস্তানি বোলারদের। মধ্যাহ্নভোজের বিরতি পর্যন্ত বাংলাদেশ তোলে ১০১ রান। দ্বিতীয় সেশনে শান্ত ও মুমিনুল আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠেন। শান্ত তাঁর ক্যারিয়ারের নবম সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে সাজঘরে ফেরার আগে ১০১ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। মজার ব্যাপার হলো, ২০২৫ সালের পর থেকে শান্তর হাফ-সেঞ্চুরিকে সেঞ্চুরিতে রূপান্তরের যে শতভাগ রেকর্ড ছিল, তা এই ইনিংসেও বজায় থাকল।

অন্যদিকে, মুমিনুল হক তাঁর চেনা ছন্দে খেলে টেস্ট ক্যারিয়ারের ২৬তম ফিফটি তুলে নেন। তবে সেঞ্চুরির খুব কাছে গিয়েও ব্যক্তিগত ৯১ রানে নোমান আলীর বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। তাঁদের ১০৩ রানের মূল্যবান জুটিটিই বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেয়।

আজ শনিবার (৯ মে) নিজের জন্মদিনে ব্যাটিংয়ে নেমে রেকর্ড বইয়ে নতুন করে নাম লিখিয়েছেন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম। টেস্ট ক্যারিয়ারের ২৯তম ফিফটি তুলে নেওয়ার পথে তিনি তামিম ইকবালকে (৪১টি) ছাড়িয়ে টেস্টে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪২টি ‘৫০ প্লাস’ ইনিংস খেলার রেকর্ড গড়েন।

দিনের দ্বিতীয় সেশনে লিটন দাস ৩৩ রান করে মোহাম্মদ আব্বাসের শিকার হন। তবে আউট হওয়ার আগে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ২ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। শেষ দিকে তাসকিন আহমেদের ২৮ রানের ক্যামিও ইনিংসে ভর করে বাংলাদেশ ৪১৩ রানে থামে।

পাকিস্তানের হয়ে বল হাতে সফল ছিলেন মোহাম্মদ আব্বাস। নিখুঁত লাইন-লেন্থে বল করে ৯২ রান দিয়ে পাঁচ উইকেট তুলে নেন তিনি। এছাড়া শাহীন শাহ আফ্রিদি তিনটি এবং হাসান আলী একটি উইকেট শিকার করেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ: ৪১৩/১০ (১১০.৪ ওভার); শান্ত ১০১, মুমিনুল ৯১, মুশফিক ৭১, তাসকিন ২৮।

পাকিস্তান বোলিং আব্বাস ৫/৯২, শাহীন ৩/১১৩।

সম্পর্কিত